ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • ডিএসসিসির ৩,৬৩১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা          রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর          সংলাপের জন্য ভারতকে ৫ শর্ত দিল পাকিস্তান          এরশাদের শূন্য আসনে ভোট ৫ অক্টোবর          বাংলাদেশে আইএস বলে কিছু নেই : হাছান মাহমুদ
printer
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৪ ১০:২৯:২৬আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৪ ১০:৩০:৩৬
শিক্ষার উন্নয়নে আজীবন কাজ করতে চাই : মির্জা গোলাম সবুর, সিঙ্গাপুর প্রবাসী

 
প্রবাসী বাংলাদেশি জনাব মির্জা গোলাম সবুর; অনুমোদনসূত্রে সিঙ্গাপুরের স্থায়ী বাসিন্দা এবং ওই দেশেই ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। তিনি ১৯৫৭ সালে রংপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস বরিশালে। পিতা মরহুম ফজলুল করিমের সরকারি চাকরির সুবাদে মির্জা গোলাম সবুর দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাস ও পরিভ্রমণ করেছেন। তিনি ১৯৭২ সালে খুলনার জেন্ট জোসেফ স্কুল থেকে এসএসসি, ১৯৭৫ সালে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৭৭ সালে মেরিন একাডেমী থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেন। তৎকালীন সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ব্যক্তি জীবনের সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে ১৯৮০ সালে তিনি সিঙ্গাপুরে চলে যান। মির্জা গোলাম সবুর সিঙ্গাপুরের নেপচুন ওরিয়েন্ট লাইন্স নামক একটি জাহাজ কোম্পানিতে যোগদানের মধ্য দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। এই কোম্পানিতে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর একসময় সিঙ্গাপুরে নিজ উদ্যোগে ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করেন।বর্তমানে তিনি সিঙ্গাপুরে ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুর (BDCHAM)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মির্জা গোলাম সবুর সিঙ্গাপুরে বাংলাভাষার ব্যাপক প্রচলনের জন্যে ২০০০ সালে একটি বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন।এখানে বর্তমানে ৫ হাজার বাঙালি ছেলে-মেয়ে বাংলা শিখছে। সময় পেলেই সিঙ্গাপুরে অন্য ভাষা-ভাষীদেরকেও বাংলা শেখানো হয়।কর্মসুবাদে এবং ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তিনি বিশ্বের ১২০টি দেশ ভ্রমণ করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত; সহধর্মিণী নাজনীন সুলতানা তারই ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে সম্পৃক্ত এবং একমাত্র কন্যা বিদিশা সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টে ব্যাংকিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স বিষয়ে অধ্যয়নরত। মির্জা গোলাম সবুরের পিতা কাস্টমসের অফিসার ছিলেন। তিনি ৬ ভাই এবং ৪ বোনের মধ্যে চতুর্থ।সম্প্রতি টাইমওয়াচ প্রতিনিধির কাছে মির্জা গোলাম সবুর ব্যক্তিগত জীবন, দেশ-বিদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বাংলাদেশ নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন ভাবনা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ব্যক্ত করেন।তার সাক্ষাৎকারটি এখানে উপস্থাপন করা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ কে নাহিদশিক্ষার উন্নয়নে আজীবন কাজ করতে চাই : মির্জা গোলাম সবুর, সিঙ্গাপুর প্রবাসী


টাইমওয়াচ : আমরা জানি, আপনি বাংলাদেশের রংপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনসূত্রে সিঙ্গাপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। এরই ধারাহিকতায় আপনার ব্যক্তি-জীবনের শুরু থেকে বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বলবেন কী?
মির্জা গোলাম সবুর : শহরের সাধারণ মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী পরিবারের মতো আমাদের পরিবারের ১০ সন্তানের মধ্যে আমি চতুর্থ।আমার জন্ম রংপুরে। বাবা সরকারি চাকরির সুবাদে ৩/৪ বছর পরপর বিভিন্ন জেলায় বদলি হতেন। আমার পড়াশুনা মূলত শুরু হয় রংপুরে। সেখানে তৃতীয় শ্রেণী শেষ করে বরিশালে চতুর্থ শ্রেণীতে ভর্তি হই। এরপর খুলনায় এসে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হই। বলা যায়, কর্মজীবনে প্রবেশ করার আগ পর্যন্ত আমি খুলনাতে ছিলাম। আমি খুলনার জেন্ট জোসেফ থেকে ১৯৭৩ সালে এসএসসি পাস করে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হই। ছোটবেলা থেকেই আমার আর্মিতে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল এবং সবাই আমাকে তখন উৎসাহ দিতেন। ক্যাডেট কলেজ থেকে পাস করে আর্মিতে যোগ দেয়ার ইচ্ছে থাকলেও সেটি হয়ে ওঠেনি। আমি ১৯৭৫ সালে এইচএসসি পাস করি। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের বিরাজমান রাজনীতি এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমার অভিভাবকরা আমাকে ডিফেন্সে যাওয়ার ক্ষেত্রে মত দেননি। ওই সময়ে এইচএসসি পরবর্তী চিকিৎসা বিদ্যা, ইঞ্জিনিয়ারিংসহ যে কোনো বিষয়ে পড়াশোনার ক্ষেত্রে কোর্স শেষ হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময় ছিল না। ওই সময়ে বাবা অবসরে গিয়েছেন। তখন আমার বড় ভাইদের মধ্যে যারা পড়াশোনা শেষ করেছেন তারা সবেমাত্র ছোট-খাটো চাকরি করছেন। তখন সংসারের প্রতি আমারও কিছুটা দায়িত্ব চলে আসে। তাই ত্বরিৎভাবে যে পেশাতে গেলে কিছুটা অর্থ আসে আমি সেই পেশা খুঁজছিলাম। এই সুবাদে আমি মেরিন একাডেমীতে পরীক্ষা দিয়ে অ্যাডমিশন নিই এবং সেখানে দু’বছর থাকার পরে খুলনা শিপইয়ার্ড থেকে আড়াই বছর মেয়াদি হাতে-কলমে শিক্ষা শেষ করে ১৯৭৯ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনে জয়েন করি। তখন যে বেতন পাচ্ছিলাম তা দিয়ে আমাদের সংসার চলা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এ জন্য চিন্তা করি, বিদেশে গিয়ে যদি চাকরি করি তাহলে বেশি আয় করা যাবে। এরপর ১৯৮০ সালে সিঙ্গাপুরে চলে যাই। সিঙ্গাপুরে শতশত শিপিং কোম্পানি আগে থেকেই ছিলো। ওইসব কোম্পানিতে নাবিকের প্রচুর চাহিদা ছিলো। আমি সিঙ্গাপুরের নেপচুন ওরিয়েন্ট লাইন্স নামক একটি জাহাজ কোম্পানিতে যোগদান করি। এটি সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল কোম্পানি। এই কোম্পানিতে ১৯৮০ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত কাজ করি। এ কোম্পানিতে একটানা ৪/৫ বছর কাজ করলে সিঙ্গাপুরে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ ছিল। আমি এই সুযোগটি পাই।শিক্ষার উন্নয়নে আজীবন কাজ করতে চাই : মির্জা গোলাম সবুর, সিঙ্গাপুর প্রবাসী
টাইমওয়াচ : এই কোম্পানিতে আপনার দায়িত্ব সম্পর্কে বলবেন কী?
মির্জা গোলাম সবুর : বলার অপেক্ষা রাখে না যে, নেপচুন ওরিয়েন্ট লাইন্স কোম্পানিতে জয়েন করার পর আমার নতুন জীবন শুরু হয়। সেখানে আমি দেখলাম, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন এবং তাদের সিঙ্গাপুরের শিপিংয়ের জাহাজগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তবে সেখানে কাজের ক্ষেত্রে অনেক বেশি জানতে এবং দক্ষ হতে হয়। এছাড়া অনেক বেশি কাজ করতে হয়। ১৯৮২ সালে পরীক্ষা দিয়ে আমি সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার হই। এরপর ওই কোম্পানিতে আরো দু’বছর থাকার পর আমি স্কলারশিপ পেয়ে যুক্তরাজ্য (ইউকে) যাই। এরপর ১৯৮৫ সালে চীফ ইঞ্জিনিয়ার পরীক্ষা পাস করে আবার সিঙ্গাপুরে চলে আসি। ১৯৮৬ সালে আমি চীফ ইঞ্জিনিয়ার পদে প্রমোশন পাই। ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুরে ইমিগ্রেশন চাইলে আমাকে আরো দু’বছর অপেক্ষা করতে বলে। এরপর ১৯৮৮ সালের শেষের দিকে ইমিগ্রেশন নিয়ে আমি কানাডাতে চলে যাই। কানাডায় দু’বছর থাকার পর দেখলাম, আমি যে আশা নিয়ে কানাডা এসেছি তা পূরণ হচ্ছে না। এরপর আবার সিঙ্গাপুরে ফিরে আসি। পরবর্তীতে আমি নিজেই ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করি।
টাইমওয়াচ : সিঙ্গাপুরে আপনি কীভাবে ব্যবসা শুরু করলেন?
মির্জা গোলাম সবুর : ব্যবসার শুরুতেই আমি তাইওয়ান, কোরিয়া, টোকিওর সাথে কাজ করি। এরপর ১৯৯৫ সালে আমার শিপ ম্যানেজমেন্ট ব্যবসার সুযোগ চলে আসে। যারা জাহাজ কিনে নেয় তাদের জাহাজের বিভিন্ন কাজ করে দিই। আমি তখন শিপ বিল্ডিংয়ের সব ধরনের ম্যানেজমেন্ট করতাম। আমি থার্ড পার্টি ম্যানেজমেন্টের কাজগুলো করি। এভাবে আমি সিঙ্গাপুরে ব্যবসায়িক জীবনে প্রবেশ করি।শিক্ষার উন্নয়নে আজীবন কাজ করতে চাই : মির্জা গোলাম সবুর, সিঙ্গাপুর প্রবাসী
টাইমওয়াচ : আপনি দীর্ঘদিন জাহাজ সংশ্লিষ্ট কাজের সাথে সম্পৃক্ত এবং বর্তমানে আপনি বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুরের ভাইস প্রেসিডেন্ট। আপনার অভিজ্ঞতার আলোকে বলবেন কী- বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের অবস্থান কেমন এবং এই সম্ভাবনাকে কীভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে?
মির্জা গোলাম সবুর : জাহাজ নির্মাণ বাংলাদেশের প্রচুর সম্ভাবনাময় একটি শিল্প। জাহাজ নির্মাণ শিল্পে জাপান প্রথমে এগিয়ে ছিলো। এরপর কোরিয়া আসে। বর্তমানে শিপবিল্ডিংয়ে সাশ্রয়ীভাবে জাহাজ তৈরি হয় চীনে। কিন্তু চীনে এখন জাহাজ ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছে। বর্তমানে জাপান, কোরিয়ায় জাহাজ বানাতে গেলে ৩০ বছরেও টাকা উঠানো সম্ভব নয়। চীনে অর্ডার ফুলফিল। আগামী ৩/৪ বছরের জন্য চীনের কোম্পানিগুলো আগে থেকেই বিভিন্ন জাহাজের অর্ডার পেয়ে ব্লক রয়েছে। তাহলে প্রশ্ন হলো- এখন জাহাজ কোথা থেকে পাওয়া যাবে। এ জন্য অল্টারনেটিভ হিসেবে একমাত্র উজ্জ্বল সম্ভাবনায় পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। তবে টেকনোলজির দিক থেকে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছনে রয়েছে। এটি আমাদেরকে ক্যাপচার করতে হবে। বিশ্ব বাজারে আমাদের দেশের তৈরি জাহাজ প্রদর্শন করতে হবে। আমাদের প্রচারে নামতে হবে। পুরো বিশ্ব এখনো জানে না যে, বাংলাদেশ ভালো জাহাজ তৈরি করতে পারে। বিশ্বে আমাদের পরিচিতি তুলে ধরতে হবে। তাহলে আমাদের দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্প আরো ডেভেলপ হবে। আমরা কেনো জাপান হতে পারবেনা? কোরিয়া শিপ বিল্ডিং ডেভেলপ করেছে জাপানেরও ১০ বছর পরে। এখন কোরিয়া জাপানকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। এরপরে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে প্রবেশ করেছে চীন। চীনও এখন হাঁপিয়ে উঠেছে। এখন সময় বাংলাদেশের। তবে আমাদেরকে বিশ্ব বাজারে প্রচার করতে হবে। তাহলেই আমাদের দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্প আরো ডেভেলপ হবে। বহির্বিশ্বে নিজেকে উপস্থাপন করে অর্ডার আনতে গেলে সবচেয়ে প্রথমে দরকার রেপুটেশন এবং রিলায়বিটি। ভাল বড় কোম্পানি জাহাজের অর্ডার দেয়ার আগে চিন্তা করবে কত বছরে কাজ সম্পন্ন করতে পারবে, কত পারসেন্ট পারফরমেন্স গ্যারান্টি দিতে পারবে। এগুলো চিন্তা করে অনেক সময় ভালো কোম্পানিগুলো আমাদের দেশে আসে না। জাহাজের অর্ডার পাওয়ার জন্য মার্কেটিং করতে হবে। নরওয়ে, ডেনমার্ক, সুইডেনের মতো দেশে মার্কেটিং করতে হবে। বাংলাদেশে কর্মী লেভেলে কাজ করার জন্য প্রচুর দক্ষ লোকবল রয়েছে। তবে ডিজাইন লেভেলে ভাল ডিজাইন করার মতো দক্ষ লোক এ দেশে এখনো তৈরি হয়নি। এ জন্য জাপান থেকে বিভিন্ন মেয়াদের চুক্তিতে ডিজাইনার এনে বুয়েটের কিছু শিক্ষানবিশ তাদের সাথে কাজ করার সুযোগ করে দিলে আমাদের দেশে দক্ষ ডিজাইনার তৈরি হবে বলে আমার বিশ্বাস।
টাইমওয়াচ : আপনি কর্মজীবনের শুরু থেকেই দীর্ঘদিন এর সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাই আপনার এ সেক্টরে বিনিয়োগ করার ইচ্ছে আছে কী?
মির্জা গোলাম সবুর : জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আমি এখন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করবো না। তবে আমি এখন শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ করছি। প্রথম জীবনে আমি যখন বিনিয়োগ করেছি তখন শুধুই লাভের জন্য করেছি। সেখানে লোকজন কাজ করে আয় করেছে। আমাদের লাভ-লোকসান দু’টোই হয়েছে। বিনিয়োগের উদ্দেশ্যই ছিলো- লাভ করা। আমি এখন বিনিয়োগকে অন্য চোখে দেখছি। এখন যে বিনিয়োগ করবো সেটি দিয়ে যদি দশটি লোকের উপকার হয় তাহলেই আমি খুশি। এ বিনিয়োগ কোনো দান-খয়রাত কিংবা যাকাত নয়। এ বিনিয়োগ করছি- ইয়াং জেনারেশনের ফিউচারের জন্য। নতুন প্রজন্মের মঙ্গলের জন্য আমি বিনিয়োগ করছি।শিক্ষার উন্নয়নে আজীবন কাজ করতে চাই : মির্জা গোলাম সবুর, সিঙ্গাপুর প্রবাসী
টাইমওয়াচ : বাংলাদেশ নিয়ে আপনার ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
মির্জা গোলাম সবুর : প্রথমেই বলবো আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে- আমি সিঙ্গাপুরে আরো ৫/৭ বছর থাকবো। আমি রিটায়ার করে বাংলাদেশে আসবো। তারপর যে প্রতিষ্ঠানগুলো আমি চালু করেছি; যেমন চ্যারিট্যাবল চিকিৎসা ফাউন্ডেশন, শিক্ষা ফাউন্ডেশন এগুলোর ব্যবস্থাপনায় ফুলটাইম সময় দেব। আমার জীবনে আমি চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য অনেক করেছি। একটি পর্যায়ে এসে আমার আর কোনো চাহিদা থাকবে না। তাই অবসর সময়ে আমি শিক্ষাক্ষেত্রে সময় দেব। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নয়ন কীভাবে করা যায় সে বিষয়ে আমি পরামর্শ ও সহযোগিতা করবো। আমার শেষ বয়সের পুরো সময় আমি বাংলাদেশে কাটাতে চাই। একটি বিষয় হচ্ছে- আমি কখনো রাজনীতিতে যাব না। রাজনীতি করার কোনো ইচ্ছে আমার নেই। সমাজসেবায় নিজেকে পুরোপুরি সম্পৃক্ত করতে চাই। একটি জাতিকে শিক্ষিত করতে না পারলে সে জাতি সারা জীবন লেবার হয়ে থাকবে। এ জন্য দেশের শিক্ষার উন্নয়নে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করেও আমি কাজ করছি এবং দেশে এসে শিক্ষার উন্নয়নে পুরোপুরিভাবে কাজ করবো। আমার দৃষ্টিতে, একজন রিকশা চালকের সন্তানও ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে পারে এটা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতে হবে। বাবা রিকশা চালায় বলে ছেলেও বড় হয়ে ওই রিকশার হাল ধরবে এটি আমি মেনে নিতে পারি না। আমি মনে করি, একজন গৃহকর্মীর মেয়ে চাকরানী হতে পারে না। এ জন্য আমি শিক্ষার উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করবো। আর ইন্ডাস্ট্রি বেইজড কোনো কিছু করার মতো আমি টাকা-পয়সা সঞ্চয় করিনি। আমি সঞ্চয় করেছি, তবে সঞ্চয়ের পাহাড় তৈরি করতে পারিনি। আমার সঞ্চয়ের ৩০/৪০ শতাংশ অটোমেটিকেলি চলে গেছে মানুষের বিভিন্ন সাহায্য-সহযোগিতার কাজে।
টাইমওয়াচ : দেশ-বিদেশে অনেক জায়গায় আপনি ঘুরেছেন। এ অভিজ্ঞতায় নতুন প্রজন্মের জন্য আপনার বক্তব্য কী?
মির্জা গোলাম সবুর : নতুন প্রজন্মের জন্যে আমার বক্তব্য- তোমাদের কোনো কিছু নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার কোনো দরকার নেই। তোমরা শুধু নিজেকে শিক্ষিত করো। রাজনীতি করতে চাইলে অবশ্যই করবে। আর রাজনীতিকে পেশা হিসেবে নিতে চাইলে ভালো, কোনো অসুবিধা নেই। রাজনীতি থেকে পারিশ্রমিক  নেবে। এটিও ভালো। কিন্তু রাজনীতি নিয়ে ব্যবসা করবে না।শিক্ষার উন্নয়নে আজীবন কাজ করতে চাই : মির্জা গোলাম সবুর, সিঙ্গাপুর প্রবাসী
সিঙ্গাপুরে একজন এমপি’র বেতন বাংলাদেশি মুদ্রায় ১০ লাখ টাকা। তাই সিঙ্গাপুরের এমপি’র কী দুর্নীতি করার দরকার পড়ে? সিঙ্গাপুরে একজন জুনিয়র মিনিস্টারের বেতন বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩০ লাখ এবং ফুল মিনিস্টারের বেতন ৬০ লাখ টাকা। আমাদের দেশের এমপিদের সম্মানি ভাতা অনেক কম। তাহলে তাদের কাছ থেকে কী করে দুর্নীতিমুক্ত দেশ আশা করা যায়? উন্নত বিশ্বে ডাক্তার, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ সবার বেতন সমন্বয় করার সামঞ্জস্য আছে। তাদের বেতনে কোনো বৈষম্য নেই। নতুন প্রজন্মকে আমি বলবো- কোনো চিন্তা-ভাবনা না করে লেখাপড়া শিখে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তোলো; তাহলেই তুমি এবং এ দেশ এগিয়ে যাবে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd