ঢাকা : রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • ডেঙ্গু এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে : কাদের          ঈদে হাসপাতালের হেল্প ডেস্ক খোলা রাখার নির্দেশ          নবম ওয়েজ বোর্ডের ওপর হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা           বন্দরসমূহের জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল, ২০১৪ ১৪:১১:০০আপডেট : ২১ এপ্রিল, ২০১৪ ১১:৪৯:৩২
সিআইপি স্বীকৃতি আমাকে সামনে এগিয়ে চলার প্রেরণা যোগাচ্ছে : আব্দুস সোবহান


আব্দুস সোবহান; দেশের একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব। তিনি অকো-টেক্স গ্রুপ এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর। ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি পেশাগতভাবে তিনি একজন প্রথিতযশা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। তিনি ১৯৬৪ সালে ফরিদপুর জেলার কানাইপুরের পুরদিয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার  নাম মো. আনসার আলী। তিনি নিজ গ্রাম পুরদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করেন এবং ১৯৮১ সালে কানাইপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাশ করেন। এইচএসসি সমাপ্ত করে ঢাকার তেজগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইল থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এ গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করে দেশের প্রথম সারির কিছু প্রতিষ্ঠানে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি অকো-টেক্স গ্রুপের পাশাপাশি তার প্রতিষ্ঠিত সাজিদ-সোবহান ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি টাইমওয়াচ প্রতিনিধিকে আব্দুস সোবহান এক সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। এখানে তা উপস্থাপন করা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ কে নাহিদ

টাইমওয়াচ : বাংলাদেশ সরকার আপনাকে এবারের সিআইপি’র মর্যাদা প্রদান করেছে; এ বিষয়ে আপনার অনুভূতি কী?
আব্দুস সোবহান : আমি সত্যিই গভীরভাবে সম্মানিত বোধ করছি, শিল্পখাতে এই মর্যাদাপূর্ণ বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব (সি.আই.পি) ২০১৩ প্রাপ্তির জন্য। যখন কোনো কাজের সঠিক মূল্যায়ন হয় তখন দীর্ঘ লালিত স্বপ্নতখনি সত্য হয়। আমি মনে করি অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম এবং কাজের প্রতি ভালবাসাই আমাকে এই অসামান্য স্বীকৃতি পেতে গভীরভাবে সহায়তা করেছে। বাংলাদেশ সরকারের এই স্বীকৃতি সমাজের ও দেশের প্রতি সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে আমাকে আরো অনুপ্রাণিত করবে।
টাইমওয়াচ : আপনার দৃষ্টিতে, বাংলাদেশ সরকার কোন প্রেক্ষাপটে আপনাকে ‘সিআইপি’র মর্যাদা প্রদান করেছে ?
আব্দুস সোবহান : মাঝারি শিল্প খাতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য সরকার আমাকে এই গুরুত্বপূর্ণ এওয়ার্ড প্রদান করেছে। এছাড়া আমি মনে করি, বাংলাদেশ সরকার আমাকে সমাজে কাজের সুযোগ সৃষ্টি, নৈতিক উপায়ে ব্যবসা পরিচালনা, বাজারে ইতিবাচক প্রভাব, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য এই স্বীকৃতি দিয়েছেন।
টাইমওয়াচ : ‘সিআইপি’ প্রসঙ্গে আপনার কোনো মন্তব্য রয়েছে কী ?
আব্দুস সোবহান : সিআইপি পেয়ে নিজেকে আমি ধন্য মনে করছি। কাউকে যদি কোনো কর্মপ্রচেষ্টার সঠিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়, তাহলে তিনি দেশের কল্যাণে নিজেকে আরো সম্পৃক্ত করতে চান। তেমনি ‘সিআইপি’র মত সম্মাননা আমাকে চলার পথ আরো সুগম করবে, সামনে এগিয়ে চলার প্রেরণা যোগাচ্ছে।
টাইমওয়াচ : ‘সিআইপি’র পদমর্যাদা রক্ষা এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে আপনার সুচিন্তিত মতামত প্রত্যাশা করছি ?
আব্দুস সোবহান : এরকম একটি স্বীকৃতি আমাকে আমার লক্ষ্যার্জনে আরও শক্তি যোগাবে। এই সম্মাননা আমার অর্জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে তেমনি দায়িত্বও অর্পণ করেছে; সে দায়িত্ব সমাজের প্রতি, সর্বোপরি দেশ ও জাতির প্রতি। আমি সব সময় মনে রাখি, দেশ ও সমাজা আজ আমাকে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। তাদের কাছে আমি ঋণী। অর্জিত জ্ঞান, মেধা ও মননদিয়ে দেশ মাতৃকার কল্যাণে নিজেকে আরো সম্পৃক্ত করতে পারলেই নিজেকে ধন্য মনে করব; যার পরিকল্পনা আমি শৈশব থেকে লালন করে আসছি। আমাদের দেশের লাখ লাখ মানুষকে কাজের জন্য একটি পরিবেশ তৈরি করতে আমাকে অনুপ্রাণিত করবে। পরবর্তী ধাপে ইতিবাচক পদক্ষেপ হচ্ছে নারীদের শিক্ষামূলক কর্মকা-ে সুষম অংশগ্রহণ ও সকল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা। দেশের জনসংখ্যার একটি অংশ হচ্ছে নারী। উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে নারী সমাজকে সাথে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ ও স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ অত্যন্ত জরুরী। এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করা গেলে আমরা আমাদের সীমিত সম্পদের সদ্ব্যবহার করে পৃথিবীর কাছে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করা সম্ভব।
টাইমওয়াচ : আপনার কোম্পানির শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইছি ?
আব্দুস সোবহান : অকো-টেক্স গ্রুপ একটি শত ভাগ রপ্তানিযোগ্য গার্মেন্টস প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হিসাবে ২০০২ সালের ২২ আগস্ট যাত্রা শুরু করে। হাঁটিহাঁটি পাপা করে আজ আমরা এই পর্যায়ে অবস্থান করছি। কিছু বিষয় প্রথম থেকেই মাথায় রেখে আমরা আমাদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছি । সেটি হচ্ছে-  আমাদের পণ্যের সঠিক গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং সময়মত ক্রেতাদের হাতে পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা, যা এখনও লালন করে আসছি। অপরদিকে, কোম্পানিতে যারা কর্মরত রয়েছেন তাদেরকে যথাসময়ে তাদের পারিশ্রামিক প্রদান, গ্রেড অনুযায়ী শ্রম আইনের যথাযথ বাস্তবায়নসহ কোম্পানির নিজস্ব বিভিন্নসুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়। এছাড়া নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পরিকল্পিত উপায়ে স্থাপনা নির্মাণ, আধুনিক মানের যন্ত্রপাতির ব্যবহার, কমপ্লায়েন্স পলিসির বাস্তবায়নসহ প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির মাধ্যমে শ্রমবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।
 

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd