ঢাকা : শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ১৭:২৬:১৪আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ১৯:২৭:২৬
ডিজিটাল বাংলাদেশ একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের অভিযাত্রা : মো. আব্দুল জলিল

 
জনাব মো: আব্দুল জলিল বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের ১৯৮৪ ব্যাচের একজন সদস্য। তিনি ১৯৫৯ সালে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে পুণ্যভূমি সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে অর্থনীতিতে সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন শেষে সরকারি চাকরিতে যোগদান  করেন। তিনি মাঠ পর্যায়ে সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট, সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী অফিসার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক এবং খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মাঠ প্রশাসনের এ সকল পদের দায়িত্ব ছাড়াও তিনি সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে এবং উপসচিব হিসেবে অর্থমন্ত্রণালয়েও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি দুদক এর মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। দাপ্তরিক ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত প্রয়োজনে দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব হিসেবে তিনি ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি  এই গুণী ব্যক্তির মুখোমুখি হলে তিনি টাইমওয়াচকে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রেক্ষিত ভূমি রেকর্ড ও জরিপের উপর একটি তাৎপর্যপূর্ণ সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও সম্পাদনায় বিশেষ প্রতিনিধি কাজল আরিফ

টাইমওয়াচ : ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরে ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া কতোদূর এগিয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
মো. আব্দুল জলিল : ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগের মত ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। বর্তমান সরকার ভূমি প্রশাসন, ভূমি জরিপ ও ব্যবস্থাপনা এবং ভূমি নিবন্ধন বিষয়ে গভীর দৃষ্টিদানসহ নানাবিধ কৌশল গ্রহণ করেছে যাতে এ জটিল সার্ভিসকে আরও দক্ষ ও বাজারবান্ধব করা যায়। ৭ম পঞ্চ-বার্ষিক পরিকল্পনায় এটি একটি অগ্রাধিকার খাত। মৌজা ম্যাপ ও স্বত্ত্বলিপি প্রণয়ন, মুদ্রণ ও বিতরণ এবং এ সকল সংশ্লিষ্ট সেবা ডিজিটালাইজেশন ও আধুনিকীকরণ সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। স্বত্বলিপি ও মৌজা ম্যাপ প্রণয়ন, মুদ্রণ, বিতরণ এবং তদসংক্রান্ত সেবাসমূহ প্রদানে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার অর্থাৎ ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের উদ্যোগ ও সফলতা অনেক এবং তুলনামূলকভাবে অনেকটা এগিয়ে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে অত্র অধিদপ্তরের এ পর্যন্ত অর্জন নিম্নরূপ-
(ক) দপ্তর সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি :
অধিদপ্তরের হেড কোয়াটার্স, খতিয়ান ও ম্যাপ প্রিন্টিং প্রেস, কেন্দ্রীয় রেকর্ড ব্যবস্থাপনা (ম্যাপ ও খতিয়ান) কার্যালয়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক কম্পিউটার, স্ক্যানার, ল্যাপটপ সরবরাহ সহ ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। অধিদপ্তরের হিসাব শাখা ও লাইব্রেরি অটোমেশন করা হয়েছে। প্লটারের মাধ্যমে কয়েক মিনিটের মধ্যে মৌজা ম্য্যপ এবং স্ক্যানকৃত প্রিন্ট কপি সরবরাহ করণ। অধিদপ্তরের ওয়েব পোর্টাল চালু করণ ও অধিদপ্তরে ওয়াই-ফাই চালু করণ।
(খ) স্বত্বলিপি ও মৌজা ম্যাপ সংক্রান্ত :
ডাটাবেজ ও ডাটা সেন্টার স্থাপন। ডাটাবেজ স্বত্বলিপির তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহার, এ পর্যন্ত ২০ হাজার মৌজার এক কোটির ও অধিক স্বত্বলিপি  Data base এ সংরক্ষণ করা হয়েছে। ১ লাখ ১৫ হাজার মৌজা ম্যাপ স্ক্যানকরত PDF রূপে Server এ সংরক্ষণসহ  ডিজিটাল ব্যবহার চালু করণ। ঢাকা মহানগরের সকল মৌজা ম্যাপ (চার হাজারের অধিক) এবং স্বত্বলিপি (চার লক্ষের অধিক) ডিজিটাইজড করত Server এ সংরক্ষণ ও ইহার ব্যবহার চালু করণ। খতিয়ান ও ম্যাপ প্রিন্টিং প্রেসের আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশন। ৩ টি GPS, ৫০টি ETS মেশিনসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি ক্রয়।ডিজিটাল বাংলাদেশ একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের অভিযাত্রা : মো. আব্দুল জলিল
(গ) চলমান কার্যক্রম :
৭১ হাজার মৌজা ম্যাপ স্ক্যানকরণ ও PDF তৈরিপূর্বক ডিজিটাল ব্যবহার ও প্লটারের মাধ্যমে সকল জেলায় জনগনকে অনলাইনে সরবরাহ করণ (কর্মসূচী : ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিদ্যমান মৌজাম্যাপ সিটসমূহ সংরক্ষণ, পুনঃমুদ্রণ এবং দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিতকরণ কাজ)- (১) ভূমি নীতি প্রণয়ন, (২) আইনী কাঠামো ৩টি উপজেলায় ডিজিটাল সার্ভের মাধ্যমে স্বত্বলিপি ও মৌজা ম্যাপ প্রণয়ন পূর্বক ডিজিটাল ল্যান্ড রেকর্ডস সিস্টেম চালুকরণ (৪) একটি উপজেলায় রেজিস্ট্রেশন (সাব রেজিস্টার অফিস), ভূমি ব্যবস্থাপনা AC (Land) অফিস এবং সেটেলমেন্ট অফিসকে Electronic Linkage এর মাধ্যমে সংযুক্ত করে Integrated Digital Land Record System চালুকরণ এবং (৫) জনসচেতনা বৃদ্ধির কার্যক্রম (প্রকল্প- স্ট্রেংদেনিং একসেস টু ল্যান্ড এন্ড প্রপার্টি রাইটস অব অল সিটিজেনস অব বাংলাদেশ )।  ২৫টি উপজেলায় সর্বশেষ স্বত্বলিপি ও Individual Parcel Maps এর ভিত্তিতে  Digital Land Management  System চালুকরণ। ২০টি AC (Land) অফিসে এ Data Centre স্থাপন, একটি Central Data Centre স্থাপন, ২৫টি উপজেলায় সকল খতিয়ান ও ম্যাপ স্ক্যানকরত ডিজিটালাইজেশন এবং   Database security system চালুকরণ।
প্রকল্প- স্ট্রেদেনিং গভার্নেন্স ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট (কম্পোনেন্ট বিঃ ডিজিটাল ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিষ্টেম)।
অধিদপ্তরের স্বত্বলিপি ও ম্যাপ প্রিন্টিং প্রেসের আধুনিকীকরণ ও ডিজিটালাইজেশন (প্রকল্প- স্ট্রেদেনিং অব সেটেলমেন্ট প্রেস, ম্যাপ প্রিন্টিং প্রেস এন্ড প্রিপারেশন অব ডিজিটাল ম্যাপস)।
(৫) E-Tendering System প্রবর্তণ;
(৬) Video Conferencing System চালুকরণ;
(৭) BTCL এর সহযোগিতায় Internet System চালুকরণ;
(৮) Data base  এ সংরক্ষিত স্বত্বলিপি ও মৌজা ম্যাপ সমূহের Online view চালুকরণ; [ a2i এর সহায়তায় , MOU স্বাক্ষর প্রক্রিয়াধিন]।
(৯) e-attendance System চালুকরণ;
(১০) চট্রগ্রাম, রাজশাহী ও নারায়নগঞ্জ তিন সিটি কর্পোরেশন এবং ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলা এবং মানিকগঞ্জ পৌরসভা ও ১টি গ্রাম্য উপজেলার ভূমি জরিপ ও রেকর্ড প্রণয়ন ও সংরক্ষণ প্রকল্প এর আওতায় ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট সিষ্টেম চালুকরণ;
আরও উল্লেখ্য যে, (১১) ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধিনে বাস্তবায়নাধীন ‘ডিজিটালাইজেশন অব ল্যান্ড সার্ভে, রেকর্ড প্রিপারেশন এন্ড প্রিজার্ভেশন’ প্রজেক্ট এর আওতায় ৪,৮৫,০০,০০০ (চার কোটি পচাঁশি লক্ষ) খতিয়ান কম্পিউটারাইজেশন  করতঃ জনগনকে অনলাইন সেবা প্রদান করা।
(১২) ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক ল্যান্ড জোনিং প্রকল্প বান্তবায়নাধীন আছে।  
গৃহীত সকল কার্যক্রম ২০১৫ থেকে ২০১৬ এর মধ্যে সম্পন্ন করা হবে যদিও দু-একটি বিষয় কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে।ডিজিটাল বাংলাদেশ একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের অভিযাত্রা : মো. আব্দুল জলিল
টাইমওয়াচ : সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ শ্লোগান বাস্তবায়ন ঘোষণার প্রেক্ষিত ও ইতিবাচক দিক সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি।
মো. আব্দুল জলিল : বিশ্ব অর্থনীতি বিশ্বায়ন যুগে প্রবেশের পূর্বেই উন্নত বিশ্ব তথ্য প্রযুক্তি যুগের প্রায় শিখরে আরোহন করে। তথ্য প্রযুক্তির চূড়ায় উন্নত বিশ্ব পৌছার প্রাক্কালে বিশ্বে একটি নতুন যুগের সূচনা হয়। আর সে যুগটি হচ্ছে ধারণা যুগ। উন্নত বিশ্বের এ যখন অবস্থা, বাংলাদেশের (অনেক অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের ন্যায় ) তখনও তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ে হাতেখড়ি হয়নি। বর্তমান সরকার কর্তৃক রূপকল্প ২০২১ ঘোষণার পর ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ শ্লোগান তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারে আমাদের সক্রিয় করে তুলে। যাত্রা ২০০৯ সালে এবং লক্ষ্য ২০২১ সাল। গত আশির দশকে উন্নত বিশ্ব তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারে চূড়ায় উঠে এবং নব্বই এর দশকে ধারনা যুগে প্রবেশ করে। আর আমাদের যাত্রা ২০০৯ সালে। প্রায় দু’যুগ পরে যাত্রা শুরু করলেও তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ধারনা যুগের (উদ্ভাবনী ও সৃজনশীলতা) চর্চায় আমাদের অর্জন অভাবনীয়, প্রশংসনীয় এবং রীতিমত ঈর্ষনীয় বৈকি।
ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে শুধুমাত্র তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বুঝায় না। ডিজিটাল বাংলাদেশ একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের অভিযাত্রা। আর যে লক্ষ্য হচ্ছে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ। একটি জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ যা হবে তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর এবং সুখী সমৃদ্ধ অন্ততঃ মধ্য আয়ের দেশ। এ লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন, ৬ষ্ঠ ও ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, সেক্টর ডেভেলাপমেন্ট প্ল্যান, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য নির্ধারণপূর্বক সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা। এমটিবিএফ ইত্যাদি রূপকল্প-২০২১ এর বাস্তবায়নের অন্যতম দিক। এ ছাড়াও শুদ্ধাচার কৌশল, তথ্য অধিকার আইন, বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (APA), মধ্যবর্তী বাজেট অর্থায়ন (MTBF) ইত্যাদি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন চর্চা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অভিযাত্রায় এক একটি মাইল ফলক। মুক্ত বাজার অর্থনীতি ও বিশ্বায়ন যখন মধ্যাকাশের সূর্যের ন্যায় জাজ্বল্যমান তখন তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল ধারনার চর্চা ব্যতীত টিকে থাকা আদৌ কঠিন। তাই ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ শ্লোগান ও এর বাস্তবায়ন সময়োপযোগী, দুরদর্শী, বাস্তব ভিত্তিক এবং সহজাত দক্ষতা সম্পন্ন নেতৃত্ব জাত।
টাইমওয়াচ : ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে সরকারের সাফল্য কতভাগ অগ্রসর হয়েছে বলে আপনি মনে করেন?    
মো. আব্দুল জলিল : ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সরকারের সাফল্য অসাধারন এবং বিস্ময়কর। পঁচিশ হাজারেরও বেশী ওয়েব-পোর্টাল, পাঁচ হাজারের অধিক ইউনিয়ন ও পৌরসভা তথ্য সেবা কেন্দ্র, প্রায় অর্ধশত e-Service, National e-Service (NESS) চালু কার্যক্রম, ভিডিও কনফারেন্সিং, ই-ফাইলিং, ই-জন্ম নিবন্ধন ইত্যাদিসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সভা, সেমিনার /ওয়ার্কশপ, ডিজিটাল ফেয়ার এবং পুরস্কার সাফল্যের পরিমাপক। ইন্টারনেট, ব্রডব্যান্ড, IT village স্থাপন, তথ্য প্রযুক্তি ও প্রকৌশলে শিক্ষিত জনবল, ফ্রিল্যান্সার, মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বিবেচনায় বাংলাদেশ এ খাতে বিশ্বের অন্যতম গতিশীল দেশ (আইটিইউ এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী)। জাতিসংঘের ২০১৪ সনের E-Government Survey Report অনুযায়ী বাংলাদেশ দু’ধাপ এগিয়েছে। বিশ্বের নামীদামী IT Company ও এ খাতের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগ করছে এবং আগ্রহী। সবকিছু মিলিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে সরকারী ও বে-সরকারী উদ্যোগ এবং অর্জন আমাদের কাংখিত লক্ষ্যে পৌছার নিশ্চিত মানদন্ড। বর্তমান সাফল্য কাংখিতমাত্রার চেয়েও অধিক।ডিজিটাল বাংলাদেশ একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের অভিযাত্রা : মো. আব্দুল জলিল
টাইমওয়াচ : আপনি কি মনে করেন ২০২১ সালের মধ্যে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর এর সকল কার্যক্রম ডিজিটালাইজড প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে?
মো. আব্দুল জলিল : ভূমি জরিপ কার্যক্রম একটি জটিল ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ বিষয়। পৃথিবীর অনেক দেশও জটিল বিষয়কে আধুনিকীকরণ ও ডিজিটালাইজেশনে ২০-২৫ বছর সময় লাগিয়েছে। ২০২১ এর মধ্যে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হলেও ভূমি তথ্য ব্যবস্থাপনায় ডিজিটালাইজেশন এ সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না। কারণ ‘ভূমি তথ্য ব্যবস্থাপনা’ ডিজিটালাইজেশনের চূড়ান্ত ও পূর্নাঙ্গ রূপ যা অনেকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সংশ্লিষ্ট।
টাইমওয়াচ : ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে আপনার অবস্থান থেকে সরকারকে কিভাবে সহযোগিতা করতে পারেন?
মো. আব্দুল জলিল : ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসনের একজন সদস্য হিসেবে আমাদের দায়িত্ব ও করণীয় অনেক। প্রশাসনের বিভিন্ন পদে (যেমন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, বিভাগীয় কমিশনার, যুগ্ম-সচিব, অতিরিক্ত সচিব ইত্যাদি) দায়িত্ব পালনের সময় Online Service চালুকরণ, web-portal স্থাপন NESS, UISC, e-f©iling, Innovation Training, Citizen Charter, বিভিন্ন সেক্টরে e-service Pvjy, Digital Festival, IT village I IT Park   স্থাপন সহ নানাবিধ কাজে ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগতভাবে কাজ করেছি এবং ইত্যাদির সফল বাস্তবায়নে সক্ষম হয়েছি। যখন যে পদের দায়িত্বে থাকবো সেখান থেকেই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়নে সক্রিয় থাকবো এবং সকল বাস্তবায়নে কাজ করে যাবো। কারণ ডিজিটাল বাংলাদেশ মানেই ক্ষুধা ও দারিদ্যমুক্ত দেশ এবং জ্ঞানভিত্তিক একটি সমাজ গঠন যা হবে তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর, মুক্ত চিন্তার অধিকারী এবং একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ। জন সচেতনতা সৃষ্টি, তাদের উদ্বুদ্ধকরণ; উর্দ্ধতন ও অধ:স্তন সহকর্মীদের Mindset পরিবর্তন, অধ:স্তনদের প্রশিক্ষণ প্রদানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সরকারের গৃহীত কার্যক্রম বাস্তবায়ন  একজন Civil Servant  এর মূল দায়িত্ব।
টাইমওয়াচ : আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
মো. আব্দুল জলিল : ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মূল দায়িত্ব হচ্ছে স্বত্বলিপি ও মৌজা ম্যাপ প্রণয়ন, মুদ্রণ এবং বিতরণ। আর এ সকল কাজ সম্পন্ন করতে হলে Cadastral Survey   প্রয়োজন হয়। Cadastral Survey  এর মাধ্যমে সংগৃহীত হয় Cadastral Information  যা ভূমি তথ্য ব্যবস্থাপনার জন্য অপরিহার্য্য। ‘ভূমি তথ্য ব্যবস্থাপনা’ গড়ে তোলাই আমাদের স্বপ্ন, তথা আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। বাংলাদশ ভূমি তথ্য ব্যস্থাপনা (BLIS) যদি বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে ভূমি ব্যবস্থাপনা ভূমি সংশ্লিষ্ট সকল কাজ অতিসহজে সম্পন্ন করা যাবে। ফলে মামলা মোকদ্দমাসহ দাঙ্গাহাঙ্গামা, প্রতারণা, জবর-দখল, ভূমির অপব্যবহার ইত্যাদি হ্রাস পাবে, অনেকাংশে নির্মূল হবে। অন্যদিকে জনগণের হয়রানি তথা তাদের ব্যয়, যাতায়াত এবং সময় বাঁচবে। এককথায় বলা যায়, ইহার ব্যবহার ভূমি ব্যবস্থাপনায় এবং এ সংক্রান্ত সেবা সমূহে সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd