ঢাকা : শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা           কারও মুখের দিকে তাকিয়ে মনোনয়ন দেয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী          ২২তম অধিবেশন চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          দেশের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ২৫ জুলাই, ২০১৫ ১৪:০১:২৬
সিলেটে কয়লার দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে!
বদর উদ্দিন আহমদ, সিলেট


 


চলতি বছরের শুরুর দিকে আমদানিকৃত কয়লা প্রতি টন বিক্রি হয়েছে ১৫ হাজার টাকায়। কিন্তু গত প্রায় ছয় মাসের ব্যবধানে সিলেটে কয়লার দাম নেমে এসেছে অর্ধেকে। বর্তমানে টন প্রতি কয়লা বিক্রি হচ্ছে ৮ হাজার টাকায়। কয়লা আমদানিকারকদের মতে, একদিকে ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রচুর পরিমাণ কয়লা আমদানি করা হচ্ছে, অন্যদিকে জটিলতা কাটিয়ে গত প্রায় দুই মাস ধরে ভারত থেকেও নিয়মিতভাবে কয়লা আসছে। যে কারণে কয়লার দাম বর্তমানে নিম্নমুখী রয়েছে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে কয়লার চাহিদা কম থাকায়, এটিও দাম কমার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। তবে বর্ষা মৌসুম শেষে কয়লার দাম ফের বাড়তে পারে বলে আমদানিকারকদের মত।
সিলেটের কয়লা আমদানিকারক সূত্র জানায়, দেশের ইটভাটা ও কয়লানির্ভর ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য প্রতি বছর প্রায় ৩৭ লাখ টন কয়লার প্রয়োজন হয়। তন্মধ্যে প্রায় ৩০ লাখ টন কয়লা সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে আমদানি করা হয়। কিন্তু গত মৌসুমে ভারতের অভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণে মেঘালয় থেকে কয়লা আমদানি বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে একদিকে কয়লার সংকট দেখা দেয়া ছাড়াও দাম বেড়ে প্রতি টন কয়লার দাম দাঁড়ায় ১৫ হাজার টাকা। এই উভয় সংকটময় অবস্থায় কয়লা আমদানিকারকরা ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ আফ্র্রিকা থেকে কয়লা আমদানি শুরু করেন। এর ফলে ধীরে ধীরে সংকট কাটতে শুরু করে। ফেব্রুয়ারিতে টন প্রতি কয়লার দাম কমে দাঁড়ায় ১১ হাজার টাকায়। জটিলতা কাটিয়ে গত এপ্রিল থেকে ফের ভারতের মেঘালয় রাজ্যের কয়লা আমদানি শুরু হলে প্রতি টন কয়লার দাম ৯ হাজার টাকায় নেমে আসে। এদিকে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর কমতে থাকে কয়লার চাহিদা। এতে করে আরেক দফা দাম কমে কয়লার। বর্তমানে সিলেটে প্রতি টন কয়লা ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বর্ষা মৌসুম শেষে ফের কয়লার চাহিদা বৃদ্ধি পেলে দামও কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আমদানিকারকরা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপাওে সিলেটের তামাবিল শুল্ক স্টেশনের তত্ত্বাবধায়ক মোস্তাক আহমদ নোমানী বলেন, ভারতের পরিবেশ অধিদফতরের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০১৪ সালের ১৪ মে থেকে মেঘালয় রাজ্য দিয়ে কয়লা আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। এখনো সেখানে মামলা চলমান। তবে দেশটির আদালত ৩০ জুন পর্যন্ত পূর্বের এলসিকৃত কয়লা রফতানির অনুমতি প্রদান করায় গত দুই মাস ধরে তামাবিল দিয়ে কয়লা আমদানি হচ্ছে। কিন্তু জটিলতা রয়ে যাওয়ায় আমদানি আবারও বন্ধ হওয়ার শংকাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
সিলেট কয়লা আমদানিকারক সমিতির সভাপতি ফালাহউদ্দিন আলী আহমদ বলেন, এ বছর ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রচুর পরিমাণ কয়লা আমদানি হয়েছে। এছাড়া গত দুই মাস ধরে মেঘালয় থেকেও আমদানি কার্যক্রম চলছে। সবমিলিয়ে সরবরাহ বাড়ায় কয়লার দাম কমেছে। তবে মেঘালয় রাজ্য থেকে কয়লা আমদানি ফের বন্ধ হয়ে গেলে কয়লার দাম কিছুটা বাড়তে পারে।
সিলেট কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট এর সহকারী কমিশনার ওমর মবিন বলেন, সিলেটের ১৩টি শুল্ক স্টেশনের মধ্যে তামাবিল, বড়ছড়া, শেওলা, চেলাসহ কয়েকটি স্টেশন দিয়ে সবচেয়ে বেশি কয়লা আমদানি করা হয়। গত বছর কয়লা আমদানির পরিমাণ একেবারে কম ছিল। দুই-আড়াই মাস ধরে আমদানি কিছুটা বাড়ায় দামও কমেছে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd