ঢাকা : শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পণ্য মজুদ আছে, রমজানে পণ্যের দাম বাড়বে না : বাণিজ্যমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার          অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব ব্যবস্থা নিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী          বনাঞ্চলের গাছ কাটার ওপর ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ ১০:০৮:৪৪
বৃহৎ শিল্পের সাথে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে গুরুত্ব দিতে হবে
এ কে নাহিদ


 


যে কোনো রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশও এর বিকল্প নয়। বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, এ দেশের শিল্প খাতের এসএমই’র অবদান সবচেয়ে বেশি। বিশ্বের শিল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে টেকসই শিল্পায়নের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ভূমিকা ঐতিহাসিকভাবে সমাদৃত; বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষাপটেও স্বল্প পুঁজিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সুষ্ঠু শিল্পায়নের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের কোনো বিকল্প নেই। এটি সর্বজন স্বীকৃত যে, কর্মসংস্থান তৈরি, আয় বৃদ্ধি, মূল্য সংযোজন সর্বোপরি দারিদ্র বিমোচনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অবদান অসামান্য। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ভারী শিল্পের সহায়ক হিসেবে কাজ করে থাকে; যা দেশের সামগ্রিক শিল্প উন্নয়নের জন্য অতি জরুরি। বাংলাদেশের অধিকাংশ শিল্প মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অন্তর্ভুক্ত এবং বেশিরভাগ এসএমই শ্রম নির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহার করে। ক্ষুদ্র শিল্পের মাধ্যমেই মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প গড়ে উঠে।  এছাড়া এসএমই গ্রাম পর্যায়ে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষিপণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করে খাদ্য সামগ্রীর যোগান নিশ্চিত  করে। এক অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশে প্রায় ৬ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে; যা এসএমই’র অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া প্রায় ৩০ লাখ মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দেশের ৯০ শতাংশ শিল্প ইউনিটই এসএমই খাতের অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি শিল্প-কারখানায় নিয়োজিত মোট শ্রমিকের ৮৭ শতাংশ এবং মোট সংযোজিত পণ্যের ৩৩ শতাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অন্তর্ভুক্ত। গত ৫ বছরে এসএমই খাত সরকারের রাজস্ব ভান্ডারে ২ দশমিক ২ শতাংশের বেশি রাজস্ব প্রদান করতে সক্ষম হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে দেশে প্রায় ৮০ হাজার নারী-পুরুষ নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। এসব ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ ক্ষুদ্র উদ্যোগে এবং ৬ দশমিক ৪ শতাংশ মাঝারি উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। এসএমই’র প্রবক্তা হিসেবে জাপানকে গণ্য করা হয়। বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে এ দেশটি। অথচ ৩ দশক আগেও দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিলো। দেশটি ১৯৪৯ সালে এসএমইকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে বেছে নেয়ার পর থেকেই এ অবস্থার পরিবর্তন হতে থাকে। বর্তমানে দেশটির মোট শিল্প প্রতিষ্ঠানের ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশই এ খাতের অন্তর্ভুক্ত। জাপানের অনুসরণে পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এখন এসএমইকে অনুসরণ করে। এই এসএমই খাতের মাধ্যমে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও অনেক এগিয়েছে। এক পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে যে, পশ্চিম এশিয়ার অঞ্চলগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশ কর্মসংস্থানই এসএমই’র মাধ্যমে হয়েছে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র বিমোচনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প : বিশ্বব্যাপী বর্তমানে এসএমই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রধান চালিকা শক্তি। এসএমই দ্রুত সম্প্রসারণ হওয়ার ফলে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন উদ্যোক্তা এবং সৃষ্টি হচ্ছে বিপুল কর্মসংস্থান। মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বর্তমান প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এ ধারা আরও শক্তিশালী এবং গতিশীল  হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে বেকার সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। অন্যদিকে দারিদ্র কমিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এ দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত এসএমই। এসএমই খাতের সুষ্ঠু বিকাশ এবং টেকসই উন্নয়নে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, দারিদ্র নির্মূল এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ফলপ্রসূ অবদান রাখছে। নব্বইয়ের দশকে প্রথমে স্বল্প পরিসরে বাংলাদেশে এসএমই কর্মকাণ্ড শুরু হয়। ওই সময় থেকেই দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ করে দারিদ্র বিমোচন, বেকারত্ব হ্রাস, আয় বৈষম্য কমিয়ে আনা, মূল্য সংযোজন ও জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জনে এসএমই ব্যাপক অবদান রেখে চলেছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ শিল্প এসএমই’র অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে প্রায় ৬০ লাখ এসইমই শিল্প রয়েছে; যেখানে প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। জিডিপিতে দেশজ উৎপাদনে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ২৫ শতাংশ।
জাতীয় অর্থনীতিতে এসএমই’র অবদান : বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; যা দেশের শিল্প খাতে কর্মসংস্থানের ৮০ শতাংশ নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ অথচ প্রতিনিয়তই কমছে কৃষি জমি। এ কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে শিল্পের দিকে নজর দিতে হচ্ছে। একটি কৃষি নির্ভর সমাজ থেকে শিল্পভিত্তিক সমাজে রূপান্তরিত হওয়ার অন্যতম হাতিয়ার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই)। এসএমই উন্নয়নের মাধ্যমেই জাতীয় অর্থনীতির চাকাকে অধিক গতিশীল করা সম্ভব।  ইতোমধ্যে অনেকটাই এগিয়েছে এ শিল্প খাত। দেশের শিল্প খাতের ৪০ শতাংশই এসএমই খাতের অন্তুর্ভুক্ত। রপ্তানি আয়ের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এ খাত থেকে আসে। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি শিল্পসমৃদ্ধ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ পরিণত করা বর্তমান সরকারের একমাত্র অঙ্গীকার। সরকার রূপকল্প- ২০২১ অনুযায়ী জাতীয় আয়ে শিল্পের অবদান ২৮ থেকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ এবং বেকারত্বের হার বর্তমান ৪০ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ কমিয়ে আনার যে পরিকল্পনা নিয়েছে তা বাস্তবায়নের জন্য এসএমই’র টেকসই বিকাশ ও উন্নয়ন সময়ের দাবি। এ প্রেক্ষাপটে এসএমই’র সম্ভাবনাময় খাত যেমন- কৃষিভিত্তিক ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি ও বিপণন, হালকা প্রকৌশল কারখানা, সৌর বিদ্যুৎ প¬্যান্ট, আইপিএস তৈরি, হর্টিকালচার, ফুল চাষ ও বাজারজাতকরণ, হিমাগার, নির্মাণ শিল্প ও গৃহায়ন, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও পর্যটন, রপ্তানিযোগ্য মাটির টালি তৈরি, ফুড প্রসেসিং, গাড়ির বডি তৈরি, তেল ও ডাল মিল, জিআই পাইপ প্রস্তুত কারখানা, সিমেন্টের পিলার তৈরি, মিনি সুগার মিল, টেলিকমিউনিকেশন,  মোবাইল ফোন এক্সেসরিজ, পরিবহন ও যোগাযোগ, ল্যাবরেটরি, জুয়েলারি, কেবল অপারেটরস, জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিতরণ, মাছ ধরার নৌকা তৈরি, নকশী কাঁথা ও তাঁত, খাদ্য বীজ সংরক্ষণ ও বিপণন, বেকারি, হ্যাচারি, ড্রাই ফিশ প্রসেসিং, তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক কার্যক্রম, কম্পিউটার সফটওয়্যার ও আইসিটি দ্রব্যাদি, সাইবার ক্যাফে, ডকুমেন্টারি ফিল্ম, সিনেমা ও ডিভিডি নির্মাণ, বন শিল্প ও ফার্নিচার, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং, নবায়নযোগ্য শক্তি, হালকা প্রকৌশল শিল্প, প্ল¬াস্টিক শিল্প, কসমেটিকস ও টয়লেট্রিজ, হস্তশিল্প, ভেজষ ওষুধ শিল্প, পাট ও পাটজাত পণ্য, স্টেশনারি পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ইলেকট্রনিকস, কৃত্রিম ফুল উৎপাদন, চশমার ফ্রেম তৈরি, রেশম গুটি ও রেশম শিল্প, খেলনা তৈরি, আইস মিল, আয়োডিন মিশ্রিত লবণ তৈরি, মেশিনে চিড়া ও মুড়ি তৈরি, রাইস মিল, পাইকারি ও খুচরা দোকান, ড্রাগ হাউস ও ওষুধের দোকান, ফোন-ফ্যাক্স, স্থানীয় পরিবহন, সিনেমা হল, চাতাল ব্যবসা, প্রেডিং, পুরনো লোহা-লক্কড়, মোবাইল সেট ও যন্ত্রাংশের ব্যবসা, ইলেকট্রনিকসের ব্যবসা, বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা, কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবসা, সারের ব্যবসা, পাটের ব্যবসা, কাপড় ও জুতার ব্যবসা, রড ও সিমেন্ট ট্রেডিং, হার্ডওয়্যার ব্যবসা, ক্রোকারিজের ব্যবসা, মুদি ও ভুসি মালের ব্যবসা, এলপি গ্যাসের ব্যবসা, ওয়্যার হাউস ও কনটেইনার সার্ভিস, বাণিজ্যিকভাবে বৃক্ষরোপণ, ফটোগ্রাফি, তুলা থেকে বীজ ছড়ানো ও গাঁইট বাঁধা, উচ্চমানের মেধা ও দক্ষতাসম্পন্ন নলেজ সোসাইটি, টেইলারিং, সেলুন, বিউটি পার্লার ও জিম, কমিউনিটি সেন্টার, কল সেন্টার, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডিজিটাল কালার ল্যাব, ছোট অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, বাঁশ ও বেতের তৈরি সামগ্রী, বুটিকস/বাটিকস, মাশরুম, কম্পিউটার ট্রেনিং স্কুল, ইন্টেরিয়র ও এক্সটারনাল ডেকোরেশন, আদিবাসী হস্তশিল্প ও কোমল তাঁত, স’মিল, নৌযান শিল্প, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, ডেইরি ও ফিশ ফিড তৈরি, ব্রিকফিল্ড, খাদি শিল্প, আগর ও মোমবাতি, মশলা গুঁড়াকরণ, বিস্কুট ফ্যাক্টরি, গুড় তৈরি, খয়ের তৈরি, হোসিয়ারি, ওয়েল্ডিং শিল্প, পিতল ও কাঁসাশিল্প, পারটেক্স শিল্প, বায়োগ্যাস প¬ান্ট, রেণু পোনা উৎপাদন, টিস্যু কালচারের মাধ্যমে বীজ উৎপাদন, বালি ও পাথরের ব্যবসা, কাঠ ও স্টিল সামগ্রির ব্যবসা, ধান-চালের ব্যবসা, খাদির তৈরি বিভিন্ন পণ্য বিপণন, শীতল পাটি, নার্সারি, মিষ্টি তৈরি, মাছ চাষ, ব্যাটারি তৈরি, রেলওয়ের স্লিপার তৈরি, স্যানিটারি সামগ্রি নির্মাণ, ঝিনুক থেকে চুন তৈরি, মৃৎশিল্প, চা শিল্প, ফল প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, আলুবীজ সংরক্ষণাগার, সেমাই, লাচ্ছা ও চানাচুর তৈরি ইত্যাদি অধিক গতিশীল করতে হবে। এসএমই’র এ সকল খাত আধুনিকায়ন, উন্নয়ন প্রসার ও বাজার সৃষ্টির জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে রাখছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উন্নয়নে এসএমই ফাউন্ডেশন : জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে টেকসই শিল্পায়নের জন্য সরকার ২০০৬ সালে এসএমই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করে। এসএমই উন্নয়ন নীতি কৌশল বাস্তবায়নে সার্বিক সহায়তা করার উদ্দেশ্যেই এ ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছে। এছাড়া এসএমই খাতের উন্নয়নে উদ্যোক্তা উপযোগী পলিসি অ্যাডভোকেসি সাপোর্ট প্রদানে এ ফাউন্ডেশন কাজ করছে। এ ফাউন্ডেশনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো- সরকার, পরিকল্পনাবিদ, নীতিনির্ধারক, নির্বাহী প্রধান, গবেষক, পেশাজীবী, বিনিয়োগকারী, নীতিমালা প্রণয়ন, নতুন নতুন এসএমই প্রতিষ্ঠা এবং লাভজনকভাবে এসএমই প্রতিষ্ঠান পরিচালনার লক্ষ্যে হালনাগাদ তথ্য ও উপাত্ত সহায়তা প্রদান করা। শিল্পায়নে এসএমই খাতে নারী উদ্যোক্তাসহ এসএমই উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত, উদ্বুদ্ধ এবং জাতীয় পর্যায়ে সুসংগঠিতকরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর এসএমই ফাউন্ডেশন কাজ করছে। তৃণমূল, স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে দেশের সাধারণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করা এসএমই ফাউন্ডেশনের অন্যতম কাজ। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসএমই ফাউন্ডেশন উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণদান কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। চাহিদা ও উপযোগিতার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নসহ নানাবিধ কাজ করছে এ প্রতিষ্ঠানটি।
এসএমই উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক : বর্তমানে সরকার এসএমই তথা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানও এ শিল্পের বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক এসএমই খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে আলাদা ঋণনীতি এবং কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ঋণ নীতিমালা এবং কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১০ সালে আলাদা এসএমই বিভাগ চালু করে। আলাদা বিভাগ চালু করার পর বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের ঋণনীতি এবং কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই বিভাগ থেকে এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিনিয়োগ সহায়তা দেয়ার জন্য দেশে প্রথম বারের মতো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এসএমই ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মনে করেন, এসএমই খাত হচ্ছে আমাদের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। এসএমই খাতের উন্নয়ন ছাড়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। যার ফলে ২০১০ সালে এসএমই খাতে ব্যাংকগুলোকে ২৩ হাজার ৯শ’ ৯৫ কোটি টাকা বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, এসএমই খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ এবং নজরদারির কারণে ঋণ প্রবাহ বেড়েছে। উদ্যোক্তাদের আয় ও কর্মসংস্থানও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সকল বাণিজ্যিক ব্যাংককে এসএমই পোর্টফোলিও সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে। প্রতিটি ব্যাংককে তার মোট ঋণের ৪০ শতাংশ এসএমইতে বিনিয়োগ করার দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দেশের এসএমই খাত উন্নয়নে শিল্পনীতিতে সরকার যেভাবে প্রাধান্য দিয়েছে; ঠিক সেভাবেই বাংলাদেশ ব্যাংক ও এসএমইকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে চিহ্নিত করে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ড. আতিউর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর এই বিভাগ চালু করে। তিনি এসএমই এবং কৃষিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন। এই বিভাগ চালু হওয়ার আগে এসএমই নিয়ে ব্যাংকগুলোর আলাদা কোনো কার্যক্রম ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংকের পলিসি অনুযায়ী প্রত্যেকটি ব্যাংকে নতুন করে পলিসি করার জন্য দিক-নির্দেশনা দেয়া হয়। যেমনÑ প্রতিটি ব্যাংকে এসএমইর জন্য পৃথক বিভাগ চালু করা, নারী উদ্যোক্তাদের সাথে সেবামূলক ভালো আচরণ করা, ক্লাস্টারভিত্তিক বিনিয়োগ করা, ঋণ বিতরণ বৃদ্ধি করা, ট্রেডিংয়ের চেয়ে ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে অধিক বিনিয়োগ করা সর্বোপরি ব্যাংকগুলোকে বিভিন্ন চেম্বার, নারী উদ্যোক্তা, উইমেন চেম্বারসহ এই খাতের সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করা এবং মাঠ পর্যায়ে গিয়ে উদ্যোক্তা নির্বাচন করে এসএমই কার্যক্রমকে এগিয়ে নেয়ার জন্য পরামর্শ প্রদান করে। বাংলাদেশ ব্যাংক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ সীমা ৫০ হাজার টাকা থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। নারী উদ্যোক্তাদের এসএমই ঋণ বিতরণে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিটি ব্যাংক আলাদা ডেডিকোটেড ওমেনস এন্টারপ্রেণার ডেস্ক স্থাপন করার উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। নারী উদ্যোক্তাদের ব্যক্তিগত গ্যারান্টিকে জামানত হিসেবে বিবেচনা করে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ পর্যন্ত ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে পুন:অর্থায়ন তহবিল থেকে নারী উদ্যোক্তাদের ১০ শতাংশ হারে ঋণ সুবিধা দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজের আলাদা সংজ্ঞা নিরূপণ করে সে আলোকে ঋণ প্রদানের দিক নির্দেশনা দিচ্ছে। আগে সাধারণ মানুষ এসএমই সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতো না; এখন সর্বস্তরের মানুষ এসএমই সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। বাংলাদেশ ব্যাংক এসএমই নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফেয়ার, সেমিনার, ওয়ার্কশপ এবং মতবিনিময় করে। ব্যাংকার এবং উদ্যোক্তাদের এক সাথে বসিয়ে প্রশ্নোত্তর সভা করে এবং প্রকাশ্যে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণের আয়োজন করে। এ ধরনের প্রোগ্রাম হওয়াতে বর্তমানে ব্যাংকার এবং ব্যক্তি-উদ্যোক্তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রোডাক্ট ডেভেলপ হচ্ছে।
এসএমই উন্নয়নে কিছু সমস্যা : বাংলাদেশে এসএমই’র বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এ খাত বিকাশে বেশ কিছু সমস্যা বিরাজমান। এসএমই শিল্প খাত বিকাশে প্রথমেই অর্থায়ন একটি প্রধান অন্তরায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা জামানত প্রদানে ব্যর্থ হওয়াতে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করতে পারছেন না। ঋণের উচ্চ সুদের হার অর্থায়নের ক্ষেত্রে বড় বাঁধা। এসএমই উদ্যোক্তাদের মধ্যে কেউ ঋণ পাচ্ছে আবার কেউ পাচ্ছে না। শুধু তাই-নয় অনেক উদ্যোক্তা এসএমই উদ্যোক্তা না হওয়া সত্ত্বেও এসএমই ঋণ পাচ্ছে। এসএসই খাতে বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যাও রয়েছে। পর্যাপ্ত ও নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সুনিশ্চিত না হওয়া, গ্যাসের স্বল্পতা, পানির অভাব, দুর্বল রাস্তা-ঘাট ও ভাঙ্গা সড়ক ব্যবস্থার কারণে এসএমই উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় পণ্য পরিবহন ও বাজারজাতকরণে খরচ বেশি হচ্ছে। এতে উৎপাদিত পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে বহুগুণে। বাংলাদেশের এসএমই শিল্প খাত গবেষণা ও উন্নয়নের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে আছে, যা এই খাতের উন্নয়ন ও বিকাশে অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে। আবার উদ্যোক্তারা তাদের পণ্যের গুণগতমান নিশ্চিত করতে পারছেন না। ফলে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ভোক্তা সন্তুষ্টি ও উদ্ভাবনের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। যা তাদের উন্নয়নের জন্য অন্যতম বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। উদ্যোক্তাদের নতুন নতুন ধারণা সৃষ্টি ও সেবার মান সম্পর্কে  সঠিক ধারনার অভাব রয়েছে। এই খাতের উদ্যোক্তাদের বাজার সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় অধিকাংশ এসএমই উদ্যোক্তা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। বাজার ব্যবস্থাপনা ও বাজারজাতকরণ কৌশল সম্পর্কে সঠিক ধারণার অভাবেই তারা এ সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা এবং বিদ্যমান কিছু পদ্ধতিগত জটিলতা এসএমই উন্নয়নের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-উদ্যোক্তারা মনে করেন। এর মধ্যে ট্রেড লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স, বয়লার লাইসেন্স ইত্যাদি ব্যবসা করার জন্য উদ্যোক্তাদের সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়ে থাকে। আবার কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন, পণ্যের মান ও স্ট্যান্ডার্ডের সার্টিফিকেট পেতেও উদ্যোক্তাদের ভোগান্তির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ দেশের নারীরা সামাজিক ও পারিপার্শি¦ক কারণে স্বল্পমাত্রায় হলেও নানা বৈষম্যের কারণে নারী উদ্যোক্তারা সর্বক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের খাতে আশানুরূপ নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ছে না। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী; তাই এসএমই খাতে নারীর অংশগ্রণ নিশ্চিত করতে না পারাটা এর বিকাশের পথে একটি বড় অন্তরায়। এসএমই শিল্প খাতে আধুনিক প্রযুক্তির স্বল্পতা একটি প্রধান সমস্যা। আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে এসএমই উদ্যোক্তারা গুণগত মানসম্পন্ন আন্তর্জাতিক মানের পণ্য উৎপাদন করতে পারছে না। এতে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা বাংলাদেশের এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। এসএমই উদ্যোক্তাদের তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের সীমাবদ্ধতার কারণে তারা আন্তর্জাতিক বাজার, তথ্যসেবা ইত্যাদি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে পারছে না; যা তাদের উন্নয়নকে বাঁধাগ্রস্ত করছে। আবার ব্যবসায়িক ঝুঁকি, ভিশন ও সঠিক ব্যবসায়িক পরিকল্পনার অভাবে এসএমই উদ্যোক্তারা তাদের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না।
এসএমই উন্নয়নে কিছু প্রস্তাবনা : ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকার পরও বাংলাদেশে এসএমই উন্নয়ন এবং বিকাশের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এসএমই উদ্যোক্তাদের সহজশর্তে ও স্বল্প সুদে বা সিঙ্গেল ডিজিট ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে এবং এসএমই’র সংজ্ঞা অনুযায়ী শুধু এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য পর্যাপ্ত এসএমই ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে নারী নীতিমালা এবং বাস্তবায়ন কর্মকা-ে সম্পৃক্ত করতে হবে। নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে প্রয়োজনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং অধিকসংখ্যক নারী উদ্যোক্তার ব্যবসায়িক কর্মকা- পরিচালনার জন্য ঋণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে তাদের এসএমই ঋণ বিতরণে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের বিকাশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে। উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের যথাযথ মান নিশ্চিতকরণের ব্যবস্থা করতে হবে। মান নিশ্চিতকরণ প্রতিষ্ঠানকে যুগোপযোগী ও গীতিশীল করতে হবে। এসএমই পণ্যের সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে হবে। ট্যাক্স বা ভ্যাট রেজিস্ট্রেশনসহ প্রয়োজনীয় রেজিষ্ট্রেশন পদ্ধতি সহজতর করতে হবে। নতুন এসএমই উদ্যোক্তাদের ট্যাক্স হলিডে দিতে হবে। শিল্পোয়নে দেশি শিল্পকে অধিক প্রাধান্য এবং দেশি শিল্প সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদনে সহায়তা দিতে হবে। এই শিল্প খাতের মৌলিক কাঁচামালের আমদানি শুল্ক, শুল্ক স্তরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে হবে। পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আন্ডার ইনভয়েসিং প্রতিরোধ করতে হবে। উদ্যোক্তাদের তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে। ই-কমার্স ও ই-মার্কেট সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা দিতে হবে। উদ্যোক্তাদের টেকনোলজি বেইজড, স্কিল বেইজড ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এসএমই শিল্প পার্ক স্থাপন করতে হবে। সর্বোপরি এই শিল্প খাতের উন্নয়ন ও বিকাশকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে গবেষণা এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। এছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে বৃহৎ শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিংকেজ হিসেবে কাজ করার লক্ষ্যে কার্যকরি উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সরকারের যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতার মধ্য দিয়ে দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বিকাশে উদ্যোগী হতে হবে। কারণ স্বনির্ভর জাতি গঠনে এর বিকল্প নেই। বৃহৎ শিল্পের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উন্নয়নের মধ্য দিয়ে এ দেশ এগিয়ে যাবে; এটিই আমাদের কাম্য।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd