ঢাকা : সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • জাতীয় নির্বাচন ২৩ ডিসেম্বর          নির্বাচনের তারিখ পেছানোর কোনো সুযোগ নেই : সিইসি          আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার বুধবার থেকে নেবেন প্রধানমন্ত্রী          দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর, ২০১৪ ১১:৫০:০৭আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৪ ১৩:০০:১৬
হারিয়ে যাচ্ছে দোহারের তাঁত শিল্প
দেওয়ান আলমগীর, দোহার (ঢাকা) ব্যুরো চীফ


 


দোহার নবাবগঞ্জে প্রায় পাঁচ হাজার তাতঁশিল্প রয়েছে। কিন্তু কালের আবর্তনে এ শিল্প হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময় তাতিঁদের কদর ছিল।  অনেক একশ গজ কাপড়েরর ভিতর দিয়ে অনায়াসে একটি ঢুকানো যেত। আগে প্রতিদিন সকালে তাতেঁর খট খট শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যেত। রাজধানীর দোহার উপজেলার রাই পাড়া, জয় পাড়া, বৌ বাজার, নারিশা, মেঘুলা এসব জায়গার তাতঁশিল্প এখন বিল্পুতির পথে। তার একটাই কারণ সুতার দাম বাড়ার সাথে সাথে কাপড়ের দাম কমে যাওয়া তাতঁশিল্প একেবারে ধংসের পথে চলে গেছে। দোহার উপজেলার রাই পাড়া ইউনিয়নের আ. রাজ্জাক বেপারী বলেন, সারাদিন ছেলে মেয়ে নিয়ে গভির রাত পর্যন্ত কস্ট করে আমাদের বাপ-দাদার পেশা তাতেঁর কাজ করি কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়না। মাস গেলে তাতিঁদের টাকা দেওয়ারপরে  পকেটে কোনো টাকা থাকেনা। আমরা এখন কি করব? আমরা তো আর মাটি কাটতে কিংবা রিক্সা চালাতে পারবোনা। আমাদের এখন কি করার আছে ভেবে পাইনা। কত সরকার এলো গেলো, কত কিছু হলো, কিন্তু আমাদের তাতঁশিল্পের কেউ কিছুই করলোনা আমরা আমাদের মতই রয়ে গেলাম। অনেকেই অনেক  কথা বলে কিন্তু কেউ কথা রাখেনা। আমাদের ভাগ্য আমাদের থাকবেই। বিগত আট বছর আগে দোহারে এক মন্ত্রী এসে বলেছিলেন আমি জানিনা দোহারে তাতিঁ আছে। তাহলে এটা প্রমাণিত হয় যে, যারা তাতিঁদের ভোটে নিবার্চিত হয়ে সংসদে যায় তারা কেউ তাতিঁদের কথা বলেনা। তাতিঁদের যে করুণ অবস্থা তাতে করে এক সময় দোহার থেকে তাতঁ উঠে যাবে বিট্রিশ আমলে তাতের কাপড়ের কদর ছিল সবচেয়ে বেশি। আর সেই তাতিঁরা এখন অনাহারে ভুগছে। দোহারের প্রায় ২০ হাজার তাতিঁ রয়েছে যাদের জাত ব্যবসা হল তাতেঁর। যদি তাদের কোনো কিছু সরকার না করে দেয় তাহলে তারা পথে বসে যাবে। তারা শুধু তাতেঁর কাজ ছাড়া আর কিছু করতে পারেনা। দোহার উপজেলায় একটি তাতঁ ব্যাংক রয়েছে সেখান থেকে তারা তেমন একটা সুবিধা পায়না। দোহার উপজেলার রাইপাড়া গ্রামের বিশিস্ট ব্যবসায়ী মজিবুর বেপারী তিনি টাইমওয়াচকে বলেন, আগে যে তাতেঁর অবস্থা ছিল তাতে করে ভালভাবে সংসার চলত আর এখন তাতেঁর যে করুণ অবস্থা তাতে করে তাতিঁদের কি দেব আর আমাদের সংসার কিভাবে চলবে? এখন তাতিঁদের প্রতি মাসে খাওয়া খরচ বাবদ ৯০০০ হাজার টাকা দিতে হয়। আমাদের সংসারে প্রায় ৮ জন লোক ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে। আমার ছোট এক ভাই কাজ করে। যেখানে ওর এই বয়সে স্কুলে যাবার কথা; সেখানে না গিয়ে আমাদের সাথে তাতেঁর কাজ করে। তাহলে বলুন, আমাদের তাতিঁদের করুণ অবস্থা সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই বললেই চলে। দোহার উপজেলা একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল অফিস রয়েছে। সেখানে দুই বছর পর পর নিবার্চনঅনুষ্ঠিত হয়। তারাও এ পর্যন্ত তাতিঁদের নিয়ে কোনো শোক দুঃখের কথা বলেনি। তারাও তো তাতিঁদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। তাহলে তাতিঁদের দুঃখের কথা কার কাছে গিয়ে বলব?

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd