ঢাকা : বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০

সংবাদ শিরোনাম :

  • এখন থেকে নিম্ন আদালতে মামলা করা যাবে          সৌদি আরব থেকে ফিরলেন ৪১২ বাংলাদেশি          যত্রতত্র কোরবানির পশুর হাট নয় : ওবায়দুল কাদের          করোনাভাইরাস সারাবিশ্বটাকে স্থবির করে দিয়েছে : হাসিনা          করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যাংক ঋণের ২ হাজার কোটি টাকা সুদ মওকুফ ঘোষণা
printer
প্রকাশ : ১২ মে, ২০১৫ ১৪:০৪:৪৫
বীরগঞ্জ এখন জুয়ারুদের স্বর্গরাজ্য, উলঙ্গ নৃত্যে চ্যাম্পিয়ন
বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদদাতা


 


দিনাজপুরের বীরগঞ্জে মেলার নামে বে-পরোয়াভাবে স্মরণ কালের জুয়া, হাউজি, যাত্রাপালা ও ভ্যারাইটি শো’র মাধ্যমে জনগন হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্থ। লাভবান হচ্ছে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন।
উপজেলার শিবরামপুর ইউনিয়নের নতুন হাটের অদুরে ক্রাইমজোন (ফোর মার্ডার) এলাকায় পেশাদার জুয়ারু বহিরাগত বগুড়া জেলার বাসিন্দা জনৈক আব্দুল মান্নান ও ঠাকুরগাও জেলার রুহিয়া এলাকার বাসিন্দা মুন চৌধুরীর  পরিচালনায় ২৫ দিন যাবত মেলায় চলছে লটারী যা স্থানীয় টিভি চ্যানেলে প্রচার করা হয়, ভ্যারাইটি শো’র নামে মেয়েদের উলঙ্গ নাচ ও পতিতাবৃত্তি। চলছে রাতভর হাউজি, ঘটঘটি ও বৌ খেলার নামে স্মরণ কালের জুয়ার আসর। হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। মেলাটি পরিচালিত হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের বিখ্যাত জুয়ারু ওসমান আলীর নেতৃত্বে। তাদেরকে সক্রিয় সহযোগিতা করছেন প্রশাসনের ২/১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সচেতন মানুষের অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বাংলা বর্ষ হিসেবে কার্তিক মাসের আমাবশ্যায় পলাশবাড়ী ইউনিয়নে ঐতিহাসিক ঢেমঢেমিয়া কালিমেলা দিয়ে শুরু হয় জুয়ারুদের ক্ষমতার লোড়াই। স্থানীয় নেতৃত্বের কোন্দলে নানাবিধ প্রতিকুল পরিবেশে মেলাটি মাস ব্যাপী সরাসরি প্রশাসন কর্তৃক পরিচালিত হয়।
ঐ মেলা শেষ হতে না হতেই আরম্ভ হয় শিবরামপুর ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যান জনক চন্দ্র অধিকারীর সভাপতিত্বে সত্য পীরের মেলা।
অগ্রাহায়ন মাসের শেষ নগাদ সাতোর ইউনিয়নে চালু হয় শামুক শাহ্ জিন্দা পীরের মেলা।
জিন্দা পীরের মেলা চলমান অবস্থায় নিজপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এমএ খালেক সরকারের সভাপতিত্বে স্থানীয় জুয়া স¤্রাট রাজ্জাক মেম্বারের নেতৃত্বে প্রেম বাজারে আনন্দ মেলায় চলে দির্ঘ ৩৫ দিন।
একইভাবে পাল্টাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুরেন্দ্র নাথ কোকিল বাবুর নেতৃত্বে কুড়িটাকিয়া হাটে বিজয় মেলায় চলে ৪৫ দিন যাবত।
একই ভাবে পলাশবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাহার আলীর সভাপতিত্বে ভবানী ডাঙ্গাহাট সংলগ্ন বাজারের ডাঙ্গায় চলে বিজয় মেলা।
একই সাথে শিবরামপুর নতুন হাটের অদুরে দ্বিতীয় দফায় উত্তর বংঙ্গের পেশাদার জুয়ারু বগুড়া জেলার আব্দুল মান্নান ও ঠাকুরগাও জেলার রুহিয়া এলাকার বাসিন্দা মুন ২৫/৩০ দিন যাবত মেলাটি চালিয়ে আসছেন।
এলাকাবাসী জানায় ইতিপুর্বে বছরে হাতেগোনা দু’টো মেলা হতো এবং সেগুলো ছিল সামাজিক, মা-বোনদের সাথে নিয়ে উপভোগ করা যেত কিন্তÍু এখন আর সে অবস্থা নেই।
ষাট ঊর্ধ্ব বয়স্ক বৃদ্ধ প্রবীন জহির উদ্দিন শাহের বর্ণনা সহ প্রায় অর্ধ শত সচেতন মানুষের মতামত থেকে স্পষ্ট যে তারা বলেন, তাদের এ দীর্ঘ জীবনে জ্ঞানমতে কখনো এত বেশী মেলা হতে দেখেনি। প্রশাসনের প্রতি ধিক্কার জানিয়ে অভিযোগকারীরা আরও বলেন এলাট ফান্ট এর নামে মেলার পারমিশন দেওয়ায় তাদের হাতে দেশ জাতি ও মানুষ কোন মতেই নিরাপদ নয়, কেননা বিনোদনের প্রয়োজন আছে তবে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা-মসজিদ কোনকিছু তোয়াক্কা না করে যেখানে খুশি মেলা বসিয়ে জনগনের কোটি কোটি টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেয়া প্রকাশ্য ডাকাতির শামিল ।
ছেলে মেয়েদের চলমান পরীক্ষা মৌসুমকেও কোন গুরুত্ব দেয়া হয় না, এ ধরনের স্বীয় স্বার্থ হাছিল করা কর্মকান্ডকে আইনী প্রক্রিয়ায় দমন করা খুবই জরুরী বলে তাদের মন্তব্য থেকে জানা গেছে। ৫ম শ্রেণীর ছাত্র সুমনের পিতা আবেগ জনিত কন্ঠে বলেন দেশে কোন নিয়ম কানুন আছে কিনা জানি না পরীক্ষা চলছে অথচ স্কুলের একপাশে হাউজি প্যান্ডেল অপর পাশে যাত্রা প্যান্ডেল পড়াশুনার কোন পরিবেশ নেই। ডিসি, এসপি এগুলো কি চোখে দেখে না ?
সচেতন মহল জানায়, একাধারে ১টি উপজেলায় সাত মাস ধরে মেলার নামে বেহায়াপনা চলছে, জনগন নিঃস্ব হচ্ছে তবুও প্রশাষন নিঃশ্চুপ, তার দেখেও না দেখার ভান করছে।  এ কাহিনী তো গ্রিনেজ বুকে ঠাঁই পাওয়ার কথা কিন্তু প্রশাসন নিরব কেন ? অবৈধভাবে আর কত দরকার তাহলে আশা পূর্ণ হবে ? জানতে চায় আ’ম জনতা। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান আমাদের করার কিছু নেই সব উপরের আদেশে চলছে। জেলা প্রশাসক দিনাজপুরের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানিয়েছেন তার জানা মতে আপাতত বীরগঞ্জে কোন মেলার অনুমতি নেই তবে তার অগোচরে যদি কেউ অবৈধভাবে কোন মেলা পরিচালনা করে থাকেন তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অপরদিকে, জুয়ারু মান্নান ও মুন ১ সৌজন্য সাক্ষাৎকারে সাংবাদিকদের জানায়, ভাই আমরা সারা দেশে মেলা করে থাকি কিন্তÍু এখানকার প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ম্যানেজ করা খুব কঠিন কেননা প্রতিরাতে নেতাগতা বাদে শুধুমাত্র প্রশাসনকে লাখ খানেক টাকা ঘুষ দিতে হয়। এমন বিচিত্র ঘটনা আমি আগে কোথাও দেখিনি।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd