ঢাকা : মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পণ্য মজুদ আছে, রমজানে পণ্যের দাম বাড়বে না : বাণিজ্যমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার          অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব ব্যবস্থা নিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী          বনাঞ্চলের গাছ কাটার ওপর ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল, ২০১৫ ১৬:২৭:৩৬
উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় ভোট উৎসবের অপেক্ষা
টাইমওয়াচ রিপোর্ট


 

অবশেষে অপেক্ষার প্রহর শেষ। আজ রাত পোহালেই কাল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে তিন মেয়র এবং ১৭৯ কাউন্সিলর নির্বাচিত করতে নিজেদের ভোট প্রদান করবেন প্রায় ৬০ লাখ ভোটার। এ নিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম দুই মহানগরে বিরাজ করছে উৎসবের পরিবেশ। তবে এর পাশাপাশি রয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও। স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে ক্ষমতার রাজনীতিতে পরিবর্তন না হলেও প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ-বিএনপি তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে মর্যাদার লড়াই হিসেবেই দেখছে। নির্বাচনকে জাতীয় রাজনীতিতেও ইস্যু বানানোর চেষ্টা চলছে। সব মিলিয়েই সিটি নির্বাচনে ভোট প্রয়োগের অপেক্ষায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরবাসী।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নির্দলীয় নির্বাচন হলেও দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল বিভিন্ন ব্যানারে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তবে সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে পরপর কয়েক দিন হামলা, ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তরের প্রার্থী মাহী বি. চৌধুরীর ওপর আক্রমণ, চট্টগ্রামে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনজুর আলমের গাড়িতে হামলায় নতুন করে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। আবার নির্বাচনের প্রার্থীসহ বিরোধী পক্ষের নেতা-কর্মী ধরপাকড়ের ঘটনাও ঘটেছে। ভয়ভীতি প্রদর্শন ও টাকার খেলার অভিযোগও আছে। যেভাবে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে, তাতে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাবে কিনা তা নিয়েও আশঙ্কা রয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন ভোটারদের উপস্থিতির বিষয়ে আশাবাদী। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, আমরা আশা করি, তিন সিটি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। নির্বাচন কমিশন তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করবে। একটি ভোট উৎসব হবে। বিগত ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে অনেকেই ভোট দিতে পারেননি। এবার অন্তত তিন সিটির সবাই তার পছন্দের প্রার্র্থীকে ভোট দিতে সক্ষম হবেন। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে জাতীয় রাজনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আমার বিশ্বাস।
ঢাকা ও চট্টগ্রামে নির্বাচন পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচনের আগের ঘটনাপ্রবাহ ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গত রাতেই শেষ হয়ে গেছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। কিছু এলাকায় বাসাবাড়িতে ভয়ভীতি ছড়ানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে। ভোটের দিন পরিস্থিতি প্রতিকূলে যাওয়ার শঙ্কাও ভোটারদের। ভোটের আগের রাতে বড় ধরনের গ্রেফতার অভিযান চলতে পারে বলেও শঙ্কা বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ অভিযোগ করছে, ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে বিএনপির প্রার্থীরা। তাদের মধ্যে কালো টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। জানা গেছে, বিএনপি সমর্থিত অধিকাংশ প্রার্থীই গ্রেফতার আতঙ্কে মাঠে নামতে পারেননি। ঢাকা সিটি দক্ষিণে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাস এখনও আত্মগোপনে। ফৌজদারি মামলার আসামি হয়ে অধিকাংশ কাউন্সিলর প্রার্থীও লাপাত্তা। প্রার্থীর পক্ষে পরিবারের সদস্য ছাড়াও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা কোনোভাবে প্রচারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে ভোটের একদিন বাকি থাকলেও গ্রেফতার আতঙ্কে এখনও নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগও দিতে পারেনি দলটি।এ প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগেভাগে এজেন্টের তালিকা ঘোষণা করা হচ্ছে না। কারণ তাতে তালিকা ধরে ধরে তাদের গ্রেফতার করা হতে পারে। নির্বাচনের দিন সকালে যথাসময়ে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টদের হাতে এ তালিকা দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি সব সময়ই অভিযোগ তোলে। বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময়ও তারা অভিযোগ তুলেছিল। তখন কিন্তু এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং তারাই অতীতে ক্ষমতায় থাকাকালীন মাগুরা ও রাজশাহীর সংসদ উপ-নির্বাচনে ভোট কারচুপি করেছিল। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। জনগণের ওপর আমাদের আস্থা আছে। তারা যে রায় দেবে আমরা সেটাই মেনে নেব। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে।
নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, তিন সিটি নির্বাচন সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য অগ্নিপরীক্ষা। তবে এখন যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তা উদ্বেগজনক। আমরা আশা করি, নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেবে। নইলে তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা আরও বাড়বে। ভবিষ্যৎ রাজনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ বলেন, অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ নির্বাচনে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। এত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার বিষয়টি অমূলক।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd