ঢাকা : বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • রোহিঙ্গা ইস্যুতে ট্রাম্পের কাছে সহায়তা চাওয়ার কোনো মানে নেই : হাসিনা          দু-এক দিনের মধ্যে চালের দাম কমবে : বাণিজ্যমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তরিকতার কমতি নেই : ওবায়দুল কাদের          রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ত্যাগ করলে অবৈধ বলে গণ্য হবেন : আইজিপি          রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ নৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে : রুশনারা আলী
printer
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি, ২০১৫ ১২:৪৭:৫০
খালেদা-তারেকের বিএনপি অবৈধ : কামরুল হাসান নাসিম
বিশেষ প্রতিনিধি

 
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও তার পুত্র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিচালনায় থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অবৈধ এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বিএনপিকে ফেরত এনে বিএনপির নবযাত্রার নয়া যুগের শুরু বলে টাইমওয়াচকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক, গবেষক ও রাজনীতিক কামরুল হাসান নাসিম এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বেগম জিয়া ও তার ছেলেদের দলই বিএনপি নয়, বিএনপি দেশের ইমেজসম্পন্ন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গড়া দল। এটি কারোর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। ধীরে ধীরে মা-পুত্রের অযাচিত কর্মকা-ে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় দলটি এখন ‘রাজনৈতিক অপশক্তি’ হয়ে পড়েছে। সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী চেতনায় রিগ্ধ হয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুরণিত থেকে বিএনপির রাজনৈতিক ক্রান্তিলগ্নে দলীয় ও রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় পুনরায় যাত্রা শুরু করা হল; এটাই আসল বিএনপি। দলের শীর্ষস্থানীয় ইমেজসম্পন্ন সকল নেতাকেই নিকট সময়ের মধ্যে আসল বিএনপিতে দেখা যাবে। সব ঠিক থাকবে। অর্থাৎ দলের তৃৃণমূল পর্যায় হতে শুরু করে অঙ্গ সংগঠন ও সমর্থিত সংগঠনসমূহের বিব্রত হওয়ার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে দলের লক্ষ কোটি সমর্থকদের ধৈর্য ধরতে হবে। তবে পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে সকল পর্যায়ে দলীয় কাউন্সিল সম্পাদন করাই এখন প্রধান কাজ। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অর্থনৈতিক মুক্তি নয়; জাতীয় অর্থনীতির সমৃদ্ধির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এই বিএনপি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে নিকট ভবিষ্যতে কার্যকরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়বে।

কামরুল হাসান নাসিম, নতুন পথচলায় আগামী এক সপ্তাহের কর্মসূচির ঘোষণাও দেন। ১৪ জানুয়ারি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত ও ১৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেন তিনি।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের কোনো নেতাকে এখনই এই পথচলায় না এনে কামরুল হাসান নাসিম বলেন, নেতৃত্বের গুণাবলীর মধ্যে থাকতে হয়- সততা, মেধা, দূরদৃষ্টি, দেশপ্রেম ও চরিত্র। কাজেই বিএনপিতে দেখা যাবে সেই মানের নেতৃত্ব। আমি একজন সাধারণ মানুষ। দলটির ক্রান্তিলগ্নের ও অসুস্থতাকে ঠিক করতে সামান্য ওষুধওয়ালা। রোগ সেরে গেলে এবং দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে পারলেই জ্যেষ্ঠ যোগ্য  নেতৃত্বের হাতে যাবে শহীদ জিয়ার সেই স্বপ্নের দল বিএনপি। যেখানে প্রতিটি নেতৃত্ব আসবে দলীয় গণতন্ত্রের মধ্য দিয়ে।
বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে নাসিম আরও বলেন, যে ব্যক্তি শাসন রীতিতে গণতন্ত্রকে অর্থবহ করার জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সেই দলে আজ ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি পরিলক্ষিত হচ্ছে; যা দলের সংবিধান পরিপন্থী। মুখ বুজে তা সইতে হচ্ছে দলের সকল নেতাকর্মীকে।
টাইমওয়াচের এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ইতিহাস হল, শাসক শ্রেণির কাছে বন্দী থাকা তাদেরই প্রয়োজনে উন্মোচিত চাপিয়ে দেওয়া পান্ডুলিপি। যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকবে তারাই চাপিয়ে দিবে ইতিহাস কেমন হবে! মানবশ্রেণীর পক্ষে রাজনৈতিক ইতিহাস বর্ণনা করা অসম্ভব। কারণ, আমরা কেউ নিরপেক্ষ নই। সামাজিক-অর্থনৈতিক কিংবা সাংস্কৃতিক ইতিহাসের ধারাভাষ্য দেওয়া সম্ভব হলেও রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরার কাজ মহান সৃষ্টিকর্তার। যা তিনি আমাদের রাষ্ট্র নায়কদের আখিরাতের বিচারে নির্ণয় করবেন।  কিন্তু দেখা যাচ্ছে, লন্ডন থেকে  নিত্য নতুন ইতিহাস তত্ত্ব আসছে, শিষ্টাচার বর্জিত বক্তব্য রাখা হচ্ছে, নিজেদের সামাজিক অন্যায় কৌশলে প্রতিহত করতে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান করা হচ্ছে। অথচ ‘মা’ ও পুত্র খারাপ নেই। এক রকম ড্রামা করে মিথ্যে আবেগে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সাথে প্রহসন করা হচ্ছে। হয়তো বলবেন, তুমি কামরুল হাসান নাসিম কে? উত্তরে বলছি, আজ  থেকে থাকছি; ভীষণ সাধারণ কিন্তু কিছু অসাধারণ উদ্যোগ নেওয়ার ঝুকিও তো নিতে হবে কাউকে না কাউকে। আমি দলের সব পর্যায়ে কথা বলেছি। মনে করছি, জিয়াউর রহমানের দল ফিরবেই।
১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে কেন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পরিচালনায় বিএনপি অবৈধ তা সু-স্পষ্টভাবে প্রমাণ রাখার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নাসিম বলেন- আশা করছি, সময়মতো জবাব দিতে পারব। তিনি বলেন, সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের গুণীজনের বিকশিত প্রতিভা উত্তরাধিকারে নিষ্পত্তি হতে পারে না। হ্যাঁ; এটা ঠিক পৃথিবীতে অনেক নজির রয়েছে যেখানে পূর্বসূরিদের ছাড়িয়ে যেয়েও খ্যাতি এসেছে উত্তরাধিকারীদের। কিন্তু তার নজির বেগম খালেদা জিয়া কিংবা তারেক রহমান হতে পারে না। যৌক্তিক কারণেই বিএনপিকে বাঁচাতে এখন একটাই পথ, জিয়ার বিএনপির প্রত্যাবর্তন।খালেদা-তারেকের বিএনপি অবৈধ : কামরুল হাসান নাসিম
রাজনীতিতে নতুন প্রজন্ম বিষয়ে জানতে চাইলে নাসিম বলেন, নতুন প্রজন্মের মনে রাখা প্রয়োজন- তুমি যখন দেখবে তোমার ভুখ-ে ভিন্ন জাতির আধিপত্য উৎখাত করতে হচ্ছে তখনই কেবল রাষ্ট্রের সম্পদের ওপর বা গেরিলা আক্রমণ করতে পারো। যেমনটি আমাদের ব্রিটিশ ছাড়ো আন্দোলন কিংবা ১৯৭১ সালে করতে হয়েছিল। বাংলাদেশ স্বাধীনের পর নিজ দেশের সম্পদ বিনষ্টে যারা ভূমিকা রেখেছেন এবং রাখছেন তারা কতটুকু দেশপ্রেমিক তা প্রশ্নবিদ্ধ! তুমি দেশকে ভালোবাসলে এমনটি করতে পারো না। বাংলাদেশে যা অতীতে হয়েছে এবং হচ্ছে তা রাজনীতির অসুস্থ প্রতিযোগিতা। জেনে  রেখো- তুমি যখন রাষ্ট্রকে অসহযোগিতা নিজ  থেকে করবে; যেমন- তুমি অফিস-আদালতে যাবে না, দোকানপাট নিজ ইচ্ছায় খুলবে না ইত্যাদি ইত্যাদি- এমন অযুত অসহযোগিতা  কেবল শাসক শ্রেণীকে পরাজয়ের গ্লানি এনে দিতে পারে। কিন্তু এখন কি করা হচ্ছে এটি সংসদীয় গণতন্ত্রের লক্ষণ নয়। এর পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য আছে। বিএনপি কেন মেধাভিত্তিক রাজনীতি রেখে দিয়ে গোলাবারুদ বোমাবাজিতে যাবে? যদি অপশাসন পরিলক্ষিত হয় তবে পুরো দলকে টেনে নামাবে সাধারণ জনগণ; যদি তাদের স্বার্থ সংরক্ষণে আমরা সদা সোচ্চার থাকার অভ্যাসে থাকতে পারি। গণ অভ্যুত্থান করবেন কিন্তু জনগণের জন্য কোনো স্কিম নেই; তা হতে পারে না। আমাদের এসব করতেই হবে বা কেন? ভোট চুরি করা কি এখন এতটাই সহজ কাজ? কেন নির্বাচনে যাবো না। শহীদ জিয়ার বিএনপি দেখতে চায়, দেখি আওয়ামী লীগ ভোট চুরি করে ১ ঘন্টা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকতে পারে কিনা! কাজেই দেশের জন্য আগামী ৫০ কিংবা ১০০ বছরে বিএনপি কি ভাবছে তা তুলে ধরাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ’৭১ পরবর্তী যে দেশকে হেনরি কিসিঞ্জারেরা যা বলেছিল তা কিন্তু মিথ্যে প্রমাণিত হয়েছে। আমরা এখন আর তলাবিহীন ঝুঁড়ি নই। শেখ হাসিনা সরকার বলছে, ২০৪১ সালের মধ্যে দেশ ধনী রাষ্ট্র হবে। কিন্তু আমি মনে করি, কোনো প্রকারের শাসক না থাকলেও  সে সময় আমরা ওই জায়গায় পৌঁছে যাব। আমি দেখছি, বাংলাদেশ ২০২৫ সালের মধ্যে ধনী রাষ্ট্র হতে পারে।
নাসিম বলেন, এই বিএনপি দেশের পরিকল্পনা, সামরিক, পররাষ্ট্র ও অর্থনীতি’র সমন্বয়ে কৃষি, শিল্প, মৎস্য, পর্যটন, প্রাকৃতিক সম্পদ, সামরিক কৌশল এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড খাত  দিয়েই এই দেশকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ট সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র করার প্রয়াস নিবে। যা  দেখেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি অর্থনৈতিক জ্ঞানমনস্ক নেতা ছিলেন। এখন মাহাথিরের কথা বলা হয়। বাস্তবতা হল, জিয়া ছিলেন মাহাথিরের চাইতেও উচ্চ মার্গের  নেতা। তিনি সাথে পেয়েছিলেন মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মতো রাজনীতিক। খুব নিকট সময়ের মধ্যে বিএনপির প্রভাবশালী  নেতৃবৃন্দকে রাজনীতির বিজয়ের জন্য জিয়ার বিএনপিতে দেখা যাবে বলে নাসিম জানিয়েছেন। সব কিছুর জন্য অপেক্ষা করতে হবে, কারণ বিএনপিকে ভালোবাসে দেশের লক্ষ কোটি মানুষ।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd