ঢাকা : রোববার, ২১ অক্টোবর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা           কারও মুখের দিকে তাকিয়ে মনোনয়ন দেয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী          ২২তম অধিবেশন চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          দেশের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ১১ জুলাই, ২০১৫ ১৬:০৩:৫৩
ঝিনাইগাতীতে মহারশি নদীর বেড়িবাধটি জনগণের মরণ ফাঁদ!
ঝিনাইগাতী (শেরপুর) সংবাদদাতা
ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশ্মি নদীর রামের কুড়া বেড়িবাধের বিধ্বস্ত বাঁধের একাংশ।


 


জেলার সীমান্তবর্তী ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তে ঝিনাইগাতীর মহারশী নদীর দ’ুপাড়ের বাঁধ এখন এলাকার জনগণের কাছে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে । অতিবর্ষনে ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের স্রোতে নদীর দু’কোল  উঁচিয়ে ক্ষেতের ফসলসহ বাড়ী ঘরের ব্যাপক ক্ষতিসাধণ করে। বিশেষ করে শালচুড়া,নলকুড়া,ডাকাবর,রামেরকুড়া,দিঘীরপাড়,চতল,জিগাতলা ও বনগাঁও সহ  একয়েকটি গ্রামের লোকজন ভারতীয় ঢল আসার সময় নির্ঘূম রাত কাটাতে হয়। থাকতে হয় উৎকন্ঠার মাঝে ।  কারণ প্রবল ঢলের পানিতে নদীর উভয় পাড়ে সঠিক বাধ না থাকার জন্য ফিবছর ব্যাপক ভাবে ক্ষতিসাধিত হয়েছে এ কযেকটি গ্রামের । এদিকে প্রশাসনের তেমন কোন নজরও নেই । এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে ও অনুসন্ধানে জানা যায়,এই বেড়িবাঁধ নির্মানের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে মোটা অংকের বরাদ্দ আসলেও বরাদ্দকৃত অর্থ ৩০% একাজে ব্যবহার না করে ৭/৫ করে কাজ করার ধরুন যেমন বাঁধ তেমনি থেকে যায়। মাঝ থেকে লাভবান হয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের একশ্রেনীর কর্মকর্তা কর্মচারী ও নিয়োগকৃত ঠিকাদার । সরেজমিনে পরিদর্শনে জানা যায়, ডাকাবর, রামেরকুড়া, খৈলকুড়া ও দিঘীরপাড়ের কিছু অংশ ঝুকিপূর্ণ এলাকা হিসাবে চিহ্নিত। এ কারণে ২/১ বছর পর পর বেড়ীবাঁধটি সংস্কারের নামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের শেরপুর অফিসকে ম্যানেজ করে ঠিকাদারগণ ওই নদী থেকেই সেলুমেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে নাম মাত্র কাজ করে সমূদয় বিল তুলে ঠিকাদার চলে যায়। কিন্তু নিম্ন মানের কাজের জন্যে পরবর্তীতে তার ফল ভোগ করতে হয় নদী সংলগ্ন এলাকার জনসাধারণের । কারণ বাঁধে মেশিন দ্বারা উত্তোলিত বালু সামান্য বৃষ্টির পানিতে এবং পাহাড়ী ঢলের আঘাতে পূনরায় নদীতে চলে যায়। ফলে নদীর যে বিধ্বস্ত পাড় সে পাড়ই থেকে যায়। বর্তমানে মহরশী নদীর পাড়ে বাঁধের যে করুন অবস্থা এ ব্যাপারে প্রশাসন সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদদের তেমন কোন মাথা ব্যধা নেই। বার বার এত টাকা ব্যয় করে যে বাঁধ নির্মাণ করা হয়, সে বাঁধের উপর দিয়ে যানবাহন চালিয়ে যাওযা মুশঁকিল । রামেরকুড়া বেড়ীবাধটি ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে ফিবছর ভেঙ্গে যাওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন ভবন, ঝিনাইগাতী বাজারসহ  প্রায় ২৫/৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয় এবং আকস্মিক পানি উঠার কারণে উপজেলা প্রশাসনের নীচতলার বিভিন্ন অফিসের কাগজ-পত্রের ক্ষতি হয়। ক্ষতি হয় কাঁচা ঘর বাড়ীর ও ভেসে যায় পুকুরের মাছ । এছাড়া বেড়ীবাধ সংলগ্ন বাড়ী ঘর গুলো ব্যাপক হুমকির সম্মূখীন । এ বিষয়ে রামেরকুড়া গ্রামের আব্দুর রশিদ, খৈলকুরা গ্রামের  সিরাজুল, দিঘীরপাড় গ্রামের  আব্দুল, চতল গ্রামের নুরনবী এ প্রতিনিধিকে আক্ষেপের সাথে জানান, এ বাঁধ নির্মাণের ফলে জনসাধারণের  চলাফেরার কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মহাজোট সরকারের অধীনে যখন দেশের সব জায়গায় উন্নয়নের জোয়ার বইছে, সেখানে অবহেলিত এ জনপথের দিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন নজর নেই। তাই এলাকার সচেতন মহল ও ভূক্তভোগী জনসাধারণ মনে করেন,যেহেতু রামেরকুড়া, উপজেলা পরিষদ এবং ঝিনাইগাতী সদর বাজারটিতে মহারশী নদীর পানিতে বার বার ক্ষতি হচ্ছে, তাই উপজেলা পরিষদ ও অর্ধকোটি টাকা রাজস্ব্য আদায়ের বাজারটিকে রক্ষার স্বার্থে হলেও বেড়িবাধ নির্মাণকরা, না করা হলে অপূরনীয় ক্ষতির সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। তাই অতি দ্রুত নদীতে পাইলিং দ্বারা বেড়িবাধ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ,উপজেলা প্রশাসন ও মহাজোট সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন । তবেই কেবল হতে পারে ঝিনাইগাতী উপজেলাবাসীর কাংখিত মহারশী নদীর বেড়িবাধ ।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd