ঢাকা : সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • ডেঙ্গু এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে : কাদের          ঈদে হাসপাতালের হেল্প ডেস্ক খোলা রাখার নির্দেশ          নবম ওয়েজ বোর্ডের ওপর হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা           বন্দরসমূহের জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর, ২০১৪ ১৩:৩২:৪০
ঘাড় ব্যথা
টাইমওয়াচ ডেস্ক


 

প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝে এমন লোক খুঁজে পাওয়া খুবই দুষ্কর যাদের জীবনে কখনো ঘাড়ে ব্যথা হয়নি। এ যেন ঘাড় আছে যার ব্যথা আছে তার। তবে মামুলি এই ব্যথা যখন ঘাড়ে সাড়াশির মতো চেপে বসে তখনই সবার দফা হয় রফা, আর কাজ কর্ম বন্ধ রেখে ছুটতে হয় চিকিৎসকের দোরগোঁড়ায়।
সারভিকাল স্পন্ডাইলোসিস (cervical spondylosis) হলে ঘাড়ে যেমন ব্যথা হয় তেমনি মাথার নিম্নাংশেও ব্যথা হয়ে থাকে। মাঝে মাঝে এই ব্যথা দুই কাধ, বাহু, হাত এমন কি আঙ্গুলেও ছড়িয়ে পরতে পারে। কারো কারো আবার মাথা ব্যথা/ পিঠের পিছনে ব্যথা, হাত/বাহু দুর্বল বা অবশ হয়ে আসা বা চিনচিনে ব্যথা করা এসব উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
নিশ্চয়ই মনে প্রশ্ন আসে কেন এমন ব্যথা হয়? মানুষের ঘাড়টি কষ্টকরে যেই হাড়গুলো শক্ত করে রাখে তারা হলো কশেরুকা (cervical vertebra) এবং তাদের মাংশপেশী। আর এই কশেরুকাদের মাঝের স্বাভাবিক ফাঁকগুলো যখন কমে যায় তখনই শুরু হয় ঘাড়ে ব্যথা। কারণ এই ফাঁকগুলোদিয়ে বের হয় আমাদের স্নায়ু (nerve)। আর হাড়ের ফাঁক কমে গেলে এই নার্ভের উপড় চাপ পরে এবং এইসকল নার্ভ যেসকল জায়গায় অনুভুতি বহন করে তারা সকলে বেদনার্ত হয়ে উঠে।
কশেরুকার মাংশপেশীতে টান পড়া, হাড় ক্ষয়ে যাওয়া বা বৃদ্ধি পাওয়া, অস্থিসন্ধিতে (joint) রোগ হওয়া, লিগামেন্টে টান পরা ইত্যাদি নানাবিধ কারণে এমনটি হতে পারে। যদিও এর মধ্যে প্রথম কারণটিই প্রধান বলে গণ্য হয়।
পুরুষের তুলনায় মহিলারা এই রোগে অনেক বেশী আক্রান্ত হয়। যে সকল পেশায় দীর্ঘক্ষণ মাথা নীচু করে কাজকরতে হয় (স্বর্ণকার, ড্রাইভার, কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ, সেলাইকারী ইত্যাদি) বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে তারাই এই রোগের ভুক্তভোগী।
এ রোগ হলে অবশ্যই চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হওয়া উচিত। তিনি পরীক্ষা করে সহজেই এই রোগ নিশ্চিত করতে পারেন। তবে রোগের বিস্তৃতি এবং কারণ নির্ণয়ে ঘাড়ের এক্সরে এবং অনেক সময় এম,আর,আই (MRI) পরীক্ষা করার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। ঘাড়ের বিশ্রাম নেওয়া এিই রোগের প্রধান চিকিৎসা। সেই সাথে ব্যথার ওষুধ (NSAID) সেবন, গরম সেক নেওয়া, কখনো কখনো গলায় শক্ত কলার (cervical collar) ব্যবহার এবং সেই সাথে ফিজিওথেরাপি (physiotherapy) নিলে এ রোগ থেকে নিস্তার মেলে। তবে অনেক সময় ব্যথার তীব্রতা বেশি হলে এবং ওষুধে তা নিয়ন্ত্রন করা না গেলে সার্জারি বা অপারেশনই এর একমাত্র চিকিৎসা হয়ে দাঁড়ায়।এ জন্য শুরুতেই এই রোগের চিকিৎসা করিয়ে নেওয়া উত্তম। যেহেতু নির্দিষ্ট পেশাজীবিদের মাঝে এউ রোগের প্রকোপ অনেক বেশী; তাই এই রোগের ঝুঁকিতে (repetitive strain injury) থাকা পেশাজীবীদের অবশ্যই কাজের ফাঁকে ফাঁকে ঘাড়ের বিশ্রাম নেওয়া উচিৎ এবং ধীরে ধীরে ঘাড় চারপাশে ঘুড়িয়ে দৈনিক নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
স্বাস্থ্য ও জীবন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd