ঢাকা : শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পবিত্র আশুরা ১০ সেপ্টেম্বর          ডিএসসিসির ৩,৬৩১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা          রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর          সংলাপের জন্য ভারতকে ৫ শর্ত দিল পাকিস্তান          এরশাদের শূন্য আসনে ভোট ৫ অক্টোবর          বাংলাদেশে আইএস বলে কিছু নেই : হাছান মাহমুদ
printer
প্রকাশ : ১১ জুন, ২০১৫ ১৬:৩৭:৩২
রাজশাহীতে আমের বাজারে ধুম
রায়হান হোসাইন পাভেল


 

আমের রাজধানী নামে খ্যাত বিভাগীয় নগরী রাজশাহীতে জমে উঠেছে আমের বাজার।নগরীর সর্বত্রই এখন আম আর আম। খুচরা থেকে শুরু করে পাইকারী দামে বিক্রি হচ্ছে আম। যার স্বাদ নিতে ভুলছেন না দেশের কোন অঞ্চলের মানুষ। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে চলে যাচ্ছে আম।এবার আমের দাম ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে থাকায় ক্রেতারা সাচ্ছন্দ্য ক্রয় করে আমের স্বাদ নিচ্ছেন ।বর্তমানে বাজার থেকে গোপালভোগ ও মোহনভোগ বিদায় নিতে শুরু করলেও তাদের স্থলে আসছে রাণীপছন্দ, আম্রপলি, ক্ষীরসাপাত, লখনা, রাণীপ্রসাদ ল্যাংড়াসহ বাহারি নাম ও স্বাদের আম। তবে গোপালভোগ আম বিদায় নিলেও যাদের কাছে আছে তারা প্রতিমণ ২৩ থেকে ২৪শ’ টাকা দরে বিক্রি করছেন। এ সপ্তাহে ওঠা ক্ষীরসাপাত ১৭শ’ থেকে ১৮শ’, ল্যাংড়া ১৫ থেকে ১৬শ’ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন গুটি জাতের আম বিক্রি করা হচ্ছে মণপ্রতি ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা দরে। এদিকে ৫ জুনের আগে গাছ থেকে অপরিপক্ক আম না নামানোর নিষেধাজ্ঞা ছিল জেলা প্রশাসনের। ফলে এতদিন অপেক্ষায় ছিলেন আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা।এতে করে এবার আমে ফরমালিন বা বিশাক্ত কোন ঔষধ মেশাতে পাড়েনি অসাধু ব্যবসায়ীরা।ফলে মানুষ এবার নিশ্চিন্তায় আম খেতে পারছেন। রাজশাহী অঞ্চলের দু’টি বড় আমের মোকাম রাজশাহীর বানেশ্বর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট।খোঁজ নিয়ে যানা গেছে, এই বাজারগুলোতে প্রতিদিন বেচাকেনা হচ্ছে দুই কোটি টাকার আম।এছাড়া আমের কারবার নিয়ে রাজশাহী অঞ্চলের ৫০ হাজার মানুষের মৌসুমি কর্মসংস্থানও হয়েছে। মধুমাস জ্যৈষ্ঠের পরও জুনের পুরো মাস জুড়েই চলবে ‘আম বাণিজ্য’। তাই গাছের আম নামানোর পারদর্শী  থেকে আম চালানের ঝুঁড়ি বানানো এবং বাজারগুলোতে নানা সহায়ক কাজে নিয়োজিত লোকজনের কর্মসংস্থানে গ্রামীণ জনপদ ব্যস্ত হয়ে উঠেছে।এদেক রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের বাজার পুঠিয়ার বানেশ্বরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দর কষাকষিতে এখন মুখরিত থাকছে রাতদিন। এ ছাড়াও নগরের সাহেব বাজার, শালবাগান বাজার, শিরোইল বাস টার্মিনাল, বিন্দুর মোড়, বাঘা, চারঘাটসহ প্রতিটি উপজেলার বাজারে জমে উঠেছে আম ব্যবসা। এর বাইরে পবা, মোহনপুর, বাগমারা এবং পাশের জেলার নাটোর থেকেও প্রচুর আম আসে, তাই যথেষ্ট আমদানি থাকে। এখান থেকে পাইকাররা আম কিনে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, বরিশালসহ নানা জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন। উৎপাদন বিবেচনায় ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন, এবার রাজশাহীতে অন্তত সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হবে। এবার প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে একসঙ্গে সব বাগান থেকে আম ভাঙা হচ্ছে এবং বাজারে পাঠানো হচ্ছে।এবিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক হযরত আলী বলেন, এ বছর রাজশাহীতে আমের আবাদ হয়েছে ১৬ হাজার ৫১৯ হেক্টর জমিতে। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে গত বছরের উৎপাদন অর্থাৎ দুই লাখ ৫৭ হাজার ৫৩১ মেট্রিক টন। তবে বৈরি আবহাওয়ার কারণে আমের আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। টানা তাপদাহে আমের ফলন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তিনি। রাজশাহী অঞ্চলে প্রায় আড়ইশ’ জাতের আম উৎপন্ন হয়। বাজারে প্রথমেই উঠে বিদায় নিতে চলেছে গোপালভোগ ও মোহনভোগ। বর্তমানে ক্ষীরসাপাত, রাণীপ্রসাদ, ল্যাংড়া বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে লকনা, লক্ষণভোগ, দুধসরসহ বিভিন্ন জাতের আমে ভরে উঠবে। এরপর চলতি মৌসুমের আকর্ষণীয় ফল ফজলি এবং সর্বশেষ বাজারে ঝুঁড়িতে উঠবে আশ্বিনা আম। আমের বাজার সম্পর্কে একাধিক ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা গেছে এবার প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারনে একই সময়ে গাছ থেকে আম ভাঙ্গার কারনে আমের দাম কম।তবে দাম বৃদ্ধি না পেলে ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।তবে দাম ক্রয় সীমার মধ্যে থাকায় ক্রেতাদের মধ্যে দেখা গেছে স্বস্থি।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd