ঢাকা : মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০

সংবাদ শিরোনাম :

  • এইচএসসি পরীক্ষায় বিষয় সংখ্যা কমানোর চিন্তা চলছে : শিক্ষামন্ত্রী          কোরোনায় আরও ৩৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৩৫০৪ জন          যুক্তরাষ্ট্র আর লকডাউন হবে না : ট্রাম্প          করোনাভাইরাস সারাবিশ্বটাকে স্থবির করে দিয়েছে : হাসিনা          স্ত্রীসহ হাসপাতালে ভর্তি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী          করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যাংক ঋণের ২ হাজার কোটি টাকা সুদ মওকুফ ঘোষণা
printer
প্রকাশ : ২০ মে, ২০১৫ ১৬:৩৬:৪০
বিশ্বখ্যাত আগর আতর শিল্প অর্থনীতিতে অবদান রাখার ব্যাপক সম্ভাবনা
সৈয়দ রিয়াদ, মৌলভীবাজার


 

মৌলভীবাজারের বিশ্বখ্যাত আগর আতর অতি প্রাচীণ প্রসিদ্ধ সুগন্ধ যুক্ত একটি শিল্প। বহুকাল পূর্বে থেকে মৌলভীবাজার জেলার উত্তর পূর্ব ক্ষনে অবস্থিত সুন্দর্যের লীলানিকেতন। পাথারিয়া বনাঞ্চলের হাকালুকি হাওর তীরবর্তী সুজানগর এলাকায় এই শিল্পের উৎপাদন, রপ্তানিকরণ ও ব্যবসার জন্য প্রসিদ্ধ লাভ করে। এই শিল্পের সাথে জড়িত সুজানগর অঞ্চলে হাজার হাজার আগর আতর ব্যবসায়ী ও শ্রমিক যেমন নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করছে তেমনি জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছে।
ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায়, আগর, আতর ব্যবসায় সম্পর্কিত তথ্য বিভিন্ন গ্রন্থে পাওয়া যায়। ইংল্যান্ডের বিখ্যাত উপন্যাসিক অসকার ওয়াইলড এর বিখ্যাত উপন্যাস ‘পিকচার অব ডবিয়ান প্রে’ তে আগরের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। এ আগর ইউরোপের জার্মান, বেলজিয়াম, আমেরিকা, কানাডা ও এশিয়ার জাপানের ঔষধ শিল্পে বহুল পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। বৃটিশ শাসনামলে ভারতের আসাম, মনিপুর, নাগাহিল, তেজপু, ভুটান ইত্যাদি অঞ্চলে উৎকৃষ্টমানের আগর পাওয়া যেত। সেই সময়ে মহাল আকারের আসামের আগর গাছ নীলাম হত এবং সুজানগরের প্রায় শতকরা পঁচানব্বই ভাগ লোকই আগর আতর ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। সুজানগরের ফিরুজ আলীসহ প্রবীণ আগর ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত থেকে আগার-আতর কাঠ আমদানী করে ব্যবসার মাধ্যমে বংশের ধারাবাহিকতায় সফলতা পেয়েছি। তবে বর্তমানে আগর-আতরের মান ও সুগন্ধ অনেক নিুম্নমানের। সেই সময় এলাকায় প্রায় চার শতটির উপরে আতর তৈরির ডেগ বা প্লান্ট ছিল বলে তারা জানান। সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা যায়, এ আগরের উপর গবেষণা করে আরম্ভ হয় ১৯২০ সালে। তবে ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পর সুজানগরের আগর ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তারপর স্থানীয় সংগঠন করে তা আমদানী রপ্তানি কার্য চালিয়ে যান। আর দেশ সৃষ্টির পর সুজানগরের অধিকাংশ লোক মধ্যপ্রাচ্য পাড়ি জমিয়ে তা ব্যাপক আকারে প্রসার করতে সক্ষম হন। বর্তমানে বড়লেখা উপজেলার সুজানগর এলাকার আগর উৎপাদন ও কৃষকরা ৫/৭ বছর বয়স্ক গাছের বিভিন্ন আকারের লোহার পেরেক ঢুকিয়ে রাখেন। তারপর দুই তিন বছর পর গাছ কর্তন করে তা থেকে কালো কাঠ সংগ্রহ করে থাকেন। আগর তেল উচ্চ তাপে চাপ ছাড়া সাধারণ বাষ্পীয় পাতনে এ তেল সহজে উদ্বায়ী নয়। আগর ফ্যাক্টরির মালিকরা পূর্বে ব্যবহৃত তামার ডেগের পরিবর্তে বর্তমান স্টেইনলেসের স্টিলের ডেগ ব্যবহার করে থাকেন। তবে বর্তমান কার্য পদ্ধতিতে আতর উৎপাদনের আসল ঘ্রাণ বিণষ্ট হয় বলে এক গবেষণায় দেখা যায়। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় বর্তমানে ক্রয়কৃত গাছ পরিবহনে বাধা, কাঁচামালের অভাব, ব্যাংক ঋণের অভাব, সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, বাজার দরের অস্থিতিশীলতা, নকল দ্রব্য সহ নানা কারণে ব্যবসার বাধা প্রাপ্ত হচ্ছে। ইতিমধ্যে শত শত শ্রমিক অন্য পেশায় নিয়োজিত এবং প্রবাসীরা দেশী মালামাল ক্রয় করতে বিমুখ হচ্ছেন। তারা অধিক সুযোগ-সুবিধাসহ ব্যবসায় সুষ্ঠ পরিবেশ থাকায় সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, নিউগিনি, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড ও লাতিস প্রভৃতি রপ্তানি কারক দেশে স্থান করে নিচ্ছেন। সরেজমিন পরিদর্শনে জানা যায়, সুজানগরে বিভিন্ন গ্রামে ছোট বড় প্রায় ২০টি আগর আতর কারখানা চালু রয়েছে। এ আগরের প্রসারের জন্য সুজানগরে একটি সমিতির কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় মধ্যমিত্ত ও নিম্নবিত্ত ব্যবসায়ী শ্রমিকরা বাকা চোখে দেখছেন। এ আগরের কালো কাঠ সরাসরি পুড়িয়ে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও পারসিকদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এবং উপাসনালয়সহ গৃহে সুগন্ধ ছড়ানো হয়। বিগত সরকারের আমলে বনবিভাগ আগর বনায়ন নামে পাঁচ বছর মেয়াদি এক প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগর গাছ কেটে নিয়ে আসার সময় বিডি আর ও ভুমি কর্মকর্তারা বাধা দেন এবং তারা বনাঞ্চলে গাছ কাটার অভিযোগ দেখিয়ে বন আইনে মামলা দেয় বলে বহু অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিন্তু তার সাথে জড়িত হাজার হাজার শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা নানাভাবে প্রশাসনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার দ্বারা হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন। এর বিনিময়ে প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তারা অসৎ উপায়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এ থেকে সরকার যেমন বঞ্চিত হচ্ছে ঠিক তেমনি উৎপাদনের সাথে জড়িতরা ও তিগ্রস্থ হচ্ছেন। যার ফলে এ শিল্পে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। প্রবাসে রপ্তানির উপর নির্ভর করে এ শিল্প উঠলেও বিভিন্ন সমস্যার কারণে তা বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে পূর্বের চেয়ে দ্বিগুণ দাম দিয়ে আগর আতর ক্রয় করতে হচ্ছে। আর প্রবাসী ব্যবসায়ীরা দেশের আগর-আতরের চেয়ে থাইল্যান্ড, বার্মা, কম্পোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালেশিয়া, সিঙ্গাপুর কাঁচামাল সহজলভ্য হওয়ায় তার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। তাই আগর-আতর শিল্পের উন্নয়নের সরকারী বন্ধ করা সময়ের দাবী হয়ে উঠেছে এবং দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শুভ দৃষ্টি প্রত্যাশা করে।
 

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd