ঢাকা : সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • ডেঙ্গু এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে : কাদের          ঈদে হাসপাতালের হেল্প ডেস্ক খোলা রাখার নির্দেশ          নবম ওয়েজ বোর্ডের ওপর হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা           বন্দরসমূহের জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৪ ১২:১৫:৪২
কোমর ব্যথায় ফিজিওথেরাপি
সমস্যা এবং পরামর্শ
ড. আলতাফ হোসেন সরকার


 


সমস্যা : আমি মো. জোনাইদ আবেদীন। আমি জানতে চাই, কী কী কারণে ব্যাকপেইন হয় এবং কোন ধরনের লোক ব্যাকপেইনে  ভোগেন?
পরামর্শ : ব্যাকপেইনের কারণ অনেক। কারণগুলোকে কয়েকটি অংশে ভাগ করে বলছি। বিভিন্ন দেশের রিসার্চ এবং আমার ৩৪ বছরের প্র্যাকটিক্যাল অভিজ্ঞতায় দেখেছি, মেকানিক্যাল বা নন-পেসিফিক ব্যাকপেইন সাধারণত মাংসের দুর্বলতা, লিগামেন্টের দুর্বলতা, অসঠিক ভঙ্গি বা চড়ড়ৎ ঢ়ড়ংঃঁৎব, হঠাৎ ভারি বস্তু ওঠানো, সামনের দিকে অনেকক্ষণ ঝুঁকে কাজ করা, পড়ে যাওয়া, দুশ্চিন্তা করা, অতিরিক্ত ওজন ইত্যাদি কারণে ৭০ শতাংশ লোক ব্যাকপেইন বা মাজা ব্যথায় ভুগে থাকেন। ডিজেনারেশনের জন্য ১০ শতাংশ, ডিক্স-এর অসুস্থতার জন্য ৪ শতাংশ, অসটিওপোরেসিস, কমপ্রেশন ও ফ্র্যাকচারের জন্য ৪ শতাংশ, স্পাইনাল স্টোনোসিস বা স্পাইনের মধ্যে  যে ফাঁকা থাকে তা কমে যাওয়ার জন্য ৩ শতাংশ, স্পনডিলোলিসথেসিসের জন্য ২ শতাংশ এবং অন্যান্য কারণে ৭ শতাংশ ব্যথায় ভোগেন। ৮০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক লোক জীবনের কোনো না কোনো সময় ব্যাকপেইনে ভোগেন। ব্যাকপেইন পুরুষ এবং মহিলা উভয়েরই হতে পারে। তবে মহিলাদের মধ্যে যারা মা হয়েছেন তাদের ব্যাকপেইন বেশি হয়। সাধারণত ২০-৫৫ বছরের লোকের ব্যাকপেইন বেশি হয়।
সমস্যা : আমার নাম নাসির উদ্দিন, বয়স ৫৩ বছর। কাজ করি ঢাকার বাড্ডা এলাকায়। জীবনের অধিকাংশ সময় সামনে ঝুঁকে অর্থাৎ টেবিলে বসে কাজ করেছি। অধিকাংশ দিন লম্বা সময় মিটিং করতে হয়। ইদানীং বসার একটু তারতম্য হলেই পিঠে ব্যথা হয় এবং লম্বা মিটিং করলে ব্যথা আরও বেশি করে। এ অবস্থায় আমার কী করা উচিত?
পরামর্শ : এখানে বলে রাখা দরকার, স্পাইনের কোনো অংশকে সামনের দিকে বাঁকা করে আবার কোনো অংশ পেছনের দিকে বাঁকা করে আল্লাহ পাক আমাদেরকে তৈরি করেছেন। সে অনুযায়ী স্পাইনের সাথে লিগামেন্ট এবং মাংস লাগানো আছে। আমরা যখন সামনে ঝুঁকে বেশি সময় কাজ করি তখন একদিকের মাংস খাটো হয়ে যায়, অন্যদিকের মাংস লম্বা হয়ে যায় এবং অধিক সময় একই ভঙ্গিতে কাজ করলে আমাদের স্পাইনের মবিলিটি কমে যায় এবং মাংস দুর্বল হয়। এভাবে কাজ করলে আস্তে আস্তে কষ্ট বাড়তে থাকে। এ ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা শুরু করার পূর্বে অ্যাসেসমেন্ট করে বের করতে হবে কোন কোন মাংস অসুস্থ হয়েছে এবং কোন কোন এরিয়ার মবিলিটি কমে গেছে প্রভৃতি অ্যাসেসমেন্ট অনুযায়ী ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার বিভিন্ন মডিউল সঠিকভাবে ব্যবহার করলে আশা করি আপনি কষ্টমুক্ত হবেন। চিকিৎসার সাথে সাথে আপনাকে অবশ্যই সঠিক ব্যায়াম করতে হবে এবং উপদেশ মেনে চলতে হবে। অর্থাৎ সামনে ঝুঁকে বেশিক্ষণ কাজ করলে কিছুক্ষণ কাজ করার পর আবার পিছনের দিকে কয়েকবার বাঁকা হয়ে ব্যায়াম করতে হবে। দিনে দুইবার বালিশ ছাড়া উপুড় হয়ে দু’হাত পিছনে রেখে মাথা ও কাঁধ উঠাতে হবে ৫-৭ বার। আপনার যে মাংস দুর্বল সে মাংসগুলোর শক্তি বাড়াতে হবে সাথে স্পাইনের মবিলিটিও বাড়াতে হবে। আশা করি, আপনি কষ্টমুক্ত থাকতে পারবেন।
সমস্যা : আমি সাইফুল ইসলাম, আমার বয়স ৫০ বছর। থাকি পাবনা। কোমরের ডানদিকে সবসময় ব্যথা করে। তবে বসে কিছুক্ষণ কাজ করলে ব্যথা বেশি বেড়ে যায় এবং কোমর থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত চলে আসে। এমতাবস্থায় কী চিকিৎসা নিলে আমি কষ্টমুক্ত হবো?
পরামর্শ : আপনার চিকিৎসার জন্য সঠিক ফিজিক্যাল এক্সামিনেশন এবং ল্যাবরেটরি পরীক্ষা করা দরকার। আপনি যে প্রান্তে থাকেন সে প্রান্তে এই পরীক্ষা করা হয়তো সম্ভব নয়। আপনি যখন বসে বসে কাজ করেন তখন ব্যথা হচ্ছে এমন অনুভব করার সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িয়ে যাবেন। দাঁড়ানো অবস্থায় হাত দু’টো মাজার নিচে যে বড় মাংস পেশি রয়েছে সেখানে রাখুন। সেখানে রেখে পিছনের দিকে ৫-৭ বার বাঁকা হন তারপর ২-৩ মিনিট হাঁটুন। হাঁটার পর আবার আগের মতো পেছনের দিকে ৫-৭ বার বাঁকা হন। প্রতিদিন ঘুমাতে যেতে অথবা ঘুম থেকে ওঠার আগে উপুড় হয়ে শোবেন, হাত দু’টো মাজার উপর রেখে মাথা  এবং কাঁধ ৫-৭ বার উপরের দিকে উঠাবেন সেই সাথে উঠানোর সময় কাউকে বলবেন কাঁধে পিঠে চাপ দিয়ে ধরতে যাতে উঠতে কিছু শক্তি লাগে। এভাবে আস্তে আস্তে চাপের শক্তি বাড়াতে হবে। আশা করি, ভালো বোধ করবেন। যদি ভালো বোধ না করেন তাহলে নিকটস্থ একজন ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিবেন। সঠিক ব্যায়াম করুন। কষ্টমুক্ত থাকুন।
সমস্যা : আমি রহিমা বেগম, আমার বয়স ৬৫ বছর। থাকি পান্থপথে। গত চার বছর ডায়াবেটিস রোগে ভুগছি। সকালে হাঁটার সময় অল্প একটু হাঁটলেই দু’পায়ের নিচের দিকের মাংস ধরে যায়। একটু বসে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলে আবার হাঁটতে পারি। এমতাবস্থায় আমি কী করতে পারি?
পরামর্শ : আমি রোগীর চিকিৎসার পূর্বেই তার সঠিক অ্যাসেসমেন্ট করি। অর্থাৎ আমার চিকিৎসা প্রমাণ সাপেক্ষ। আপনার সঠিক ফিজিক্যাল এ্যাকজামিনেশন এবং তার সাথে ল্যাবরেটরি পরীক্ষা করা দরকার। আপনার জন্য পরামর্শ হচ্ছে প্রতিদিন দিনে তিন বার চিৎ হয়ে শুয়ে হাঁটু বাঁকা করে পেটের দিকে হাঁটু নিজে নিজে টানবেন। ৮-১০ বার টানার পর বিশ্রাম নিবেন। এভাবে তিন বার করবেন তারপর দু’হাঁটুকে বুকের দিকে ১০-১২ বার টানবেন। এভাবে ৪-৫ বার করবেন। হাঁটার সময় প্রথমে একটু সামনের দিকে বাঁকা হয়ে ১-২ মিনিট হাঁটুন তারপর আস্তে আস্তে সোজা হয়ে হাঁটার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন প্রথমবার হাঁটার সময় যদি তিন মিনিট পরে পায়ের ব্যথা শুরু হয় অথবা পা ধরে যায় দ্বিতীয়বার হাঁটার সময় একটু সময় অর্থাৎ ১-২ বাড়ানোর চেষ্টা করুন। আপনাদেরকে যে উপদেশ দিচ্ছি তা মেনে চলুন এবং সঠিক ব্যায়াম করুন। পানি বেশি খাবেন আর ভাত ও চিনি জাতীয় খাদ্য কম খাবেন। দুশ্চিন্তামুক্ত থাকুন। দৈনিক ৮-৯ ঘন্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।৩
লেখক : ব্যাক পেইন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্ট
সেলফোন : ০১৭৬৫৬৬৮৮৪৬, ই-মেইল : physioas@bangla.net

printer
সর্বশেষ সংবাদ
স্বাস্থ্য ও জীবন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd