ঢাকা : রোববার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পবিত্র আশুরা ১০ সেপ্টেম্বর          ডিএসসিসির ৩,৬৩১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা          রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর          সংলাপের জন্য ভারতকে ৫ শর্ত দিল পাকিস্তান          এরশাদের শূন্য আসনে ভোট ৫ অক্টোবর          বাংলাদেশে আইএস বলে কিছু নেই : হাছান মাহমুদ
printer
প্রকাশ : ০১ আগস্ট, ২০১৫ ১৩:৪৭:৫৯আপডেট : ০১ আগস্ট, ২০১৫ ১৩:৫৩:৪৯
ব্যাগিং পদ্ধতিতে থাই পেয়ারা চাষে সাফল্য
এম এ রহিম, বেনাপোল

 
দ্বিতীয় শষ্য বহুমূখিকরণের আওতায় ব্যাগিং পদ্ধতিতে তিন জাতের থাই পেয়ারা চাষ করে ভাগ্য বদলেছেন যশোরের বেনাপোল ও শার্শা উপজেলার ছয় শতাধিক কৃষক। তাদের পরিবারে ফিরেছে সুদীন। বাড়ছে উন্নত জাতের থাই পেয়ারা চাষ। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) উদ্ভাবন করা ‘থাই-৩’ হাইব্রিড জাতের পেয়ারায় ভরে গেছে শার্শার মাঠের পর মাঠ। এখন বছরের বারো মাসই পাওয়া যাবে পেয়ারা। ওই জাতের পেয়ারা চাষ করে কৃষকদের খুলে গেছে ভাগ্য। ছোট ছোট গাছে পেয়ারায় ভরে গেছে। সকল খরচ খরচা বাদে প্রতি বিঘায় ২ লাখ টাকা ঘরে আনতে পারবেন বলে আশা করছেন কৃষকরা। পোকা মাকড় ও ধুলাবালি থেকে রক্ষায় ব্যাগিং পদ্ধতিতে বাড়ছে পেয়ারা চাষ। শার্শার পেয়ারা রফতানি হচ্ছে অন্য জেলা শহরগুলোতে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) বিঞ্জানীদের উদ্ভাবন করা ‘থাই-৩’ হাইব্রিড উন্নতজাতের থাই পেয়ারা চাষ যশোরের শার্শা উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। বাগআচড়া কলোনীর মনিরুজ্জামান ও বাহাদুরপুরের আবু রায়হানের অধিক লাভের থাই পেয়ারার চাষ দেখে-৬ শতাধিক কুষক ঝুঁকেছেন পেয়ারা চাষে। এমটাই জানালের উপজেলা কৃষি অফিসার হীরক কুমার সরকার। শীতকালে পাওয়া যায় দেশি বিভিন্ন জাতের পেয়ারা। আর থাই-৩, ৫ ও ৭ জাতের পেয়ারা পাওয়া যায় বারো মাস। গাছগুলো দেখতে আকারে ছোট হলেও পেয়ারাগুলো দেশি পেয়ারার চেয়ে বেশ বড় হয়। দেখতে গোলাকার,রঙ হলুদ ও সবুজ। ওই পেয়ারার প্রতিটির ওজন ৭শ’ গ্রাম থেকে এক কেজি। প্রতি কেজি পেয়ারা বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৯০ টাকায়। অসময়ে ফল হওয়ায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে পেয়ারার। পুষ্টিগুণে ভরপুর সুশিষ্ট ফল পেয়ারা গাছে ধরছে বেশী। অধিক লাভের আশায় থাই পেয়ারা বেনাপোল, বাহাদুরপুর, ধান্যখোলা, নাভারন, কাশিপুর, ফুলসরা, বাগআচড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার এক হাজার বিঘা জমিতে থাই পেয়ারার চাষ হয়েছে বলে জানান উপজেলা কৃষি অফিসার।
প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয় ৬০/৮০ হাজার টাকা পেয়ারা বিক্রি করে আসবে দেড় থেকে দু’লাখ টাকা।“পেয়ারা ক্ষেতে সাথী ফসল হিসেবে কুল,মিস্টি কুমড়া, লাউ, ঝাল, বেগুন, টমেটো কলা,পেপে ও সবজ্বি বিক্রি করেও বছরে আয় হচ্ছে ৬ লাখ টাকার উপরে এমনটাই জানান সফল পেয়ারা চাষী মনিরুজ্জামান। বাগআচড়া বসতপুর কলোনীর মাদ্রাসা শিক্ষক পেয়ারা চাষী মনিরুজ্জামান আরো বলেন, তিনি ১৫ বিঘা জমিতে থাই পেয়ারা চাষ করে খরচ খরচা বাদে চলতি মৌসুমে ১৫ লাখ টাকা ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশা করছেন। তার দেখে অনেকেই করছেন থাই পেয়ারার চাষ।  ব্যাগিং পদ্ধতিতে থাই পেয়ারা চাষে সাফল্য
বেনাপোল থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তরে বাহাদুরপুর বাওড়ের পশ্চিমে মেদের মাঠের জমিতে কখনও কৃষকরা ফসল ফলাতে পারেনি।ওই মাঠের ৩৬ বিঘা জমি দশ বছরের জন্য ইজারা নিয়ে থাই জাতের পেয়ারা চাষ করে মাঠের বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন রায়হান উদ্দিন। রায়হান উদ্দিন বলেন, চার বছর আগে রাজশাহী থেকে ‘থাই থ্রি’ জাতের পেয়ারার চারা এনে ৪ বিঘা জমিতে পরীক্ষা মুলকভাবে চাষ শুরু করি। তিন বছরে আমার লাভ হয়েছে ১৯ লাখ টাকা।এবার ওই মাঠের ৩৬ বিঘা জমিতে ৬হাজার পেয়ারার চারা লাগিয়েছি। চলতি বছর সকল খরচ খরচা বাদে ২০লাখ টাকা ঘরে আসবে বলে আশা করছেন এই কৃষক।
বাগআচড়ার রসুলপুর মাঠে কথা হয় পেয়ারা চাষি মাছুম বিল্লাহ,মতিয়ার রহমান ,খোকন ও মিজানের সাথে। চাষী মাছুম বলেন,“এই মাঠে এবছর নতুন করে ২৫ বিঘা জমিতে পেয়ারা গাছ লাগাইছি।একদিন বাদে একদিন ৫শ’ কেজি করে পেয়ারা পাচ্ছি। প্রতিকেজি পেয়ারা বিক্রি করছি ৫০/৯০ টাকায়।” প্রতি বিঘায় দু’লাখ টাকার পেয়ারা বিক্রি করার আশা করছেন তিনি।
ফল ব্যবসায়ি যশোরে থেকে আসা পেয়ারা ক্রেতা সুমন হোসেন বলেন, পেয়ারার দাম ভাল। ফলে চাষীরা লাভবান হচ্ছে। প্রতিদিন শার্শা এলাকা থেকে  ৩ থেকে ৪ হাজার কেজি পেয়ার ক্রয় করে বিভিন্ন জেলা শহরে নিয়ে বিক্রি করেন তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা শওকত আলি বলেন, দ্বিতীয় শস্য বহুমূখিকরণের আওতায় চাষীদের বিভিন্ন সময়ে পেয়ারা চাষে প্রশিক্ষণ পরামর্শ দেওয়ায় পেয়ারা চাষ বেড়েছে কৃষকরা হচ্ছেন লাভবান। শার্শায় উৎপাদিত পেয়ারা যাচ্ছে বিভিন্ন্ জেলণা শহরে।
পেয়ারা ক্ষেতের পাহারাদার মোশারেফ হোসেন বলেন, প্রতিদিন বিক্রি করেন ৪শ কেজি পেয়ারা। ক্ষেত দেখভালের জন্য ৬ জন নিয়মিত শ্রমিক কুড়ে বেঁধে মাঠেয় থাকেন। অন্যান্য কাজের জন্য সপ্তায় দু’দিন ৫০ থেকে ৬০জন শ্রমিক এই বাগানে কাজ করেন।
চাষী নুর ইসলাম বলেন, মনিরুজামান মাসুম ভাইয়ের নতুন জাতের পেয়ারা চাষ দেখে তিনি ৮ বিঘা জমিতে থাই পেয়ারা লাগিয়েছেন ফুল ফল হযেছে ভাল। তিনি লাভবান হবে বলে আশা করেন। উপজেলায় কয়েকশ কৃষক পেয়ারা চাষে স্বালম্বি হয়েছেন বলে জানান শার্শা সদরের চেয়ারম্যান সোয়ারাব হোসেন।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd