ঢাকা : সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পণ্য মজুদ আছে, রমজানে পণ্যের দাম বাড়বে না : বাণিজ্যমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার          অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব ব্যবস্থা নিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী          বনাঞ্চলের গাছ কাটার ওপর ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ০৭ মে, ২০১৫ ১২:১৮:০৩আপডেট : ০৭ মে, ২০১৫ ১৩:১৯:৫৭
আসছে ভারতীয় চাল, কমছে দেশীয় ধানের বাজার
বন্ধ অটো রাইস মিল, বেকার হাজারও শ্রমিক
এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর)


 


কৃষি এলাকা খ্যাত যশোরের শার্শা বেনাপোলে চলতি ইরি-বোরো মৌশমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। চলছে ধান কাটা ও ঝাড়ার কাজ। গত ১০দিনে বেনাপোল স্থলপথে দেড় হাজার মেঃটর ভারতীয় চাল আমদানি করা হয়েছে। প্রতিদিন আসছে কয়েকশ টন ভারতীয় এলসির চাল। প্রতি মেঃটন ৪৩০থেকে ৪৩৫মার্কিন ডলারের চাল আমদানী হওয়ায় স্থানীয় বাজারে ভারতীয় চালের দাম পড়ছে কম। ফলে কমে গেছে দেশীয় ধান চালের বাজার। উৎপাদন খরচ উঠছে না কৃষকের। বিপাকে চাষীরা। লোকসান কমাতে মাঠে নেমেছে গৃহবধু সহ নারী শ্রমিকরা। যখন কৃষকের ঘরে ঘরে চলে নবান্নের উৎসব। ভারতীয় চাল আমদানির কারনে এবার কৃষকের ঘরে নবান্নের উৎসব ম্লান হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা ও অশান্তি। বন্ধ হয়ে গেছে অনেক অটো রাইস মিল। বেকার হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার চাতাল ও রাইস মিল শ্রমিকরা এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষকের মধ্যে প্রনোদনা সহ সার ডিজেলের সহজ লোভ্যতা ও প্রাকৃতিক আবহাওয়ার কারনে চলতি মৌশমে বোরো আবাদের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলায় ২১ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে উপসি ও হাইব্রিড জাতের ধান চাষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার। তবে ধানের দাম কমে যাওয়ায় অখুশি কৃষকরা। ধানের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি। ভারত থেকে এলসির চাল আসা বন্ধ করে কৃষকের ধানের দাম বাড়ানোর সরকারের কাছে জোর দাবী জানান ধান চাষী,আড়ৎ ব্যাবসায়ি,চাতাল ও অটো রাইস মিল মালিকরা সহ কৃষক কৃষানী ও শ্রমিকরা। তারা বলেন কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। রক্ষা পাবে হাজারও চাষী।   
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার, আরো বলেন,কৃষকরা এবার ধানের বাম্পার ফলন পেলেও বিক্রি মূল্য কম পাচ্ছে। ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে তারা। বিষয়টি কৃষি াধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
নাভারনের চাল আমদানি কারক নাভারন ট্রেডাসের পরিচালক-হযরত আলী বলেন, প্রতিদিন আসছে ভরতীয় চাল। স্থানীয় চালের দাম ব্শেী হওয়ায় ক্রয় বিক্রয়ে সমস্যা হচ্ছে।
নাভারনের ধান চালের আড়ৎ ব্যাবসায়ি  হযরত আলী খাঁ বলেন, এমনিতেই আউশ আমন ধান চাল আড়তে পড়ে আছে অনেক। বেচা বিক্রি ন্ইে তেমন। এসময়ে ইরি ধানের ফলন ভাল  হয়েছে। প্রচুর ধান আসছে আড়তে। বিক্রি হচ্ছে কম। সাড়ে ৪ থেকে সাড়ে ৫শ টাকা মন দরে বিক্রি হচ্ছে ধান। তবে এলসির চাল আসাই ধান চালের চাহিদা কম বলে জানান তিনি।  
কৃষানী লতিফুনেছা বলেন ধানের দাম নেই। উৎপাদন খরচ উঠবেনা। তাদের মনে নেই আনন্দ। কিছুটা লোকসান কমাতেই কাজ করতে মাঠে নেমেছেন তারা। একই কথা বলেন শার্শার ধান চাষী, আনোয়ার হোসেন ও কুলপালা গ্রামের আফরোজা বেগম এবং চাষী আব্দুল মোবারক হোসেন ।
ধান চাল ব্যাবসায়ি আব্দুল আলিম বলেন-তাদের বেচা বিনা কমে গেছে। ধানের বাজার কম। কৃষকরা তাদের নায্য দাম পাচ্ছেনা বলে জানান তিনি। এবার নবান্নের উৎসব নেই কোন খানে।
শার্শার চৌধুরী অটো রাইস মিল শ্রমিক নুর উদ্দিন গাজী বলেন, ভারতীয় এলসির চাল আসাই তাদের মিলটি বন্ধ রয়েছে। শতাধিক শ্রমিককে কাটাতে হচ্ছে অমানবিক জীবন যাপন।
সরেকারের কাছে চাষী ব্যাবসায়ি ও শ্রমিকদের আর্তি ভারত থেকে এলসির চাল আসা বন্ধ করে কৃষকের ধানের দাম বাড়ানো হোক।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd