ঢাকা : সোমবার, ২৪ জুন ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পণ্য মজুদ আছে, রমজানে পণ্যের দাম বাড়বে না : বাণিজ্যমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার          অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব ব্যবস্থা নিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী          বনাঞ্চলের গাছ কাটার ওপর ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ১২ মার্চ, ২০১৫ ১০:৫৯:৫৭আপডেট : ১২ মার্চ, ২০১৫ ১২:০৩:৫৮
সাগরকন্যা ইনানী পর্যটকশূন্য, ব্যবসায়ীরা হতাশ
কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া


 


পাহাড়, সাগর, নদীবিধৌত প্রকৃতির অভয়ারণ্য পর্যটননগরী ইনানী এখন পর্যটকশূন্য। ২০ দলীয় জোটের টানা অবরোধ ও হরতালের ৬৭ দিনে কাঙ্ক্ষিত পর্যটক না আসায়  হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউসগুলোতে কর্মচারী ছাঁটাই থামছে না। এ অবস্থায় পর্যটননির্ভর হাজারো ক্ষুদে ব্যবসায়ীর দিন যাচ্ছে অভাব-অনটনে। কবে নাগাদ এ সমস্যার সমাধান হয়ে আবারো পর্যটন ব্যবসায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে তা নিয়ে প্রহর গুনছেন সংশ্লিষ্টরা।
কক্সবাজার কলাতলী হয়ে টমটম, অটোরিকশা, সিএনজি, জিপ-মাইক্রোযোগে  মেরিন ড্রাইভ সড়কপথে মাত্র আধা ঘন্টার রাস্তা এ সাগরকন্যা ইনানী। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এখানে পর্যটকদের চাহিদা মতো বিলাসবহুল অবকাশ যাপনের সুযোগ না থাকলেও বিস্তুীর্ণ সাগর, পাহাড়, নদীসহ এলোমেলোভাবে বয়ে যাওয়া খালের শাখা-প্রশাখার বাস্তবচিত্রের জন্য ইনানী পর্যটন পিপাসুদের মনকাড়া বীচ হিসেবে দেশবিদেশে আলোচিত হলেও ৬৭ দিনের লাগাতার অবরোধ-হরতালে বিধ্বস্ত নগরীতে পরিণত হয়েছে।
গত ৯ মার্চ, সরেজমিন ইনানী ঘুরে দেখা যায় সী-বীচ এলাকা জনশূন্য খাঁ খাঁ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেল তাদের নিত্যদিনের জীবন জীবিকার হতাশার চিত্র। এসময় বীচের মৌসুমী ব্যবসায়ী আলী আজগর (৩৮) জানান, ধারদেনা করে ঝিনুকের বিভিন্ন মালামালের পসরা সাজিয়ে বসেছিলাম অনেক আশা করে। কিন্তু পর্যটক না আসায় গুড়েবালি হয়েছে। বীচের প্রসাধনী বিক্রেতা শামশুল আলম জানান, বেচা বিক্রি হোক আর না হোক প্রতিমাসে ২ হাজার টাকা ভাড়া গুনতে হচ্ছে। বর্তমানে দেনার ভার মাথায় নিয়ে পর্যটকের আশায় প্রহর গুনছি। বীচে পর্যটকের ছবি ধারণ করে বিক্রিরত ক্যামেরাম্যান আবু ইউসুফ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পর্যটক না আসার কারণে আয় রোজগার হচ্ছে না। তাই পরিবার পরিজন নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। এভাবে অনেকেই হতাশার কথা বললেন।
বীচের প্রবেশ মুখে অবস্থিত লাভেলা রিসোর্টের ম্যানেজার মো. হোসেন জানান, এ হোটেলে ২৫ জন কর্মচারী আছে। তাদের  বেতনভাতা দিতে না পারায় ১২ জন কর্মচারী ইতোপূর্বে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে। এভাবে আরো কয়েকদিন চললে বাদ বাকি কর্মচারীও ছাঁটাই করতে হবে। প্যাভেল স্টোনের ম্যানেজার মাঈন উদ্দিন জানান, লাগাতার অবরোধ-হরতালের কারণে তাদের লাখ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। যা এক মৌসুম পর্যটক এলেও পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। বীচে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বরত পুলিশের উপ-পরিদর্শক আলাউদ্দিন জানান, পর্যটক না আসার কারণে তাদেরকে অতিরিক্ত দায়িত্বপালন করতে হচ্ছে না। তবে মাঝে মধ্যে বীচ এলাকায় পুলিশি টহল অব্যাহত রয়েছে।
ইনানী বহুমুখী ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি সৈয়দ হোসেন জানান, ২ মাস ধরে ইনানী পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ায় প্রতিটি ব্যবসায়ী মারাত্মক ভাবে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। যার প্রভাব পড়েছে তাদের পরিবার-পরিজনের উপর। তিনি আরো জানান, পর্যটননির্ভর হাজারো ক্ষুদে ব্যবসায়ীর দিন যাচ্ছে অভাব-অনটনে। ইনানী বীচ ইজারাদার মৌলভী মনজুর জানান, পর্যটক না আসায় তার নিলাম ডাকের সম্পূর্ণ টাকা গচ্চা গেছে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
পর্যটন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd