ঢাকা : সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • ডেঙ্গু এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে : কাদের          ঈদে হাসপাতালের হেল্প ডেস্ক খোলা রাখার নির্দেশ          নবম ওয়েজ বোর্ডের ওপর হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা           বন্দরসমূহের জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট, ২০১৪ ১১:৩৮:৪৮আপডেট : ০৭ আগস্ট, ২০১৪ ১১:৩২:৩৮
অর্থ পাচার রোধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এফআইইউর সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করছি : মাহফুজুর রহমান

 
মাহফুজুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র। বাংলাদেশ ব্যাংকে গঠিত বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) মূল দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। জনাব মাহফুজুর রহমান ১৯৮০ সালে অগ্রণী ব্যাংকে প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করেন। ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরুর আগে তিনি ছাত্রজীবন থেকে সাংবাদিকতা পেশার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি সাপ্তাহিক ঢাকা’র নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। মাহফুজুর রহমান ১৯৫৬ সালে কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া থানাধীন চরফরাদী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত ও তিন সন্তানের জনক। তার স্ত্রী নাদিরা বেগম একজন উদ্যোক্তা। মাহফুজুর রহমান সম্প্রতি  টাইমওয়াচকে অর্থ পাচারের বিভিন্ন কারণ, এর সমাধান নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিয়েছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ কে নাহিদ

টাইমওয়াচ : বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ এবং সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচার হচ্ছে; এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?
মাহফুজুর রহমান : এ ধরনের সংবাদ আমরাও শুনে থাকি। কিন্তু ব্যাংকিং চ্যানেলে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা বর্তমানে ব্যাংকিং চ্যানেলকে আধুনিক ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে তৈরি করেছি।  তবে ওভার ইনভয়েসিং এবং আন্ডার ইনভয়েসিং প্রক্রিয়ায় কিছু অর্থ পাচার হতে পারে।  তবে এটি রোধে আমাদের কার্যক্রম খুবই সক্রিয়, যাতে অর্থ পাচার না হয়। আগে বিদেশে যাওয়ার সময় অনেকেই সাথে করে ডলার নিয়ে যেতো; সেটিও এখন বন্ধ হয়েছে। দেশের ব্যাংকগুলো এখন অনেক সচেতন।  অর্থ পাঠানোর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সামগ্রিক তথ্য পেয়ে যায়।
টাইমওয়াচ : সাম্প্রতিক সময়ে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ গচ্ছিত রয়েছে বলে বেশ আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। এই অর্থ আদৌ ফেরত আনা সম্ভব বলে মনে করেন কী?
মাহফুজুর রহমান : প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে- এই টাকা ফেরত আনার অবস্থা কতটুকু রয়েছে? কারণ বাংলাদেশি বলতে যারা বাংলাদেশে বসবাস করে তাদেরকেই শুধু বুঝায় না।  যারা বিদেশে অবস্থান করছে তাদেরকেও বুঝায়। যদি এরকম হয় যে,  বিদেশে যে সমস্ত বাংলাদেশি চাকরি বা ব্যবসা করছেন বা অন্য কোনো পেশায় জড়িত  তাদের অর্থ সুইস ব্যাংকে রয়েছে তাহলে সেই অর্থ দেশে ফেরত আনার আইনগত কোনো অধিকার নেই। আইনগত অধিকার তখনই জন্মায় যখন বাংলাদেশ থেকে কেউ মানি লন্ডারিং করে বাইরে পাচার করলে বা অন্যায়ভাবে রাষ্ট্রের টাকা বাইরে পাচার  করলে। সেক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুইস ব্যাংকের টাকা আনার ব্যাপারে আবেদন করা যেতে পারে।
টাইমওয়াচ : অর্থ পাচার রোধে আমাদের দেশে আইন রয়েছে। তারপরও কীভাবে অর্থ পাচার হচ্ছে বলবেন কী?
মাহফুজুর রহমান : প্রথমত, অর্থ অবাধে পাচার হচ্ছে বলে যা বলা হয়, তা  ঠিক নয়। কারণ সরকারের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সর্বত্র এর বাধা রয়েছে। অবাধে টাকা পাচার করা যায় না। তবে ওভার ইনভয়েসিংয়ের ক্ষেত্রে একটি চক্র কাজ করে। এক্ষেত্রে পণ্যের দাম বোঝা যায় না। এগুলো এক সময় বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা এসবের বিরুদ্ধে কাজ করছি। কিছু চক্র নানাভাবে অর্থ পাচার করতে পারলেও অবাধে টাকা পাচার করার কোনো সুযোগ নেই। ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে কিছু অর্থ পাচার ঘটে। যেমন কোনো ব্যক্তি তার পণ্য রপ্তানি করার ক্ষেত্রে দু’শ ডলার মূল্যের পণ্য একশ’ আশি ডলার দেখিয়ে বিশ ডলার বিদেশে রেখে দিল। এভাবে টাকা রাখলে ওই সব দেশ বা ব্যাংক সাহায্য না করলে এই ধরনের অর্থের সন্ধান পাওয়া যাবে না।
টাইমওয়াচ : তাহলে আপনি বলতে চাইছেন যে, আমদানি বাণিজ্যে পণ্যের মূল্য কম-বেশি দেখিয়ে অর্থ পাচারের একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে; তাই যদি হয় তবে এটি কীভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব?
মাহফুজুর রহমান : এটি প্রতিরোধ করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বেশ কিছু সংস্থা মিলে আমরা যাতে এটি প্রতিরোধ করতে পারি সেই কার্যক্রমই চালিয়ে যাচ্ছি। আমি আশাবাদী, আমরা যথাযথভাবে অর্থ পাচার কমাতে পারবো এবং এক সময় পুরোপুরি বন্ধ করতে পারবো।
টাইমওয়াচ : অর্থ পাচার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক কী ধরনের ভূমিকা রাখছে?
মাহফুজুর রহমান : বাংলাদেশ ব্যাংক এককভাবে অর্থ পাচার রোধ করতে পারবে না; তা আমি আগেই বলেছি। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা দেশের বাণিজ্যিক  ব্যাংকগুলো শুধু কাগজপত্রের উপর ভিত্তি করে কার্যক্রম পরিচালনা করে। কিন্তু বিদেশ  থেকে কোনো  পণ্য এলো কিংবা দেশ থেকে কোন পণ্য গেলো এবং এসববের মূল্য দেখার বিষয় কাস্টমসের। আইনগতভাবে এতকিছু বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষের দেখা সম্ভব নয়।
টাইমওয়াচ : তাহলে বিএফআইইউ কীভাবে কাজ করছে?
মাহফুজুর রহমান : বিএফআইইউ’র কাজ হচ্ছে, তারা বিভিন্ন সোর্স থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এনালাইসিস করবে এবং যেটা সন্দেহজনক মনে হবে সেটিকে তারা দুর্নীতি দমন কমিশন অথবা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে হ্যান্ডওভার করবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এফআইইউ’র মূল কাজই হচ্ছে- তথ্য সংগ্রহ করা, বিশ্লেষণ করা, তথ্য দেয়া।
অর্থ পাচার রোধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এফআইইউর সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করছি : মাহফুজুর রহমান
টাইমওয়াচ : বিএফআইইউ কতটুকু সফল বলে আপনি মনে করেন?
মাহফুজুর রহমান : আমি মনে করি, এটি অত্যন্ত সফল। একটি উদাহরণ দেই, কিছুদিন আগে ইউকে’তে ফারুক আহমেদ নামের একজন ব্যক্তি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, তিনি অনেক কম টাকায় মানুষকে হজ করাতে নিয়ে যাবেন । লন্ডনে বসবাসরত অনেক সাধারণ বাংলাদেশি তাদের পাসপোর্ট ও ৫ লাখ টাকা জমা  দিয়েছিল ওই ব্যক্তির কাছে। এভাবে ওই লোকের কাছে যখন ৫/৭ কোটি টাকার মতো হয়েছে তখন অফিস বন্ধ করে দিয়ে সবার পাসপোর্ট ফেলে দিয়ে টাকা নিয়ে উধাও হন। ওই লোকের ধারণা ছিল- বাংলাদেশের আইন-কানুন তেমন শক্তিশালী নয়। ফারুক আহমেদ ওই টাকার কিছু অংশ বাংলাদেশে পাচার করলেন। প্রথমে ১ কোটি টাকা পাঠান তিনি। বাংলাদেশে ওই টাকা ঢোকার সাথে সাথে আমাদের কাছে রিপোর্ট চলে আসে। ওই টাকা আমরা সাথে সাথে ক্রোক করে ফেলি। আমরা কনফার্ম হতে পেরেছিলাম যে, ওই টাকা লন্ডন থেকে এসেছে। পরে আমরা আইনগতভাবে যাদের টাকা তাদেরকে বিতরণ করার জন্য লন্ডনে পাঠিয়ে দিয়েছি।
টাইমওয়াচ : আপনার দৃষ্টিতে, অর্থ পাচার হওয়ার কারণ কী?
মাহফুজুর রহমান : ব্যাংকিং সেক্টরে অর্থ পাচারের কথা চিন্তাই করা যায় না। ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে কখনোই অর্থ পাচার হয় না। তবে আমরা মাঝে মধ্যে জানতে পারি । যেমন, ধরুন চিকিৎসার জন্য বিদেশে টাকা নেয়ার ক্ষেত্রে মেডিক্যাল বোর্ডের অনুমতিসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া রয়েছে যা পূরণ করা সময় সাপেক্ষ এবং ঝামেলার বিষয়।  ফলে অনেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থ বাইরে নিয়ে যায়। আবার অনেকেই বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য বাংলাদেশ থেকে বিদেশে চলে যান; এক্ষেত্রে তার বিভিন্ন ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিক্রিত অর্থ অবৈধ পন্থায় পাচার করে নিয়ে যান।
টাইমওয়াচ : দেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার উপায় কী?
মাহফুজুর রহমান : পাচারকৃত অর্থ অতি সহজে ফেরত আনা সম্ভব নয়। অবৈধ পন্থায় অর্জিত এবং পাচারকৃত অর্থ সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত আনা সম্ভব। তবে এই প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল এবং কঠিন। আপনিও নিশ্চয়ই জানেন যে, আরাফাত রহমান কোকো’র পাচারকৃত অর্থ সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকার কারণে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। ফিলিপাইনে বেশ কিছু পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে প্রায় ১৮ বছর সময় লেগেছিল। তাই পাচারকৃত অর্থের সুনির্দিষ্ট কারণ বের করে ফেরত আনা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।
টাইমওয়াচ : অর্থ পাচার রোধে করণীয় কী?
মাহফুজুর রহমান : অর্থ পাচার রোধে যা যা করণীয় আমরা ধীরে ধীরে তা করছি। দেশে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন হয়েছে। আমরা এই আইনের মাধ্যমে কাজ করছি। দেশের ব্যাংকসমূহ এখন আধুনিকায়ন হয়েছে। আগে যারা হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করতেন এখন তারা ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন করছেন।  আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত রোড শো’ করেছি। এছাড়াও আমরা বিদেশে অবস্থানকারীদের সাথে মতবিনিময় করে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ প্রেরণের জন্য উৎসাহী করেছি । আমাদের এই উৎসাহমূলক কার্যক্রমের প্রতি উৎসাহী হয়ে অধিকাংশ প্রবাসী এখন হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ না পাঠিয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠায়; যা প্রশংসনীয়।
টাইমওয়াচ : অর্থ পাচারকারী অর্থ পাচারে উৎসাহী হয় কেনো?
মাহফুজুর রহমান : আমি আগেই বলেছি, ব্যাংকিং চ্যানেলে কখনো অর্থ পাচার হয় না। আপনারা যেহেতু মনে করেন অর্থ পাচার  হয়; তাহলে এই বিষয়টি সম্পর্কে তাদেরকেই প্রশ্ন করুন যারা অর্থ পাচার করে। ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাচার হয় না; তাই আমি এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারবো না।
টাইমওয়াচ : আপনার দৃষ্টিতে, সুইস ব্যাংকে জমাকৃত বাংলাদেশিদের সকল অর্থই কী পাচারকৃত; না-কি অন্য কোনো অর্থ রয়েছে?
মাহফুজুর রহমান : আমি বারবারই বলছি, আমি পাচার শব্দটি ব্যবহার করবো না। সুইস ব্যাংকে প্রবাসীদের অর্থও জমা থাকতে পারে। সুইস ব্যাংকে শুধু বাংলাদেশিদের নয়- বিশ্বের অনেক দেশের মানুষের অর্থই জমা রয়েছে। অনেক দেশের মানুষ অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ সুইস ব্যাংকে জমা রাখতো; সুইস ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কখনো কোনো তথ্য দিতো না। কিন্তু বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা কিংবা মহলের চাপে সুইস ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কিছু কিছু তথ্য দিচ্ছে। কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি যদি সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখে তাহলে তার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা সম্ভব নয়। তবে কোনো ব্যক্তি যদি বাংলাদেশে বসবাস করে অবৈধভাবে সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখে তাহলে আইনি প্রক্রিয়ায় তা তদন্ত করা যাবে। আর এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বিএফআইইউ’ ইউনিট কাজ করছে। ২০০২ সাল থেকে বিএফআইইউ’র কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আগে দেশের মানুষ মানি লন্ডারিং সম্পর্কে তেমন কিছুই বুঝতো না। আমরা বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং সভা-সেমিনার করার ফলে দেশের মানুষ এখন এই বিষয়ে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। আমরা এখন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছি এবং দেশের অর্থ পাচার রোধে আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ‘এফআইইউ’র সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করছি।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd