ঢাকা : সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • জাতীয় নির্বাচন ২৩ ডিসেম্বর          নির্বাচনের তারিখ পেছানোর কোনো সুযোগ নেই : সিইসি          আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার বুধবার থেকে নেবেন প্রধানমন্ত্রী          দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ০৮ মার্চ, ২০১৫ ১৪:৩৫:৪২
জীবনযুদ্ধে মজুরি বৈষম্যের শিকার নারী শ্রমিক
তোফায়েল হোসেন জাকির, গাইবান্ধা


 


‘জাগো নারী জাগো বহ্নিশিখা। জাগো স্বাহা সীমান্তে রক্ত-টিকা’ নজরুলের এই বাণীর সঙ্গে নারী জেগে উঠলেও যেকোনো কাজেই তারা শিকার হচ্ছেন বৈষম্যের।
জেলার ছয় উপজেলায় নারী শ্রমিকদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। কিন্তু বছরের পর বছর এ নারীশ্রমিকরা মজুরি নিয়ে হচ্ছেন বৈষম্যের শিকার। নারীশ্রমিকরা কাজ করে যা পান তা দিয়ে চালাতে হয় তাদের সংসার। তারা শিক্ষা, চিকিৎসা, সামাজিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। সমাজে বেঁচে আছেন অবহেলিত হয়ে।
জীবনযুদ্ধে নারী শ্রমিকরা সরাদিন ক্ষেত-খামার, গৃহস্থালিসহ বিভিন্ন স্থানে সমশ্রম দিয়েও সমমজুরি পাচ্ছেন না। তারা পুরুষের তুলনায় অনেকাংশে কম মজুরি পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন নারী শ্রমিকরা। একজন পুরুষ কৃষিশ্রমিক যেখানে দৈনিক ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা মজুরি পান, সেখানে একজন নারী শ্রমিক পাচ্ছেন সর্বোচ্চ ১০০ টাকা। চাতালের নারী শ্রমিকদের হাজিরা ৭০ থেকে ৮০ টাকা।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এলাকায় পুরুষ মজুর সঙ্কট দেখা দেওয়ায় গৃহস্থরা নারী শ্রমিক দিয়ে ক্ষেত-খামারে কাজ করিয়ে নিচ্ছেন। চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো ধানক্ষেত-খামারে আগাছা পরিষ্কার থেকে শুরু করে গমক্ষেত, ইটভাটা, আলুক্ষেত ও চাতালসহ প্রভৃতি স্থান দখল করে নিয়েছেন নারী শ্রমিকরা। সংসারে অভাব-অনটনের কারণে স্বামী পরিত্যক্তসহ বিভিন্ন বয়সের নারীরা ক্ষেত-খামারে শ্রম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
নারী শ্রমিকদের কম মজুরি দিয়ে বেশি কাজ করিয়ে নিচ্ছেন মালিকরা। পুরুষ শ্রমিকের চেয়ে নারী শ্রমিকরা কাজে বেশি মনোযোগী হওয়ায় ও মজুরি কম হওয়ায় গৃহস্থরা নারী শ্রমিকদের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ছেন।
এদিকে একই সময় কাজ করে পুরুষ শ্রমিকরা মজুরি পাচ্ছেন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা আর নারী শ্রমিকরা ওই সময়ে বেশি কাজ করে ৮০ থেকে ১০০ টাকা মজুরি পাচ্ছেন।
এদিকে স্বল্প মজুরি প্রদান করলেও নারী শ্রমিকরা মহাখুশি থাকছেন বলে তাদের কদর দিন দিন বাড়ছে বলে জানান এলাকার লোকজন। এভাবে ক্ষেত-খামারগুলো পুরুষ শ্রমিকশূন্য হয়ে পড়তে থাকায় পুরুষরা শ্রম বিক্রির জন্য বিভিন্ন জেলায় চলে যাচ্ছেন।
মজুরি বৈষ্যমের শিকার নারী শ্রমিকদের মধ্যে রোকেয়া (৫৫), শাহানা (৫০) ও রাবেয়া (৫৭) বলেন, পেটের দায়ে কাজ করছি। মজুরি বেশি চাইলে কাজে নিতে চায় না। আবার একদিন কাজ না করলে সংসার অচল হয়ে পড়ে। তাই শত কষ্ট ও দুঃখ বুকে চেপে রেখে কম মজুরিতেই কাজ করছি।
আজিভান (৪১) ও ছালেহা (৩৫) জানান, পুরুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা কাজ করেন। তারপরও তাদের মজুরি কম দেওয়া হয়।
নলডাঙ্গা বাজারের চাতালে কাজ করা নারী শ্রমিক সোনাভান বেওয়া বলেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে পাই ৮০ টাকা। চাতালের ধোঁয়ায় কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। শ্বাসকষ্টের সমস্যা হয়। তারপরও পেটের তাগিদে স্বল্প টাকায় কাজ করি।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর গ্রামের গৃহস্থ শহিদার ও ইমদাদুল হক জানান, পুরুষ শ্রমিক সঙ্কটের কারণে প্রতিদিন তারা ইরি ধানের জমিতে পুরুষ শ্রমিকের পাশাপাশি নারী শ্রমিক দিয়ে কাজ করে নিচ্ছেন।
কঞ্চিবাড়ী গ্রামের জমি মালিক মতিন ও আবুল কালাম জানান, নারী শ্রমিকরা পুরুষের তুলনায় অনেক বেশি কাজ করেও স্বল্প মজুরি পান এটি সত্যি। তবে সর্বত্রই নারীদের মজুরি ৮০ থেকে ১০০ টাকা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে সাদুল্যাপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহনাজ আক্তার বলেন, নারীরা শুধু মজুরির ক্ষেত্রে বৈষম্য প্রদর্শনই নয়, কর্মক্ষেত্রে গিয়ে কৃষি মজুররা বিভিন্নভাবে মালিক পক্ষের হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন। তাই নারী শ্রমিকদের নায্য মজুরি ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নারী শ্রমিক সংগঠন গড়ে তোলা প্রয়োজন।
জেলায় এ রকম হাজারও নারী শ্রমিক সীমাহীন কষ্ট করে মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কথা ভাবলে হয়ত পাল্টানো যাবে এ অঞ্চলের নারী শ্রমিক অঙ্গনের দৃশ্যপট। অর্থনৈতিক মুক্তি মিলবে অনেক পরিবারের। এ আশায় এখনো পথ চেয়ে রয়েছেন এ অঞ্চলের অবহেলিত নারী শ্রমিকরা।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd