ঢাকা : মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পণ্য মজুদ আছে, রমজানে পণ্যের দাম বাড়বে না : বাণিজ্যমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার          অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব ব্যবস্থা নিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী          বনাঞ্চলের গাছ কাটার ওপর ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর, ২০১৪ ১৩:১১:০৭আপডেট : ২০ নভেম্বর, ২০১৪ ১৩:২২:০৯
এসএমই ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হয়ে শিল্প সমৃদ্ধ দেশ গড়ুন
এ কে নাহিদ


 

যে কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকা শক্তি শিল্প খাত। আর শিল্প খাত প্রাথমিক পর্যায়ে গড়ে ওঠে এক বা একাধিক ব্যক্তি-উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে। ক্ষুদ্র থেকেই বৃহৎ সৃষ্টি হয়। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে রূপ নেয় বৃহৎ শিল্পের। ফলে বিশ্বের শিল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে টেকসই শিল্পায়নের ক্ষেত্র ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অবদান বেশি। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে সুষ্ঠু শিল্পায়নের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প তথা এসএমই’র কোনো বিকল্প নেই। নব্বইয়ের দশকে প্রথমে স্বল্প পরিসরে এদেশে এসএমই কর্মকা- শুরু হয়। প্রতিটি উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে রপ্তানি আয়ের একটি বড় মাধ্যম হচ্ছে এসএমই খাত। চায়নার তাইপেতে এর অবদান ৫৬ শতাংশ। চায়নায় ৪০ শতাংশের বেশি এবং ভারতে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। বাংলাদেশের জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান ২৫ শতাংশ; যা শিল্পায়নের জন্য অতি জরুরি। আমাদের দেশে মাঝারি উদ্যোক্তার সংখ্যা প্রায় ২৭ হাজার এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে দেশে ১৫ লাখ মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া অনেক উদ্যোক্তা এই পরিসংখ্যানের বাইরে রয়েছেন। এসএমই প্রবক্তা হিসেবে জাপানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থনৈতিক অবস্থার দিক থেকে বিশ্বে দেশটির অবস্থান তৃতীয়। ১৯৪৯ সালে এসএমইকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে বেছে নেয়ার প্রেক্ষাপটে জাপানের অর্থনীতি দ্রুত চাঙ্গা হয়। বর্তমানে জাপানের মোট শিল্প প্রতিষ্ঠানের ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অন্তর্ভুক্ত। এ দেশের অনুসরণের পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এসএমইকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এই খাতের মাধ্যমে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও অনেক এগিয়েছে। এক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, পশ্চিম এশিয়ার অঞ্চলগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশ কর্মসংস্থানই হয়েছে এসএমইর মাধ্যমে। বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। দেশে এসএমই খাতে যত প্রসার ঘটবে তত শিল্প উৎপাদন বেশি বাড়বে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আরও জোরদার হবে। বিশাল জনসংখ্যার ক্ষুদ্র দেশ বাংলাদেশ। জনসংখ্যার আকার অনুযায়ী এদেশে রয়েছে কর্মসংস্থানের ঘাটতি বা অভাব। দেড়িতে হলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি এসএমই ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হয়ে শিল্প সমৃদ্ধ দেশ গড়ুন
শিল্পের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেশ ভূমিকা রাখছে। সেই সাথে দারিদ্র বিমোচনেও ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাত যা কর্মসংস্থানের ৮০ শতাংশ নিশ্চিত করেছে। এক অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশে প্রায় ৬০ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা এসএমই’র অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া প্রায় ৩০ লাখ মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ এ দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ৯০ শতাংশ শিল্প ইউনিট এসএমই খাতের অন্তর্ভুক্ত। সেই সাথে শিল্প কারখানায় নিয়োজিত মোট শ্রমিকের ৮৭ শতাংশ এবং মোট সংযোজিত পণ্যের ৩৩ শতাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অন্তর্ভুক্ত। গত ৫ বছরে এসএমই খাত সরকারের রাজস্ব ভান্ডারে ২ দশমিক ২ শতাংশের বেশি রাজস্ব প্রদান করতে সক্ষম হয়েছে। দেশের শিল্পখাতের ৪০ শতাংশ আসে এ খাত থেকে। আর এ খাতকে এগিয়ে নিচ্ছে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা।
এসএমই ব্যাংকিং এবং কিছু কথা
এদেশে এসএমই খাত বৃদ্ধি এবং এর প্রসারতা সৃষ্টির জন্য এসএমই ব্যাংকিং গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রথমে প্রয়োজন উদ্যোক্তা সৃষ্টি। উদ্যোক্তাদের উদ্যোগ গ্রহণের অন্যতম হাতিয়ার মূলধন বা পুঁজি। এসএমই শিল্প খাত বিকাশে প্রথমেই একটি প্রধান অন্তরায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে অর্থায়ন। অধিকাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা অর্থের অভাবে শিল্প প্রতিষ্ঠা এবং উন্নত করতে পারছেন না। অধিকাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ পেতে বিভিন্ন ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয়। ফলে অনেক উদ্যোক্তা অঙ্কুরেই ঝড়ে পড়ে। মানব দেহের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের মধ্যে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রবাহ সঞ্চালনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এসএমই ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হয়ে শিল্প সমৃদ্ধ দেশ গড়ুন
মাধ্যম হচ্ছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান।  ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তা অনেক ক্ষেত্রে জামানত প্রদানে ব্যর্থ হওয়াতে ব্যাংক থেকে যথাসময়ে ঋণ গ্রহণ করতে পারছেন না। ঋণের উচ্চ সুদের হার অর্থায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা। এসএমই উদ্যোক্তাদের মধ্যে কেউ ঋণ পাচ্ছে আবার কেউ পাচ্ছে না। শুধু তাই নয় অনেক উদ্যোক্তা এসএমই উদ্যোক্তা না হওয়া সত্ত্বেও এসএমই ঋণ পাচ্ছে। সঠিক উদ্যোক্তারা ঋণ সহায়তা না পাওয়ার জন্য অনেক সময় তাদের ব্যবসার সম্প্রসারণ ঘটাতে সক্ষম হয় না। দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নের জন্য এসএমই ব্যাংকিং খাতের সুষ্ঠু নীতিমালা জরুরি। এসএমই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। এর বিকাশের ফলে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন উদ্যোক্তা এবং সৃষ্টি হচ্ছে বিপুল কর্মসংস্থান। বর্তমানে এদেশে বেকার সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। সেই সাথে দারিদ্র কমিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এ দেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়েছে দাঁড়িয়েছে। এ জন্য এসএমই খাতের সুষ্ঠুবিকাশ ও উন্নয়নে অধিক ভূমিকা রয়েছে এসএমই ব্যাংকিং-এর।
এসএমই ব্যাংকিং উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক
বর্তমানে সরকার এসএমই তথা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানও এ শিল্পের বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক এসএমই খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে আলাদা ঋণনীতি এবং কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ঋণ নীতিমালা এবং কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১০ সালে আলাদা এসএমই বিভাগ চালু করে। আলাদা বিভাগ চালু করার পর বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের ঋণনীতি এবং কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই বিভাগ থেকে এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিনিয়োগ সহায়তা দেয়ার জন্য দেশে প্রথম বারের মতো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এসএমই ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মনে করেন, এসএমই খাত হচ্ছে আমাদের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। এসএমই খাতের উন্নয়ন ছাড়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। যার ফলে ২০১০ সালে এসএমই খাতে ব্যাংকগুলোকে ২৩ হাজার ৯শ’ ৯৫ কোটি টাকা বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, এসএমই খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ এবং নজরদারির কারণে ঋণ প্রবাহ বেড়েছে। উদ্যোক্তাদেরএসএমই ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হয়ে শিল্প সমৃদ্ধ দেশ গড়ুন
আয় ও কর্মসংস্থানও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সকল বাণিজ্যিক ব্যাংককে এসএমই পোর্টফোলিও সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে। প্রতিটি ব্যাংককে তার মোট ঋণের ৪০ শতাংশ এসএমইতে বিনিয়োগ করার দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দেশের এসএমই খাত উন্নয়নে শিল্পনীতিতে সরকার যেভাবে প্রাধান্য দিয়েছে; ঠিক সেভাবেই বাংলাদেশ ব্যাংক ও এসএমইকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে চিহ্নিত করে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ সীমা ৫০ হাজার টাকা থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। নারী উদ্যোক্তাদের এসএমই ঋণ বিতরণে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিটি ব্যাংক আলাদা ডেডিকোটেড উমেনস এন্টারপ্রেণার ডেস্ক স্থাপন করার উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। নারী উদ্যোক্তাদের ব্যক্তিগত গ্যারান্টিকে জামানত হিসেবে বিবেচনা করে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ পর্যন্ত ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে পুন:অর্থায়ন তহবিল থেকে নারী উদ্যোক্তাদের ১০ শতাংশ হারে ঋণ সুবিধা দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজের আলাদা সংজ্ঞা নিরূপণ করে সে আলোকে ঋণ প্রদানের দিক নির্দেশনা দিচ্ছে।
এসএমই ব্যাংকিং এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে সমস্যা
এসএমই খাতের উন্নয়নে প্রথম এবং প্রধান বিষয় হচ্ছে পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থায়ন। উদ্যোক্তারা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে আর্থিক সুবিধা না পাওয়ার জন্য এ খাতের প্রসারতা ঘটাতে ব্যর্থ হয়। আবার অধিকাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা জামানত প্রদানে ব্যর্থ হওয়াতে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করতে পারছে না। ঋণ গ্রহণে উচ্চ সুদের হারও অর্থ জোগানের ক্ষেত্রে বড় বাধা। অনেক উদ্যোক্তা এসএমই উদ্যোক্তা না হলেও এসএমই ঋণ পাচ্ছে। কিন্তু এসএমই উদ্যোক্তা হয়েও ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ খাতের উন্নয়নে প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছেÑ পর্যাপ্ত অর্থায়ন। যার ফলে এ খাতের প্রবৃদ্ধির হার মন্দা। চাহিদা মাফিক ঋণের অভাবে দেশের এসএমই উদ্যোক্তাদের এ শিল্প সম্প্রসারণে অন্যতম প্রধান সমস্যা। ঋণের কারণে অনেক এসএমই উদ্যোক্তা ঋণ নিতে সাহস পায় না। পাশাপাশি রয়েছে বন্ধকী বা কো-লেটারেল এর ঝামেলা। অনেক এসএমই খাতের বিকাশে বর্তমানে ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ছে। ব্যাংক এসএমই অর্থায়নের ক্ষেত্রে ট্রেডিংয়েএসএমই ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হয়ে শিল্প সমৃদ্ধ দেশ গড়ুন
বেশি বিনিয়োগ করে ফেলে। শুধুমাত্র ট্রেডিংয়ে বিনিয়োগ না বাড়িয়ে ম্যানুফ্যাকচারিং এ বেশি অর্থায়ন করলে এসএমই খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ সুগম হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে রাইট উদ্যোক্তা সিলেক্ট করতে ব্যর্থ হওয়াতে ঋণ আদায়ে ডিফল্ট হয়। এসএমই অর্থায়নের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের সঠিকভাবে নির্ণয় করে এসএমই ব্যাংকিং করা আবশ্যক। উদ্যোক্তা এবং ব্যাংকারদের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপন অতি জরুরি। ব্যাংক উদ্যোক্তাদের শুধুমাত্র অর্থায়ন করে বসে না থেকে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে নিয়মিত নজরদারি ওয়াকিহাবল হতে হবে। ব্যাংক উদ্যোক্তাদের ফাইন্যান্স করছে এবং ব্যাংকের ফাইন্যান্সে বিভিন্ন প্রোডাক্ট তৈরি হচ্ছে। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য যে, ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তাই জানে না যে, তাদের ফাইন্যান্সে কি কি প্রোডাক্ট তৈরি হচ্ছে। ব্যাংকারদের মাঠ পর্যায়ে গিয়ে উদ্যোক্তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগে এসএমই খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।
এসএমই ব্যাংকিংয়ের সমস্যা-সমাধান এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে কিছু প্রস্তাবনা
বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ অথচ প্রতিনিয়তই কৃষি জমি কমছে। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে শিল্পের দিকে নজর দিতে হবে। একটি কৃষিনির্ভর শিল্প থেকে শিল্পভিত্তিক সমাজে রূপান্তিত হওয়ার অন্যতম হাতিয়ার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বিকাশে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকার পরও এসএমই উন্নয়নের বিকাশের ক্ষেত্রে রয়েছে উজ্জ্বল সম্ভাবনা। এজন্য এসএমই ব্যাংকিং খাতের জোড়দার ভূমিকা রাখা জরুরি। উদ্যোক্তাদের শুধু ঋণ প্রদান করাই ব্যাংকের কাজ নয়, ব্যাংকের অগ্রণী ভূমিকা হচ্ছে সঠিক উদ্যোক্তা খুঁজে বের করে ব্যাংকিং করা। এসএমই উদ্যোক্তাদের সহজশর্তে এবং স্বল্প সুদে বা সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে এবং শুধুমাত্র এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য পর্যাপ্ত ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে নারী নীতিমালা এবং বাস্তবায়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বন্ধকীবিহীন ঋণের ব্যবস্থা রয়েছে। এসএমই নারী উদ্যোক্তারা ৭ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বন্ধকবিহীন ঋণ সুবিধা পাচ্ছে। এটা আরও নমনীয় হওয়া প্রয়োজন। এসএমই ব্যাংকিং নীতিমালা জোড়দার করতে হবে। এসএমই বান্ধব ব্যাংকিং নীতিমালা ও ঋণ প্রবাহ দেশে শক্তিশালী এসএমই শিল্পখাত গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের ক্ষেত্রে এ খাতে অর্থ প্রবাহ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এ জন্য এ খাতকে বাজেটের অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। কারণ এসএমই খাতে সবচেয়ে বড় সমস্যা অর্থায়ন। চাহিদামাফিক ঋণের অভাবে অনেক সময় সম্ভাবনাময় এ খাতে দ্রুত অগ্রসর হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং দেশের উন্নয়নের জন্য ট্রেডিং অর্থনীতির পরিবর্তে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্থনীতি বেশি প্রয়োজন। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানুফ্যাকচারিংয়ে বেশি নজর দিয়ে অর্থায়ন করতে হবে। শিল্পায়নে দেশি শিল্পকে অধিক প্রাধান্য দিতে হবে। দেশে আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদনে সহায়তা দিতে হবে। উদ্যোক্তাদের তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে। ব্যাংকের বিভিন্ন ওয়েবসাইডের মাধ্যমে এসএমই প্রোডাক্ট ডিসপ্লের ব্যবস্থা করতে হবে। বিদেশি সকল ক্রেতা ব্যাংকের ওয়েবসাইডে ঢুকে এসব পণ্যে ক্রয় করে আগ্রহী হবে। ফলে দেশের অর্থনীতির চাকা বেগবান হবে। জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। পণ্য ভোগের প্রবণতাও বাড়বে। দেশেই গড়ে উঠবে আমদানি বিকল্প নতুন নতুন শিল্প কারখানা।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd