ঢাকা : সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • ডেঙ্গু এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে : কাদের          ঈদে হাসপাতালের হেল্প ডেস্ক খোলা রাখার নির্দেশ          নবম ওয়েজ বোর্ডের ওপর হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা           বন্দরসমূহের জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর, ২০১৪ ১১:০২:২৩আপডেট : ২১ ডিসেম্বর, ২০১৪ ১১:০৩:৩৮
মানব সেবায় নিজেকে সঁপে দিতে চাই : হেলেনা জাহাঙ্গীর
সদা হাস্যোজ্জল শিল্পোদ্যোক্তা ও মহীয়সী নারী হেলেনা জাহাঙ্গীর টাইমওয়াচকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন

 
১৩ ডিসেম্বর, ২০১৪। অফিসের নিজ কার্যালয়ে ধরাবাঁধা গতানুগতিক কাজ সারছি। সঙ্গত কারণেই মনে হল, ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী দিবসের কথা। চায়ের কাপের চুমুকে এবারের ‘টাইমওয়াচ’ প্রচ্ছদ সাক্ষাৎকার যৌক্তিক আত্ম-চেতনায় একেবারেই নতুন কিছু করার কথাই ভাবছি। হৃদয় কোষ হতে বাংলার ওই কৃতি বিদগ্ধ শ্রেণীর চেহারা যেন চোখের সামনে ভেসে এলো। প্রচলিত গণমাধ্যম ওই একটি দিনে অসামান্য স্মৃতিচারণে নানা আলেখ্য রচনায় সঁপে দেয়ার অনুশীলনে রয়েছে। আমরা যদি একটু গভীর দৃষ্টিতে তাকাই, সেখানে দেখা যাবে ওই সকল বুদ্ধিজীবীর মধ্যে একজন নারী ছিলেন। কতটা প্রতিভা থাকলে শত্রু পক্ষের রোষাণলে তিনি পড়েছিলেন! এই সেদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গর্ব করে বললেন, আমরা নারীরা রাষ্ট্রের সকল উচ্চ পর্যায়ে এখন আছি। হয়তো ৭১’র নির্মম ট্র্যাজিক পরিণতিতে ১৪ ডিসেম্বর একজন সাংবাদিক সেলিনা পারভীনকে আমরা হারিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি যে দেশের নারীর সামাজিক রাজনৈতিক আন্দোলনের এক বিশেষ প্রেরণা তা কি ভুলে গেলে চলবে? আমরা বুদ্ধিজীবী দিবসে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলিতে তাদের সমাধিতে এবং জাতীয় দৈনিকে সাদাকালো ছবির ফ্রেমে আটকিয়ে স্মরণ প্রতিবেদনে দু’লাইন কলম ধরি-আসলেই তা কি যথেষ্ট?

বাংলাদেশের সামাজিক অর্থনৈতিক রাজনৈতিক কিংবা সাংস্কৃতিক বলয়ে নারীরা যে উঠে আসছে তা ৪৩ বছরে সর্ব স্বীকৃত প্রমাণিত হচ্ছে। প্রায় দুই যুগ ধরে দেশ শাসন করছেন দেশের দুই মহীয়সী নারী। এই দেশেই রূপসী বাংলার কবি সুফিয়া কামাল থেকে আরম্ভ করে সামাজিক সাংস্কৃতিক পরিম-লে অনন্য কিছু গুণী নারী নিজের প্রতিভাকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। আমাদের দেশের নারীকুল যে লড়তে জানে তা অতি অবলোকনে দৃশ্যমান হয়, যখন গ্রামীণ উঠোনে পুরো পরিবারের দায়িত্ব বোধের সংগ্রাম পরিলক্ষিত হয়। যখন যান্ত্রিক জীবনের পথচলায় কিশোরীদের শ্রমিক রূপে লড়তে দেখা যায়। তবে সারা বিশ্বে নারী প্রতিনিধিত্ব যেমন রাষ্ট্র পরিচালনায় আজকের সভ্যতায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন ঠিক অর্থনৈতিক বিশ্বায়নে নিজেদেরকে সফল উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী হিসেবেও জাত চেনানোর প্রয়াসে রয়েছেন। বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। ঠিক এই বিষয়টি সামনে রেখে দেশের অন্যতম সফল এক নারী উদ্যোক্তার কথা মাথায় নিতে বাধ্য হলাম। একান্ত অভিলাষে তার জীবন পরিক্রমা জানতে ব্যকুল হলাম। বিজয়ের এই মাসে একজন ‘হেলেনা জাহাঙ্গীর’ এর ব্যবসা সফল হওয়ার নেপথ্য বা তার জীবনের বিজয়ী হওয়ার কারণ জানতে মুঠোফোনে সাক্ষাৎসূচি নির্ধারণ করে নিলাম। তারিখ সেই ১৪ ডিসেম্বর, বিকাল ৪টা। চলুন, পাঠকবর্গ টাইমওয়াচ টিমের সঙ্গে হেলেনা জাহাঙ্গীরের কথোপকথনে যে সকল গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস, মতামত, অভিমত, দর্শন প্রতিভাত হয়েছিল তা উপস্থাপিত করার সাধারণ প্রয়াসে থাকি।মানব সেবায় নিজেকে সঁপে দিতে চাই : হেলেনা জাহাঙ্গীর
শীতের হিমেল আমেজ। তেজগাঁও টাইমওয়াচ কার্যালয় হতে যাত্রা শুরু। যথাসময়ে আমরা উপস্থিত  হলাম। পরিপাটি এক মার্জিত বেশে পেয়ে গেলাম ব্যবসায়িক নারী অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করা সেই হেলেনা জাহাঙ্গীর’কে। পরণে ডিপ ব্লু শাড়ির শাশ্বত বাঙ্গালির আদল নিয়ে বসে আসেন; জমে গেল আড্ডা ও অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জাতীয় সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বিষয়ের উপর অর্থবহ আলোচনা।
টাইমওয়াচ : শুরুতেই জানতে চাইছি, আপনার চলার পথের সিঁড়িতে আজকের অবস্থানে আসার স্মরণ করার মত ইতিহাস পরিক্রমা।
হেলেনা জাহাঙ্গীর : খুব ছোট বেলায় আমার বিয়ে হয়ে যায়। বাবা ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল হক শরীফ বিদগ্ধ শ্রেণীর মানুষ। অনেক লেখাপড়া তার। এখন নিউইয়র্কে আছেন। স্বামী জাহাঙ্গীর আলম শুরু থেকেই ছিলেন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। অষ্টম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় বিয়ে হয়ে যাওয়ায় আজ আমার ছেলে অনেক বড়। দু’টি কন্যা সন্তানও রয়েছে। আমি শুরু থেকেই সাংসারিক জীবন উপভোগ করার পাশাপাশি নিজের পায়েও দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। এমন কি স্বামীর বড় ব্যবসা থাকা সত্ত্বেও প্রথমে চাকরি করার মানসিকতাও ধারণ করেছিলাম। এরপর
ছোট্ট পরিসরে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ব্যবসায় পা রেখেছিলাম। সেই যে শুরু; এরপর পরিণত হয়ে আমরা অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী দু’জনই দেশের পোশাক খাতসহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি।
টাইমওয়াচ : দেশের ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করণে বিশেষত আপনার অঙ্গনে কি কি অন্তরায় রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?মানব সেবায় নিজেকে সঁপে দিতে চাই : হেলেনা জাহাঙ্গীর
হেলেনা জাহাঙ্গীর : আমি মনে করি, আমাদের অঙ্গনের শিল্পকে রক্ষনাবেক্ষণে সবার আগে প্রয়োজন শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করা। তাদের ন্যায্য বেতনাদি প্রদানের পাশাপাশি বোনাস ঠিকঠাক মতো প্রদান করা উচিত। যা আমরা করেও আসছি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই নানা অভিযোগ আসছে, সবাই এই স্পর্শকাতর বিষয়ে মনোযোগী নয়। সামাজিক অন্যায়ের কবলে পড়তে হয় অনেক সময়। এখানে বলতে চাইছি, দেশের নীতি-নৈতিকতাহীন যুব সমাজের চাঁদাবাজি মোকাবিলা করতে হয়। যার অভিজ্ঞতা কোনো কোনো সময় সুখকর হয় না। বায়ার চায়, শ্রমিকের অধিকার যেন নিশ্চিত থাকে, যে কোনো পর্যায়ের সংকট মোকাবিলা করার সাধ্যি থাকে। আপনারা হয়তো সুঅবগত, সাম্প্রতিক সময়ে তাজরীনসহ বেশ কয়েকটি গার্মেন্ট ব্যবসায় নানা ধরনের ক্রান্তিকালীন প্রেক্ষিতের অবতারণা হয়েছে। অত্যন্ত যৌক্তিক কারণে এই খাতের ব্যবসাকে সকলের জন্য অর্থাৎ মালিক পক্ষ, বায়ার, শ্রমিককে সুবিধাভোগী করতে চাইলে আপনাকে সুশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টির পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা তা করে আসছি, এখন সার্বজনীন উদাহরণ রাখতে পারলে রাষ্ট্রকে কিছু দিতে পারবো বলে মনে করি।
চলুন, চা-কফি কিছু পান করি।
টাইমওয়াচ : এই ফাঁকে বেশ ক’টি স্থির চিত্র তুলা হলো। এরপর ভীষণ আকর্ষণীয় চরিত্রের হেলেনা বাংলাদেশের বিজয় নিয়ে আলাপচারিতায় মেতে উঠলেন।
হেলেনা জাহাঙ্গীর : ৪৩ বছরের লাল-সবুজের বাংলাদেশ ছেড়ে আমার কোথাও যেতে ইচ্ছে করে না। পেশাগত, পারিবারিক কিংবা অভিজ্ঞতার পুঁজি সমৃদ্ধগত কারণে হয়তো দেশ-বিদেশে ঘুরেছি। কিন্তু কখনো মনে হয়নি যে, বাংলাদেশ ছেড়ে অন্যত্র স্থায়ীভাবে বসবাস করি। মন পড়ে থাকে এই বাংলায়। নানা সময়ের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় আমরা হয়তো উচ্চ মানের দেশ হতে পারিনি। কিন্তু দেশ এগুচ্ছে। আমি স্বপ্ন দেখি, একদিন বাংলাদেশ সারা বিশ্বের মধ্যে উন্নত দেশ হবে। তার জন্য দরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা শাসক শ্রেণীর উন্নত ভিশন ও মিশন। আমরাতো রয়েছিই। সরকার ও বেসরকারি সমন্বয়ে আমরা যে কোথায় যেতে পারি তা মাঝে মাঝে আমি ভাবি। আমি বিশ্বাস করি, সুশাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত হলে আমরাই বদলে দিতে পারি এই দেশটাকে।মানব সেবায় নিজেকে সঁপে দিতে চাই : হেলেনা জাহাঙ্গীর
টাইমওয়াচ : আপনার এখানে এসে আমরা একটি বিষয় লক্ষ্য করলাম, আপনার মাঝে ‘নেতৃত্বে’র গুণাবলী রয়েছে। এটিকে আরো বড় পরিসরে ভাবা যায় কী-না?
হেলেনা জাহাঙ্গীর : খুব সম্ভবত বৃহৎ কিছু করতে হলে রাষ্ট্রের নিবন্ধনধারী কেউ হতে হয়। আমি বলতে চাইছি, রাজনৈতিক অবয়বে তখন কিছু করার সুযোগ সৃষ্টি হয়ে যায়। কিন্তু রাজনীতিকে এখনো ‘না’ বলে আসছি। সমাজ পরিবর্তনে সামাজিক আন্দোলনের মাঝেও কিন্তু বড়সড় বিবর্তন আনা সম্ভব। সভ্যতার ক্রমবিকাশে পুঁজি, ক্ষমতা সারা বিশ্বে সার্বজনীন প্রভাবিত ব্যবস্থা হলেও ‘মানবের তরে সঁপে দেয়া’ সাধারণ তত্ত্বে বিশ্বাসী হয়েও কিন্তু আমরা কম বেশি ভূমিকা রাখতেই পারি। আমার সামাজিক পথচলায় অনেকেই আমাকে ‘দলনেত্রী’ ‘আয়রন লেডি’ বলে সম্বোধন করে। আমি আবার এও বলছি না, আদৌ আমাকে রাজনীতিতে অদূর ভবিষ্যতে দেখা যাবে না!
এক নজরে হেলেনা জাহাঙ্গীর...
পিতা : ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল হক শরীফ
মাতা : বেগম সুফিয়া শরীফ
স্বামী : মো. জাহাঙ্গীর আলম
জন্ম তারিখ : ২৯ আগস্ট, ১৯৭৪
শিক্ষাগত যোগ্যতা : স্নাতকোত্তর
পেশা : ব্যবসা
শখ : মানবসেবা
মানব সেবায় নিজেকে সঁপে দিতে চাই : হেলেনা জাহাঙ্গীর
এক পুত্র ও দুই কন্যার জননী। পুত্র জাহেদুল আলম জয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে বিএসসি করছেন। আর দুই কন্যার মধ্যে জাফরিনা আলম জেসি ‘ও’ লেভেল এবং হোমায়রা আলম জেনি কেজি টু’তে অধ্যয়নরত। হেলেনা জাহাঙ্গীর মূলত দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে নিজেকে সফল করেছেন বেশ ক’টি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হয়ে। তিনি একাধারে নিট কনসার্ন প্রিন্টিং ইউনিট, জয় অটো গার্মেন্টস লিমিটেড ও জে সি এ
অ্যামব্রয়ডারি অ্যান্ড প্রিন্টিং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
হেলেনা জাহাঙ্গীর অসংখ্য দেশ পরিভ্রমণ করেছেন; যার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ইটালি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, স্পেন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত অন্যতম।
হেলেনা চরিত্রের সবচেয়ে বড় গুণ তিনি একজন সমাজকর্মী। মানবাধিকার সমুন্নত করতে সংগ্রাম এবং বিপন্ন মানুষের প্রতি দরদ তাকে মহীয়সী করে তুলেছে।
দেশের দুই শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র সদস্য তিনি। এছাড়া গুলশান সোসাইটি, গুলশান অল কমিউনিটি ক্লাব, গুলশান হেলথ ক্লাব, বারিধারা ক্লাব ছাড়াও কয়েকটি আন্তর্জাতিক ক্লাবের সদস্য হিসেবে তিনি আদৃত। পেশাগত কাজে অতি ব্যস্ততার কারণে টেলিভিশন সেটের সামনে বসার সুযোগ না পেলেও ভীষণ সংস্কৃতিমনা তিনি। মাঝে মাঝে সাংস্কৃতিক পরিবেশে তিনি নিজেও গান করতে পছন্দ করেন।
হেলেনা জাহাঙ্গীর ৩ জন বিশিষ্ট নারীর একাগ্রভক্ত; একজন সারাটা কাল মানবসেবায় ব্রত থাকা মাদার তেরেসা, বহুল আলোচিত ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন প্রিন্সেস ডায়ানা ও বাংলাদেশ রোটারির প্রথম নারী গভর্নর সাফিনা রহমান।
প্রিয় বন্ধু : নার্গিস মাহমুদ খান শম্পা।
টাইমওয়াচ : সামাজিক, অর্থনৈতিক কিংবা রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশগ্রহণ প্রশ্নে বাংলাদেশের নারীদের আপনি কীভাবে দেখছেন?
হেলেনা জাহাঙ্গীর : দেখুন, বাঙালি নারী লড়তে জানে। পল্লী জীবনের গ্রামীণ মেঠোপথ থেকে বাড়ির আঙ্গিনায় লড়ে যাচ্ছে আমাদেরই দাদী, নানী, মা, চাচী, খালা, ফুফুরা। কী প্রচেষ্টা তাদের সাংসারিক জীবনকে সমৃদ্ধ করতে। বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ। আপনারা দেখেন না, কীভাবে নিজের সন্তানকে বুকে আগলে রেখে দেশের নারীকুল লড়ছে। নগর সভ্যতায় গার্মেন্টস শ্রমিক থেকে শুরু করে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোতে নারীর প্রতিনিধিত্ব এখন উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। রাজনীতিতে তো নারীদের একচ্ছত্র আধিপত্য। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সব অঙ্গনেই নারী এখন আর পিছিয়ে নেই। শিল্পাঙ্গনেও আমরা কম বেশি ভূমিকা রাখতে সচেষ্ট। সবচেয়ে বড় বিষয় হল, সব ধারায় আমাদের নারীদের একটা কমিটমেন্ট থাকে। সাংস্কৃতিক অঙ্গন কিংবা সাহিত্যের পাতায়; কোথায় নেই আমাদের পদচারণা। কিন্তু মাঝে মাঝে মন খারাপ হয়ে যায়। যখন পত্রিকার পাতায় দেখি নারীর উপর আঘাত এসেছে পুরুষশাসিত সমাজ ব্যবস্থায়। আমার খুব ইচ্ছে করে, শিকার হওয়া ওই সকল নারীদের পাশে দাঁড়াতে। আমি চাই, ওদের মানসিক সমর্থন যোগাতে। যা খুব বেশি প্রয়োজন। শিক্ষার আলোকমালা যদি দেশের প্রতিটি নারীর গলায় পরিয়ে দিতে পারতাম তাহলে এর চেয়ে বড় কিছু আর কিছু থাকতো না। আমি আশাবাদী মানুষ। আমার স্বামী, সন্তান নিয়ে খুবই সুখে আছি। অধিকতর সুখ পেতে মানবতার জয়গানকে যদি আলিঙ্গন করতে পারি; এর চেয়ে ঢের সুখ আর কিছু হবে না। আমাকে অধিক জাগ্রত করে মাদার তেরেসা এবং আমার দেশের রোটারির প্রথম নারী গভর্নর সাফিনা রহমান। এই দু’জন নারীর ইতিবাচক দিক ও দর্শন আমার মাঝে সামান্যতম এলেই প্রীত হতাম।মানব সেবায় নিজেকে সঁপে দিতে চাই : হেলেনা জাহাঙ্গীর
একজন হেলেনা জাহাঙ্গীরের সাথে আলাপচারিতায় উঠে এসেছিল বেশ কিছু দিক। মনে প্রাণে ইসলামিক মূল্যবোধে থাকা এই গুণী নারী বাংলাদেশের জন্য কাজ করতে চান। দেশকে উচ্চ আয়ের চূড়ান্ত আদলে দেখতে চান। নারীর অধিকার আন্দোলনে তিনি কাজ করে যেতে চান অনন্ত। একজন ভাল স্ত্রী, ভাল ‘মা’ হিসাবেও তিনি সমাজ ব্যবস্থায় ভূমিকা রাখতে চান। যে স্বাধীনতা ১৯৭১ সালে অর্জিত হয়েছিল সেই লাল-সবুজের বাংলাদেশকে তিনি রঙ্গিন করতে চান। গুণগুণ করে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে তিনি নিজের অজান্তেই তার দেশপ্রেমকে টাইমওয়াচ টিমের কাছে তুলে ধরেছিলেন।
যে কোনো অঙ্গনেই নেতৃত্বের গুণাবলীর মধ্যে থাকতে হয় সততা, মেধা, দূরদৃষ্টি, দেশপ্রেম ও চরিত্র। এই পাঁচটি গুণ থাকলেই ‘প্রকৃত ব্যবস্থাপনা পরিচালক’ সে হতে পারে। রাজনৈতিক বা সামাজিক বিশ্লেষকরা ইদানিং বলছেন, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের এখন একজন যোগ্য ‘ব্যবস্থাপনা পরিচালক’ দরকার। একজন হেলেনা, অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বটে। আরো বড় পরিসরে দেশের একজন ব্যবস্থাপক হিসেবে তিনি ভবিষ্যতে পা রাখার ইচ্ছে পোষণ করলে বাংলাদেশ উপকৃত হবে। মনে রাখা দরকার, তোমার সামর্থ্য যদি থাকে সত্য ও সুন্দরের আলয় করার তবে ওই স্থাপনার কাজে তোমাকেই সবার আগে শুরুটা করা জরুরি।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd