ঢাকা : মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পণ্য মজুদ আছে, রমজানে পণ্যের দাম বাড়বে না : বাণিজ্যমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার          অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব ব্যবস্থা নিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী          বনাঞ্চলের গাছ কাটার ওপর ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ২৯ মে, ২০১৫ ১৮:১২:৫১
নাভারন ভায়া মুন্সিগজ্ঞ সুন্দরবন রেল লাইন নির্মানের দাবী
এম এ রহিম বেনাপোল (যশোর)


 

রেলকে উন্নয়ন খাতে পরিনতসহ সার্কভূক্ত দেশেগুলোর মধ্যে ট্রেন যোগাযোগ সম্প্রসারনে উদ্যোগ নিয়েছে শেখ হাসিনা সরকার। দেশের মধ্যে রেললাইনবিহীন জেলা সাতক্ষিরার সাথে রেললাইন সম্প্রসারনের ঘোষনা দেন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। যশোরের নাভারন ভায়া সাতক্ষিরা-মুন্সিগজ্ঞ হয়ে সুন্দরবন পর্যন্ত রেল লাইন নির্মান সহ বাস্তবায়নে প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন দেশের দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। পর্যাটন শিল্প সহ ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যোগসুত্র বাড়ানোর দাবী সর্বসাধারনের। প্রধান মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথ চেয়ে বসে আসেন নাভারন বাগআচড়া সহ রেল লাইন বঞ্চিত সাতক্ষিরা জেলাবাসী। নাভারন-সাতক্ষিরা মুন্সিগজ্ঞ প্রস্তাবিত রেল লাইন নির্মানে সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তারা কয়েক দফায় এলাকা পরিদর্শন করলেও দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়ন না হওয়াই  হতাশ হয়ে পড়েছেন নাভারন ও সাতক্ষিরার মানুষ।  
সার্কভূক্ত দেশগুলোর মধ্যে রেলপথ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারন (যুক্ত) হতে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব সম্প্রতি অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশের সন্ত্রীসভা। এতে সার্ক রেল নেটওয়ার্কের আওতায় যুক্ত হচ্ছে বেনাপোল। অপরদিকে প্রধান মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি নাভারন সারতক্ষিরা মুন্সিগজ্ঞ রেল লাইন নির্মাান করবে সরকার। সংশ্লিষ্ট দফতরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। সার্ভে করা হয় রেল লাইনের প্রস্তাবিত স্থানগুলো। সম্প্রতি খুলনা বাগেরহাট রেল লাইন নির্মানে একনেকে পাস হলেও নাভারন সাতক্ষিরা মুন্সিগজ্ঞ রেল সড়ক নির্মানে কোন অগ্রগতি নেই প্রধান মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চান  যশোরের শার্শা ও সাতক্ষিরার মানুষ। ভারতের আগ্রা-কলিকাতা ভায়া বেনাপোল মুন্সিগজ্ঞ ট্রেন চলা চলের দাবী বেনাপোলের সর্বসাধারনের। 
রেললাইনটি চালু হলে সুন্দরবনের সাথে যোগাযোগ স্থাপনে যেমন সহজ হবে তেমনি বাচবে সময় ও অর্থ বাড়বে পর্যাটকের সংখ্যা উপকৃত হবে পাসপোর্ট যাত্রীরা। স্বল্প খরচে অল্প সময়ে গতি বাড়বে আমদানি রফতানি বানিজ্যে। সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থানের উভয় দেশের মধ্যে বাড়বে সোহার্দ সম্প্রতি ও কৃষ্টি কালচার এবং বাংলাদেশে নব দ্বিগন্তের সৃষ্টি হবে। এ আশায় বুক বেধে আছেন দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। 
স্বাধীনতা পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায় বেনাপোল দিয়ে ভারত বাংলাদেশের মধ্যে রেল চলাচল। ১৯৯৮ সালে সচল হয় বেনাপোল দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে মালবাহি ট্রেন চলাচল। বন্দর দিয়ে আমদানি রফতানি বানিজ্যে নতুন করে গতি সঞ্চর হয়। বেনাপোল নাভারন ভায়া মুুিন্সগজ্ঞ রেল সংযোগ সহ ভারত বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রীবাহি ট্রেন চলাচলে দীর্ঘদিন দাবী জানিয়ে আসছে বেনাপোল বাসি। 
গত ১০নভেম্বর ২০১৩ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রীপরিষদের এক বৈঠকে সার্ক রিজিউন্যাল রেলওয়ে এগ্রিমেন্ট ফর সার্ক মেম্বর স্টেট ফাইনা লাইজড বাই দ্যা ইন্টার গর্ভমেন্ট-গ্রুপ অব ট্যান্সপোর্ট অনুমোদন দেওয়া হয়। যেখানে পাকিস্থানের লাহোর হয়ে ভারতের দিল্লি-কলিকাতা-পেট্টাপোল-বেনাপোল-দর্শনা-ঢাকা-আখাউড়া গংগাসাগর পর্যন্ত রেল যোগাযোগ চালুর পস্তাব করা হয়। নেপাল ভারত বাংলাদেশের মধ্যে আরো তিনটি রুটের পস্তাব করা হয়েছে। এদিকে যশোর ও সাতক্ষিরাই এক জনসভাবেশে  সুন্দর বনের রেল যোগাযোগ সহ সাতক্ষিরাকে রেলের আওতায় আনায় ঘোষনা দেন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চাই দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। দেশের অন্যান্য বন্দরের ন্যায় প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোলে রয়েছে সহজে রেল যোগাযোগের নানান সুযোগ। রেল ষ্টেশন,কাষ্টম,ইমিগ্রেশন,পুলিশ থানা,বিজিবি ক্যাম্প। বেনাপোল দিয়ে যাত্রী বাহি মাল বাহি সার্ক রেল চললে সরকারে যোগাযোগ খরচ কমবে। মিলবে সুযোগ সুবিধা। সর্বস্থরের মানুষের দাবী ভারতের আজমির শরীফ হয়ে বেনাপোল দিয়ে সুন্দরবন যোগাযোগ সহজ হোক। সার্ক রেলের আওতায় আসুক বেনাপোল দাবীতে স্বোচ্ছার বন্দরবাসি।  
বেনাপোল ষ্টেশন মাষ্টার মহাসিন আলী বলেন, রেলে প্রতিনীয়ত যাত্রী বাড়ছে। বাড়ছে রাজস্ব আয়। এ খ্যাতকে আরো উন্নত করা সহ সুন্দর বনের সাথে রেল যোগাযোগ করলে রেল সেক্টর আরো একধাপ এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি।    
নাভারনের ব্যবসায়ি মেজবা উদ্দিন বলেন, প্রধান মন্ত্রী প্রতিশ্রতি দিয়েছিলেন নাভারন-সাতক্ষিরা মুন্সিগজ্ঞ প্রস্তাবিত রেল লাইন নির্মান করার। আজো ব্স্তাবায়ন হয়নি। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জোরালো দাবী জানান তিণি। একই কখা বলেন  শার্শা উপজেলা বাস্তহারা লীগের সভাপতি আবুল হোসেন তিনি আরো বলেন, নতুন রেলপথ চালু হলে দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলে নতুন দিগন্তের সুচনা হবে। ৮টি সাব ষ্টেশনে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। 
বাগআচড়া এলকার-গহবধু ফরিদা বেগম বলেন, প্রধান মন্ত্রী  জননেত্রী শেখ হাসিনা যে কথা বলেন সেটা বাস্তবে রুপ দেন। তার এই প্রতিশ্রতি বাস্তবায়ন হবে আশা করেন তিনি।  
বেনাপোলের আরসাদ মোড়ল বলেন, ভারত বাংলাদেশের মধ্যে নতুন রেল লাইন চালু হলে শুধু নব দিগন্তের সূচনাই হবেনা সুন্দরবন ও আযমি শরীফের সাথে নতুন মেল বন্ধন হবে। 

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd