ঢাকা : বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • ডেঙ্গু এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে : কাদের          ঈদে হাসপাতালের হেল্প ডেস্ক খোলা রাখার নির্দেশ          নবম ওয়েজ বোর্ডের ওপর হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা           বন্দরসমূহের জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ২৩ মার্চ, ২০১৫ ১৪:৪৪:১৯আপডেট : ০৫ এপ্রিল, ২০১৫ ১২:৫০:৪৭
অর্থনীতিতে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব
বজলুর রায়হান/এ কে নাহিদ

 
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধের দুই মাস পার হয়ে গেছে; এর মধ্যে হরতালও চলছে। একে কেন্দ্র করে গত ৫ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই প্রাণহানি হচ্ছে। পেট্রলবোমা, ককটেলে দগ্ধ হয়ে প্রাণহানির সংখ্যা একশ’ ছাড়িয়েছে। মানুষের জীবন যাচ্ছে। মানুষের জীবিকা অর্জনের পথ রুদ্ধ হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য তথা অর্থনৈতিক কার্যক্রম অনেকটা ধ্বংসের মুখে। ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের মতে, হরতাল-অবরোধের কারণে প্রতিদিন অন্তত ২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে, যার সিংহভাগ ব্যবসায়ীদের। উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীরা আক্ষেপ করছেন, এত ক্ষতি কীভাবে পুষবে? এ দুরবস্থার কি শেষ হবে না?

জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতার ক্ষয়-ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার চেষ্টার মাঝেই আবার একই অবস্থা। আগের ক্ষতির কিছু হিসাব বিভিন্ন সংস্থা দিয়েছে। বিশ^ব্যাংকের হিসাবে, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যবস্থায় ক্ষতি হয় প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। যেটুকু পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি তারই হিসাব করে বিশ^ব্যাংক।  উৎপাদনের বাইরেও রাজনৈতিক সহিংসতায় সম্পদের অনেক ক্ষতি হয়েছে, যা বিশ্বব্যাংকের হিসাবে আসেনি। ঢাকা চেম্বারের হিসাবে ১ দিনের হরতাল কিংবা অবরোধে  ১ হাজার ৫৪০ থেকে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এফবিসিআিইয়ের হিসাবে, ২০১৩ সালে এ জন্য অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি হয়।  বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির প্রাক্কলন অনুযায়ী ওই ক্ষতির পরিমাণ ৪৯ হাজার কোটি টাকা।
ঢাকা চেম্বারের হিসাবে, বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে প্রতিদিন অর্থনীতি যে ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে তা ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রাক্কলিত জিডিপির হিসাব অনুযায়ী ০ দশমিক ১৭ শতাংশ। প্রতিদিনের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা। তবে প্রতিদিন শিল্প উৎপাদন সক্ষমতায় ২৫ শতাংশ ক্ষতি ধরলে এর পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫শ’ কোটি টাকারও অধিক দাঁড়াতে পারে। বর্তমানে যে অস্থিরতা চলছে এর জন্য রাজনীতিবিদরা দায়ী বলে দেশের অভিজ্ঞমহল মনে করছেন। অথচ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। যেভাবে জ্বালাও-পোড়াও ধ্বংসযজ্ঞ হচ্ছে, তার যৌক্তিকতা নেই। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নেই। এই বর্বরতা ও সহিংস রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এখন যে পরিস্থিতি তাতে অর্থনীতির  ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই অবস্থা চলতে থাকলে দেশের অর্থনীতি চরম সংকটে পড়বে। তাই সরকার ও রাজনৈতিক দলকে দেশের স্বার্থে আলাপ ও সংলাপের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।
চলমান অবরোধ ও হরতাল কর্মসূচির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে হাজার হাজার কন্টেইনার আটকা পড়ে আছে, যার কারণে শিল্প কারখানায় কাঁচামাল সরবরাহ বিঘিœত হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রাকল্লিত জিডিপিতে শিল্প খাতের (বৃহৎ, মাঝারি এবং ক্ষুদ্র) ১ দিনের  অবদান ৮৭৬ কোটি টাকা। কিন্তু বর্তমান অচলাবস্থায় শিল্প খাতে ১ দিনের উৎপাদন সক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে প্রায় ২৫ শতাংশ, সেই হিসাবে যদি বছরে ৩৬৫ দিনের মধ্যে ৩০০ দিন শিল্প-কারখানা উৎপাদনে সক্ষম হয়, তাহলে বলা যায় শিল্পখাতে ১ দিনে ২১৯ কোটি টাকার উৎপাদন সক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে শিল্প-কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রবণতা বাড়বে, যার কারণে বেকারত্ব বাড়ার পাশাপাশি সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাবে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে।  
অর্থনীতির প্রাণ সঞ্চারিণী খাত তৈরি পোশাক রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রপ্তানি অর্ডার কমে গেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। সারাদেশের ২৬ লাখ দোকানদার এখন পথে বসার উপক্রম। পর্যটনের ভরা মৌসুমে বেড়ানো দূরের কথা, জরুরি কাজেও মানুষ এখন দূরের যাত্রা করছেন না। কৃষকরা কয়েক মাস কঠোর পরিশ্রম করে সবজি ফলিয়েছেন। এখন তা বিক্রি করতে পারছেন না অথবা পানির দরে ছেড়ে দিচ্ছেন। পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটাই ব্যাহত। আমদানি ও রপ্তানির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পোল্ট্রি খাতে উৎপাদিত ডিম ও মুরগির ৩০ শতাংশ বিক্রি হচ্ছে না। অর্থনীতির প্রায় সব খাতেই তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা।
পোশাক খাতের দুরবস্থা
২০১৪-১৫ অর্থবছরে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৬শ’ কোটি ডলার। বিজিএমইএ’র তথ্যমতে, ১ দিনের অবরোধ বা হরতালে ৬৯৫ কোটি টাকার পোশাক রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।  রপ্তানিকারকদের মতে,  গার্মেন্টস শিল্পের বিপুল সাফল্যের মাধ্যমে সারা বিশ্বে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে এবং প্রথম স্থানে যাওয়ার পথে রয়েছে। চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় আমাদের অগ্রসরমান এই খাত বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। চলমান অচলাবস্থায় এই শিল্প ইমেজ সংকটে পড়ছে, যা টাকার অঙ্কে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এই অবস্থা চলতে থাকলে এই খাতের প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মায়ানমার, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ এই সুযোগ গ্রহণ অর্থনীতিতে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব
করতে পারে। এছাড়া এই খাতের ক্রেতা রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানসমূহ রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে নিরাপত্তার অজুহাতে পণ্যের দাম কমিয়ে দেওয়ার সুযোগ নিতে পারে। বিজিএমইএ’র তথ্য মতে, টানা অবরোধে প্রায় ২৫ শতাংশ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। উৎপাদিত ৫০ শতাংশ পণ্য সময়মতো ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। চুক্তি অনুযায়ী দর দিচ্ছে না ক্রেতারা। অনেকে পেমেন্ট দিতে দেরি করছেন।
বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলামের মতে, টাকার অঙ্কে প্রতিদিনের ক্ষতি প্রায় সাড়ে ৪শ’ কোটি টাকা। তবে এরচেয়েও বড় ক্ষতি হচ্ছে ইমেজের। একবার রানা প্লাজা ধসে ইমেজ সংকট হয়েছে। অনেক বিনিয়োগে সেটা মোটামুটি পুনরুদ্ধার করা গেছে। বারবার দুর্ঘটনা হলে ইমেজ পুনরুদ্ধার সম্ভব হতো না। ঠিক তেমনি  বারবার রাজনৈতিক অস্থিরতায় যে ইমেজ সংকট তৈরি হবে তা কোনো কিছু দিয়েই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন,  ক্রেতারা বারবার ফোনে, ই-মেইলে হরতাল-অবরোধের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। তারা বাংলাদেশে আসতে নিরাপদ বোধ করছেন না।
রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীদের সংগঠন ইএবি’র সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদীর মতে, টানা অবরোধ ও হরতালে রপ্তানি  খাতের সব শিল্পই সংকটে পড়েছে।  তবে সবচেয়ে বড় সংকটে আছে তৈরি পোশাক। বিশেষ করে কাঁচামালের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আপাতত পুলিশি পাহারায় চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য আনা-নেওয়া হলেও এটা কোনো সমাধান নয়। উচ্চ সুদে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগের পর এত বড় ক্ষতি কোনোভাবেই আর পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
পরিবহন খাতে প্রতিদিন ২শ’ কোটি টাকা ক্ষতি
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর হিসাব মতে, হরতাল-অবরোধে পরিবহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ২ লাখের বেশি বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান অলস পড়ে থাকে। এই কারণে অর্থনীতিতে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব
প্রায় ২০ লাখ পরিবহন শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে ১ দিনের অবরোধে পণ্য ও গণপরিবহন খাতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ২শ’ কোটি টাকা। পরিবহন মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,  ১ দিনে বাস-মিনিবাস থেকে আয় আসে গড়ে প্রায় ৮ হাজার টাকা। সারা দেশে কম-বেশি ৬০ হাজার বাস-মিনিবাস চলাচল করে। সেই হিসাব শুধু এখানেই  দৈনিক গড় ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৮ কোটি টাকা।
বিপর্যস্ত কৃষি
শুধু পণ্য বাজারে বেচাকেনায় বিপর্যয় আসেনি, উৎপাদনেও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক। শীতকালীন সবজির ভরা মৌসুমে টানা অবরোধে কৃষক লোকসান দিয়েছেন। এই খাতে ১ দিনের হরতালে ক্ষতি হচ্ছে ২৮৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্যের কারখানাগুলোতে উৎপাদন করা পণ্যের স্তূপ হলেও বাজারে ঠিকমতো পৌঁছাতে পারছে না। বাংলাদেশের কৃষকরা ব্যাংক ক্ষুদ্র ঋণ সুবিধা গ্রহণ করে চাষাবাদ করে থাকেন, যার পরিশোধের সময়সীমা খুব স্বল্পকালীন হয়ে থাকে। বেশির ভাগ কৃষি পণ্য পচনশীল হওয়ায় সঠিক সময়ে এই ধরনের পণ্য বিক্রি করতে না পারায় তাদের পক্ষে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর চাপ ব্যাংকিং খাতেও পড়বে। তাছাড়া, চলমান অস্থিরতায় ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে কৃষিজাত পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে; ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বাড়ছে।
পোল্ট্রি শিল্পে বিপর্যয়
রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিপর্যয়ের মুখে পোল্ট্রি শিল্প। সম্প্রতি এই শিল্পের ৭টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ পোল্ট্রি শিল্প সমন্বয় কমিটি (বিপিআইসিসি)  এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের ক্ষতির হিসাব দেন। বিপিআইসিসি’র আহ্বায়ক মসিউর রহমান বলেন, ২০১৩ সালে রাজনৈতিক সহিংসতা ও লাগাতার হরতাল-অবরোধের কারণে ক্ষতি হয়েছিল প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। এই দুরবস্থা কটিয়ে ওঠার আগেই আবারও তা শুরু হয়েছে। এখন প্রতিদিন ক্ষতি অন্তত ২০ কোটি টাকা। ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বিএবি) সভাপতি ফজলে রহিম খান শাহরিয়ার বলেন, পরিবহনের অভাবে খামারে উৎপাদিত ডিম ও মুরগি প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ অবিক্রিত থাকছে।
ভেঙে পড়ছে আবাসন খাতের ভিত
চলমান অস্থিরতার কারণে আবাসন খাতে প্রতিদিন ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। পরিবহন ব্যবস্থা সচল না থাকার কারণে এ খাতের ব্যবহৃত পণ্যসমূহের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে, যার ফলে সময়মতো নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে না এবং এর কারণে গ্রাহকদের নিকট নির্দিষ্ট সময়ে ফ্ল্যাট/এ্যাপার্টমেন্ট হস্তান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না। রিহ্যাব-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০ দলের ৪৬ দিনের অবরোধ-হরতাল ও সহিংসতায় দেশের আবাসন খাতে ১ হাজার ৬শ’ ৫৬ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। আর এই কারণে ঋণগ্রহণকারী ডেভেলপার কোম্পানির সুদ মওকুফসহ ব্যাংক ঋণ ২ বছরের জন্য পুনঃতফসিল করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে স্বল্প আয়ের ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জন্য সিঙ্গেল ডিজিট সুদে পুনঃঅর্থায়ন চালুর দাবি জানানো হয়েছে।
রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, রিয়েল এস্টেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতে প্রায় ২৫ হাজার টাকার বিনিয়োগ হুমকির মুখে। এভাবে রাজনৈতিক সহিংসতা চলতে অর্থনীতিতে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব
থাকলে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীসহ ২শ’র অধিক লিংকেজ শিল্প ব্যবসায়ী ধীরে ধীরে নিঃস্ব হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক সহিংসতাকে আমরা সমর্থন করতে পারি না। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে সহিংসতা পরিহার করে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি। আলাপ-আলোচনা করে রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়ে রিহ্যাব সভাপতি বলেন, আবাসন খাতে ৪০ লাখ শ্রমিক নিয়োজিত। হরতাল-অবরোধের কারণে এই শ্রমিকদের জীবন-জীবিকার পাশাপাশি বিনিয়োগ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। ঝুঁকি নিয়ে শ্রমিকরা কাজে আসতে চান না। আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে নির্মাণ শিল্পের উপকরণ ইট, বালু, পাথর, সিমেন্ট, রড, রং, বৈদ্যুতিক তার ও টাইলস ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে দ্রুত উত্তরণ না হলে এই খাতের সংকট আরও গভীর হবে। তিনি বলেন, অধিকাংশ ডেভেলপার কোম্পানি অতি উচ্চসুদে ব্যাংক ঋণ নিয়ে প্রকল্প হাতে নেয়। কিন্তু ক্রেতাহীন অবস্থায় ক্রমাগতভাবে ব্যাংক ঋণের উচ্চসুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। বর্তমানে যথাযথ ঋণ পরিশোধ না করতে পারার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে ডেভেলপাররা ঋণখেলাপি হচ্ছে । এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে ঋণ গ্রহণকারী ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলোর সুদ মওকুফসহ ব্যাংক ঋণ দুই বছরের জন্য পুনঃতফসিল করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, আবাসন ব্যবসায়ীদের প্রায় ২ হাজার ৪শ’ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ রয়েছে।
স্থবির পর্যটন শিল্প
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অবরোধের কারণে পর্যটন শিল্প আবারও স্থবির হয়ে পড়েছে। এই খাতে প্রতিদিন ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ২শ’ কোটি টাকা। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পর্যটন খাতে ভাল করার সুযোগ ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আগে থেকে যেসব বুকিং দিয়েছিল এখন তা বাতিল করছে। টানা অবরোধের কারণে পর্যটন খাতের হোটেল, অর্থনীতিতে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব
মোটেল, রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্ট এক প্রকার বন্ধ হয়ে আছে। অবরোধের কারণে বিদেশি পর্যটকরা বাংলাদেশ ভ্রমণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে এবং তাদের অগ্রিম হোটেল বুকিং বাতিল করেছে। পাশাপাশি দেশীয় পর্যটকরা আতংকিত হয়ে তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি)-এর সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, টানা অবরোধ ও হরতাল চলতে থাকলে পর্যটন খাতে এই মৌসুমে শত কোটি টাকার ক্ষতির আশংকা রয়েছে। বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠান ট্যুরিজম ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর মতে, এই খাতে প্রতিদিন ক্ষতি প্রায় ২শ’ কোটি টাকা।
সংকটে ব্যাংকিং খাত
রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে ব্যাংকিং খাতে গত প্রায় তিন মাসে শুধু শিল্প ঋণে খেলাপির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৪০ শতাংশ। এছাড়াও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনার সংকট, বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোয় পরিচালকদের অযাচিত হস্তক্ষেপ আর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে সিবিএর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সংকট গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে দেশের সার্বিক অর্থনীতিই একদিন সংকটে পড়বে। অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে হয়ে গেছে বলে স্বীকার করেছেন খোদ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ব্যাংক খাতের সংকট উত্তরণের জন্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, ব্যাংক কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করা, খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনা, অনাদায়ী হয়ে যায় এ ধরনের ঋণ বিতরণ থেকে বিরত থাকতে হবে সংশ্লিষ্টদের। এছাড়া আমানত সংগ্রহের অসম প্রতিযোগিতা বন্ধ করা এবং ঋণের সুদের হার কমিয়ে আনার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতি দিনদিনই অবগতি হচ্ছে। ব্যাংক গ্রাহক বেশির ভাগ ব্যবসায়ী পণ্য ঠিকমতো বাজারজাত করতে পারছেন না। অন্যদিকে ঝুঁকি নিয়ে পণ্য পরিবহনের খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব সার্বিক ব্যাংকিংয়েও পড়েছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামীতে ব্যাংক মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন। আর এর প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়বে। খেলাপির পরিমাণ আবারও বৃদ্ধি পেতে পারে। এ ব্যাপারে সব ব্যাংকারই শঙ্কিত।
বাস্তব পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ের দিকে চলে যাচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে অথবা বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারবে কিনা সংশয়  তৈরি হয়েছে। এতে করে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আবার বৃদ্ধি পেতে পারে। পরিবহন যোগাযোগ খাতে সবচেয়ে বেশি সংকট তৈরি হয়েছে। যা সার্বিক ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রেও একটি সমস্যা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, বর্তমানে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকা, যা অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। এতে ব্যাংকগুলো লোকসানের মুখে পড়েছে। নতুন বছরে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে পুরো ব্যাংক খাতে। ফলে গত দুই মাসে কোনো ব্যাংকই বড় ধরনের ঋণ দিতে পারেনি। এছাড়া পুরনো ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে কঠিন সমস্যায় পড়তে হয়েছে । বিনিয়োগের আস্থা না পাওয়ায় উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছেন না। ফলে বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে অলস অর্থের পরিমাণ ৯০ হাজার কোটি টাকার বেশি। বিপুল এই অর্থ বিনিয়োগে না আসায় ব্যাংকগুলোও ঋণের সুদের হার কমাচ্ছে না। অন্যদিকে রাজনৈতিক অচলাবস্থায় লোকসানের মুখে পড়ায় অসংখ্য উদ্যোক্তা (গ্রাহক) ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে ব্যাংকের কাছে সময় বৃদ্ধির আবেদন করছেন। সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে নতুন ব্যাংকগুলো। কার্যক্রম শুরুর প্রথম বছরে এ ব্যাংকগুলো কিছুটা ভালো করলেও ২০১৫ সালে এসে কোনো ধরনের বিনিয়োগ করতে না পারায় গভীর সংকটে পড়েছে। শুধু তাই নয়, নতুন নতুন অফার ঘোষণা করেও প্রয়োজনীয় আমানত সংগ্রহ করতে পারছে না তারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ব্যাংকিং খাতে গত বছরের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমে যায় প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা। ফলে ছয়টি বাদে সব ব্যাংকের মূলধনও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট মূলধন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু পরিস্থিতি ঘুরে যায় গত জানুয়ারি থেকে। জানুয়ারির পর দুই মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে দুই হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে কয়েকটি ব্যাংকের পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক বলে জানা গেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে। ঋণ দিতে না পারায় বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে অলস অর্থের পরিমাণ ৯০ হাজার কোটি টাকার বেশি। গত ডিসেম্বরে যা ছিল ৮০ হাজার কোটি টাকার নিচে। এদিকে জালিয়াতি সমস্যা থেকেও বের হতে পারছে না ব্যাংকগুলো। যা সামগ্রিক ব্যাংক খাতকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
অন্যান্য খাতের ক্ষতি
হরতাল-অবরোধের কারণে দেশের ৪টি স্থলবন্দর ও বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল আদায় থেকে প্রতিদিন গড়ে সরকারের প্রায় ৩৪ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় কম হচ্ছে। বেনাপোল স্থলবন্দরে এক দিনের রাজস্ব আদায়ের ক্ষতি ৫ কোটি টাকা। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর থেকে ব্যবসায়ীরা আমদানি পণ্য খালাস নিতে না পারায় তাদের প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। পাইকারি বাজার, শপিং মল, শো-রুম, ক্ষুদ্র ও ছোট দোকান খাতে প্রতিদিন ক্ষতি ১৫০ কোটি টাকা। তাছাড়াও রাজধানীতে ছোট-বড় মিলিয়ে ভ্রাম্যমাণ এবং হকার ও অস্থায়ী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। এই সব দোকানে ৩ লাখের বেশি মানুষ কর্মরত এবং ১ দিনের হরতালে প্রায় ১৫ কোটি টাকার বেশি লোকসান হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুত ও রপ্তানি খাতে প্রতি দিন ক্ষতি ১৮ কোটি টাকা। দেশে বর্তমানে ৬০টির মতো বীমা প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। হরতালের কারণে কাস্টমারদের ক্ষয়-ক্ষতির কারণে বীমা প্রতিষ্ঠানের কাছে ক্লেইমের পরিমাণ বেড়ে গেছে।  বীমা কোম্পানির বিনিয়োগ, আমদানি-রপ্তানি, প্রিমিয়াম আয়, বীমা দাবি পরিশোধ ইত্যাদি মিলিয়ে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিদিন ক্ষতি ১৫ কোটি টাকা। পুঁজিবাজারে এক ধরনের আস্থা ফিরে এসেছিল কিন্তু প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগকারীরা এই খাতে আস্থা হারাচ্ছেন।
পুঁজিবাজারের সবচেয়ে স্পর্শকাতর দিক হচ্ছে গুজব; যার কারণে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির শিকার হয়। লাগাতার অবরোধ ও হরতালের মতো কর্মসূচি পুঁজিবাজারে গুজব ছড়াতে সাহায্য করছে। সংকটাপন্ন অবস্থার কারণে আমদানি-রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদনমুখী কারখানা ক্ষতির মুখে পড়েছে; এর প্রভাব পড়ছে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরের ক্ষেত্রেও।
রাজনৈতিক অচলাবস্থায় শিক্ষার প্রতিটি স্তরের সব শিডিউল ভেঙে পড়েছে। শিক্ষাখাতের উপর হরতাল-অবরোধের প্রভাব বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ে নতুন ক্লাসে ওঠা ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষা গ্রহণে বঞ্চিত হতে পারে। সার্বিকভাবে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ মারাত্মকভাবে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। উচ্চ মাধ্যমিক পেরোনো শিক্ষার্থীদের ভর্তি পিছিয়ে যাওয়ায় দীর্ঘায়িত হবে উচ্চশিক্ষা। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবারো বড় সেশন জটে পড়তে যাচ্ছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে থমকে আছে সেমিস্টার ফাইনাল।
এছাড়াও পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে অস্থিরতা এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে সাধারণ জনগণ তাদের প্রাপ্য স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর প্রভাব অর্থনীতি ও উৎপাদন খাতে কম নয়।
বিপন্ন অর্থনীতি ও আমাদের সংলাপ  
সম্প্রতি ঢাকা চেম্বারের এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, যে কোনো পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হলে দেশের রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিবিদদেরকেই তা নিরসনে অবশ্যই কার্যকর আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় আসতে হবে, যাতে রাজনীতির কারণে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র বর্তমান সমস্যা সমাধানের পথ বের করলেই চলবে না, যে কোনো রাজনৈতিক সংকট এমনভাবে সমাধান করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের সংকট তৈরির আর কোনো সুযোগ না থাকে। দেশের ব্যবসায়ী সমাজ মনে করে, সুষ্ঠু ধারার গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চার কাক্সিক্ষত পরিবেশ উন্নয়ন হলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে। ঢাকা চেম্বার মনে করে, বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সংলাপই একমাত্র পন্থা। এক্ষেত্রে বলা যেতে পারে যে, পৃথিবীর কোনো দেশেই চাপ কিংবা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কাক্সিক্ষত সমাধান অর্জন সম্ভব হয়নি। এই জন্য আমাদের বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে অবিলম্বে সংলাপ আয়োজনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে মতৈক্যে পৌঁছাতে হবে। বর্তমান যুগে পেশী শক্তির স্থলে মেধা ও বুৎপত্তির সমন্বয়ে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে সকলঅর্থনীতিতে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব
সমস্যার সমাধানে পৌঁছাতে হবে। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক চর্চা বজায় রাখার লক্ষ্যে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে রাজনৈতিক দলগুলোকে পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক ইস্যুতে ঐকমত্য সৃষ্টি করে রাজনীতিকে একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোতে নিয়ে যেতে হবে। অবরোধ-হরতাল দেশ ও জনগণের ক্ষতি ছাড়া অন্য কোনো কিছু দিতে পারে না। এটি মনে রাখতে হবে যে, দেশের যে রাজনৈতিক দল যখন ক্ষমতায় থাকে সেই দলকেই তখন সকল অর্থনৈতিক ক্ষতির বোঝা বহন করতে হয়।
ঢাকা চেম্বার মনে করে, দেশের সিনিয়র নাগরিক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি ‘সিটিজেন কাউন্সিল’ গঠন করা যেতে পারে। যাঁরা কোনোভাবেই রাজনৈতিক পরিচয়ে পরিচিত হবেন না। প্রস্তাবিত এই কাউন্সিল সকল রাজনৈতিক দলকে সমানভাবে মূল্যায়ন করে গ্রহণযোগ্য সুপারিশ প্রণয়ন করবে যা প্রয়োজনে ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদেও উপস্থাপন করা যেতে পারে। রাজনৈতিক কর্মসূচি যাতে ব্যবসা-বাণিজ্যকে ব্যাহত না করে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। এফবিসিসিআই, ঢাকা চেম্বার, বিজিএমইএসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, হরতালের মতো কর্মসূচির কারণে যাতে  রপ্তানি ব্যাহত না হয়, সেজন্য যে কোনো মূল্যে একে রক্ষা করতে হবে। রপ্তানিমুখী শিল্পকে হরতালের আওতামুক্ত রাখতে হবে। এজন্য রপ্তানি পণ্যবাহী ট্রাক, কার্গো ইত্যাদি পরিবহনকে প্রশাসনিক সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদান করে পোর্টে পণ্য যাওয়া এবং আসার স্থানে নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে। উভয় স্থানে প্রয়োজন অনুসারে আইন প্রয়োগকারী বাহিনী মোতায়েন করা যেতে পারে। লাগাতার অবরোধের ফলে আর্থিক ক্ষতি মেটাতে ব্যাংক রেটে খাতভিত্তিক পুন:অর্থায়ন একান্ত আবশ্যক। পাশাপাশি যেহেতু ব্যবসায়ীরা বর্তমান অবস্থায় চরম আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন, তাই এই অবস্থা চলাকালীন সময়ে ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ করা উচিত। তবে সবার আগে বর্তমানের প্রায় বিপন্ন অর্থনীতি ও সহিংস রাজনীতি তথা হরতাল-অবরোধের স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা সকলকেই করতে হবে। এক্ষেত্রে সর্বাগ্রে রাজনীতিবিদদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। তা না হলে দেশের উন্নয়ন অর্থনীতির চাকা এগোতে পারবে না।
 

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd