ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ২৯ জুলাই, ২০১৫ ১৪:৫৮:৪১
সরকারকেই মানবপাচার বন্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে: মনসুর আহমেদ কালাম


 

মনসুর আহমেদ কালাম; দেশের জনশক্তি রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ-বায়রাÕর মহাসচিব। এছাড়া তিনি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আকাশ ভ্রমণের স্বত্বাধিকারী এবং ট্রাভেল, হজ ও ওমরা এজেন্ট আকাশ ভ্রমণ লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। সাংগঠনিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্ব জনাব মনসুর কালাম মুন্সীগঞ্জ জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের জনশক্তি রপ্তানি ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত। সম্প্রতি তিনি টাইমওয়াচ প্রতিনিধিকে দেশের জনশক্তি রপ্তানি ব্যবসা ও মানবপাচার বিষয়ে একটি সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। এখানে তা উপস্থাপন করা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ কে নাহিদ
টাইমওয়াচ : বায়রা’র মহাসচিব হিসেবে প্রথমেই আপনার কাছে দেশের জনশক্তি রপ্তানি ব্যবসার শুরু এবং বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইছি।
মনসুর আহমেদ কালাম : আমার জানামতে, ১৯৭৩ সাল থেকে জনশক্তি রপ্তানি শুরু হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী জনশক্তি রপ্তানির ব্যবসা তেমন একটা ভালো ছিল না। নব্বই দশক থেকে দেশে জনশক্তি রপ্তানি বাড়তে থাকে। এখন প্রতি বছর ৩/৪ লাখ জনশক্তি রপ্তানি হয়। ২০০৭ এবং ২০০৮ সালে অনেক বেশি জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বছরে ৪ লাখ থেকে সোয়া ৪ লাখ লোক বিদেশে যাচ্ছে। বর্তমানে কিছু কিছু দেশে জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। এরপরও আগামীতে রপ্তানির সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আমি আশাবাদী।
টাইমওয়াচ : জনশক্তি রপ্তানি দেশের অর্থনীতিতে কী ধরনের অবদান রাখছে বলে আপনি মনে করছেন?
মনসুর আহমেদ কালাম : আমি মনে করি, জনশক্তি রপ্তানি দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখছে। এখন প্রায় ১ কোটি প্রবাসী দেশে রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন। প্রবাসীদের কল্যাণে বাংলাদেশ ব্যাংকে এখন প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ রয়েছে এবং বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ জনশক্তি রপ্তানি খাত থেকে আসে।
টাইমওয়াচ : বৈধভাবে জনশক্তি রপ্তানি করতে কোনো সমস্যা রয়েছে কী?
মনসুর আহমেদ কালাম : গত বছর নতুন আইন পাস হয়েছে। এই আইনের কারণে আমাদের সমন্বয় করতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এরপরও লোক বিদেশে যাচ্ছে। ওই আইনের আদলে তারা বিদেশে যাচ্ছে। আমরা আইনটি সংশোধনের জন্য সরকারের সাথে আলোচনা করেছি। বর্তমানে সরকার এবং বেসরকারি উদ্যোক্তারা এক সাথে ব্যবসা করছে। কিছুদিন আগে মাননীয়  শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী খোন্দকার মোশাররফ হোসেন মালয়েশিয়ার সাথে জনশক্তি রপ্তানির জন্য চুক্তি করেছেন। আমি ঠিক জানি না যে, সরকারের জি টু জি পদ্ধতিতে জনশক্তি রপ্তানি বহাল থাকল, না-কি বাদ হলো। তবে এতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের ব্যবসা উন্মুক্ত হলো। এটি আমাদের জন্য এক নব দিগন্তের সূচনা হলো। গত তিন বছর যাবৎ মালয়েশিয়াতে জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ ছিল।
টাইমওয়াচ : বর্তমানে অবৈধভাবে মানবপাচার ব্যাপক আকার ধারণ করছে। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?
মনসুর আহমেদ কালাম : দেশের সহজ, সরল  লোকজন জানে না তারা কোথায় যাচ্ছে। এসব লোককে এক শ্রেণির দালাল চক্র প্রলোভন দেখিয়ে নৌকায় করে অবৈধভাবে সাগরপথে অন্য দেশে নিয়ে যায়। এভাবে কিছু লোক বিদেশে গমন করে সফল হয়। তাদের পথ ধরে প্রলুব্ধ হয়ে সাধারণ জনগণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পা বাড়ায়। কিন্তু সবাই সফল হয় না। যার ফলে অনেক অবৈধ প্রবাসী মৃত্যুমুখে পতিত হন। এভাবে যাওয়ার আগে তারা সাগরে কিভাবে থাকবে, কি খাবে, কতটুকু জীবনের ঝুঁকি আছে এসব বিস্তারিতভাবে কিছুই জানেন না। একশ্রেণির লোক তাদেরকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যায়।
টাইমওয়াচ : অবৈধপাচার বৈধ জনশক্তি রপ্তানিতে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে বলে আপনি মনে করেন?সরকারকেই মানবপাচার বন্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে: মনসুর আহমেদ কালাম
মনসুর আহমেদ কালাম : বৈধ জনশক্তি রপ্তানির চাহিদা অনেক। অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বৈধ রপ্তানিতে ঘাটতি হচ্ছে না। দেশের লোকজন বিদেশ যাওয়ার জন্য পন্থা খুঁজে। আমরা জনশক্তি রপ্তানির খাত তৈরি করতে পারলে ৩-৪ দিনের মধ্যে আমাদের চাহিদা পূরণ হয়ে যায়। বাংলাদেশের যে শ্রমবাজার তাতে বছরে প্রায় ৩০ লাখ লোক শ্রমবাজারে আসেন। এ ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি লেভেলে কর্মসংস্থান হয় বটে; তারপরও বিরাট সংখ্যক চাকরির বাইরে থেকে যাচ্ছে। সরকার এবং বেসরকারি উদ্যোক্তারা জনশক্তি রপ্তানির পরও প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক লোক বেকার থেকে যাচ্ছে।
টাইমওয়াচ : বৈধ জনশক্তি রপ্তানির জন্য কী ধরনের নীতিমালা হওয়া উচিত?
মনসুর আহমেদ কালাম : জনশক্তি রপ্তানির জন্য প্রাইভেট সেক্টরকে আরও বেশি বেশি উৎসাহিত করা দরকার। যেসব বাজারে বর্তমানে জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ রয়েছে, সেসব দেশ খুলে দেওয়া এবং আরও নতুন নতুন বাজার অনুসন্ধান করা। এগুলো হলে প্রচুর লোকজন রপ্তানি হবে। তখন অবৈধ পথে জনশক্তি পাচার কমে যাবে।
টাইমওয়াচ : মানবপাচার বন্ধে কী করণীয় হওয়া উচিত?
মনসুর আহমেদ কালাম : কোস্টাল এরিয়া, নেভি, বর্ডার গার্ড এসব বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে। নিরাপত্তা আরও বাড়াতে পারলে মানবপাচার কমে যাবে। আমার মনে হয়, এসব বাহিনী যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করায় মানবপাচার সম্ভব হচ্ছে।
টাইমওয়াচ : মানবপাচার বন্ধে বায়রা’র কী ধরনের ভূমিকা হওয়া উচিত?
মনসুর আহমেদ কালাম : মানবপাচার বন্ধে বায়রা’র চেয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা সরকারের। বায়রা পত্র-পত্রিকায় বিজ্ঞাপন, বিভিন্ন সভা-সেমিনার করে সচেতনতা বাড়াতে পারে। কিন্তু সরকারকেই অবৈধ মানবপাচার বন্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে।
টাইমওয়াচ : মানবপাচার বন্ধে আপনার মতামত কী?
মনসুর আহমেদ কালাম : আরও বেশি বেশি দেশে জনশক্তি রপ্তানির পথ প্রশস্থ করা এবং বন্ধ থাকা দেশগুলোর দুয়ার খুলে দেওয়া।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd