ঢাকা : রোববার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পবিত্র আশুরা ১০ সেপ্টেম্বর          ডিএসসিসির ৩,৬৩১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা          রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর          সংলাপের জন্য ভারতকে ৫ শর্ত দিল পাকিস্তান          এরশাদের শূন্য আসনে ভোট ৫ অক্টোবর          বাংলাদেশে আইএস বলে কিছু নেই : হাছান মাহমুদ
printer
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট, ২০১৫ ১৭:৫৪:৪৪
সুতা, পুঁথির নকশী বুনছে শার্শার হাজারও নারী
এম এ রহিম, বেনাপোল

 
সুঁই-সুতা, জরি ও পুঁথির নকশী বুনছেন শার্শার হাজার ও নারী। বেকার নারী গৃহিণীরা কাজের ফাঁকে করছেন সুঁই সুতার কাজ। এ পেশায় নিয়োজিত অনেক নারীর পরিবারে ফিরেছে সুদীন। সুঁই, সুতা, জরি ও পুঁথি দিয়ে নকশী তোলা বিদেশী মানের পাঞ্জাবী ত্রিপিস শিশু পোশাক ও হ্যান্ডব্যাগ যাচ্ছে ঢাকা খুলনা যশোর সহ বিভিন্ন বস্ত্র বিতানে। বিভিন্ন শপিংমলে পাওয়া যাচ্ছে র্শ্শাার নারী উদ্যোক্তা রোকসানার আতিক কুইন ফ্যাশান ওয়াল্ডের বস্ত্র ও ব্যাগ। দেশজুড়ে ঈদের বাজারে শার্শার পাঞ্জাবী ও পুথির তৈরী ব্যাগের কদর বেড়েছে-নারীদের তৈরি নকশী পাঞ্জাবী, পুঁথির ব্যঠস বেশী যাচ্ছে ঢাকায়। নারী উদ্যোক্তা রোকসানা গড়েই চলেছে হাজার ও নারী কারিগর।নির্যাতিত অবহেলিতদের আতœকর্মসংস্থান মুখি করা ও নারীদের পাচার প্রতিরোধে কাজ করছেন তিনি। দর্জি, আইটি, বিউটি পাল্লার ও নকশী সহ বিভিন্ন প্রশিক্ষন মূলক কর্মকা- পরিচালনা করে রোকসানা শ্রেষ্ট নারী উদ্যক্তার পদক পেয়েছেন।   

নারীর হাতের স্পর্শ ও ভালবাসায় তৈরী পোষাক ও ব্যাগ অনেকের ঈদ আনন্দ হয়ে উঠবে প্রানবন্ত। এবার ঈদে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ১ লাখ  কারুকার্য খচিত নকশী পাজ্ঞাবী শিশু পোষাক ও ব্যাগ ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানান নারী উদ্যোক্তরা। নকশী কাজের ধুম পড়েছে শার্শায়-শিক্ষাথী, বেকার যুবতী, প্রতিবন্ধি চাকরীজীবী ও গৃহবধুরা অবসর সময়ে করছেন সুই-সুতার কাজ। অনেক নারী নিচ্ছেন প্রশিক্ষন।
কলেজ ছাত্রী মরিয়ম বলেন, লেখপড়া ও গৃহের কাজের ফাঁকে করছেন সুই সুতার কাজ ভালই হচ্ছে উপার্যন। প্রতিবন্ধি নারী বেবী নাজরিন বলেন, আজ আতিক কুইন্সে প্রশিক্ষন নিয়ে  সুই সতা পুথির কাজ করে তার সংসার চলছে ভাল। একই কথা বলেন অসহায় পরিবারের স্বামী পরিত্যাক্তা নারী উলাশি গ্রামের জিনাত রেহেনা কুইন্স ও সাড়াতলা কলেজের প্রভাষক মনিষা পাত্র। তারা বলেন, কাজের ফাঁকে নকশি করি মজার লাগে সময় কাটে ভাল,উপার্যন ও হয় বেশ।সুতা, পুঁথির নকশী বুনছে শার্শার হাজারও নারী
লানিং এন্ড আর্নিং প্রজেক্ট এর ঢাকা ভিজুয়্যাল সিষ্টেম এর চীপ ট্রেনিং অফিসার দিদারুল মাওলা বলেন, নারীদের কর্মসংস্থান মুখি কওে গড়ে তুরচে কাজ করছে সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্টান। নারীদের প্রশিক্ষিত নারী কর্মি হিসাবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে নাভারনের আতিক ফ্যাশান।
শার্শার নাভারনে ‘আতিকা কুইন ফ্যাশন ওয়ার্ল্ড’ পরিচালক নারী উদ্যোক্তা রোকসানা পারভিন বলেন,বাবার সহযোগিতা এবং স্বামীর অনুপ্রেরণায় সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলার অবহেলিত বঞ্চিত, স্বামী পরিত্যক্তা, প্রতিবন্ধি নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের কর্মক্ষম করে তুলেছি।সরকারি সহযোগিতা পেলে প্রতিষ্ঠানটিকে আরো বড় করতে পারতাম। দেশের বিভিন্নœ শোরুমগুলোতে শার্শার পাঞ্জাবী বিক্রি হয়। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে এখান থেকে প্রায় লাখ খানেক পাঞ্জাবী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় যায়।
শার্শা উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কানিজ তানিয়া জানান, যশোরের শার্শার নাভারনে ‘আতিকা কুইন ফ্যাশন ওয়াল্ড’ এর মাধ্যমেই  উপ-জেলার ৬শ’ নারী সারা বছরই সুই সুতার কাজে ব্যস্ত থাকে। সমাজের অসহায় ওই সব নারী আজ স্বাবলম্বী।তাদের হাতের তৈরি ‘পুঁথির ব্যাগ’ আজ সমাজের প্রতিষ্ঠিত নারীদের হাতেও শোভা পাচ্ছে। বাড়ছে নারী শ্রমিকের সংখ্যা।সুতা, পুঁথির নকশী বুনছে শার্শার হাজারও নারী
নারী  শ্রমিক রুখশানা পারভীন জানান, বাবার সহযোগিতা এবং স্বামীর অনুপ্রেরণায় সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলার অবহেলিত বঞ্চিত ,স্বামী পরিত্যক্তা ,প্রতিবন্ধি নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের কর্মক্ষম করে তুলেছি। সরকারি সহযোগিতা পেলে প্রতিষ্ঠানটিকে আরো বড় করতে পারতাম। দেশের বিভিন্নœ শোরুমগুলোতে শার্শার পাঞ্জাবী বিক্রি হয়। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে এখান থেকে প্রায় লাখ খানেক পাঞ্জাবী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় যায়।
জরি পুঁথি ও সুই সুতার কাজ শুরুটা হয়েছিল চার বছর আগে ‘আতিকা কুইন ফ্যাশন ওয়ার্ল্ড’ এর মাধ্যমে। শার্শা উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সহযোগীতার মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে পাঞ্জাবির গায়ে সুই-সুতা দিয়ে নকশা তোলার কাজের প্রশিক্ষণ দেয়া। নিজস্ব বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে হাতে কাজ করা ওই পাঞ্জাবীর ব্যাপক চাহিদার সৃষ্টি হয়। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এর জনপ্রিয়তা ও ব্যাপকতা।ওই নারীরা পাঞ্জাবীর পাশাপাশি শাড়ি,শিশুদের বিভিন্ন পোশাকের নতুন নতুন ডিজাইন করা, তৈরি করা, অ্যাম্বডারির মাধ্যমে নকশা করার কাজ করেন। পুঁথি দিয়ে তৈরি ব্যাগের অনেকাংশই আমাদের নারীরা তৈরি করে থাকেন বলে জানান, ‘আতিকা কুইন ফ্যাশন ওয়াল্ড’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকশানা পারভীন।সুতা, পুঁথির নকশী বুনছে শার্শার হাজারও নারী
তিনি বলেন, সারাদিনের ঘরের কাজ শেষে অবসর সময়ে বাড়তি আয়ের আশায় এখানকার নারীরা হাতে তুলে নিয়েছিল সুই-সুতা। ব্যক্তিগত, সম্মিলিতভাবে আবার কোথাও কোথাও বিভিন্ন হ্যান্ডিক্রাফটসের মাধ্যমে শুরু করে পাঞ্জাবির ভরাট কাজসহ ব্লক, বাটিক ও অন্যান্য কাপড়ের কাজ। এভাবেই চার বছরেই নকশীর কাজে নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে পুরো এলাকায়।
উপজেলার উলাশী গ্রামের গৃহিণী তানজিলা খাতুন জানান, চার বছর ধরে সংসারের কাজের ফাঁকে ফাঁকে তিনি পাঞ্জাবি, শিশু পোশাকের সেলাইয়ের কাজ করেন। ডিজাইন অনুপাতে পাঞ্জাবীর কাজের মজুরী দেয়া হয়। একটি পাঞ্জাবির কাজ করে পাওয়া যায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।
এইচএসসি পাশের পর বিয়ে করে স্বামীর সংসারে এসে কঠোর পরিশ্রম করে ও যখন সুখ খুঁজে পাচ্ছিলাম না ঠিক তখনই এই প্রতিষ্ঠান আমাদের সংসারে সুখ এনে দিয়েছে বলেন উত্তর বুরুজবাগান গ্রামের গৃহকর্মী রেহেনা আক্তার।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd