ঢাকা : বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • রোহিঙ্গা ইস্যুতে ট্রাম্পের কাছে সহায়তা চাওয়ার কোনো মানে নেই : হাসিনা          দু-এক দিনের মধ্যে চালের দাম কমবে : বাণিজ্যমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তরিকতার কমতি নেই : ওবায়দুল কাদের          রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ত্যাগ করলে অবৈধ বলে গণ্য হবেন : আইজিপি          রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ নৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে : রুশনারা আলী
printer
প্রকাশ : ০১ জুন, ২০১৫ ১০:০৮:৪৯
রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রতিকূলে থাকালে পুঁজিবাজারে আরো বিরুপ প্রভাব পড়বে : অধ্যাপক আবু আহমেদ


 

টানা রাজনৈতিক অস্থিরতা ধারাবাহিক নিম্নমুখী অবস্থায় রয়েছে দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ। এসময় তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ধারাবাহিক পতনে দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অব্যাহত থাকালে পুঁজিবাজার আরো বিরুপ প্রভাব পড়বে এমনটাই মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদের। পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা নিয়ে টাইমওয়াচ প্রতিনিধির সাথে তিনি এক সাক্ষাৎকারে মিলিত হন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহীন হাওলাদার। এখানে তা উপস্থাপন করা হলো 
টাইমওয়াচ : ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টি এ্যাক্ট বাস্তবায়ন না হওয়ার জন্য আপনি কী মনে করেন?
আবু আহমেদ : একদল স্বার্থান্বেসি মহলের জন্য ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টি এ্যাক্ট বাস্তবায়ন হচ্ছে না । এটা খুব হতাশাজনক । কেননা মন্ত্রিপরিষদে এ আইনটি অনুমোদন হওয়া সত্তেও এতদিন পর্যন্ত কেন তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না  রহস্যজনক। দেশের  ইতিহাসে এমন ঘটনা প্রথম । আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে দেশে তামাসা চলছে। কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানি আসার আগে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদন আরো বেশি গ্রহণযোগ্য করার জন্য ‘ফিন্যালশিয়াল রিপোটিং অ্যাক্ট’ খুব জরুরি। তাই এ আইন বলবত থাকলে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো আরো সচেতন হতো। 
টাইমওয়াচ : বর্তমান পুঁজিবাজারের দূরাবস্থার কারণ কি বলে আপনি মনে করেন ?
আবু আহমেদ : বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য  বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ আর উৎকন্ঠা কাজ করছে, ফলে বিনিয়োগকারীরা আস্থাহীনতায় ভুগছে। যার দরুণ পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। 
টাইমওয়াচ : সর্বশেষ তথ্যমতে (মার্চের) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে। এর কারণ কি?
আবু আহমেদ : সাধারণ প্রবাসী ও বিদেশী বিনিয়োগকারী তথ্য ভিত্তিক বিনিয়োগ করে। অর্থাৎ টানা দর পতনের বাজারের তাদের বিনিয়োগে সক্রিয়তা থাকার কথা। কিন্তু  প্রবাসী বিনিয়োগকারিরা হরতাল-অবরোধে সহিংস পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে ভয় পাচ্ছে। দেশের বিনিয়োগকারিদের ন্যায় তাদের মধ্যেও হতাশা কাজ করছে। দেশের পরিস্থিতি এভাবে চললে বিদেশি বিনিয়োগ আরো কমবে। 
টাইমওয়াচ : এ থেকে উত্তোরনের জন্য কি প্রয়োজন ?
আবু আহমেদ: প্রয়োজন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই পুঁজিবাজার স্বাভাবিক হবে। এর বাইরে তেমন কোনো সমাধান দেখছি না। 
টাইমওয়াচ : চলতি বাজেট পুঁজিবাজারে কেমন প্রভাব পড়ছে, পাশাপাশি আগামী বাজেটে আপনি পুঁজিবাজারের স্বার্থে কি ধরণের পরিবর্তন আশা করছেন?
আবু আহমেদ : চলতি বাজেটে (২০১৪-১৫) ক্যাপিট্যাল গেইন ট্যাক্স বসানো হয়েছিল । যা পরবর্তীতে বাজারের বিনিয়োগে ব্যাপক মন্দা ও আস্থাহীনতার সৃষ্টি করেছে। যদিও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করেছিল এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড)। ঐ সময় কেপিট্যাল গেইন তো দূরের কথা কেপিট্যাল লস হয়েছে। এছাড়াও তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর করহার না কমিয়ে অ-তালিকাভুক্ত  কোম্পানিগুলোর করহার কমানো হয়েছে। যদি তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে কর কমানো হতো তাহলে কিছুটা লাভবান হওয়া যেত। স্টক এক্সচেঞ্জ কর অবকাশ সুবিধা দেয়া ছিল তাতে বিনিয়োগকারীদের কোনো লাভ নেই। কারণ দুই স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত নয়। এদিকে, আগামী বাজেটে (২০১৫-১৬) এ ধরনের কিছু বসিয়ে কোন লাভ হবে না। বরং বাজারকে অচলাবস্থা থেকে বের করতে হলে বিনিয়োগকারীদের দিকে দৃষ্টি দেওয়া উচিত।  
টাইমওয়াচ : ‘বাজার ভালো না হওয়ায় বহুজাতিক  কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসছে না’। এ বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন ?
আবু  আহমেদ : বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বাজারের তালিকাভুক্তির বাধ্যবাধকতা দিয়ে কোনো শর্তজুড়ে দিলে পুঁজিবাজারের জন্য ভালো হতো। তবে বাজার খারাপের জন্য আসছেনা এটা ঠিক নয়। বার্জারের মতো কোম্পানি বাজারে এসে কি খারাপ করছে নাকি।
টাইমওয়াচ : গুরুত্বপূর্ণ সময় দেওয়ার জন্য আজকের পত্রিকার পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ । 
আবু আহমেদ : আপনাকেও ধন্যবাদ। 

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd