ঢাকা : মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • সততার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে : সিইসি          নির্বাচনের তারিখ পেছানোর কোনো সুযোগ নেই : সিইসি          দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ২০ জুলাই, ২০১৫ ১০:১৫:২৪
ঈদে বাড়ী ফেরা হয়না যাদের
এম এ রহিম, বেনাপোল


 


১৮ জুলাই গোটা দেশ যখন ঈদ উৎসবের আমেজে মেতেছে ঠিক তখন তাদের কাছে এ উৎসব অন্য দশটা দিনের মতোই। দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে গিয়ে নাড়ির টানে ঈদ উৎসবে বাড়ি ফেরা হয় না তাদের।
ছুটি না পাওয়ায় তাদের ঈদ কাটছে কর্মস্থলে। নিজেদের সহকর্মীদের সঙ্গেই তারা ভাগাভাগি করছেন ঈদ আনন্দ। তবে এ নিয়ে তাদের মনে নেই কোন দুঃখবোধ বা কষ্ট। রোববার সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দফতরে গিয়ে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসিমুখে তারা এ রূঢ় বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে ঈদের ছুটির দিনটিতেও কর্মমূখর। কর্মস্থলেও তারা সুন্দর-পরিচ্ছন্ন নতুন পোষাক পড়ে কর্মরত আছেন। করছেন শুভেচ্ছা বিনিময়। এমনকি প্রিয়জনের সান্নিধ্য বঞ্চিত হলেও উৎসাহ-উদ্দীপনার ন্যুনতম কমতি নেই তাদের মাঝে। রবিবার সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দেশ বিদেশ থেকে ১৯৭৫ জন যাত্রী গমনাগমন করেছেন। ১২টা পর্যন্ত গেছে ১৩শ জন। কাষ্টম ও ইমিগ্রেশন পুলিশ ব্যাস্ত রয়েছেন পাসপোর্ট যাত্রীর সেবায়।
ঈদের সরকারি ছুটির দিনেও কর্মজীবনের দায়িত্ব পালন করা এসব মানুষের মধ্যে রয়েছেন বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন পুলিশ, শুল্ক কর্মকর্তা, বিজিবি, বন্দর ও শুল্কভবনের নিরাপত্তাকর্মী, থানা পুলিশ, হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা। তবে নিত্যদিনের চেয়ে তাদের ব্যস্ততা খানিকটা কম।
বেনাপোল শুল্কভবনের সহকারি কমিশনার সিরাজুল ইসলাম দ্বায়িত্ব পালন করছেন বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী পারাপার হয়। তাদের ল্যাগেজ পরীক্ষা,ভ্রমন শুল্ক দেখার দায়িত্ব শুল্ক কর্মকর্তাদের।সরকারি ছুটি থাকলেও জনস্বার্থে আমরা রাষ্ট্রীয় দ্বায়িত্ব পালন করছি।
বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন পুলিশের উপ-পরিদর্শক জাকির হোসেন বলেন, ঈদের দিন থেকে রোববার সকাল ১১টা পর্যন্ত চেকপোস্ট দিয়ে এক হাজার আটশত যাত্রী পারাপার হয়েছে। অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে এই দুই দিন যাত্রী পারপারের সংখ্যা অনেক বেশি।
পরিবার থেকে দূরে, কষ্ট লাগছে, জিজ্ঞাসা করতেই জাকির বলেন, পরিবার পরিজন ফালাইয়্যা ডিউটি করতাছি, মন তো খারাপ লাগারই কথা। কিন্তু এরপরেও এইট্যা আমগোর দায়িত্ব।
বেনাপোল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ষ্টেশনের লিডার আবুল হাসান মোল্লা। দীর্ঘ ৩১ বছরের চাকরি জীবনে মাত্র ১৫টি ঈদ প্রিয়জনের সান্নিধ্যে কাটাতে পেরেছেন।
জরুরি সার্ভিসের এ কর্মকর্তা বলেন, নিজের বাড়িতে সবার সঙ্গে ঈদ আনন্দ করলে ভাল হয়। দেশ ও জনগণের স্বার্থেই কর্মস্থলে ঈদ করছি, এটাও অন্য রকম আনন্দের। মনে কষ্ট লাগে না। বরং গর্ববোধ করি মানুষের সেবা করতে পারছি।
বেনাপোল বন্দরের নিরাপত্তার দ্বায়িত্বে থাকা দেবোব্রত ঘোষ বলেন, আমরা সনাতন ধর্মের নিরাপত্তা কর্মদেরকে এই সময় দ্বায়িত্বে বেশি রেখেছি। তরে ২০শতাংশ মুসলিম আমাদের সঙ্গে আছেন।
সরকারি ছুটি শেষে ভারত থেকে দেশে ফেরা প্রবির মল্লিক বলেন, ঈদে দীর্ঘ লাইনে পড়ে আছেন। ১শ টাকা দিলে যাওয়া যায় নির্ভিঘ্নে, নাদিলেই ঝামেলা অভিযোগ সকরেন কথিত দালাল চক্রের বিরুদ্ধে।  
একই কথা বলেন, পাসপোর্ট যাত্রী আনন্দ দাস। তিনি বলেন, টাকা দিলেই সেবা মেলে না দিলেই হয়রানি।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd