ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ০১ মার্চ, ২০১৫ ১২:১৮:২৫
বিবেকের তাড়নায় লাশ টানি, টাকার জন্য নয় : ডোম বাবুল
সাইফুল ইসলাম


 

প্রতিবছর সারাদেশে অনেকেরই হয় অপমৃত্যু । আর এই মৃত্যুর পরেই এই সব লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নেয়া হয় ডোম ঘরে। অবশেষে লাশকে করা হয়  ময়নাতদন্ত। কিন্তু ঘটনাস্থল থেকে লাশটিকে ডোম ঘরে নেয়ার কাজ করে থাকে এক ব্যক্তি তাকে বলা হয় ডোম। লাশ বহনের কাজে সাধারণত ব্যবহার করা হয় ডোমদের। যুগ যুগ ধরে এই ডোম কথা ও কাজটি প্রচলন হয়ে এলেও এদের জীবন যাপন সম্পর্কে তেমন বেশী কিছু জানি না আমরা। তাই উত্তরার একজন পেশাগত ডোমের তথ্য ও কিছু কথা তুলে ধরলাম পাঠকদের জন্য।
নাম বাবুল। নিজ কর্মের জন্য সাধারন জনগণের কাছে তিনি ডোম বাবুল নামেই বেশী পরিচিত। বর্তমানে তার আনুমানিক বয়স ৭২ বছর এর কাছাকাছি। শিক্ষাগত যোগ্যতা এস.এস সি পাশ। সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সাবেক চিকিৎসক ডা. নিসার উদ্দীন এর ছেলে তিনি । মাতা আনোয়ারা বেগম পেশায় ছিলেন হাসপাতালের সেবিকা। গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর।
বাবা মার হাত ধরেই মেডিক্যালের মর্গের কাছাকাছি যাওয়া । এরপর সেই হাসপাতালেরই কর্মরত সেকেন্দার ডোম ওরফে বুদ্দু ডোম এর লাশ টানা দেখতে দেখতে লাশ এর প্রতি আগ্রহের সৃষ্টি। কিছু দিনের মধ্যেই তার কাছে লাশ তুলে ধরে আনা, লাশ কাটা এগুলো নিত্য দিনের ঘটনায় পরিণত হয়ে গেল। এখন আর লাশ না দেখলে রাতে ঘুম হয় না তার। এ পর্যন্ত তিনি আনুমানিক প্রায় পনের শত মৃত নারী ও পুরুষের দেহ উদ্ধারে প্রত্যক্ষভাবে পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন । উত্তরায় অবস্থান ৩৫ বছর। সম্প্রতি উত্তরা, তুরাগ সহ পার্শ্ববর্তী এলাকা হতে প্রায় ২ হাজার লাশ উদ্ধার করেছেন তিনি। পেশাগত কারণে আর অন্য কোনো কাজে যাওয়া হয়নি তার।
বিয়ে করেছেন সর্বমোট নয়টা। বর্তমানে তার ঘরে ফিরোজা ও আফরোজা নামে দুটি স্ত্রী বিদ্যমান রয়েছে। সংসারে তার ৫ মেয়ে ১ ছেলে।
এত বড় সংসার এর খরচ তিনি কি করে চালাছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সন্ধ্যার পর মাদকদ্রব্য বিক্রি করি। এই মাদক দ্রব্য  বিক্রির টাকা দিয়ে আমার সংসার চলে। মাদক বিক্রির কারণে এ পযর্ন্ত আমার নামে বিভিন্ন থানায় মামলা হয়েছে ৪৮টা। বর্তমানে ১৪টা মামলা চলমান রয়েছে। আমার স্ত্রীর নামেও মাদক মামলা রয়েছে। তবুও মাদক বিক্রি করে যাই।
কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই, আমি মাদক ব্যবসায়ী; এটা বলতে লজ্জা করেনা আমার। কিন্তু আমি সুদখোর, ঘুষখোর, চাদাঁবাজদের চেয়ে অনেক ভালো । আমি নিজে মদ খাই কিন্তু মদ বিক্রি করি না। দুঃখ ও ভয়কে দূরে রাখতেই আমি মদ খাই।
আমি যদি এতটাই খারাপ হই তা হলে প্রশাসনের বড় কর্তারা  আমাকে ডাকেন  কেন? তারা প্রয়োজনের সময় আমাকে জামাই আদর করে ডেকে নিয়ে যায়। আবার প্রয়োজন শেষ হলেই  মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে চালান করে দেয়। আমি যে কাজ করি তা অন্য মানুষ করবে না। পচাঁ ,গলা, কাটাঁ যাই হোক আমাকেই লাশগুলোকে টেনে তুলে পুলিশের গাড়ীতে ও মর্গে পাঠাতে হয়। বাস্তব অভিজ্ঞতা  থেকে বলছি, বাঘ মরলে হয় ছাগল…আর মানুষ মরলে হয় বাঘ। মরা লাশের কাছে কেউ ঘেঁষতে চায় না। লাশের সন্ধান পাওয়ার পরও ঘন্টার পর ঘন্টা লাশটি পড়ে থাকে। অনেকে ভয় পায়, অনেকে নাক বন্ধ করে লাশের কাছ থেকে কৌশলে সরে পড়ে।
কিন্তু আমি তা করি না; বরং লাশের খবর এলেই বাসা হতে রাস্তায় নেমে পড়ি। লাশটি সর্তকভাবে উদ্ধার করে পুলিশের গাড়ীতে তুলে দিয়ে তবেই বাসায় ফিরে আসি। মাঝে মাঝে লাশ মর্গেও নিয়ে যাই। আর এর জন্যই আজ আমি বাবুল থেকে ডোম বাবুল।
ভাই বিবেকের তাড়নায় লাশ টানি আমি…টাকার জন্য নয়।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd