ঢাকা : সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • ডেঙ্গু এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে : কাদের          ঈদে হাসপাতালের হেল্প ডেস্ক খোলা রাখার নির্দেশ          নবম ওয়েজ বোর্ডের ওপর হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা           বন্দরসমূহের জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর, ২০১৪ ১২:৩৪:২৬আপডেট : ২০ নভেম্বর, ২০১৪ ১২:৫৬:৫৮
এজেন্ট ব্যাংকিং দেশের ব্যাংকিং সেবাকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নেবে : এ এস এম বুলবুল
এ এস এম বুলবুল, অ্যাডিশনাল ম্যানিজিং ডিরেক্টর, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড


 

এ এস এম বুলবুল; দেশের নতুন প্রজন্মের বেসরকারি এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে নতুন কনসেপ্ট এজেন্ট ব্যাংকিং বিষয়ে টাইমওয়াচ প্রতিনিধির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মতামত ব্যক্ত করেন। এখানে তা উপস্থাপন করা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ কে নাহিদ
টাইমওয়াচ : দেশে অসংখ্য বেসরকারি ব্যাংক গড়ে উঠেছে। এক্ষেত্রে ব্যাংক এশিয়া এবং এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশে এজেন্ট ব্যাংকিং করার অনুমোদন দিয়েছে; বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?
এস এম বুলবুল : এজেন্ট ব্যাংকিংকে অলটারনেটিভ ডেলিভারি চ্যানেল নামে অভিহিত করা যায়। অর্থাৎ ব্যাংকের কাজ এজেন্টদের মাধ্যমে বিস্তৃত করা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন কারণে ব্যাংকের শাখা দেশের সব জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া গ্রাম-গঞ্জের আনাচে-কানাচে ব্যাংকের শাখা খোলা সমর্থন করে না। তাই এর বিকল্প হিসেবে আমরা অনেক সময় অলটারনেটিভ ডেলিভারি চ্যানেলের মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকি। এগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে এজেন্ট ব্যাংকিং। এই সার্ভিসের মাধ্যমে অতি দ্রুত ব্যাংকিং সেবা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারবো। তাই এই গ্রাহকদের জন্য এ সেবার অনুমোদন পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের যাত্রা শুরু থেকেই অভীষ্ঠ ছিল যে, আমরা এজেন্ট ব্যাংকের অনুমোদন নেবো; যাতে আমাদের ইন্ডিপেনডেন্ট শাখা কাঠামো না রেখে অন্যরা ব্যাংকের হয়ে কাজ করতে পারে এবং ব্যাংকিং সেবা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিতে পারি। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সুবিধা হচ্ছে- ব্যাংকের নিজের আর্থিক বিনিয়োগ কম থাকে। অন্য একটি গোষ্ঠী ব্যবসায়ে সম্পৃক্ত হতে পারে। এটি সুশৃঙ্খল ব্যবসা। ব্যাংকের লোকজন যেভাবে কাজ করে সেরকম সুশৃঙ্খলভাবে এজেন্টরা কাজ করবে। আমি মনে করি, দেশে সুশৃঙ্খল ব্যবসার এজেন্ট ব্যাংকিং দেশের ব্যাংকিং সেবাকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নেবে : এ এস এম বুলবুল
নতুন একটি দিক উন্মোচন হলো। আমাদের অনেক এলাকা রয়েছে যেখানে এখন পর্যন্ত রাস্তা-ঘাট হয়নি। ওই সকল অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক এবং কোনো স্থাপনা তৈরি করা সম্ভব নয়। তাই ওইসব অঞ্চলে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি। বর্তমানে প্রযুক্তির ব্যবহারে আমরা সীমিত অর্থে মোবাইল ব্যাংকিং করছি। এ রকম আরেকটি সেবাই এজেন্ট ব্যাংকিং।
টাইমওয়াচ : এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সেবা কার্যক্রমের নীতিমালা সম্পর্কে বলবেন কী?
এস এম বুলবুল : এর নীতিমালা খুবই সহজ। এক সময়ে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম আমাদের ব্যাংকিং কার্যক্রমের প্রধান একটি কাঠামো হয়ে দাঁড়াবে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও বিস্তৃতি লাভ করবে। বস্তুত বিপুলসংখ্যক মানুষ অদ্যাবধি ব্যাংকিং সেবার বাইরে রয়ে গেছেন। সে সব মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় নিয়ে আসতে এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশাবাদী। এর কাঠামোগত নীতিমালা সুবিস্তৃত যা এই স্বল্প পরিসরে প্রকাশ সম্ভব নয়। তবে বিস্তারিত নীতিমালা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অনুমোদন করেছে।
টাইমওয়াচ : এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কারা এজেন্ট হতে পারবেন; বলবেন কী?
এস এম বুলবুল : এজেন্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের বেশকিছু শর্ত থাকবে। আমরা যে কাউকে এজেন্ট নিয়োগ করবো না। অলরেডি ব্যবসা করছে, ব্যবসায়ের সুনাম এবং আর্থিক বিনিয়োগের সামর্থ্য রয়েছে এমন ব্যবসায়ী ব্যক্তি কিংবা সংগঠনকে আমরা এজেন্ট নিয়োগ করবো। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদানকারীদের আমরা অগ্রাধিকারভিত্তিতে গুরুত্ব দেব।
টাইমওয়াচ : এজেন্ট নিয়োগের শর্ত সম্পর্কে বলবেন কী?
এস এম বুলবুল : এজেন্টদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যাংকে জমা রাখতে হবে। এটিকে আমরা ঠিক জামানত বলছি না। লেনদেনের সুবিধার্থে তাদেরকে এ অর্থ ব্যাংকে জমা রাখতে হবে। নগদ অর্থ প্রদান এবং গ্রহণ হচ্ছে এজেন্টদের একটি প্রধান দায়িত্ব। তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত নীতিমালার মধ্য থেকেই কাজ করবে। একজন এজেন্ট যেকোনো একটি শাখার তত্ত্বাবধানে কাজ করবে। আর ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে এজেন্টের মাধ্যমে আমাদের শাখার লোকবল নির্ধারণ করা আছে।এজেন্ট ব্যাংকিং দেশের ব্যাংকিং সেবাকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নেবে : এ এস এম বুলবুল
টাইমওয়াচ : আপনারা কার্যক্রম শুরু করেছেন কী?
এস এম বুলবুল : মাত্র কিছুদিন আগে আমরা এজেন্ট ব্যাংকিং করার অনুমোদন পেয়েছি। এখনো আমরা কোনো এজেন্ট নিয়োগ দেইনি। এজেন্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা বেশি দূর যেতে পারবো না। কারণ শর্ত রয়েছে যে, এজেন্ট যেকোনো একটি শাখার অধীনে কাজ করবে। আমরা বেশি এজেন্ট নিয়োগ দিতে পারছি না কারণ বর্তমানে আমাদের ব্যাংকের শাখার সংখ্যা কম রয়েছে। আমরা প্রাথমিকভাবে উত্তর বঙ্গসহ আরো দু’একটি এলাকায় এজেন্ট নিয়োগ দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
টাইমওয়াচ : দেশে গড়ে ওঠা ব্যাংকগুলোর বেশিরভাগ শাখা শহরমুখী বা উপশহরকেন্দ্রিক। গ্রাম অঞ্চলে শাখা নেই বললেই চলে। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
এস এম বুলবুল : এই বিষয়টি আমি ভালোভাবে দেখছি তা-নয়। তবে আমাদের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আমরা ক্ষুদ্র পরিসরে একটি শাখা খুলতে গেলেও নূণতম খরচ প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। আর এসব কারণেই এজেন্ট ব্যাংকিং চালু হচ্ছে। এজেন্ট ব্যাংকিং করতে গেলে আমাদের প্রারম্ভিক বিনিয়োগ কম। কারণ এখানে এজেন্টরাও বিনিয়োগ করবে। আমাদের কোনো স্থান নির্বাচন করতে হবে না। এজেন্টরা তাদের নিজেদের কর্মস্থলে আমাদের তত্ত্বাবধানে কাজ করবে। এজেন্টদের কাছ থেকে আমরা আপাতত ব্যাংকিং ফি নেব না।
টাইমওয়াচ : এক্ষেত্রে এজেন্টদের স্বজন প্রীতির কাছে কোনো দুর্নীতি কিংবা ঋণ খেলাপি হওয়া সম্ভাবনা রয়েছে কী?
এস এম বুলবুল : দুর্নীতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ এজেন্টদের মাধ্যমে গ্রাহকদের ঋণদান কর্মসূচি খুবই সামান্য পরিমাণে হবে। এক্ষেত্রে ব্যাংকই তদারকি করবে। আর ব্যাংক পরিচালনার ক্ষেত্রে বর্তমানে দুর্নীতি করার সুযোগ এবং সম্ভাবনা খুবই কম।এজেন্ট ব্যাংকিং দেশের ব্যাংকিং সেবাকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নেবে : এ এস এম বুলবুল
আপনি পরিচালকদের সংশ্লিষ্টতার কথা বলছিলেন, এখন কোনো ব্যাংকের পরিচালক যদি ঋণ খেলাপি হয়ে যান তাহলে তাকে পরিচালকের পদ ছেড়ে দিতে হবে।
টাইমওয়াচ : এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে বলবেন কী?
এস এম বুলবুল : এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ব্যাপক। তার কারণ হচ্ছে সামর্থ্য আছে এমন ৬০ ভাগেরও বেশি মানুষ এ সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। আমরা এসব মানুষকে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার জন্য চেষ্টা করবো। অনেকে বলছেন, দেশে প্রচুর ব্যাংক এবং ব্যাংকের শাখা গড়ে উঠেছে। এজেন্ট ব্যাংকিং চলবে কী-না। জনসংখ্যার অনুপাতে ব্যাংকসমূহের শাখা এখনো অপ্রতুল। আসলে এক ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়ে গিয়েছে এবং প্রতিযোগিতা থাকাটাই স্বাভাবিক। আমি মনে করি, প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি হলে অনেক ভালো দিক বেরিয়ে আসবে। আর এ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য প্রত্যেকেই তার নিজের সেবার মান আরও ভালো করার চেষ্টা করবে। আমরাও আমাদের সেবার মান বাড়িয়ে দেব। আগে ব্যাংক এবং ব্যাংকের শাখা ছিল কম। গ্রাহক ছিল বেশি। গ্রাহক সেবা নেওয়ার জন্য আমাদের কাছে আসতো। এখন ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি। এজন্য আমরা সেবা গ্রাহকের দোর গোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছি। এজেন্ট ব্যাংকিং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সম্ভব। তবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এর বিস্তৃতি ঘটাতে গেলে আমাদেরকে দেশে এর অবকাঠামো দৃঢ়ভাবে আগে তৈরি করে নিতে হবে। দেশের বাইরে এজেন্ট ব্যাংকিং করার জন্য সে দেশের আইনের সমর্থন লাগবে। এটি একটি বড় অন্তরায়।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd