ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • ডিএসসিসির ৩,৬৩১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা          রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর          সংলাপের জন্য ভারতকে ৫ শর্ত দিল পাকিস্তান          এরশাদের শূন্য আসনে ভোট ৫ অক্টোবর          বাংলাদেশে আইএস বলে কিছু নেই : হাছান মাহমুদ
printer
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ ১৩:৪৬:০১আপডেট : ০৭ আগস্ট, ২০১৪ ১১:০৫:১৭
নওগাঁয় স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি : মোহাম্মদ আলী দ্বীন

মোহাম্মদ আলী দ্বীন; দেশের একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিক্ষানুরাগী। তিনি সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান রানার গ্রুপের পরিচালক। এছাড়া তিনি অটোমোবাইলস বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান দ্বীন ইমপেক্স-এর চেয়ারম্যান এবং রিয়েল এস্টেট ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান আল্টিমেট প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। তিনি আবাসন ব্যবসার শীর্ষ সংগঠন রিহ্যাব-এর সদস্য। ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও ক্রীড়া সংগঠক মোহাম্মদ আলী দ্বীন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচিত পরিচালক এবং বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি রাজশাহীতে অবস্থিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য। এছাড়াও মোহাম্মদ আলী দ্বীন নওগাঁ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ আলী দ্বীন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বিশেষ করে নওগাঁর বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যের সমস্যা-সম্ভাবনা ও সমাধান প্রসঙ্গে সম্প্রতি টাইমওয়াচ প্রতিনিধির কাছে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ব্যক্ত করেন। এখানে তা উপস্থাপন করা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ কে নাহিদ
টাইমওয়াচ : শুরুতেই আপনার কাছে নওগাঁ চেম্বারের যাত্রা শুরু ও বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইছি।
মোহাম্মদ আলী দ্বীন : স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময় থেকে মহকুমার অবলুপ্তি পর্যন্ত নওগাঁর ব্যবসায়ীদের ‘নওগাঁ বণিক সমিতি’ নামে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র ট্রেড গ্রুপভুক্ত একটি সংগঠন ছিল। পরবর্তীতে ১৯৮৫ নওগাঁয় স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি : মোহাম্মদ আলী দ্বীন

সালে বণিক সমিতি থেকে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু হয়। বিভিন্ন রকমের তৎপরতা ও প্রতিবন্ধকতা মধ্য দিয়ে ১৯৮৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর ২শ’ ৫০ জন সদস্য নিয়ে নওগাঁ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। এই চেম্বারটির প্রতিষ্ঠাতালগ্নে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন; তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন জননেতা মরহুম আব্দুল জলিল এমপি, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মরহুম এস এম ইদ্রিস আলী, মরহুম হাজী জালাল উদ্দিন, মরহুম আবেদ আলী, নওশের আলী, মরহুম শামসুদ্দিন আহম্মেদ এমপি, মরহুম সৈয়দ নুরুল আমিন, মরহুম মজিবর রহমান তরফদার প্রমুখ। বর্তমানে চেম্বারে ট্রেড গ্রুপ সদস্য ৪টি এবং সাধারণ সদস্য রয়েছন ৯শ’ ৭৭ জন। আমার নেতৃত্বাধীন বর্তমান পর্ষদ মো. শামসুল হক-এর নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী পর্ষদের নিকট হতে ২০১২ সালের ১ জুলাই তারিখে দায়িত্বভার গ্রহণ করে।
টাইমওয়াচ : আপনি দায়িত্ব নেয়ার পর চেম্বারের উন্নয়নে কি ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এবং তা বাস্তবায়ন করছেন?
মোহাম্মদ আলী দ্বীন : আমার নেতৃত্বে বর্তমান পর্ষদ দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর অত্র চেম্বার ভবনে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রোনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আমি নওগাঁর চলমান ব্যবসা-বাণিজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সম্ভাবনাময় খাতসমূহ সম্পর্কে ইতিবাচক সংবাদ পরিবেশনের জন্য আহ্বান করি। এছাড়া আমি চেম্বারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমেই পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা, মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম, ভেজালবিরোধী অভিযান, আইন-শৃংখলা রক্ষা ও যানযট নিরসনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ এবং বিভিন্ন সেক্টরের ব্যবসায়ীদের নিয়ে মতবিনিময় সভার করি। চেম্বারের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীবৃন্দকে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সততার সাথে ভোক্তা অধিকার সমুন্নত রাখা ও প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার অনুরোধ করি। পাশাপাশি প্রশাসনকে বিদ্যমান বিভিন্ন আইন সম্পর্কে ব্যবসায়ীবৃন্দকে ওয়াকিবহাল করা এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে আরো বেশি সহানুভূতিশীল হওয়ার অনুরোধ করি। পবিত্র রমজান মাস ও শারদীয় দূর্গাপূজার ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা ও যানজট নিরসনের জন্য চেম্বারের নিজস্ব অর্থায়নে ভলান্টিয়ার নিয়োগ করেছি। নওগাঁয় অবস্থিত বিভিন্ন ব্যাংক ও বীমা কোম্পানির উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে গ্রাহক পর্যায়ে আরো উন্নত সেবা প্রদান, সম্ভাবনাময় খাতসমূহে স্বল্পসুদে প্রকল্প ঋণ প্রদানসহ  ভালো উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে জামানতবিহীন এসএমই ঋণ প্রদানে উদ্বুদ্ধ করেছি। ব্যবসায়ীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও অপেক্ষাকৃত স্বল্প সুদে প্রকল্প গ্রহণে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাইকা, আইএফসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে চেম্বারের তত্ত্বাবধানে নওগাঁয় স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি : মোহাম্মদ আলী দ্বীন
ব্যবসায়ীদের দু’দিন ব্যাপি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। ভ্যাট সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে চেম্বারের উদ্যোগে চেম্বার ভবনে নওগাঁর পরিবেশক ব্যবসায়ী সমিতি, কিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও সহকারী কর কমিশনারের সাথে মতবিনিময় সভায় ভ্যাট সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করেছি। চেম্বারের উদ্যোগে শীতার্থ দুস্থ মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছি। আমি চেম্বারের দায়িত্ব গ্রহণ করার আগে চেম্বারের সম্মানিত পরিচালকদের বসার নির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা ছিলনা। আমি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তাদের আলাদা বসার ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া চেম্বারের নিয়মিত কর্মকান্ডের মধ্যে জেলা মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় মিটিং, আইন শৃংখলা কমিটি মিটিং, খাদ্য সংগ্রহ কমিটির মিটিং, সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির মিটিং, পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির মিটিংসহ বিভিন্ন মিটিংয়ে যোগদান করে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যাবলী উপস্থাপন করে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস প্রভৃতি অনুষ্ঠানসমূহে জেলা প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করি।
টাইমওয়াচ : নওগাঁ চেম্বার উন্নয়নে আপনার কর্ম-পরিকল্পনা সম্পর্কে বলবেন কী?
মোহাম্মদ আলী দ্বীন : আমি নওগাঁ চেম্বারকে নওগাঁ জেলার সর্বস্তরের ব্যবসায়ীদের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। চেম্বারের একমাত্র আয়ের উৎস সদস্যদের বাৎসরিক সাবস্ক্রিপশন যার দ্বারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেক সময় নিয়মিত বেতন প্রদান করা অসম্ভব হয়ে যায়। এজন্য অনেক সময় পরিচালনা পর্ষদকে অনুদান প্রদান করে চেম্বারের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে সচল রাখতে হয়। কোনো প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী না হলে যেকোনো পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অসম্ভব। তাই আমি চেম্বারের সদস্য বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করে আয় বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং সরকারি বিভিন্ন নওগাঁয় স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি : মোহাম্মদ আলী দ্বীন
এজেন্সিসমূহের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা বিষয়ে আরো জোরালো ও ফলপ্রসু ভূমিকা রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। নওগাঁ চেম্বারের একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট খোলার পরিকল্পনা রয়েছে আমার। এতে সদস্যরা তাদের অফিসে বসে সরকারি গেজেট নটিফিকেশন ও দেশি-বিদেশি এজেন্সিসমূহের ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে সবসময় জানতে পারবেন। ব্যবসা-বাণিজ্যে মহিলাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং আগামীতে চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদে মহিলা সদস্যদের অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা নিয়েছি।  মো. শামসুল হকের নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী পর্ষদ চেম্বার অব কমার্স একাডেমি নামে একটি স্কুল স্থাপন করেছেন; যা শিক্ষা বিস্তারের জন্য একটি মহতী উদ্যোগ। যদিও বিদ্যালয়টি পরিচালনা করতে চেম্বারের নিজস্ব তহবিল হতে অনুদান প্রদান করতে হয়। এরপরও এ ধরণের আরো সেবামূলক কার্যক্রমের পরিধি বাড়াতে আমি সবসময় সচেষ্ট। এছাড়া চেম্বারের উদ্যোগে প্রতিবছর বিভিন্ন ক্রীড়া টুর্নামেন্টের আয়োজন ও অন্ধশিবির করার পরিকল্পনা রয়েছে আমার।
টাইমওয়াচ : দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সাধারণত বিভাগীয় শহরগুলোতে গড়ে উঠেছে। জেলাভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নয়নে আপনার পরামর্শ কী ?
মোহাম্মদ আলী দ্বীন : স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে নওগাঁয় সমৃদ্ধ একটি নদী বন্দর ছিল। তখন নওগাঁ হতে আশে পাশের অনেক জেলার ব্যবসায়ীরা পণ্য ক্রয় করে স্বল্প ব্যয়ে সড়ক ও রেলপথ দিয়ে মালামাল পরিবহন করতো। পণ্য বিপননের পাশাপাশি আবাসিক হোটেল, রেস্টুরেন্ট প্রভৃতি ব্যবসাও জমজমাট ছিল। পরবর্তীতে সমস্ত জেলা শহরসমূহের সঙ্গে রাজধানীর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার ফলে নওগাঁর ব্যবসার বাজার সংকুচিত হয়ে পড়ে। স্থানীয় সম্পদ ও কাঁচামালের প্রাপ্যতা বিবেচনা করে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা গ্রহণ করলে এবং সরকারি বিভিন্ন উদ্যোক্তা উন্নয়ন ফান্ডসমূহ প্রকৃত উদ্যোমী ব্যবসায়ীদের হাতে পড়লে জেলাভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্য আরো সম্প্রসারিত হবে। উপজেলা সদরসমূহ হতে নওগাঁ এবং নওগাঁ হতে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো উন্নত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে নওগাঁ-বগুড়া রাস্তাটির সম্প্রসারণসহ সংস্কার হওয়া দরকার। এছাড়া সান্তাহারের পাশ দিয়ে আত্রাই-রাণীনগর-হাটিকুমরইল সড়কটি চালু হলে নওগাঁ-ঢাকা যোগাযোগ ব্যবস্থায় সময় ও দূরত্ব উভয়ই সাশ্রয় হবে।
টাইমওয়াচ : আপনার দৃষ্টিতে, নওগাঁ জেলায় ব্যবসায়িক দিক দিয়ে কোন কোন খাতসমূহ বেশি সম্ভবনাময় এবং এসব খাতসমূহের উন্নয়নে কি ধরনের পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন ?
মোহাম্মদ আলী দ্বীন : নওগাঁ জেলায় রাইস সেক্টরটি যথেষ্ট বিকশিত। এরপরও এ সেক্টরটিতে আরো উন্নয়ন করা সম্ভব। এছাড়াও কৃষিভিত্তিক অন্যান্য খাতসমূহ যেমন নার্সারি, হিমাগার, পোল্ট্রি, হ্যাচিং, দুগ্ধ উৎপাদন-সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, গরু মোটাতাজাকরণ ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ, পর্যটন শিল্প ও স্বাস্থ্য সেবা খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণের অনেক সুযোগ রয়েছে। নওগাঁর ধামুরহাট উপজেলার আলতাদীঘিকে জাতীয় উদ্যান হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, রবীন্দ্র স্মৃতি বিজড়িত পতিসর, কুসুম্বা মসজিদ, বলিহার ও দুবলহাটি রাজবাড়ী, দিব্যক জয়স্তম্ভ প্রভৃতি ঐতিহাসিক স্থানকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের জন্য খুবই সম্ভাবনাময় একটি খাত হিসেবে পরিগণিত। ভারতের সীমান্তপথে নওগাঁয় প্রচুর গরু আমদানি হয়। এছাড়া নওগাঁয় দেশের অন্যতম কয়েকটি পশুহাট রয়েছে। তাই গাভীপালন ও গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প এখানে গ্রহণ করা যেতে পারে। পশুখাদ্যের প্রধান উপাদান খড় ও ধানের কুঁড়া স্থানীয়ভাবেই পাওয়া যায়।  নওগাঁ জেলায় যত খাসপুকুর, দিঘী ও জলাশয় রয়েছে তা প্রকৃত মৎস চাষীদের দ্বারা চাষ করা হলে বিপুল পরিমাণ আমিষের যোগান দেয়া সম্ভব বলে আমি মনে করি। রাইস মিলের ছাই নওগাঁর পরিবেশের জন্য একটি বড় সমস্যা।  বয়লারে ছাইকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। ছাইয়ে মিউরেট অব পটাশ রয়েছে যা কৃষিক্ষেত্রে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। সরকারি ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়নে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চুল্লি বসিয়ে এই ছাই নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে প্রক্রিয়া করে ফ্রাইএ্যাসে রুপান্তরিত করে সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হলে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে অন্যদিকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে।
টাইমওয়াচ : নওগাঁর সম্ভবনাময় রাইস সেক্টরের উন্নয়নের জন্য আপনার পরামর্শ কী ?
মোহাম্মদ আলী দ্বীন : বোরো ও আমন দুই মৌসুমের ধান উৎপাদনের পরিসংখ্যান একত্র করলে নওগাঁ জেলায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ধান উৎপাদিত হয়। এক সময়ে ড্রাম বয়লারে চাল উৎপাদিত হতো। বর্তমানে প্রযুক্তির বিবর্তে অটোমেটিক রাইস মিলে চাল উৎপাদিত হচ্ছে। বর্তমানে নওগাঁ জেলায় প্রায় ৫০টি অটোমেটিক রাইস মিল এবং ১ হাজার ২শ’ টি হাসকিং রাইস মিল রয়েছে। তারপরও উৎপাদিত ধানের প্রায় ৬৫ শতাংশ দিনাজপুর, নওগাঁয় স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি : মোহাম্মদ আলী দ্বীন
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মুন্সিগঞ্জ, বগুড়া, শেরপুর শহরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার রাইস মিলসমূহের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। স্বল্পসুদে দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের সুবিধা প্রদান করতে পারলে আরো বেশি সংখ্যক হাসকিং মিল অটোমেটিক রাইস মিলে রুপান্তরিত হবে। এতে অধিক সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। চালের বাই প্রোডাক্ট ব্রান থেকে উৎকৃষ্ট ভোজ্যতেল রাইস ব্রান ওয়েল পাওয়া যায়। রাইস ব্রান ওয়েল মিল স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে ভোজ্যতেল উৎপাদন করা হলে ভোজ্যতেল আমদানির পেছনে ব্যয় হওয়া বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা যেতে পারে। রাইস ব্রান সরাসরি কাঁচামাল হিসেবে রপ্তানি করা যেতে পারে। ধানের কুড়াঁ গবাদী পশুর উৎকৃষ্ট খাদ্য। ধানের তুষ থেকে তৈরিকৃত খড়ি উৎকৃষ্ট জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা স্বল্প আয়ের লোকজন তা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার মূল্যবান উপাদান গাছের উপর চাপ অনেক কমে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যে আতব ও সিদ্ধ সরু চালের বিরাট বাজার রয়েছে, যা আমাদের প্রতিবেশি দুই রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের দখলে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মানদন্ড মেনে চাল উৎপাদন করা সম্ভব হলে আতব চাল ও সরু চাল বাংলাদেশের রপ্তানি তালিকার শীর্ষে থাকবে।
টাইমওয়াচ : দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকদের চাকুরি নামক সোনার হরিণের পেছনে না ছুটে আতœনির্ভরশীল হওয়ার জন্য আপনার পরামর্শ কী?
মোহাম্মদ আলী দ্বীন : বর্তমানে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বেশ উন্নয়ন হয়েছে। দেশে যে পরিমাণ উচ্চ শিক্ষিত জনবল রয়েছে; ওই পরিমাণ চাকুরির পদ নেই বললেই চলে। পড়ালেখা শেষ করে চাকুরি পেতে হবে এমন মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। আমি মনে করি, বেকার যুবকদের নিজের মেধা উদ্যোমকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়িক সম্ভাবনা রয়েছে এমন কোনো সেক্টরকে বেছে নিয়ে নিজেদের উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করতে হবে। আমাদের দেশের তরুণরা অত্যন্ত মেধাবী এবং উদ্ভাবনী ক্ষমতাসম্পন্ন। সরকারকে সাধারণ শিক্ষার চেয়ে টেকনিক্যাল শিক্ষার দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নওগাঁয় একটি কমপ্লিট টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠা করা অতি জরুরি বলে আমি মনে করি।
টাইমওয়াচ : চেম্বারের সদস্যদের উন্নয়নে আপনি কি ধরনের ভূমিকা রাখছেন ?
মোহাম্মদ আলী দ্বীন এ বিষয়ে আমি আগেই আলোকপাত করেছি। আমি আরো বলতে চাই যে, বিভিন্ন সময়ে সরকারের বিভিন্ন এজেন্সিসমূহ বাজার তদারকিতে আসেন। এক্ষেত্রে অনাহত পরিস্থিতি রোধকল্পে আমরা চেম্বারের তরফ থেকে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সাথে নিবীড় যোগাযোগ রক্ষা করি। পচনশীল দ্রব্যের ক্ষেত্রে ফরমালিন ব্যবহার করা একটি জাতীয় সমস্যা। আমরা চেম্বারের উদ্যোগে প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে ফরমালিন পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তৈরিকৃত ফরমালডিহাইড ভ্যাপার ডিটেকটর মিটার ক্রয় করেছি এবং ফল ও মৎস বাজারে ফরমালিন পরীক্ষার মাধ্যমে মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয়কে নিয়ে সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে এর কার্যক্রম শুরু করেছি। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাজার তদারকিতে মেশিনটি ব্যবহৃত হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে যেহেতু আর্থিক লেনদেন জড়িত; তাই অনেক সময় চেম্বারের সদস্যরা পরষ্পরের সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে জটিলতায় জড়িয়ে পড়েন। আমাদের চেম্বারের সম্মানিত সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী শালিসী কমিটি রয়েছে। যারা এরূপ সমস্যার ক্ষেত্রে দু’পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চেম্বার সমস্যাগুলো সমাধান করতে সক্ষম হয়। হঠাৎ কোনো ক্ষেত্রে চেম্বার দু’পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করতে ব্যর্থ হলে তখন তারা আলাদতের শরনাপন্ন হয়। ইতোপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, ভ্যাট সংক্রান্ত জটিলতাও আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করেছি। মালিক শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে চেম্বার মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে। কিছুদিন পূর্বে নওগাঁ সদরের রেস্টুরেন্ট মালিকদের সঙ্গে শ্রমিকদের বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। প্রায় ১০ দিন নওগাঁ সদরের সকল হোটেল রেস্টুরেন্ট বন্ধ ছিল। এতে কর্মসূত্রে বাহির থেকে আসা লোকজন চরম বিপাকে পড়েন। জেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক নেত্রীবৃন্দ এ সমস্যা সমাধানে অপরাগ হলে পরবর্তীতে চেম্বারের মধ্যস্থতায় এই অচল অবস্থার অবসান ঘটে।
টাইমওয়াচ : আপনার দীর্ঘদিনের ব্যবসা-বাণিজ্যের অভিজ্ঞতার আলোকে বলবেন কী- নওগাঁয় কোন ব্যবসাটি সবচেয়ে বেশি সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং আপনার চেম্বারের কোন সমিতি সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী ?
মোহাম্মদ আলী দ্বীন : যথেষ্ট বিকশিত হওয়া সত্ত্বেও নওগাঁয় রাইস সেক্টরটি অধিক সম্প্রসারিত হচ্ছে। আর আপনার চেম্বারের নওগাঁ জেলা চাউল কল মালিক গ্রুপ সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যবসায়িক সমিতি।
টাইমওয়াচ : আপনার চেম্বারের আওতাধীন কোনো পণ্য রপ্তানি হচ্ছে কী ?
মোহাম্মদআলী দ্বীন : বর্তমানে নওগাঁ হতে কিছু পরিমাণ আতব ও সিদ্ধ সরু চাল বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।
টাইম ওয়াচ : আপনি চেম্বারের দায়িত্বে থাকাকালীন সময় পর্যন্ত ব্যবসায়িক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আপনার কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে কী?
মোহাম্মদ আলী দ্বীন : নওগাঁয় একটি স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠা করা একান্ত প্রয়োজন। তাই চেম্বারের দায়িত্ব পালনকালীন সময় পর্যন্ত নওগাঁয় একটি স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠা করা আমার স্বপ্ন এবং এটি সময়ের দাবি। নওগাঁয় স্থলবন্দর স্থাপিত হলে নওগাঁর ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হবে। দেশের অর্থনীতিতেও জোরালো ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। প্রস্তাবিত স্থলবন্দর ধামুইরহাট উপজেলা হতে ভারতের বাংলা রাজ্যের বালুরঘাট জেলা সদরের দূরত্ব খুবই কম এবং সীমান্ত পর্যন্ত কার্পেটিং রাস্তা বিদ্যমান। বালুরঘাট থেকে কলকাতাসহ ভারতের অন্যান্য স্থানের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই উন্নত। পাশাপাশি ধামুইরহাট থেকে ঢাকার সড়ক পথের দূরত্ব কম হওয়ায় বুড়িমারি ও হিলিসহ অন্যান্য বন্দর অপেক্ষা প্রস্তাবিত বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করলে সময় এবং অর্থের অনেক সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি বন্দরকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।
টাইমওয়াচ :  দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নওগাঁর ব্যবসা-বাণিজ্যে কী ধরনের প্রভাব পড়ে বলে আপনি মনে করেন ?
মোহাম্মদ আলী দ্বীন : বর্তমানে দেশে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি এর আগে শুধু নওগাঁয় নয় সারা দেশে এ রকমের সহিংস রাজনীতি আর কখনো দেখিনি। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদের; তবে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসে। দীর্ঘদিন একটানা অবরোধ ও হরতালে  পুুড়েছে দেশ। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ে। টানা হরতাল ও অবরোধে সব ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও ট্রান্সপোর্ট ও রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতি অপুরণীয়। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ন্যায় নওগাঁর ব্যবসায়ীরাও নানামুখি সমস্যায় জর্জরিত। বিশেষত নওগাঁর রাইস মিলগুলো তাদের উৎপাদিত পণ্য দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পাঠাতে পারেনি, কৃষক তাদের সবজি ও কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারেনি। অনেক সময় পচনশীল কৃষিপণ্য জমিতেই নষ্ট হয়ে গেছে। নদীতে পলি পড়ার কারণে নদীপথ বন্ধ, রেলপথেও পণ্য পরিবহনের সুযোগ অপ্রতুল অবস্থায় সড়কপথ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসমূহ পরিবহন বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন যাপন কষ্টকর হয়ে পড়েছিল।
নওগাঁয় স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি : মোহাম্মদ আলী দ্বীন
টাইমওয়াচ : সাদা পাতাকা মিছিল কর্মসূচির ফলশ্রুতিতে ব্যবসায়ীরা কি পেয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
মোহাম্মদ আলী দ্বীন : অনেক শক্তিশালী গোষ্ঠির পারস্পারিক দর কষাকষির মাধ্যমে গণতন্ত্র শক্তিশালী ও অর্থবহ হয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ব্যবসায়ীরা সমাজের একটি শক্তিশালী অংশ। রাষ্ট্রের যাবতীয় কর্মকান্ড তাদের দ্বারা পরিচালিত হয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ব্যবসায়ী সমাজের যেকোনো মতামত গুরুত্ব সহকারে বিবেচিত হয়। তাই আমরা ব্যবসায়ী সমাজ সাদা পতাকা মিছিলের মাধ্যমে সরকার ও বিরোধী দল তথা সমস্ত রাজনৈতিক দলসমূহকে যে বার্তাটি দিতে চেয়েছি- তাহলো দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে সচল রেখেই রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে হবে, অবশ্যই অর্থনীতিকে ধ্বংস করে নয়। আর যেকোনো শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানো আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। সমাজ বিজ্ঞানের ভাষাই রাজনীতি উপরিকাঠামো আর অর্থনীতি নিচকাঠামো। উন্নত বিশ্বে অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালিত হয়।
টাইমওয়াচ : হরতাল ও অবরোধের রাজনীতি থেকে উত্তরণের উপায় কী?
মোহাম্মদআলী দ্বীন : অবশ্যই কার্যকর একটি সংসদ এবং রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে পারষ্পারিক সংলাপ। প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সকল সমস্যার অর্থবহ ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের একমাত্র উপাই হচ্ছে বিদ্যমান রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে পারষ্পারিক আলাপ-আলোচনা। সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতি অনুযায়ী সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু হবে সংসদ, রাজপথ নয়। আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলসমূহের পারষ্পারিক আস্থাহীনতার যে সংস্কৃতি তা অনেক পুরনো। এ সংস্কৃতি থেকে বের হতে হবে। সরকারী দল যেমন সরকার পরিচালনা করবে তেমনি বিরোধী দল ছায়া মন্ত্রীসভা তৈরি করে সরকারের কর্মকান্ডের চুলচেরা বিশ্লেষণ করবে। দেশের উন্নয়নের কান্ডারি আমরা। সরকারি দল ও বিরোধী দলকে এই বাস্তব অবস্থা উপলব্ধি করতে হবে। বর্তমানে উন্নয়ন একক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়না বরং স্থিতিশীল উন্নয়ন বা টেকসই উন্নয়ন বলা হয়। হাজারো তরুণ নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে, যুবা বয়সের রঙ্গীন স্বপ্নগুলোকে পায়ে মাড়িয়ে, পরিবার-পরিজন দেশমাতৃকা হতে হাজারো মাইল দূরে অনাহারে অর্ধাহারে থেকে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে দেশের মূদ্রাভান্ডারকে সমৃদ্ধ করে, আমাদের হাজারো নারী শ্রমিক তাদের আদরের ধন সন্তানদের মাতৃ¯েœহ থেকে বঞ্চিত করে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত গার্মেন্টেস কারখানাসমূহে কঠোর পরিশ্রম করে। এসব মানুষের অনুভূতিকে আমাদের সম্মান করতে হবে। এরাই বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি, এদের আতœ-বলিদানের কথা ভুলে গেলে চলবে না। তাই এসব শ্রমজীবি মানুষের কথা ভেবে হরতাল অবরোধের রাজনীতি থেকে বের হয়ে জাতি গঠনে আরো দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক আচরণ করতে হবে।
টাইমওয়াচ : আপনার দৃষ্টিতে, স্বাধীনতার ৪২ বছরে দেশের অর্থনীতি কি ধরণের অগ্রসর হয়েছে এবং সহিংস রাজনীতির কারণে এখন অর্থনীতির অবস্থা কী?
মোহাম্মদ আলী দ্বীন : স্বাধীনতার আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রকাঠামোর মধ্যে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে যে পাহাড়সম অর্থনৈতিক বৈষম্য ছিল তার নাগপাশ থেকে মুক্ত হয়ে নয় মাসের যুদ্ধের পর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড একেবারে প্রাথমিক অবস্থা থেকে শুরু করতে হয়েছে। তখন থেকেই একদিকে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের সুযোগ অপ্রতুল, অন্যদিকে সমস্ত অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তারপরও দীর্ঘ ৪২ বছরের রাজনৈতিক উত্থান-পতন, অস্থিরতা, অস্থিতিশীলতা এবং বাংলাদেশের স্থপতিসহ দু’জন রাষ্ট্র নায়কের হত্যাকান্ডের মাঝেও শুধুমাত্র সাধারণ মানুষের অদম্য ইচ্ছে, অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম, মহতী পরিকল্পনার ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি চমৎকার অবস্থায় এসে উপনীত হয়েছে। অর্থনীতির এ গতি নবীন-প্রবীন উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত ও কঠোর পরিশ্রমী একদল শ্রমজীবি মানুষের মেলবন্ধনে আরো বেগবান হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী। প্রয়োজন শুধু রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক সদিচ্ছা ও সহায়তা। সরকারি দল ও বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করলে এদেশকে সত্যিই সোনার বাংলায় পরিণত করা সম্ভব। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে সহিংস রাজনীতি পরিহার করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে চলা হরতাল ও অবরোধের চক্রে পড়ে বেশিরভাগ কলকারখানার উৎপাদন ব্যহত হয়েছে। রপ্তানি পণ্য সঠিক সময়ে সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। কারখানার কাঁচামাল সময়মত পরিবহন করা সম্ভব হয়নি। পরিবহনের অভাবে কৃষি পণ্য জমিতে নষ্ট হয়েছে। আমি মনে করি, রাজনীতিবিদরা যদি সহিংস রাজনীতির পথ পরিহার করে সংলাপের মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যাসমূহ সমাধান করে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে; তাহলে সেদিন আর বেশি দূরে নয়- বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে এবং এরই ধারাবাহিকতায় উন্নত আয়ের দেশে রুপান্তরিত হবে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd