ঢাকা : বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • ডিএসসিসির ৩,৬৩১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা          রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর          সংলাপের জন্য ভারতকে ৫ শর্ত দিল পাকিস্তান          এরশাদের শূন্য আসনে ভোট ৫ অক্টোবর          বাংলাদেশে আইএস বলে কিছু নেই : হাছান মাহমুদ
printer
প্রকাশ : ০৬ জুন, ২০১৫ ২২:২৬:০৫
আসছেনা ভারতীয় গরু, মাংসের দাম চড়া
এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর)


 


সীমান্ত ঘেরা উপজেলা যশোরের শার্শা। দেশের দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের বৃহৎ গরুর খাটাল বেনাপোলের পুটখালি। ভারতীয় বিএসএফ সীমান্তে কড়া নজরদারীসহ টহল জোরদার করায় আবারও বন্ধ হয়ে গেছে গরু আসা। পুটখালি গরু খাটালে আসছেনা পশু। শুন্য পড়ে আছে পশুর খাটাল। খাঁ খাঁ করছে বাশ ও টিনের তৈরী খাটাল। এ কারনে বেড়ে গেছে মাংসের দাম। মাংশ ক্রেতারা পড়ছেন বেকায়দায়। বেকার হয়ে পড়েছে হাজারও নারী পুরুষ সহ ব্যবসায়িরা। সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রতিষ্টান ছেড়ে চলে গেছে অনেকে। সীমান্ত পথে ভারতীয় গরু আসা বন্ধ হওয়ায় এমন অবস্থায় সুষ্টি হয়েছেন বলে জানিছেন স্থানীয়রা। তবে ভারতীয় গরু আসা বন্ধ হওয়ায় স্থানীয় কুষকরা দেশীয় গরু পালতে শুরু করেছেন।  
যশোরের শার্শা নাভারন শুল্ক করিডরের রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, শার্শা পশু ভ্যাট রেজিষ্ট্রেশন অফিস জানিয়েছেন,পুটখালি গুরুর খাটালে সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিদিন আসতো কয়েক হাজার গরু। গত ২দিনে কোন পুশুর ভ্যাট রেজিষ্ট্রেশন হয়নি এখানে। গত ২০১৪ সালের জানুয়ারী থেকে মে পর্যন্ত ৫ মাসে গরুর ভ্যাট রেজিষ্টেশন করা হয় ১লাখ ৮৯ হাজার ৭২টি। যা ২০১৫ সালের জানুয়ারী থেকে মে মাস পর্যন্ত গত ৫মাসে গরুর ভাট করা হয় ৪২ হাজার ৬৯৯টি। যা গত এক সপ্তাহে এসেছে মাত্র ২৩১টি গরু। ২০১৪ সালের মার্চ মাসে ৪২ হাজার ২১৫টি গরু।  এম মাসে যে গরু ভ্যাট হয়েছিল-যা ২০১৫ সালের ৫ মাসেও হয়নি।
২০০৬ সাল পরবর্তীতে স্থলবন্দর বেনাপোলের ৬ কিলোমিটার দক্ষিন পশ্চিমে পুটখালি পল্লীতে গড়ে ওঠে গরু খাটাল (হাট)। ভারত থেকে সীমান্ত পথে আসা গরু জড়ো করা হতো হাটে। পুরোগ্রাম জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বাশ কাঠ ও টিনের তৈরী গুরু খাটাল। বিজিবি মাধ্যমে নাভারন গরু করিডর থেকে বৈধ শুল্ক পরিশোধ করে ট্রাক ভরে গরুর চালান যেতো ঢাকা চিটাগাং ফরিদপুর কুষ্টিয়া সহ বিভিন্ন জেলা শহরে। গরু ব্যবসায়ি, রাখাল, খাটাল মালিক, এজারাদার, চৌকিদার সহ কয়েক হাজার মানুষের জীবন জীবিকা চলতো গরু ব্যাবসায়। গরু ট্রাকভরে ব্যাপারীরা নিযে যায় দেশের অভ্যান্তরে। ট্রাক ও গরুতে ভওে যেত পরো গ্রাম। কয়েক বছরের ব্যবধানে পুরো গ্রাম যেন শহরে রুপ নেই। হাজারও মানুষের কর্মসংস্থানের সুষ্টি হতো এখানে। মাঝে মধ্যে ১০/২০টা গরু আসলে সেগুলো খাটাল পর্যন্ত পৌচাচ্ছেনা। আজ শুন্য পড়ে আছে বাশের তৈরী বৃহৎ গুরু খাটাল। নেই কোন গরু। হাটটি এখন শুধুই স্মুতি। এ যেন জোয়ার আসা নদীতে ভাটা নেমেছে। তবে ভারতীয় গরু আসা বন্ধ হওয়ায় চাষীরা নিজ বাড়ীতেই দেশী গরু পালতে শুরু করেছেন। স্থানীয়রা মনে করেন গরু চাষ বাড়ালে কমবে মাংসের দাম। ঘাটতি পূরন হবে  আমিসের। কমবে পরনির্ভরতা,বিএসফের নৃশংসতায় মরবে না বাংলাদেশী মানুষ।
মাংশ ক্রেতা নাভারন এলাকার-গৃহবধু ফরিদা বেগম বলেন- ৬মাস আগে এককেজি মাংশ কিনেছি ২২০ থেকে ২৪০টাকায়। এখসন কিনতে হচ্ছে ৩৮০ থেকে,৪শ টাকায়। তাদের ১০ সদস্যের পরিবারে মাংশ কিনতে যেয়ে অন্য বাজার করা কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একই কথা বলেন মাংশ ক্রেতা শার্শার জামাল হোসেন বলেন।
নাভারন বাজারের গরু মাংশ ব্যবসায়ি আবু হাসান ও বেনাপোল বাজারের মাংশ ব্যাবসায়ি জাহিদ হাসান বলেন বলেন, ভারতীয় গুও আসছেনা। বেশী দামে গরু কিনতে হচ্ছে। ফলে মাংসের দাম পড়ে যাচ্ছে বেশী।  
পুটখারি গ্রামের কৃষক  আইজ উদ্দিন মল্লিক বলেন, ভারতীয় গুও আসা বন্ধ হয়ে গেছে। তাই বলেতো দেশের মানুষ না খেয়ে থাকবেনা। তিনি ১৭টি গুও পালছেন,আরো পালবেন। এভাবে গরু চাষ শুরু করলে সমস্যা হবেনা।     
গরু রাখাল আদম আলী বলেন, গরু আসা বন্ধ হওয়ায় খেযে না কেয়ে দিন কাটছে তাদের।
স্থানীয়রা জানান, পুটখালি এলাকায় পায় দেড় হাজার বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্টান গড়ে ওঠে। গত ৬মাসের ব্যাবধানে ৯৮ শতাংশ ব্যাবসা প্রতিষ্টান বন্ধ হয়ে গেছে। বেকার হয়ে পড়েছে কর্মচারী সহ মালিকেরা। সরকারের কাছে বেকার হয়ে পড়া রাখাল ব্যাবসায়িরা সহ এলাকাবাসী কর্মসংস্থানের দাবী জানান।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd