ঢাকা : বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • রোহিঙ্গা ইস্যুতে ট্রাম্পের কাছে সহায়তা চাওয়ার কোনো মানে নেই : হাসিনা          দু-এক দিনের মধ্যে চালের দাম কমবে : বাণিজ্যমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তরিকতার কমতি নেই : ওবায়দুল কাদের          রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ত্যাগ করলে অবৈধ বলে গণ্য হবেন : আইজিপি          রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ নৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে : রুশনারা আলী
printer
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট, ২০১৫ ১৭:৩৭:০৭আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০১৫ ০৯:০৯:০৯
দেশের কৃষি ও ওষুধ শিল্পোন্নয়নে সম্ভাবনাময় নিমকে কাজে লাগাতে হবে


 

ড. নিম হাকিম; বাংলাদেশ নিম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান। তিনি সারাটি জীবন নিম নিয়ে সাধনা করছেন। নিমই তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। নিম ছাড়া তিনি কোনো চিন্তা করেন না। সম্প্রতি বিশিষ্ট নিম গবেষক ড. নিম হাকিম টাইমওয়াচ প্রতিনিধির কাছে নিমের বিভিন্ন সম্ভাবনা এবং এর ব্যবহার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ব্যক্ত করেন। এখানে তা উপস্থাপন করা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কে নাহিদ
টাইমওয়াচ : প্রতিনিয়তই আপনি একটি স্লোগান প্রচার করছেন তাহলো- ‘আমার ধর্ম দরিদ্র রক্ষা, দারিদ্র্য বিমোচন। আমার কর্ম গবেষণা, সেবা ও সাধনা। আপনিও শরীক হন’। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য জানতে চাইছি।
. নিম হাকিম : পৃথিবীর অধিকাংশে গবেষকই কোনো ব্যক্তি স্বার্থ নিয়ে চিন্তা করেন না। কোনো সফলতা নিয়েও চিন্তা করেন না। প্রকৃত গবেষকরা কোনো নেম অ্যান্ড গেম নিয়েও চিন্তা করেন না। আপনি যদি কাউকে প্রশ্ন করেন যে, তোমার ধর্ম কী? এর উত্তরে সবাই নিজ ধর্মকে সামনে রেখে বলবেন আমার ধর্ম ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ইত্যাদি। কিন্তু আমার ধর্ম সম্পর্কে কেউ জিজ্ঞাসা করলে আমি সরাসরি বলি- আমার কোনো ধর্ম নেই; আমি হিউমেনিস্ট। আমি মানবতাবাদী লোক। ধর্ম জন্মগতভাবে আমাকে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি হিন্দু পরিবারে জন্ম নিলে আজ আমার ধর্ম হতো হিন্দু। আমি খ্রিস্টানের ঘরে জন্মালে আমার ধর্ম হতো খ্রিস্ট । আমার সৌভাগ্য যে, আমি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি এবং এজন্য আমি মুসলিম। কিন্তু মানুষ হিসেবে আমার একটা ধর্ম আছে। সেই ধর্ম কী? ইসলাম যদি লিখেন সেটা পাসপোর্টের হাকিমের ধর্ম। একজন মানুষকে চেনার জন্য আমার নাম দেওয়া হয়েছে ‘হাকিম’। আসলে একজন মানুষকে শনাক্ত করার জন্য একটি নাম দেওয়া হয়। এর সাথে আরেকটি নাম যুক্ত করা হয়েছে তোমার ধর্ম কী। কিন্তু আমি একজন মানুষ হিসেবে আমার ধর্ম কী! মানুষ হিসেবে আমার ধর্ম হচ্ছে আমি একজন মানবতাবাদী। আমি মানুষের কল্যাণ চাই। পৃথিবীর সমস্ত নবী রাসূলের ধর্ম হচ্ছে- মানব ধর্ম। মানবতার সেবায় আমি নিম নিয়ে গবেষণা করেছি, সাধনা করেছি। এ গবেষণার দ্বারা সেবা মানুষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়ে আমি সার্থক। আমরা যারা গবেষণা বা ব্যবসা করি, আমাদের ধর্ম-কর্ম সব আলাদা। আমার এক নম্বর ধর্ম হচ্ছে ধরিত্রী রক্ষা। ধরিত্রী যদি রক্ষা না হয় তাহলে আমি আপনি কোনো উদ্ভিদ, কোনো প্রাণী পৃথিবীতে টিকে থাকবে না। আর যদি ধরিত্রী রক্ষা না করি; তাহলে পৃথিবীর সব কিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। এজন্য একটা জীবের প্রথম ধর্ম হওয়া উচিত ধরিত্রী টিকিয়ে রাখা। দ্বিতীয়, দারিদ্র্য বিমোচন। সারা পৃথিবীর মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় ইয়াং জেনারেশন থেকে শুরু করে যে সন্ত্রাসী কর্মকা- চলছে এর মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে দারিদ্র্য। পৃথিবীতে দরিদ্রতা থাকলে অবশ্যই অপরাধ থাকবে। কারণ ক্ষুধার জ্বালা এবং যৌন জ্বালা এই দু’টো হলো মানুষের আদিম প্রবৃত্তি। আমাদের পূর্ব পুরুষ আদম ক্ষুধা লাগায় আল্লাহ তায়ালার নিষেধ থাকা সত্ত্বেও বেহেস্তে ন্ধম ফল খেয়েছেন। আর এ কারণে তিনি বেহেস্ত থেকে বহিষ্কার হয়েছেন। বেহেস্তে থেকে আদম (আ.) প্রথম অনুভব করেছেন সেক্স। এ কারণে আল্লাহ তাঁর দেশের কৃষি ও ওষুধ শিল্পোন্নয়নে সম্ভাবনাময় নিমকে কাজে লাগাতে হবে
কাছে মা হাওয়াকে পাঠিয়েছেন। সমস্ত যুদ্ধবিগ্রহ, উন্নয়ন-অনুন্নয়নের মূল হচ্ছে ফুড অ্যান্ড সেক্স। পাহাড়ের মানুষ দরিদ্র। পাহাড় এখন ন্যাড়া হয়ে গেছে। সেখানে গাছপালা নেই। কাপ্তাই লেকে মাছ নেই। হাওড়-বাওড়ের মাছের পোনা পর্যন্ত মানুষ খেয়ে ফেলে। এর কারণ কী? মানুষ দরিদ্র। ক্ষুধার জ্বালায় মানুষ মৃত মানুষের মাংস পেলেও খায়। এই দারিদ্র্য যতদিন পৃথিবীতে থাকবে ততদিন ভায়োলেন্স থাকবে। কোনো শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না। যুদ্ধবিগ্রহ থাকবে এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস হবে। আর প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অধিকাংশ দরিদ্র লোক নির্ভরশীল। শিল্প কারখানার বর্জ্য প্রকৃতি যতটুকু না ধ্বংস করছে তার চেয়ে দারিদ্র্য প্রাকৃতিক পরিবেশকে ধ্বংস করছে এটা কেউ বলছে না। কারণ এটা প্রকাশ করলে দারিদ্র্য বিমোচন করতে হবে। দারিদ্র্য বিমোচন করতে হলে ধনী দেশগুলোকে দারিদ্র্য হার বেশি দেশগুলোতে টাকা দিতে হবে। অথচ তারা দারিদ্র্য টিকিয়ে রাখবে। মানুষকে দরিদ্র্য থেকে মুক্তি দিবে না কখনো। আর মুক্তি যদি না দেয় তাহলে পৃথিবীতে পরিবেশও রক্ষা হবে না, শান্তিও প্রতিষ্ঠা হবে না। শান্তির সাথে দু’টো জিনিস লিংক রয়েছে। একটি দরিদ্রতা আরেকটি পরিবেশ। সমস্ত ধর্মের মূল কথা শান্তি। আমার ধর্ম ধরিত্রী রক্ষা করা, দরিদ্র মানুষের জন্য কাজ করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। একটা কাজ করতে গেলে প্রথমে চিন্তা করতে হবে এই কাজটি আমি কেন করব, এই কাজটি করলে বেনিফিট আমার একার নাকি অন্য মানুষের, নাকি বেনিফিট সবকিছুর। অর্থাৎ আমি যে গ্রহে বাস করি তার মানুষসহ সব প্রাণির বেনিফিট আছে কিনা। আমি নিম নিয়ে গবেষণা করে দেখেছি- নিম ধরিত্রী, দারিদ্র্য দু’টোর ব্যাপক উপকারে আসে।
টাইমওয়াচ : কীভাবে নিম ধরিত্র, দারিদ্র্যের উপকারে আসছে?
. নিম হাকিম : নিম নিয়ে গবেষণার সময় আমি চিন্তা করেছি এর মধ্যে কী কী উপাদান সেটি প্রথমে আমার জানতে হবে। প্রথমে গবেষণা করেছি, এর ভিতরে উপকারী কী উপাদান আছে অর্থাৎ অ্যালকোহল কী আছে। এরপর আমি ল্যাবরেটরিতে গবেষণা করেছি এর ভিতরে উপকারী উপাদান কী আছে। এই উপাদানগুলো সেপারেশন করলে অথবা একসাথে করলে কী হবে। এরপর চিন্তা করেছি নিম হচ্ছে একটি গাছ। এটি পরিবেশও রক্ষা করতে পারে। আমি গবেষণা করেছি, নিম গাছ কী পরিমাণ ছায়া দেয় এবং বায়ুকে ঠা-া করে। আমি হিসাব করে দেখেছি অন্য গাছের তুলনায় ২-৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা নিম গাছের নিচে কম থাকে। নিম বায়ু ভালো রাখে। নিম পোকা-মাকড় তাড়িয়ে দেয়। নিম রিপিলেন্স। এ কারণে নিম গাছ মানুষ বাড়ির দক্ষিণ দিকে লাগায়। যে সময় দক্ষিণা বাতাস বয়ে যায় সে সময় প্রকৃতিতে রোগ ব্যাধির প্রকোপ বেশি থাকে। এরপরে গবেষণা চালাই নিমের কাঠের কী মূল্য। তখন আমি নিজে নিমের কাঠে বসি নিমের টেবিলে লেখাপড়া করি এবং নিমের খাটে ঘুমাই। এখানে আমি গবেষণা করে পেয়েছি নিম কাঠ থেকে চামড়ার ক্যান্সার হয় না। নিম কাঠ কখনও ঘুনে ধরে না। অর্থাৎ কোনো পোকাই ঘরে ঢুকবে না এবং দেশের কৃষি ও ওষুধ শিল্পোন্নয়নে সম্ভাবনাময় নিমকে কাজে লাগাতে হবে
নিম কাঠ পোকায় খাবে না। সেগুন কাঠের পরেই নিম কাঠের দাম। আমি এভাবে নিমের কাঠের ব্যবহার জানলাম, বাতাসে নিম গাছের উপকারিতা জানলাম। নিমের ফুল ফুটলে প্রচুর পরিমাণ মৌমাছি আসে এবং নিমের মধু হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে গুণসম্পন্ন মধু। এটা ফ্রান্সে গবেষণা করা হচ্ছে। নিম হচ্ছে ডিপ গ্রীন। সব গাছের দিকে তাকালে চোখ ভালো থাকে। নিম গাছের দিকে তাকালে চোখ বেশি ভালো থাকে। আমরা যারা চশমা ব্যবহার করি তাদের এক বছর পর চশমা নাও লাগতে পারে। এরপর আসা যাক নিমের পাতার ব্যবহারে। আমি পাতা নিয়ে গবেষণা করে ক্লোরোফিল অর্থাৎ সবুজ পদার্থ পাই। দেখা যায়, টুথপেস্টে ফ্লুরাইড ব্যবহার করছে। এই ফ্লুরাইড হচ্ছে পয়জন। প্রেসের কালি থেকে এটি আসে। এই টুথপেস্টে দাঁতের ক্ষতি হচ্ছে। আমার উৎপাদিত টুথপেস্টে ফ্লুরাইডের পরিবর্তে নিমের ক্লোরোফিল ব্যবহার করেছি। এটা মানুষের অনেক উপকারে আসছে। আর এর ব্যবহার সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া গেলে বাংলাদেশে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আসবে। নিমের ফলের ভিতরে তেল আছে যা বাংলাদেশের মানুষ আজও জানে না। আমি নিজের তত্ত্বাবধানে নিমের ফল থেকে তেল বের করি। এই তেল আমি টুথপেস্টে ব্যবহার করি, মাথার তেলে ব্যবহার করি। সাবানে ব্যবহার করি। এই সাবান ব্যবহার করলে মানুষের চর্মরোগ হয় না। নিমের পাতার পাউডার দিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করি তাতে মানুষে ব্রণ নির্মূল হয়। নিমের খড়িতে পাঁচ ভাগ নাইট্রোজেন আছে। নিমের তেলে টেস্টি সাইড কনটেইন পৃথক না করলে এটা ব্যবহার করতে পারবেন। সিলেটের চা বাগানে উইপোকা নিধনে নিম গাছের ব্যবহার হচ্ছে। নিম গাছের পাতা, ডাল, ফুল, ফল, ছাল দিয়ে বাংলাদেশে বিশাল কর্মসংস্থান হতে পারে। নিম কাজে লাগছে কসমেটিকসে, টয়লেট্রিজে, কৃষিতে এমনকি টেরিনারি মেডিসিনেও ব্যবহার হচ্ছে। পুরো ভারত উপমহাদেশে আমার টেরিনারি মেডিসিন ছাড়া পৃথিবীর কোনো টেরিনারি মেডিসিন নেই। কিন্তু এর মূল্যায়ন হচ্ছে না। এখন নিম নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে বহুমুখী গবেষণা করা দরকার। নিম নিয়ে কাজ করায় আমার একার উপকার হচ্ছে না। নিম গাছ লাগানোর জন্য মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষা হচ্ছে। আমার কবরের পাশ দিয়ে আমি ৮টি নিম গাছ লাগিয়ে রেখেছি। মৃত্যুর পরও আমি নিমের সংস্পর্শে থাকতে চাই।দেশের কৃষি ও ওষুধ শিল্পোন্নয়নে সম্ভাবনাময় নিমকে কাজে লাগাতে হবে
টাইমওয়াচ : আপনার গবেষণায় কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন কী?
. নিম হাকিম : গবেষণা করাকালে অনেক সমস্যার সম্মুখীন  হয়েছি। সেগুলো আমি এখন জানাতে চাচ্ছি না। আমি নিমের সার আর কীটনাশক তৈরি করেছি। তখন দেখা গেছে, বহুজাতিক কোম্পানি বিজ্ঞানীদের অর্থনৈতিক অর্থ দিয়ে আমার প্রসেস বছরের পর বছর ডিলে করে দিয়েছে। আমাকে অনুমোদন করাতে দেয়নি। এখন বাংলাদেশে সাপ্লাই দেওয়ার জন্য সেই পরিমাণ উপাদান নেই। ফার্টিলাইজার বানাতে হলে সেই পরিমাণ গাছ থাকতে হবে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বিদেশি প্রোডাক্ট বাংলাদেশে নিয়ে আসে। সেই নেচারের কোনো কোম্পানি বের করলে বহুজাতিক কোম্পানি ওই প্রোডাক্ট ভেনিস করে দেয়। যেমন আমার নিমের টুথপেস্ট, মেসওয়াক টুথপেস্টের সাথে কনটেস্ট করে। এছাড়াও আরও অনেক প্রোডাক্টের সাথে এমনটি করে। অনেকের সাথে বনিবনা না হওয়ায় আমার শেয়ার তাদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছি। আমার কাছে আরও অনেক ফর্মুলা রয়েছে। আমি এখন নিম অর্গানিক কোম্পানি বানিয়েছি। আমার প্রোডাক্ট মার্কেটিং করছি।
টাইমওয়াচ : আপনার ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইছি?
. নিম হাকিম : আমি মানুষের সেবা করতে চাই। আমার প্রতিটি কাজই হচ্ছে সেবা। আমি নিত্য ধর্মকে কর্মের ভিতরে প্রকাশ করেছি। লালন শাহ একজন সাধক। কারো সাধনা গান, কারো মান, কারো ধন। কেউ ঘর বাড়ি ত্যাগ করে বৃন্দাবনে গিয়ে সাধনা করে। কেউ সাধনা করে মসজিদে বসে। কেউ পীর ফকিরের মাজারে যায়। কেউ গাঁজার আড্ডাখানায় যায়। কেউ হজে যায়। আমার সাধনা নিম। আমার সাধনা হচ্ছে প্রাকৃতিক সম্পদ মানুষের জন্য উপকারে কিভাবে আনা যায়। আমি এই সাধনা করি এবং সেই জ্ঞান সৃষ্টিকর্তার কাছে চাই। ‘বাংলার নবরতœ ভেষজ’ নামে আমার একটা বই হচ্ছে। বাংলার সবচেয়ে দামি ৯টি ভেষজ ঔষধি উদ্ভিদ এ বইয়ে প্রাধান্য পেয়েছে। এই ৯টি ভেষজকে চরিত্র অনুযায়ী আমি নামের ক্যাটাগরি করেছি। আমি নোবেল পুরস্কারের আশায় কাজ করছি না। সেটি করলে আমি আরও আগে নোবেল পুরস্কার পেতাম।
টাইমওয়াচ : আপনার সাধনামার্গে কতটুকু সার্থকতায় পৌঁছেছেন?
. নিম হাকিম : গবেষণার জন্য জাতীয়ভাবে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন পদক আমাকে দেওয়া হয়েছে। রোটারি ইন্টারন্যাশনাল আমাকে পুরস্কৃত করেছে। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্যাংকেটেশর ইউনিভার্সিটি আমাকে পুরস্কৃত করেছে। ইউটিউবে বা গুগুলে ড. নিম হাকিম নামে সার্চ দিলে আমার ভাষণসহ অনেককিছু প্রতিফলিত হবে।দেশের কৃষি ও ওষুধ শিল্পোন্নয়নে সম্ভাবনাময় নিমকে কাজে লাগাতে হবে
টাইমওয়াচ : বাংলাদেশে নিমের জনপ্রিয়তা কতটুকু?
. নিম হাকিম : আমার প্রথম সফলতা হলো- আমি বাংলার প্রতিটি মানুষের কাছে এই নামটি পৌঁছাতে পেরেছি। এখন বাংলাদেশে নিম চেনে না এমন মানুষের সংখ্যা খুব কম। আমি নিম সম্পর্কে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছি, পত্রিকায় লিখেছি, প্রায় সব টিভি চ্যানেল আমার সাক্ষাৎকার প্রচার করেছে। আমি প্রথম বাংলাদেশ নিম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা। এর আগে ইউনিলিভার, কিউট নামে প্রসাধন সামগ্রী নিম বের করেছে। এসিআই গ্রুপ এক কোটি ৫৬ লাখ টাকা দিয়ে আমার নিমের ফর্মুলা কিনে নিয়েছে। ওয়েব সাইটে নিমের সাথে হাকিমের নাম যুক্ত আছে। সারা পৃথিবীতে মানুষ আমাকে চিনে নিম দিয়ে। আমাকে ‘নিম হাকিম’ নামে চিনে। নিমের নামের সাথে যুক্ত হয়ে আমার নাম হয়ে গেছে নিম হাকিম। এখানেই আমার সাফল্য। আমি নিমের চারা উৎপাদন করি, নিমের প্রোডাক্ট তৈরি করি, নিম নিয়ে গবেষণা করি। এটাই আমার সফলতা।
টাইমওয়াচ : আমরা নিমের সম্ভাবনাকে আরও ডেভেলপমেন্টে কিভাবে নিয়ে যেতে পারি?
. নিম হাকিম : সারা দেশে নিম কেন পাওয়া যায় না। এ কারণে যে, একজন বিজ্ঞানী একই সাথে ব্যবসায়ী এবং গবেষক হতে পারে না। কারণ ব্যবসা হচ্ছে- শুধুমাত্র অর্থ উপার্জনের জন্য। আমি একজন গবেষক। আমি সবসময় আমার রিসার্স নিয়ে চিন্তা করি। প্রোডাক্ট কিভাবে ডেভেলপ করা যায় তা নিয়ে চিন্তা করি।
টাইমওয়াচ : আপনি কী ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট চান?
. নিম হাকিম : কোনো সাপোর্ট লাগবে না। আমি শুধু বুদ্ধি দেব সে অনুযায়ী মানুষ কাজ করবে। আমার নবরতœ বইয়ের ভিতরে ৯টি ভেষজ দিয়ে মডেল দিয়েছি। যেমন- সজনে গাছ দিয়ে আমি দেব বেড়া। আমি ওয়াল দেব না। জীবন্ত বেড়া দেব। যে গাছের ছাল বিক্রি হবে, ফল বিক্রি হবে এবং যে গাছের পাতাও বিক্রি হবে সেই গাছ দিয়ে বেড়া দিব। ফসলের ক্ষেতে ফসল বুনব আর এগ্রো ফরেস্টের মতো ক্ষেতে আইল দিয়ে নিম গাছ লাগাব। আমার পাকা নিম খেতে আসবে পাখি আর সে পাখি খেয়ে যাবে পোকা। পোকার জন্য ফসলের ক্ষেতে কীটনাশক দিতে হবে না। জমি চাষ করার সময় নিমের খৈল জমিতে দিলে সে মাটিতে কোনো পোকামাকড় আক্রমণ করবে না। নিমের বাতাসে ফসলের ক্ষেতে কোনো ভাইরাস আসবে না। নিম গাছের পাতা ফসলের ক্ষেতে পড়লে মাটির এসিড এবং এলকেলি ব্যালেন্স করবে। নিম গাছের শিকড় মাটির গভীর থেকে পানি ফসলের ক্ষেতে ধরে রাখবে। সাগর তীরে ধান হয় না। সাগরের পাড় দিয়ে নিম গাছ লাগালে ২ বছর পরে তাতে কোনো লবণাক্ততা থাকবে না। সাগর পারে প্রচুর ধান উৎপাদন সম্ভব। কিছু গাছ আছে গাছের সাথে গাছ ওঠে। যেমন- ঘৃতকুমারী অন্য গাছের সাথে লাগালে সে বেয়ে বেয়ে ওপরে উঠে যাবে। এখানে অন্য জীবজন্তু এমন কী সাপ পর্যন্ত কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আমার নবরতœ বইয়ে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। আমার উৎপাদিত মডেল গ্রহণ করলে একটি ফসলের ক্ষেত থেকে সারা বছরই ফসল পাওয়া যাবে ।দেশের কৃষি ও ওষুধ শিল্পোন্নয়নে সম্ভাবনাময় নিমকে কাজে লাগাতে হবে
টাইমওয়াচ : এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে আপনার স্বপ্ন কী?
. নিম হাকিম : আমার স্বপ্ন, আমার ধর্ম-কর্ম সব আমি দিয়ে দিয়েছি। মানুষের সব ইচ্ছা, আশা, স্বপ্ন পূরণ হওয়ার গ্যারান্টি নেই। কিন্তু আমি যে স্বপ্ন সাধনা করি তা যদি মানুষের মঙ্গলের জন্য হয়; সেটা যেন বাস্তবায়ন হয়। আর সেটা অমঙ্গলজনক হলে সেটা যেন বাস্তবায়ন না হয়।  আমি বছরের বেশির ভাগ সময় বসবাস করি মালয়েশিয়ায়। সেখানে এক ভদ্রলোকের সাথে বনের মধ্যে বসে অর্গানিক এবং হালাল ফুড তৈরি করছি। আদা, হলুদ, রসুন, ওই দেশের কিছু স্পাইসি, ফ্রুট এগুলো অর্গানিক করছি, হালাল করছি। ওই ভদ্রলোক এগুলো প্যাকেটজাত করে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছেন। একটা কোম্পানির সাথে কাজ করতে গিয়ে কোম্পানি চুক্তি ভঙ্গ করলে আমি বাংলাদেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম। এরপর টানা ২২ মাস পর দেশে এসে ছোট্ট একটি বাসা নিয়ে কাজ করছি। এখন দেখি কতদূর কী করা যায়। আমি ছয় মাস টেস্টিং পিরিয়ড হিসেবে এখন কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। ৯/১০ জন ছেলেকে নিয়ে আমার ইচ্ছামতো এবং নির্দেশনায় কাজ করাতে পারলে এদেশকে আগামী ৩ বছরে চেঞ্জ করে দিতে পারতাম। পৃথিবীতে একা কেউ কিছু করতে পারে না। আমি এতদূর পর্যন্ত শুধুমাত্র নিম দিয়ে এখানে এসেছি।
টাইমওয়াচ : নিমকে ডেভেলপমেন্টে আনতে সরকারের সহায়তার ধরন কেমন হওয়া উচিত?
. নিম হাকিম : প্রধানমন্ত্রী যদি বলে এ দেশ পরিবর্তন হয়ে যাবে তাহলে কী দেশ পরিবর্তন হবে। তিনি কী একা দেশ পরিচালনা করতে পারেন? এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। ক্লিনিং বাংলাদেশ উইথ নিম ফর পোভারটি এ্যানিমেশন সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড প্রজেক্ট আমি প্রধানমন্ত্রীর বরাবর পেশ করেছি। অথচ আজ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার জন্য আমাকে একটি চিঠি ইস্যু করে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। নিমের উন্নয়নে ব্যাংকের সহায়তা নিতে গেলে নানান কাগজপত্র দাখিল করতে বলবে। যেমন ৫০ কোটি টাকা লোন চাইলে ১৫০ কোটি টাকার মর্টগেজ চাইবে। এসব সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd