ঢাকা : মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পণ্য মজুদ আছে, রমজানে পণ্যের দাম বাড়বে না : বাণিজ্যমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার          অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব ব্যবস্থা নিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী          বনাঞ্চলের গাছ কাটার ওপর ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ০৪ জুলাই, ২০১৫ ১৬:৩৬:০৯
বীণ বাঁজিয়ে সাপের খেলা দেখিয়েই চলে বেদে জীবন
মাহামুদুন নবী, মাগুরা


 


‘মোরা এক ঘাটেতে রাধিবাড়ি, আরেক ঘাটে খায়, মোদের খুশির সীমা নাই’ সিনেমার গানে ঠাঁই পাওয়া এ গানের কথামালা বেদে সম্প্রদায়কে নিয়ে। তৈরি হয়েছে ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ সিনেমা। বেঁদে সম্প্রদায়ের জীবন ও জীবীকা বিচিত্র। জীবন-যাপনও আলাদা। নৌপথে নানা এলাকায় নোঙর করে পতিত জমিতে খুপড়ি ঘর তৈরি করে বেঁদে দল অস্থায়ী বসতি গড়ে। সড়ক পথেও তারা বিভিন্ন এলাকায় যেয়ে একইভাবে রাত্রিযাপনের খুপড়ি ঘর তৈরি করে। এরপর তারা দলবেঁধে গ্রামে-গঞ্জে বেরিয়ে পড়েন। ‘সিঙে লাগাই, দাঁতের পোঁকা খসাই’ এসব কথা হাঁকেন গ্রামের রাস্তায় রাস্তায়। সাপুড়েরা দেখান সাপ খেলা। সাপের কবল থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য মজমা বসিয়ে তাবিজ বিক্রি করেন। সারাদিনের উপার্জিত সামান্য অর্থে চলে সংসারের চাকা। স্বামী-স্ত্রী সকলেই একই পেশায় একইভাবে পয়সা রোজগারে নিরন্তর সংগ্রাম করেন।
গানে গ্রামে, গঞ্জে, শহরে বিভিন্ন অঞ্চলে বীণ বাজিয়ে নেচে,গেয়ে বিষধর সাপের খেলা দেখিয়ে দর্শকের মন মাতিয়ে সামান্য আয়েই চলে বেদেদের জীবন জিবিকা।দর্শকদের মন ভুলিয়ে মজমা জমিয়ে তাবিজ বিক্রি করে প্রতিদিন আয় করে ২-৩ শত টাকা। নিজ পরিবারসহ আরো কয়েকটি পরিবার নিয়ে নিজের জেলা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দুর-দুরান্তে জীবিকা নির্বাহের জন্য ছুটতে হয় তাদের । একসঙ্গে প্রায় ১৫-২০ টি পরিবার নৌকাযোগে নদী পথে বিভিন্ন এলাকায় নোঙ্গর করে খুপনি বানিয়ে তার ভেতর  এক অঞ্চলে প্রায় মাসব্যাপি থেকে এভাবে সারাবৎসর ধরে তারা এ পেশার মাধ্যমে আয় করতে থাকে। এদের কাছে প্রায় ৮-১০ টি প্রজাতির বিষধর সাপ থাকে তাদের কাছে।এ সাপ খেলা দেখিয়ে দর্শকদের কাছ থেকে আদায় করে টাকা এছাড়া তাবিজ বিক্রি করে ও আয় করে তারা।
এ ব্যাপারে বেদে সর্দার নুরুল হক জানান এটি তাদের দীর্ঘদিনের পেশা বাপ-দাদার আমল থেকে চলছে এ পেশা। বিভিন্ন বন জঙ্গল অথবা  কারো বাড়ি থেকে বিভিন্ন প্রজাতির বিষধর সাপ ধরে বস করে। পরে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বীন বাঁজিয়ে  সাপের নাচন দেখিয়ে দর্শক মাতায় এবং তাবিজ বিক্রি করে  দিনে ২-৩ শত টাকা আয় করে চালাতে হয় নিজ সংসার। সংসার চললে ও এ পেশায় জীবনের ঝুকি রয়েছে তিনি আরো জানান।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd