ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • ডিএসসিসির ৩,৬৩১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা          রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর          সংলাপের জন্য ভারতকে ৫ শর্ত দিল পাকিস্তান          এরশাদের শূন্য আসনে ভোট ৫ অক্টোবর          বাংলাদেশে আইএস বলে কিছু নেই : হাছান মাহমুদ
printer
প্রকাশ : ০২ আগস্ট, ২০১৪ ১০:৫১:০৪
ইজি মানি কেউ দেশে রাখতে চায় না : মামুন রশিদ


 


মামুন রশিদের পরিচিতি একজন খ্যাতিমান ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক হিসেবে। পড়াশোনা  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, লন্ডন বিজনেস স্কুলসহ খ্যাতনামা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।  ব্যাংকিং ক্যারিয়ারের ২৬ বছরে কাজ করেছেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও সিটিব্যাংক এনএ’র মতো আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। সিটি ব্যাংক এনএ’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ৮ বছর।  ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেসের পরিচালক ছিলেন। বর্তমানে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি বিডি ভেঞ্চার লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান। আর্থিক বিষয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ফাইন্যান্সিয়াল এক্সসেলেন্স লিমিটেডেরও ভাইস চেয়ারম্যান তিনি। অর্থনীতি ও বাণিজ্যের ওপর তার ৬টি উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা রয়েছে। তিনি ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ (আইসিসিবি) এর ব্যাংকিং কৌশল বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান। মামুন রশিদ সম্প্রতি অর্থ পাচার বিষয়ে কথা বলেছেন টাইমওয়াচের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ কে নাহিদ
টাইমওয়াচ : আমাদের দেশ থেকে অর্থ পাচার কীভাবে হয়?
মামুন রশিদ : আমি মনে করি, বিদেশ থেকে যে পরিমাণ অর্থ আমাদের দেশে পাওয়ার কথা তা  আমরা পাই না। বরং আমাদের দেশ থেকে বিভিন্ন কমিশন, প্রকল্প ব্যয়, এক্সপোর্ট এবং ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ চলে যাচ্ছে।
টাইমওয়াচ : পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উপায় কী?
মামুন রশিদ : এই অর্থ ফেরত আনার কোনো উপায় নেই। তবে অর্থ পাচারে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে যদি বাংলাদেশের আদালতে অভিযুক্ত করা যায় এবং এই অভিযোগপত্র যে দেশে অর্থ পাচার হয়েছে ওই দেশের আদালতে দাখিল করে যদি তা প্রমাণ করা যায় তাহলেই ওই অর্থ ফেরত আনা সম্ভব। তবে এই কাজটি অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।
টাইমওয়াচ :  এক্ষেত্রে অর্থ পাচার রোধে কী করণীয়?
মামুনুর রশিদ : অর্থ পাচার রোধ করার জন্য গণতন্ত্র, বিচার বিভাগ এবং ব্যবসায়ীদের স্বচ্ছন্দে কাজ করতে দিতে হবে। অর্থ আনা-নেয়ার জন্য মান্ধাতা আমলের নিয়ম-কানুন পরিবর্তন করে একে সহজ করতে হবে। ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন্স আরও শক্তিশালী এবং সহজবোধ্য করতে হবে।
টাইমওয়াচ : আপনার দৃষ্টিতে, অর্থ পাচাকারীরা অর্থ পাচারে উৎসাহী হয় কেন?
মামুন রশিদ : এটা তো সহজ বিষয়। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ এ দেশে থাকলে ট্যাক্স দিতে হবে। তাই এই অর্থ যদি বাইরে পাচার করা যায় তাহলে ট্যাক্স দিতে হবে না। এছাড়া বিপদে-আপদে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাইরে পালিয়ে অবস্থান করতে সুবিধা হয়। পাশাপাশি আবার যদি আরেকটি ১/১১ হয়, সে চিন্তাও অনেকে করেন। বাইরে তাদের ছেলে-মেয়েরা লেখা-পড়া করছে তাদের খরচের যোগান দিতে সুবিধা হয়। বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করার তেমন সুবিধা নেই; বিদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করা বেশি সুবিধা। বিদেশে একটু খাটা-খাটুনি করলে সহজেই আয় করা যায়। আর এ দেশেতো ব্যবসা-বাণিজ্য করতে গেলে বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগ করতে হয়। এছাড়াও রয়েছে নানা সমস্যা। ব্যবসা করতে গেলে এ দেশে সহজে জমি-গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি পাওয়া যায় না। আরেকটি বিষয় হচ্ছে- দেশে প্রচুর রাজনৈতিক অপরাধ বাড়ছে। রাজনৈতিক অপরাধের অর্থ হচ্ছে- ইজি মানি। ইজি মানি কেউ দেশে রাখতে চায় না; সাংবাদিক কিংবা পুলিশ তথ্য পেয়ে যাবে। এছাড়া নাগরিক সমাজ কিংবা সরকার টের পেয়ে যেতে পারে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd