ঢাকা : রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • ডেঙ্গু এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে : কাদের          ঈদে হাসপাতালের হেল্প ডেস্ক খোলা রাখার নির্দেশ          নবম ওয়েজ বোর্ডের ওপর হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা           বন্দরসমূহের জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৪ ১২:৫১:৩৬আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৪ ১৩:৪২:০৩
ভোজ্য তেলের চাহিদার যোগান দিবে ব্র্যান অয়েল

 
মো. নূরুল ইসলাম; নওগাঁ জেলা শহরসহ দেশের একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সফল সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব। তিনি মৗ এগ্রো এ্যারোমেটিক রাইচ মিলস্ লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। তিনি ব্যবসার-বাণিজ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত। তিনি মৌ এগ্রো এ্যারোমেটিক রাইচ মিলস্ লিমিটেড নামে একটি অত্যাধুনিক অটোমেটিক রাইচ মিল ও সজীব রাইচ মিল নামেভোজ্য তেলের চাহিদার যোগান দিবে ব্র্যান অয়েল

দু’টি রাইচ মিল প্রতিষ্ঠা করে দীর্ঘ ৩০ বছর যাবৎ সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছেন। তিনি ‘নবান্ন’ ব্র্যান্ডের নতুন রূপে নতুন সাজে শ্লোগানে ২৫ কেজি ও ৫০ কেজি চাল, অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্যাকেটে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন। সাংগঠনিকভাবে তিনি নওগাঁ জেলা চাউল কল মালিক গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘ ১৬ বছর দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি নওগাঁ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সহসভাপতি ও বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাস্কিং মিল মালিক সমিতির উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত রয়েছেন। পারিবারিক জীবনে তিনি ২ সন্তানের জনক। বড় সন্তান মো. ইফতেখারুল ইসলাম সজীব। তিনি পিতার সাথে দক্ষ ব্যবসায়ী হিসেবে পারিবারিক ব্যবসা পরিচালনা করছেন। কনিষ্ঠ সন্তান মো. ইসতিয়াক খাইরুল ইসলাম সিফাত নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। মো. নূরুল ইসলাম ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বাংলাদেশের রাইচ মিলে উৎপন্ন  তুষ ও ব্র্যান অয়েলের সম্ভাবনা বিষয়ে সম্প্রতি টাইমওয়াচ প্রতিনিধির কাছে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ব্যক্ত করেন । এখানে তা উপস্থাপন করা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন টাইমওয়াচ নওগাঁ প্রতিনিধি এনামুল হক
টাইমওয়াচ : শুরুতেই নওগাঁর রাইস মিল এবং রাইস মিল থেকে উৎপাদিত ধানের তুষের সামগ্রিক অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইছি ।
মো. নূরুল ইসলাম : বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি রাইস মিল রয়েছে নওগাঁ জেলায়। সমগ্র বাংলাদেশে যে পরিমাণ চাউলের প্রয়োজন হয়, তার ৫০% চাউলের যোগান দেয় নওগাঁর রাইস মিল মালিকেরা। রাইস মিল থেকে উৎপাদিত ধানের তুষ বা হাকর্স আমরা সাধারণত মিলের জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করি । ফলে উৎপাদিত ধানের তুষ আমাদের অবশিষ্ট থাকে না। কিছু কিছু মালিকের মিলের উৎপাদিত ধানের তুষ অবশিষ্ট থাকলেও তা আমাদের দেশে ক্যারা তৈরির কাজে ব্যবহার হয়। এটাও জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার হয়ে থাকে।ভোজ্য তেলের চাহিদার যোগান দিবে ব্র্যান অয়েল
টাইমওয়াচ : আপনার ব্যবসায়ীক জীবনের শুরু থেকে বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বলবেন কি ?
মো. নূরুল ইসলাম : ১৯৭৪ সাল থেকে আমি ব্যবসা শুরু করি। সাংসারিক ও পারিবারিক কারণে ছোট বেলা থেকেই ব্যবসা শুরু করতে হয় । ১৯৭৫-৭৬ সালের দিকে আমি নওগাঁ স্টিল ফার্ণিচার ব্যবসা ও পরে আমদানি-রাপ্তানি প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত হয়ে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসাবে সুনামের সাথে ব্যবসা করতে থাকি। ১৯৮৫ সালে আমি আরজি নওগাঁতে শহিদুল রাইস মিল প্রতিষ্ঠা করি । সরকারের সাথে পুলের ঠিকাদারি করি । ১৯৯৪ সালে ভারতের সাথে আমদানি-রাপ্তানি প্রক্রিয়া শুরু করি । ১৯৯৬, ১৯৯৭, ১৯৯৮ সালে আমরা কয়েকজন ভারত থেকে চাউল আমদানি না করলে মনে হয় কোনো দামে বাংলাদেশে চাল পাওয়া যেত না। এরপর ভারত থেকে চাল, ডাল, কয়লা, সারসহ বিভিন্ন কিছু আমদানি করি। ২০০৯ সালে অত্যাধুনিক অটোমেটিক রাইস মিল স্থাপনের চেষ্টা করি। ২০১০ সাল থেকে বাকবারী আদমদিঘীতে কাজ শুরু করি। বিদ্যুৎ প্রাপ্তিতে বিলম্ব হওয়ায় ওই বছর মিলটি চালু করতে পারিনি। ফলে ২০১১ সালের মে মাস থেকে মৌ এগ্রো এ্যারোমেটিক রাইচ মিলস্ লিমিটেড নামে একটি রাইস মিল এবং সান রাইস মিল, সজীব রাইস মিল নামে আরো দুইটি রাইস মিল পরিচালনা করছি। পাশাপাশি আমদানি ব্যবসাও চলছে ।
টাইমওয়াচ : আপনার রাইস মিল থেকে প্রতিদিন কিংবা বার্ষিক কী পরিমাণ ধানের তুষ উৎপাদিত হয়; বলবেন কী ?
মো. নূরুল ইসলাম : প্রতি মাসে আমার রাইস মিল থেকে ১৫০-২০০ টন ধানের তুষ উৎপাদিত হয়। সে হিসেবে বার্ষিক ১৮০০-২৪০০ টন ধানের তুষ উৎপাদিত হয় ।
টাইমওয়াচ : রাইস মিল থেকে উৎপাদিত ধানের তুষ আপনারা কী করেন ?
মো. নূরুল ইসলাম : আমাদের মিল থেকে উৎপাদিত ধানের তুষ আমরা আমাদের মিলের জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করি । আবহাওয়া খারাপ থাকলে আমাদের মিলের জন্য অন্যত্র থেকে জ্বালানী ক্রয় করতে হয় ।
টাইমওয়াচ : এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ধান হতে দেশে রাইস ব্র্যান অয়েল উৎপন্ন হয়; এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি ?
মো. নূরুল ইসলাম : এ অনুসন্ধানটি সঠিক। তুষ বা হাকর্স এর নিচে থাকে লাল বর্ণের আবরণ। এই আবরণকে বলে ব্র্যান। ১৯৮১ সালে দিনাজপুরে রুপম অয়েল মিল প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় পর্যাপ্ত ব্র্যান না পাওয়ায় অয়েল মিলটি বন্ধ হয়ে যায় । এখনও মিলটি বন্ধ অবস্থায় পরে আছে। ৪-৫ বছর পূর্ব থেকে বাংলাদেশে ব্র্যান অয়েল মিল প্রতিষ্ঠিত হয়। যেমন- সাভারে সুবির চন্দ্র ব্র্যান অয়েল মিল, কুষ্টিয়ায় রশিদ-এর ব্র্যান অয়েল মিল, জামালপুর, শেরপুর, বগুড়াসহ আরো কিছু জায়গায় ব্র্যান অয়েল মিলে গড়ে উঠেছে ।ভোজ্য তেলের চাহিদার যোগান দিবে ব্র্যান অয়েল
টাইমওয়াচ : বাংলাদেশের প্রচুর সম্ভাবনাময় খাত হিসাবে ব্র্যান অয়েল-এর অবস্থান কেমন এবং এই সম্ভাবনাময়কে কিভাবে কাজে লাগানো যায় বলে আপনি মনে করেন ?
মো. নূরুল ইসলাম : রাইস ব্র্যান অয়েলকে আমি গোল্ড মনেকরি। গোল্ড বলছি এ কারণে যে, আমাদের কষ্টে অর্জিত অর্থ দিয়ে বিদেশ থেকে যেমন- মালোশিয়া, ইন্দোনেমিয়া থেকে যে তৈল আমদানি করা হয়; তার বিকল্প হিসাবে এ তেল ব্যবহার করা যায়। এ তেল কোলেস্টোরেল মুক্ত হওয়ায় ভোজ্য তেলের হিসেবে এর ব্যাপক চাহিদা ও গুণাগুণ আছে। আমাদের দেশে প্রতিবছর সম্ভবত প্রায় ১৮-২০ লক্ষ টন ভোজ্য তেল লাগে। আমাদের দেশে মিলে উৎপাদিত পুরো ব্র্যান কাজে লাগাতে পারলে এই বিশাল চাহিদার ১০ লক্ষ টন অয়েলের জোগান একমাত্র ব্র্যান অয়েল দিয়ে হতে পারে। ব্র্যান অয়েল বাজারজাতকরণে ভ্যাট মুক্ত করতে হবে । এর আগে চাইনিজরা ব্রান অয়েল উৎপাদন বিষয়ে বাংলাদেশে এসে আমার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। তারা রাইস ব্র্যান অয়েল উৎপাদন করেন। আমাকে বলেছিলেন, আপনারা রাইস ব্র্যান অয়েল উৎপাদন করেন, আমরা সব ক্রয় করব । চীনে রাইস ব্র্যান অয়েলের প্রচুর চাহিদা আছে। রাপ্তানির ক্ষেত্রে যে সকল জটিলতা আছে সেগুলো স্থিতিশীল করতে হবে ।
টাইমওয়াচ : ব্র্যান অয়েল রাপ্তানির উপর ১০% ভ্যাট যুক্ত করেছে; এ ব্যপারে আপনার অভিমত কী ?
মো. নূরুল ইসলাম : ভ্যাটযুক্ত হওয়াতে ব্র্যান অয়েলের দাম আমরা খুব কম পাচ্ছি। আমরা আগে ভারতে রাইস ব্র্যান অয়েল বিক্রয় করতাম। ভারতের বর্ধমান, রায়গঞ্জ, গংরামপুর, তীরভ্রম ইত্যাদি জয়গায় যে ব্র্যান অয়েল মিল আছে তা মূলত বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত  ব্র্যান দিয়ে চলে। আমাদের দেশে যে সকল ব্র্যান অয়েল মিল আছে সেগুলো ঠিকমতো চলছে না। বাংলাদেশের ব্র্যান অয়েল মিল মালিকরা আমাদের কাছ থেকে অনেক কম দামে ব্র্যান ক্রয় করে। ফলে ব্র্যান-এর দাম যুক্ত করে আমরা চাউলের দাম নির্ধারণ করে থাকি। এতে ব্র্যানের দাম কমে গেলে চাউলের দাম বেড়ে যায়। এ বিষয়টির প্রতি সরকারের নজর দেওয়া দরকার বলে আমি মনেকরি ।ভোজ্য তেলের চাহিদার যোগান দিবে ব্র্যান অয়েল
টাইমওয়াচ : জানা গেছে, ভারতে বাংলাদেশ থেকে ধানের তুষ রপ্তানি হয় ; এই বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী ?
মো. নূরুল ইসলাম : আমার জানা মতে ভারতে বাংলাদেশ থেকে কোনো ধানের তুষ রপ্তানি হয় না । তবে রাইস ব্র্যান অয়েল রপ্তানি হয়।
টাইমওয়াচ : রাইস ব্র্যান অয়েল রপ্তানির ব্যাপারে আপনার মূল্যায়ন কী ?
মো. নূরুল ইসলাম : আমাদের দেশে প্রচুর ব্র্যান উৎপন্ন হয়। এই ব্র্যানগুলো আগে মাছ, মুরগীর খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত । তখন রাইস মিলের পরিমাণ ছিল কম। যখন রাইস মিলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকল এবং এ সব মিল থেকে যে পরিমাণ ব্র্যান উৎপাদন হয় তা হাঁস-মুরগী ও মাছের চাহিদা মিটিয়ে পর্যাপ্ত অবশিষ্ট থাকত। তখন এই ব্র্যানগুলো বিদেশে রপ্তানির শুরু হয়। এখন বাংলাদেশে যত ব্র্যান অয়েল মিল আছে সে মিলগুলোকে উৎসাহ প্রদান করে উৎপাদন বাড়াতে হবে। সাথে সাথে জনগণকে ব্র্যান অয়েল ব্যবহারের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এ তেল সহজলভ্য করে আমাদের ভোজ্য তেলের চাহিদাপূরণ করতে হবে। ব্র্যান অয়েল রপ্তানি করে আমরা যে মুনাফা পাই এরচেয়ে বেশী সুফল পাব এ তেল আমাদের দেশে ব্যবহার করে।
টাইমওয়াচ : নওগাঁতে সবচেয়ে বেশী রাইস মিল থাকা সত্ত্বেও ব্র্যান অয়েল মিল নেই। ব্র্যান অয়েল মিল স্থাপনের সম্ভাবনা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?
মো. নূরুল ইসলাম : নওগাঁতে রাইস ব্র্যান অয়েল মিল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছি। তবে এই উদ্যোগ আরো আগে নেওয়া উচিত ছিল । কুষ্টিয়া, জামালপুর, বগুড়া, যশোরের বিভিন্ন জায়গায় যখন এক সাথে ব্র্যান অয়েল মিল স্থাপন হয় কখন আমি নিজেও নওগাঁতে ব্র্যান অয়েল মিল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। উদ্যোগ নিয়ে দেখেছি কি পরিমাণ রাইচ ব্র্যান উৎপন্ন হয় । এখন প্রচুর পরিমাণ রাইস মিল নওগাঁতে আছে। ফলে এখন ব্র্যান অয়েল মিল প্রতিষ্ঠা করা যায় । আশা করছি অচিরেই নওগাঁতে ব্র্যান অয়েল মিল প্রতিষ্ঠিত হবে ।ভোজ্য তেলের চাহিদার যোগান দিবে ব্র্যান অয়েল
টাইমওয়াচ : ব্যবসায়ী হিসাবে আপনি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন। এ অভিজ্ঞতায় নতুন প্রজন্মের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
মো. নূরুল ইসলাম : আমি ব্যবসার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছি; শুধু ভারতের ২৬টি প্রদেশে গিয়েছি । আগে তথ্য প্রযুক্তির এতো প্রসার ছিল না। ফলে অনেক কষ্ট করে ব্যবসা করতে হতো। এখন অতিসহজে সবার সাথে যোগাযোগ করা যায়। এটা নতুন প্রজন্মের জন্য একটা ভাল দিক। এই প্রজন্ম যদি পরিশ্রম করে তবে এই সম্ভাবনাময় দেশে তারা অতি সহজে সুনামের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হতে পারবে । বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যে, দেশে বীজ ফেলে দিলেই গাছ হয়ে যায় । সেক্ষেত্রে তাদেরকে আগে সম্ভাবনাময় খাতগুলো খুঁজে বের করতে হবে ।
টাইমওয়াচ : আপনার প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলবেন কী ?
মো. নূরুল ইসলাম : আমার যেহেতু রাইস মিল আছে সেহেতু এ মিলগুলো আরো বৃহৎ পরিসরে পরিচালনা করার চেষ্টা করছি। আর যদি সুযোগ পাই তাহলে রাইস ব্র্যান অয়েল মিল প্রতিষ্ঠা করব।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd