ঢাকা : রোববার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • দ্বীপ ও চরাঞ্চলে পৌঁছাচ্ছে ইন্টারনেট          দুদকের মামলায় সম্রাটের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর          এয়ার শো’তে যোগ দিতে দুবাইয়ে প্রধানমন্ত্রী           সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে : স্পিকার          রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর          বাংলাদেশে আইএস বলে কিছু নেই : হাছান মাহমুদ
printer
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ ১২:৫৬:৩৪আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ ১২:৫৭:৩৮
স্মরণ : মওলানা সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম প্রকাশ গায়েবী ধন কেবলা কাবা (ক.) মাইজভাণ্ডারী
লায়ন ডা. বরুণ কুমার আচার্য্য (বলাই)


 


মাইজভাণ্ডারী শরীফ আধ্যাত্মিক সাধকদের জন্য বড় পাওনা। প্রতিষ্ঠানে বায়াত হয়ে কঠোর সাধনা করে এক একজন সাধক হয়ে উঠেন ওলী। প্রতিষ্ঠাতা হযরত গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারী (ক.)। তার নামের অনেক মহিমা। মহাপাপী তাঁর নামের গুণে উদ্ধার হয়ে যায়। তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র হযরত গোলামুর রহমান শাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.) প্রকাশ বাবা ভাণ্ডারী গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারী (ক.) এর কাছ থেকে উচ্চতর শক্তি অর্জন করেছিলেন। হযরত বাবা ভাণ্ডারী (ক.) এর প্রথমা কন্যা বলেন, আওলাদে রসূল শাহজাদীয়ে গাউছুল আযম সৈয়দা মায়মুনা খাতুন মাইজভাণ্ডারী। সৈয়দা মায়মুনা খাতুনের প্রথম পুত্র হলেন হযরত মওলানা সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম প্রকাশ গায়েবী ধন কেবলা কাবা হযরত মাইজভাণ্ডারী (ক.)। হযরত গায়েবী ধন কেবলা কাবা জন্মের সময় হযরত বাবা ভাণ্ডারী (ক.) এর কারামতময় ঘটনা ঘটেছিল যাহা তাঁর জীবনী শরীফের ১৭ পৃষ্ঠা উল্লেখিত “বাড়ির সবাই গায়েবী ধন কেবলা মা শাহজাদীকে ঘিরে বসে আছেন। নবজাতক শিশুকে স্বাগত জানানোর জন্য। ঘটে গেল হৃদয় বিদারক ঘটনা। পুত্র সন্তান প্রসব করেছেন ঠিকই তবে মৃত। অন্যদিকে শাহজাদী শাহেবানী প্রসব যন্ত্রণায় অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন। মৃত সন্তান দেখে কারো কোন কথা নেই। সন্তানের নাড়িভূড়ি ও কাটা হয়নি। এ মূহুর্তে বাবা ভান্ডারী (ক.) আঁতুড় ঘরে প্রবেশ করে সকলকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বললেন আমার মেয়ের সাথে কথা আছে। এই বলে শাহজাদীর শিয়রে বসলেন বাবা ভান্ডারী (ক.)। কি যেন বলে দয়া করার সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান ফিরে আসে শাহজাদী শাহেবানীর। এবার শাহজাদী শাহেবানীর শাশুড়ী মা বদিউন্নেছা তাজিম শেষে জোড় হাতে কাতর কম্পিত কণ্ঠে আরজ করলেন বাবা ভান্ডারী (ক.) এর চরণে বাবাজান আপনি আমাকে দিয়েছেন একটি মরা সন্তান। আপনি আপনার মরা সন্তান নিয়েনিন। একথা বলার সঙ্গে সঙ্গে থানা থেকে মৃত সন্তানটি বাড়িভূড়িসহ কোলে তুলে নিলেন দয়া করে। তারপর তিনি তাঁর মোবারক দু’হাতে নাড়িভূড়ি কছলাতে থাকেন। হঠাৎ মৃত ছেলে ওয়া ওয়া করে কান্নার আওয়াজ শুনে ঘরের সবাই আনন্দে আত্মহারা। এবার বাবা ভান্ডারী তিনি তাঁর বরকতময় ও কারামত পূর্ণ গায়ের চাদর মোবারকে বাচ্চাটি তুলে দুই হাতে “দঅ দঅ গায়েবী ধন” বলে দোলনার মতই দোলা দিতে দিতে বলছিলেন “ও আমার গায়েবী ধন” তখন বাবা ভান্ডারী (ক.) বদিউন্নেছা বিবির হাতে গায়েবী ধনকে তুলে দিয়ে বলেছিলেন “এটা আমার গায়েবী ধন। এটাকে যথাযথ মর্যাদায় হেফাজত করবেন”। মৃত সন্তানকে প্রাণ ফিরিয়ে দিলেন বাবা ভান্ডারী (ক.) আনুষ্ঠানিক ভাবে নাম রাখা হয় সৈয়দ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম।
হযরত গায়েবী ধন শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে পৌঁছেন। বুদ্ধি হবার ফলে তিনি বাবা ভান্ডারী (ক.) ছাড়া আর কিছুই বুঝতে চাননি। একবার বাড়িতে গায়েবী ধনকে পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে সবাই চিন্তিত হলেন। তখন পিতা হযরত মওলানা শাহসুফি সৈয়দ মো. ইব্রাহীম মাইজভান্ডার শরীফ চলে আসেন রাগান্বিত হয়ে। দেখলেন ...... নানাজান হযরত বাবা ভান্ডারী (ক.) নাতি হযরত গায়েবী ধন কেবলা কাবাকে নিয়ে খেলছেন। ওলীরা তো খেলা খান না। অন্ত চক্ষুধারী হিসাবে লীলা করেন। তখন বাবা ভান্ডারী (ক.) লক্ষীর বাপকে নির্দেশ করে বলেন “মওলানা ইব্রাহীম খলিলুল্লাহকে চলে যেতে বলো। গায়েবীর ধন আমার কাছেই থাকবে। তাঁকে আমার দরকার আছে।” তখন পিতা মাতা নিচু করে চলে গেলেন। গায়েবী ধনকে স্কুলে ভর্তি করানো হল। সেখানেও তিনি মেধা তালিকায় ছিলেন প্রথম। তাঁর জীবনী শরীফের ১৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত “বাবা ভান্ডারী (ক.) এর আধ্যাত্মিক প্রেমে বিভোর থাকতেন বলেই একাডেমিক লেখা পড়ায় বেশীদূর অগ্রসর হতে পারেন নি। এবার পরিপূর্ণ ভাবেই গাউছুল আযম মাইজভান্ডারী (ক.) এর আধ্যাত্মিক স্কুলেই ভর্তি হয়ে গেলেন।” একবারতো বড় আকারের থালা ভর্তি টাকা পয়সা সহ রকমারী খাদ্যদ্রব্য ও মূল্যবান উপঢৌকন বাবা ভান্ডারী (ক.) নিজ হাতে তুলে গায়েবী ধনকে দিয়ে দিলেন। তাতে গায়েবী ধন কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন “বাবাজন আমিতো এসব নিতে আসিনি আমি যা চাই তাই দিয়েদিন।” গায়েবী ধনের সুখে এ কথা শুনে বাবা ভান্ডারী (ক.) খুশি হয়ে দয়া করে কবুল করে নিলেন। গ্রায়প্রিয় নাতি গায়েবীধনের আরজিটুকু সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশ দিলেন বার্মা সফরের। তাঁর বয়স তখন এগার বছর বাবাজান নিজেরমত করেই নাতিকে গড়ে তুলে ছিলেন্ তরিকতের প্রচার প্রসারে ও প্র্যাকটিক্যাল জ্ঞান অন্বেষনের লক্ষ্যে তাঁকে নানাজান বার্মার রেংগুন পাঠালেন। রেংগুনে পৌঁছানোর পর জমিদার আব্দুল বারী চৌং তাঁকে দেখে খুব খুশি হলেন। থাকার ব্যবস্থা সহ সব রকমের দায়িত্ব নিলেন। অসংখ্যা মুরিদান এসে হাজির। সবাইকে দয়া করেছেন হযরত গায়েবী ধন (ক.)। কিন্তু নানাজানের বিচ্ছেদ সইতে না পেরে চলে আসলেন রেংগুন থেকে। কঠোর সাধনায় রত থাকেন তিনি। বাবা ভান্ডারী (ক.) নির্দেশ দিয়ে দিলেন গায়েবী ধনকে গায়েবী ধন মঞ্জিলে ওরশ করার জন্য। তখনকার ষাট টাকায় গরু কিনে নিয়ে আসেন গায়েবী ধন মঞ্জিলে। ভক্ত মুরিদান পাড়া প্রতিবেশী সবাই মিলে ওরশ শরীফ উদযাপন করলেন বাবজান। ২য় দফা গায়েবী ঘন রেংগুন গিয়েছিলেন বাবা ভান্ডারীর (ক.) নির্দেশে। ওই সময়ে অনেক মুরিদান সৃষ্টি হয়েছিল। তখনই বার্মাতে খবর পৌঁছে হযরত বাবা ভান্ডারী (ক.) ওফাত বরণ করেছিলেন। গায়েবী ধন মাইজভান্ডারী (ক.) নিজের চোখের জল লুকিয়ে বার্মাতে ভক্তদের সান্তনা দিয়েছেন। হযরত বাবা ভান্ডারী (ক.) র আদেশে আগেই মাইজভান্ডার শরীফে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে জিকির মাহফিল হয়ে আসছিল। এটা জারী হয়েছিল হযরত গায়েবী ধন মাইজভান্ডারী (ক.) এর মাধ্যমে গায়েবী ধন কেবলা (ক.) এর একজন লন্ডনী খৃষ্টানভক্ত নাম টেংকিজ পিনারো তাঁকে হযরত বাবা ভান্ডারী (ক.) স্বপ্নের মাধ্যমে নিজ অর্থায়নে “গায়েবী ধন মঞ্জিল” নির্মান করতে আদেশ দেন। মুর্শিদ গায়েবী ধনের সিদ্ধান্ত হিসাবে পরে শিল্পপতি মির্জাবু আহম্মদের কাছ থেকে জায়গা কেনা হল। সম্পূর্ন নিজ অর্থায়নে পিনাক সাহেব প্রথম গায়েবী ধন মঞ্জিলের ভিত্তিপ্রস্থর সহ নির্মান কাজ শেষ করেন। গায়েবী ধন কেবলা (ক.) এর প্রথম স্ত্রী সৈয়দা শমা মাইজভান্ডারী আধ্যাত্মিকতার কারণে এ সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটে। ২য় স্ত্রী হলেন সৈয়দা মরজিয়ানা বেগম। মাতা মায়মুনা খাতুনের কাছে ২য় স্ত্রী হলেন আদর্শবান পুত্রবধু। সৈয়দা মরজিয়ানা কোলে যখন সাত মাসের অন্তস্বত্বা তখন শাহজাদী মাতা মায়মুনা খাতুন পরপাড়ে চলে গেলেন এ শোকের তিন মাস পরেই ভূমিষ্ঠ হন আকাক্সিক্ষত নাতনি সৈয়দা মিনার আক্তার মিনু। এদিকে হযরত গায়েবী ধন কেবলা (ক.) এর ভক্ত শিষ্য মুরিদান দিবা-রাত্রি আসতে থাকে। তাদেরকে ভালবাসা দেয়া ও বিপদ-আপন থেকে উদ্ধার করা সহ সব কাজে ব্যস্ত থাকেন। কন্যা মিনারা আক্তার মিনু বিয়ে যোগ্য হলে সুপাত্র মওলানা সৈয়দ আবুল মনসুর এর সাথে বিবাহ হয়। পরম সুখে শন্তি চলছে জামাতা আলহাজ্ব মওলানা সৈয়দ আবুল মনসুর আর শাহজাদী সৈয়দা মিনারা আক্তার মিনুর দাম্পত্য জীবন। নিজ জামাতাকে মঞ্জিলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব দিয়ে শিখিয়ে তৈরী করছেন হযরত গায়েবী ধন কেবলা (ক.) মঞ্জিলের সুযোগ্য উত্তরসূরী করতে ভক্তবৃন্দ ও পরিবারের অন্যান্যদের উপস্থিত করলেন। নির্দেশ দিলেন জামাতা আবুল মনসুরকে নতুন ভক্তদের বায়াত করতে। বায়াত করালেনও। পরে সরাসরি বললেন “জামাতাকে আমি আমার উপযুক্ত সুযোগ্য উত্তরসূরী
মোন্তাজমে দরবার (স্থলাভিষিক্ত) নিযুক্ত করলাম। বহু কারামতময় কাজ করেছেন বাবাজান। তার এসময় ওফাত বরণের ডাক আসে। হযরত গায়েবী ধন কেবলা মাইজভান্ডারী ওফাত বরণ করেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সাথে দিদার লাভ করতে শোক সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে গেলেন লাখ লাখ ভক্ত শিষ্য মুরিদাগণকে। আমিন।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
ধর্মতত্ত্ব পাতার আরো খবর

Developed by orangebd