ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ২৫ মার্চ, ২০১৫ ১৪:০৬:৪৯আপডেট : ২৫ মার্চ, ২০১৫ ১৫:২৯:০৩
দেশে খুন, গুম, সন্ত্রাসী এবং দুর্নীতির জন্য মোরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি : মাখন


 


নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলাধীন মাটিন্দর ইউপির শাশইল গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুল কুদ্দুস মাখন (৫৮) দেশের একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা। সম্প্রতি তিনি টাইমওয়াচ প্রতিনিধির কাছে নিজের ব্যক্তিগত জীবন, দেশের বর্তমান অবস্থা এবং মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ব্যক্ত করেন। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ইখতিয়ার উদ্দীন আজাদ। এখানে তা উপস্থাপন করা হলো
টাইমওয়াচ : আপনি কেমন আছেন?
মো. আব্দুল কুদ্দুস মাখন : আল-হামদুলিল্লাহ্। আল্লাহ্ যেভাবে রাখিয়াছে এটাই মঙ্গল।
টাইমওয়াচ : আপনি মুক্তিযুদ্ধের সময় কি কি অস্ত্র নিজ হাতে পরিচালনা করেছেন?
মো. আব্দুল কুদ্দুস মাখন : রাইফেলস্, গ্রেনেড, হাতবোমা (যাহার ওজন বর্তমান আড়াই’শ গ্রাম হতে দেড় কেজি পর্যন্ত), স্টেনগান ইত্যাদি।
টাইমওয়াচ : আপনি মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ কোথা থেকে গ্রহণ করেছিলেন?
মো. আব্দুল কুদ্দুস মাখন : পশ্চিম দিনাজপুরের- তেলিঘাঁটা, খড়মদাঙ্গা, পরিলা ক্যাম্প  থেকে।
টাইমওয়াচ : আপনাদের মক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষক অধিনায়ক বা কমান্ডার ছিলেন?
মো. আব্দুল কুদ্দুস মাখন : বাঙ্গালি ক্যাপ্টেন-সলেমন, কমান্ডার-হিরোহিত সিং এর নেতৃত্বে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছি।  শহীদ মেজর নাজমুল হক, ০৭ নং সেক্টর কমান্ডার লে: কর্নেল- কাজী নুরুজামান।
টাইমওয়াচ : আপনার মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন কোন স্থানসমূহে যুদ্ধ করেছিলেন?
মো. আব্দুল কুদ্দুস মাখন : নওগাঁর জেলার সাপাহার, আগ্রাদ্বিগুন, মধইল, শিবপুর এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ করেছি।
টাইমওয়াচ : আপনার মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের কোনো স্মৃতি বলবেন কী?
মো. আব্দুল কুদ্দুস মাখন : বর্তমান নওগাঁ জেলার পত্মীতলা উপজেলার বাকরইল নামক স্থান হতে রাজাকাররা আমাকে ধরে নিয়ে যান বর্তমান নজিপুর পাকিস্থানি ক্যাম্পে। সেখানে আমাকে ২৫ দিন আটকায়ে রাখে ও বিভিন্ন শারীরিক কষ্ট দেয়, যা আজ এখনও হৃদয়ে পোড়া স্মৃতি; দু’চোখে শুধুু নয় অন্তরের নয়নে ভাসছে! আর গা শিউরে উঠছে।
টাইমওয়াচ : আপনাকে কে ধরে নিয়ে গিয়েছিলেন?
মো. আব্দুল কুদ্দুস মাখন : বর্তমান নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার শিবপুরের চেরু মন্ডল ও নজিপুরের নাজমল রাজাকাররা আমাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিলেন।  
টাইমওয়াচ : আপনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বর্তমানে সরকারিভাবে সকল সুযোগ-সবিধা ভোগ করছেন কি?
মো. আব্দুল কুদ্দুস মাখন : মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আজ মোরা সমাজে অবহেলিত! কারণ যারা প্রকৃত যোদ্ধা নয় তাদের আজ সমাজে মর্যাদা, সুযোগ-সুবিধা বেশি । আজ মুক্তিযোদ্ধা হয়েও একমাত্র মেয়ের সরকারি চাকুরি হচ্ছে না, মুক্তিযোদ্ধা কোঠায়। বর্তমান জাতীয় মক্তিযোদ্ধা সংসদ কর্তৃক সনদপত্র না পাওয়ায়। তবে কয়েক বার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ঢাকায় যোগাযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষ কাজ হচ্ছে, হবে , চলছে বলে জানায়। আমার মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণ স্বরুপ বিভিন্ন সনদপত্রাদি রয়েছে যেমন- ভারতের প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা তালিকা- যোদ্ধা নং-১৭৯৬৬১, নাম-মো: আব্দুল কুদ্দুস মাখন, পিতা-কচিমুদ্দীন মন্ডল, গ্রাম-শাশইল, পো:-রসুলপুর, পত্নীতলা, নওগাঁ।
বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পারিলা যুব অভার্থনা শিবিরের,খড়মদাঙ্গা প্রশিক্ষণ সনদ- পো:-তেলিঘাঁটা, জেলা-পশ্বিম দিনাজপুর, যার তারিখ-০৪/১২/১৯৭১ইং।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচন ১৯৯৪ ইং সন অনুমোদিত ভোটার তালিকা- সূচক নং-৬৪-৭৫-৫১-০০২, জন্ম তারিখ-১৭/১১/১৯৫৪ ইং।
Patiram Youth Camp  কর্তৃক দেওয়া ১০/১২/১৯৭১ ইং তারিখের সনদপত্র।
 “এ” শ্রেণির সার্টিফিকেট, যা উক্ত ক্যাম্প ইন-চার্জ -মহীউদ্দীন আহমেদ ।
টাইমওয়াচ : বর্তমান দেশের অবস্থা সম্পর্কে কিছু বলুন?
মো. আব্দুল কুদ্দুস মাখন : যখনই শুনি দেশে খুন, গুম, সন্ত্রাসী এবং দুর্নীতির কথা তখন নিজেকে বড়ই অসহায় বোধ মনে করি;  এজন্য মোরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি?
টাইমওয়াচ : বর্তমান দেশের পেক্ষাপটে কোন সরকার দায়িত্বে থাকলে দেশ ও দশের উন্নয়ন হবে বলে মনে করেন?
মো. আব্দুল কুদ্দুস মাখন : কাদের সিদ্দিকীর মত যদি ব্যক্তি দেশে সরকার হিসেবে থাকত তাহলে আজ দেশে অশান্তি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্ব গতি হত না।
টাইমওয়াচ : আপনার ছোট বেলার স্মৃতি সম্পর্কে কিছু বলুন।
মো. আব্দুল কুদ্দুস মাখন : ছোট বেলায় আমরা এক সঙ্গে হা-ডু-ডু, ফুটবল, গুল ইত্যাদি খেলা খেলেছি। আবার অনেক সময় রাতে যাত্রা, পালাগান, জারিগান, বাউল গান ইত্যাদি গানে আমরা খুবই আনন্দ করতাম। তাছাড়া, আমাদের মাঠে-ঘাটে আম, জাম, কাঠাল, পেয়ারা গাছ ভরা ফল। পাল তোলা নৌকা, মাঠ ভরা মাছ। সবই আজ শুধুই স্মৃতি আর স্মৃতি।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd