ঢাকা : মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পণ্য মজুদ আছে, রমজানে পণ্যের দাম বাড়বে না : বাণিজ্যমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার          অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব ব্যবস্থা নিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী          বনাঞ্চলের গাছ কাটার ওপর ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ৩১ মে, ২০১৫ ১৭:০৮:৩৩
মানবপাচারকারীর প্রতারণায় আত্রাইয়ের ৯ যুবকের দুবছরেরও হদিস মিলেনি
নওগাঁ সংবাদদাতা


 

উচ্চ বেতনে চাকুরির আশায় আদম ব্যাপারীর প্রতারানার শিকার হয়ে দু’বছরেও নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ইসলামগাঁতী গ্রাম থেকে অবৈধ ভাবে ৯ যুবক মালোয়েশিয়া যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। এদিকে পরিবারের এক মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছে স্বজনরা। 
নিখোঁজদের ফিরে আনতে আদম ব্যাপারীদের উপর চাপ দিলে নানা তাল বাহানা শুরু করেন। উল্টো খোঁজ দেওয়ার নামে ইতোমধ্য বিপুল টাকা হাতিয়েছে প্রতারক আদম ব্যাপারীরা। সরকারের কাছে এখন পরিবার ও এলাকাবাসি দাবি আদম ব্যাপারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে নিখোঁজদের ফিরে দিতে।
নিখোঁজকৃতরা হলেন, আত্রাই উপজেলার ইসলামগাঁতী গ্রামের শামসুল রহমানের ছেলে আবু তায়েব প্রাং (২০), চাঁন প্রাং এর ছেলে হামিদুল ইসলাম (১৮), সুরুজ প্রাং এর ছেলে সজিব প্রাং (১৮), শফির প্রাং এর ছেলে মহসিন প্রাং (২৮), জানবক্সের ছেলে মোশারফ হোসেন (২২), মল্লিক মন্ডলের ছেলে আলতাব মন্ডল (২৪), মোহাম্মদ শেখের ছেলে মিয়াজান শেখ (৩২), 
রাণীনগর গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে উজ্জ্বল হোসেন ( ২৬) ও মেহের আলীর ছেলে খোকন হোসেন(২১)।
জানা গেছে, আত্রাই উপজেলার ইসলামগাঁতী গ্রামের সামাদ ও ময়েজ নামে দুই আদম ব্যাপারী বেশি বেতনে চাকুরি দেবে বলে জন প্রতি ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে একই গ্রামের একই পাড়ার গরীব, অসহায় ৯ জন ও পার্শ্বেবর্তী রাণীনগর গ্রাম থেকে ২ জন যুবককে গত বছর ১২ জুন মালোশিয়া অবৈধ ভাবে যাওয়ার উদ্দ্যেশে নিয়ে যান। 
এরপর দেশের বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে ২৫/২৬ জন যুবককে প্রথমে নাটোর জেলায় একটি হোটেলে তাদের রাখা হয়। এরপর বিভিন্ন দালালের হাত ঘুরে নিয়ে যাওয়া হয় টেকনাফে। এরপর আব্দুল্লাহ ও ইসমাইল নামে অন্য দুই আদম ব্যাপারীর কাছে তাদের দুটি গ্রুপে বিভক্ত করা হয়। 
তখন আব্দুল্লাহ গ্রুপের কয়েক জন যুবকরা বুঝতে পারেন তারা বিপদের মূখে পড়েছে। তখন তারা কৌশুলে জীবন নিয়ে পালিয়ে আসে আদম ব্যাপারীদের হাত থেকে। আর তারা ফিরে এসে পরিবারদের বিষয়টি জানালে আদম ব্যাপারীদের চাপ দেয় স্বজনরা নিখোঁজদের ফিরে দিতে।
আদম ব্যাপারীরা কখনো বলেন মালদ্বীপ পুলিশের হাতে আটক আছে, কখনো বলেন বার্মা দেশে পুলিশের হাতে আটক আছে, কখনো বলেন তারা থাইল্যান্ড পুলিশের আটক আছে এভাবে বিভিন্ন  তাল বাহানা করে সময় পার করতে থাকে। 
গত ছয় মাস আগে তাদের নিখোঁজদের ও পরিবারের কাছে ফিরে দেবে বলে তাদের (পরিবার) কাছ থেকে জন প্রতি আরো ৫০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেয় সামাদ ও ময়েজ দু’দ্বালাল । নিখোঁজদের খোঁজ দেয়ার নাম করে ওই টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় সামাদ। 
বুধবার ঐ গ্রামে সরজমিনে দেখা যায় পরিবারের এক মাত্র অর্থ উপার্জনকারীদের হারিয়ে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছে। কিন্তু আজো কোন খোঁজ দেয়নি তারা।
সজিব প্রাং ও সুরুজ প্রাং জানান, দুই আদম ব্যাপারী সামাদ ও ময়েজ গ্রামের ৭ ও পাশ্ববর্তি গ্রামের ২ যুবককে মালোয়েশিয়া বেশি বেতনের চাকুরি দেবে বলে নিয়ে যায়। ট্রলারে উঠিয়ে দিয়ে তাদের নিয়ে যাওয়া পর নিখোঁজ হয়। 
নিখোঁজ মহসিন প্রাং এর স্ত্রী সম্পা বিবি জানান, তাদের সহায় সম্পত্তি ও অর্থ উপার্জনকারী বলতে তিনিই একমাত্র ছিলেন। তার উপার্জনেই বৃদ্ধ শ্বশুড়, শ্বাশুড়ী ও দুটি শিশু সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে চলত। তিনি নিখোঁজ হওয়া পর থেকে তাদের না খেয়ে বেশি ভাগ দিন পার করতে হচ্ছে।
আবু তায়েব বৃদ্ধা মা ভানু বেওয়া জানান, তাদের সন্তান হারিয়ে এখন কষ্টে দিন কাটাতে হয়। এক বেলা খাবার জোটে না। তার সন্তানকে কি ভাবে দেশ দেশান্তরে খোঁজ করব।
আদম ব্যাপারীদের হাত থেকে পালিয়ে আসা ইসলামগাঁতী গ্রামের হামিদ আলী মোল্লা ও ফেরদৌস প্রাং জানান, আদম ব্যাপারীরা প্রথমে নাটোর একটি হোটেলে তাদেরসহ ২৫ থেকে ২৬ জনকে একত্র করে। বিভিন্ন পথ ঘুরে  নাটোর থেকে সবাই টেকনাফ যান। এরপর দুটি গ্রুপে ভাগ হওয়ার পর বিপদ বুঝতে পেরে তারা আদম ব্যাপারীদের হাত থেকে জীবন নিয়ে বেঁচে আসেন। অন্যদের কোন আর খোঁজ পাননি।
ইসলামগাঁতী গ্রামের আদম ব্যাপারী ময়েজ উদ্দিন ওই ৯ যুবককে বিদেশে পাঠানো সাথে জড়িত নয় বলে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ময়েজ এদের বিদেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য টেকনাফে নিয়ে যায়। এরপর আব্দুল্লাহ ও ইসমাইল নামে অন্য দুই আদম ব্যাপারীর কাছে তুলে দেয়া হয়।
স্থানীয় বিশা ইউপি চেয়ারম্যন আব্দুল মান্নান মোল্লা বলেন, আদম ব্যাপারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে নিখোঁজ ৯ যুবকদের তাদের পরিবারের কাছে ফিরে দেওয়ার  জন্য তিনি প্রশাসনের কাছে নিয়মিত ধর্না দিচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, আদম ব্যাপারীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত থাকায় একের পর এক এ ধরনের কাজ করে রক্ষা পায়। যার কারণে আদম ব্যাপারীদের কোন বিচার হয় না। 
আত্রাই থানার ভার প্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আব্দুল লতিফ বলেন, ঘটনা জানার পর একটি তদন্ত টিম টেকনাফে প্রেরন করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য মতে সেখানকার এক ইসমাইল নামে এক দ্বালাল এবং আত্রাইয়ের আদম পাচার কারী ময়েজ উদিন কে  আটক করা হয়েছে । 
এদিকে এ ঘটনায় আইন সহায়তা দিচ্ছে আত্রাই থানার এনজিও সংস্থা আস্থা ও শিশু মহিলা উন্নয়ন। সংস্থার পরিচালক রওশন আরা পারভিন শীলা জানান, ঘটনাটি আদন পাচার আইনে মামলা হয়েছে সে মামলার সব দায়িত্ব বহন করছে এ সংস্থা ।
পরিবার ও গ্রামবাসি দ্রুত এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে নিখোঁজদের ফিরিয়ে দিতে সরকারের নিকট দাবি জানিয়েছেন।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd