ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • ডিএসসিসির ৩,৬৩১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা          রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর          সংলাপের জন্য ভারতকে ৫ শর্ত দিল পাকিস্তান          এরশাদের শূন্য আসনে ভোট ৫ অক্টোবর          বাংলাদেশে আইএস বলে কিছু নেই : হাছান মাহমুদ
printer
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর, ২০১৪ ২১:১২:২১
ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ প্রেরণই অধিক ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ
ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া

 
ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া; এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ লিমিটেড (এক্সিম ব্যাংক)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও। তার ব্যাংকিং ক্যারিয়ার দীর্ঘ ৩০ বছরের। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি (সম্মান) ও এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর যুক্তরাজ্যের লন্ডন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি অ্যান্ড রিসার্চ থেকে মার্কেটিং এবং ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৮ সালে ইংল্যান্ডের ইনস্টিটিউট অব ইসলামী ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স থেকে ইসলামী ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিষয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা অর্জন করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির অ্যাসোসিয়েট ফেলো নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে তিনি আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। জনাব হায়দার আলী ১৯৮৪ সালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডে প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং তিনি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বিভিন্ন শাখায় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ সালে তিনি এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ লিমিটেডে যোগদান করেন এবং পর্যায়ক্রমে শাখা ব্যবস্থাপক, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১২ সালের ২৫ জুলাই এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া ব্যাংকিং জীবনে ব্যতিক্রমী কর্মদক্ষতার জন্য এক্সিম ব্যাংক থেকে ২০০১, ২০০২ ও ২০০৪ সালে স্বর্ণপদক লাভ করেন।

ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের প্যান প্যাসিফিক হোটেলে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এশিয়ার ‘মাস্ট ট্যালেন্টেড ইসলামিক ব্যাংকিং প্রফেশনাল (সিইও)’ পদক গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য অনন্যা সোস্যাল ফাউন্ডেশন থেকে অনন্যা গোল্ড মেডেল-২০১৩, হাতিরঝিল ক্লাব লিমিটেড থেকে ইন্ডিপেনডেন্স ডে অনারারি অ্যাওয়ার্ড-২০১৩, অল কমিউনিটি ক্লাব লিমিটেড, গুলশান থেকে গোল্ড মেডেল-২০১২ লাভ করেন। ২০১২ সালে ব্যাংকিং সেক্টরে অসামান্য অবদানের জন্য মাদার তেরেসা রিসার্চ কাউন্সিল কর্তৃক গোল্ড মেডেল এবং ২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। তিনি সফল ব্যাংকার হিসেবে বাংলাদেশ মেধা বিকাশ সোসাইটি কর্তৃক মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ড-২০১১ ও একই প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১০ সালের ম্যান অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হন। এছাড়াও তিনি স্বাধীনতা সংসদ সম্মাননা পুরস্কার-২০১০ ও স্বাধীনতা স্বর্ণপদক-২০১১ অর্জন করেন।
ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন গ্লোবাল ইকোনমিস্ট ফোরাম বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের নির্বাচিত সভাপতি। তিনি অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)-এর সদস্য এবং ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ-এর আজীবন সদস্য। দীর্ঘ ব্যাংকিং জীবনে তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, হংকং, থাইল্যান্ড, ভারত ও ফিলিপাইনে বিভিন্ন কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়াও তিনি জার্মানি, পর্তুগাল, বেলজিয়াম, কাতার, সৌদি আরব, দুবাই এবং আবুধাবি ভ্রমণ করেছেন। তিনি একজন সুপরিচিত লেখক ও কলামিস্ট। ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া ১৯৫৭ সালে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানার অন্তর্গত সুতালড়ি ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি তিন সন্তানের জনক। ড. মোহাম্মাদ হায়দার আলী মিয়া সম্প্রতি অর্থ পাচার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে টাইমওয়াচ প্রতিনিধির সাথে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মিলিত হন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ কে নাহিদ
টাইমওয়াচ : আমরা এক সমীক্ষায় জানতে পারি, বাংলাদেশ থেকে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার হয়। এ বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?
ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ প্রেরণই অধিক ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ
ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া :
বাংলাদেশ ছোট্ট একটি দেশ। ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাচার কখনোই সম্ভব নয় এবং এটি এ দেশে হয়ও না। তবে অন্য কোনোভাবে অর্থ পাচার হতে পারে। হুন্ডি বা অন্য কোনো চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাচার হয়ে থাকতে পারে।
টাইমওয়াচ : অনেকেই বলে থাকেন, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পণ্যের দাম কম-বেশি দেখিয়ে অর্থ পাচার হয়। এর সত্যতা কতটুকু?
ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া : আন্ডার ইন ভয়েসিং এবং ওভার ইন ভয়েসিংয়ের মাধ্যমে স্বাধীনতার পর পর কিছু অর্থ পাচার হয়েছে। এখন কমপিটিশনের যুগ। এখন ইন ভয়েস আসলে সেটা সাথে সাথে চেক করা হয়। পণ্যের প্রাইস ঠিক আছে কিনা ইন্টানেটে আমরা ইউনিট প্রাইসগুলো চেক করি। প্রাইস ঠিক থাকলে আমরা পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করি। সেখানে ওভার ইন ভয়েসিং করা হলে সেটা ব্যাংকারের কাছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ধরা পড়বে। আবার সেটা ধরা পড়বে ডিউটি দেয়ার সময় এবং কাস্টমসে ধরা পড়বে। স্বাধীনতার পর পর ব্যাংকের মাধ্যমে কিছু অর্থ পাচার হলেও এখন ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাচার সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের যে সার্কুলার, নির্দেশনা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেখানে ওভার ইন ভয়েসিং এবং আন্ডার ইন ভয়েসিং হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ আমাদের কাছে যখনই কোনো এলসি ওপেনিংয়ের জন্য ইনভয়েস দেয় তখন আমরা তাৎক্ষণিকভাবে চেক করি ইউনিট প্রাইস ঠিক আছে কি-না। আবার যে আইটেম করে যেমন পাওয়ার টিলার বা ডিজেল ইঞ্জিন বা ডোমেস্টিক পাম্প, ফোর হর্স পাওয়ার বা ফাইভ হর্স পাওয়ারের ক্ষেত্রে আমরা দেখি যে আগের ওপেন হওয়া এলসির সাথে এই এলসির মিল আছে কি-না। যদি মিল না থাকে তখনই আমরা ধরে ফেলি এটার ইউনিট প্রাইস ঠিক নেই। তখন আমরা প্রাইস ঠিক করার জন্য বলে থাকি। এটা ব্যাংকের যেমন দায়িত্ব তেমনি যারা ইন ভয়েস দেয় তাদের প্রাইস যাচাই করার দায়িত্ব রয়েছে। কাজেই ওভার ইন ভয়েসিং বা আন্ডার ইন ভয়েসিং করে মুদ্রা পাচার এখন সম্ভব নয়।
টাইমওয়াচ : ব্যাংকগুলো কাগজপত্রের ভিত্তিতে এলসি খুলে। এক্ষেত্রে কাস্টমসের একটা ভূমিকা থাকে। এতে কোনো সমন্বয়হীনতা হতে পারে কী-না?
ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া : না, কাস্টমসের ভূমিকায় কোনো সমন্বয়হীনতা হবে না। কারণ আমরা ব্যাংকে এলসি ওপেন করার পরে তার কাছেও একটা ট্যারিফ রেট থাকে। তখন এইচ এস কোড দেয়া হয়। এইচ এস কোড অনুযায়ী প্রাইস থাকে। আরেকটি বিষয় হলো কোন দেশ থেকে কোন মাল আসবে সেই মালের একটা ইনেসপেকশন অর্থাৎ পিএসআই কোম্পানি আছে। এসব কোম্পানি দিয়ে তাদেরকে সার্টিফাই দেয়া হয় পণ্যে ইউনিট প্রাইস ঠিক আছে কী-না। সার্টিফাই হয়েই মাল এলসির মাধ্যমে আসে। পিএসআই কোম্পানি যেমন- পোরোভ্রিটাস, ইন্টারটেক এজেন্সি, বার্ডস বাংলাদেশ প্রভৃতি কোম্পানি রয়েছে।
টাইমওয়াচ : আপনার দৃষ্টিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে যে বিএফআই এবং অন্যান্য যে সংস্থা আছে তারা কি সঠিকভাবে তদারকি করতে পারছে বলে মনে করেন?
ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া : অবশ্যই তারা সঠিকভাবে কাজ করে থাকে। একটা রেগুলেটরি হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অন্যান্য রেগুলেটরির মধ্যে রয়েছে কাস্টমস, ন্যাশনাল বোর্ড অব রেভিনিউ, ব্যাংকগুলো, চিপ কন্ট্রোলার, ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট, এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো প্রভৃতি। এই সবগুলো সংস্থা পণ্য মূল্য যাচাইয়ে চেকিংয়ের মধ্যে রয়েছে। কাজেই ইচ্ছে করলেই এখানে ফাঁকি দেয়ার কোনো প্রবণতা বা সুযোগ নেই। বরং এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ প্রেরণই অধিক ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ
টাইমওয়াচ : আপনার ব্যাংকিং ক্যারিয়ারের আলোকে বলবেন কী আমাদের দেশে বিভিন্নভাবে যে অর্থ পাচার হয় সেটি কেন হয়?ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ প্রেরণই অধিক ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ
ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া : বিদেশে কোনো কিছু করার আশা নিয়ে কেউ কেউ অর্থ পাচার করে অথবা কালো টাকা বিদেশে পাঠানোর জন্য অবৈধ পথে ইনকাম বৈধভাবে দেখাতে না পারার কারণে অর্থ পাচার করে থাকে। বর্তমান সরকার বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েছে।
টাইমওয়াচ : অর্থ পাচার প্রতিরোধ করার কী উপায় রয়েছে বলে আপনি মনে করছেন?
ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া : অর্থ পাচার প্রতিকার রোধে অলরেডি বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আগের চেয়ে রেগুলেশন অনেক ইমপ্রুভ করা হয়েছে। যেমন- ওভার ইনভয়েসিং, কমপ্লিট মার্কেট যাচাই করা যাতে ওভার ইনভয়েসিং এবং আন্ডার ইনভয়েসিং যাতে না হয়। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন পূর্বে ছিল কিন্তু জোড়দার কম ছিল। এখন এন্ট্রি মানি লন্ডারিং আইন অধিক কার্যকর। এসবের মাধ্যমে অর্থ পাচার প্রতিরোধ হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সব ব্যাংকের ওপর এখন কঠোরভাবে নির্দেশনা হয়েছে। এন্টি মানি লন্ডারিং আইনের মাধ্যমে অর্থ পাচার প্রতিরোধ করা হচ্ছে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd