ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ১৮:৪৭:০৮আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ১৯:৩৩:১৫
সিলিকন ভ্যালীর সাথে বাংলাদেশের সেতুবন্ধন আইসিটি সেক্টরে এক নবদিগন্ত : শামীম আহসান
শামীম আহসান,প্রেসিডেন্ট, বেসিস ও জেনারেল পার্টনার, ফেনক্স ভেঞ্চার ক্যাপিটাল

 
শামীম আহসান; দেশের তথ্য ও প্রযুক্তির শীর্ষ সংগঠন বেসিস-এর সভাপতি। তিনি বেসিস-এর সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক পদেও রয়েছেন। তিনি দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক। এছাড়া তিনি ফেনক্স ভেঞ্চার ক্যাপিটালের জেনারেল পার্টনার। প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সেরও সদস্যও জনাব শামীম। দেশের সুপরিচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান এখনই ডটকমের চেয়ারম্যান এবং সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান বেঞ্চমার্ক ই-জেনারেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসাবেও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন জনাব শামীম। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ‘সেরা তরুণ উদ্যোক্তা’ পুরস্কারপ্রাপ্ত এ সংগঠক ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সরকার, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে চলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন চিফ রিপোর্টার কাজল আরিফ

টাইমওয়াচ : শুরুতেই আপনার কাছে ফেনক্স ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এর বাংলাদেশে ইনভেস্টমেন্ট সম্পর্কে জানতে চাইছি।
শামীম আহসান : তথ্যপ্রযুক্তি খাতের একজন ব্যবসায়ী হিসেবে আমি প্রথম থেকেই এই সেক্টরের উন্নয়নের জন্য কাজ শুরু করি। এরপর আমি প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার গ্লোবাল ফান্ড বাংলাদেশে নিয়ে আসি। আমিই প্রথম বাংলাদেশি যে, সিলিকন ভ্যালি’র এরকম এত বড় একটি গ্লোবাল ফান্ডের জেনারেল পার্টনার হয়েছি। এই ফান্ডের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশে আইসিটি সেক্টরে ২শ’ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার ঘোষণা দিয়েছি যেটি প্রায় ১৬শ’ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে আমরা প্রিয় ডট কম, সহজ ডট কম, হ্যান্ডি মামা ডট কম, স্মার্ট কম্পেয়ার ডট কমসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানিতে ইনভেস্ট করেছি। আমরা গ্লোবাল মার্কেট যেমন- ইউরোপ, জাপান, সিলিকন ভ্যালি, দুবাই, ইন্দোনেশিয়া, ইন্ডিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমরা ইনভেস্ট করেছি। টোকিওতে আমাদের অনেক বড় বিনিয়োগ আছে। এরই মধ্যে কিছু কোম্পানি মিলিয়ন ডলার উপার্জনে পৌঁছে গেছে। গত এক দশক ধরে আমি যে কাজটি প্রধানত করে আসছি তাহলো- বাংলাদেশকে আইসিটি’র একটি মডেল দেশ হিসেবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরা। এজন্য আমি প্রথমত ইউরোপ, আমেরিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সারা বছর রোড শো’ করি এবং বিভিন্ন ক্যাম্পেইনে যাই। এ সকল শো’ এবং বিভিন্ন ক্যাম্পেইনে আমরা পেজেনটেশন দিই এবং বিনিয়োগকারীদেরকে বাংলাদেশে ব্যবসা করার জন্য যে সুযোগগুলো আছে তা তুলে ধরি। বাংলাদেশের সাথে সিলিকন ভ্যালীর গভীর যোগসূত্র আমিই স্থাপন করেছি। এটি আগে কেউ চিন্তা করেনি। স্ট্যামফোর্ড, হার্ভার্ড, এমআইটিসহ বিশ্বের সব সেরা ইউনিভার্সিতে যত নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি স্টুডেন্ট রয়েছে এবং ওখানকার স্থানীয়দের বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য যুক্ত করেছি। আমি বেসিস স্টুডেন্ট ফোরাম করেছি; যার মাধমে বিশ্বের ৫০টি ইউনিভার্সিটিতে ব্রাঞ্চ গড়ে তুলেছি। ওইসব স্টুডেন্টদের সাথে আমাদের দেশের ইউনিভার্সিটি ও স্টুডেন্টদের সাথে কানেক্ট করে দিয়েছি ; যাতে করে তাদের চাকরি এবং হায়ার এডুকেশনের সুবিধা হয়। বাংলাদেশ থেকে এটি আগে কেউ করেনি। একমাত্র আমিই বাংলাদেশ থেকে তা করছি। যাতে আমাদের দেশের সাড়ে ৩ কোটি স্টুডেন্ট উপকৃত হয়, গাইড লাইন পায়। আমি তাদের পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করছি এবং পথ দেখাচ্ছি। আমি বাংলাদেশি আইটি কোম্পানিগুলোকে বিদেশে নিয়ে যাচ্ছি। যেসব কোম্পানিতে আমরা বিনিয়োগ করেছি; সেসব কোম্পিানিকে আবার ব্রান্ডিং করছি। আমি গ্লোবালি বাংলাদেশকে ব্র্রান্ডিং করার নিরন্তন নিরলসভাবে কাজ করছি।সিলিকন ভ্যালীর সাথে বাংলাদেশের সেতুবন্ধন আইসিটি সেক্টরে এক নবদিগন্ত : শামীম আহসান
টাইমওয়াচ : বাংলাদেশে এই বিনিয়োগের সম্ভাবনা কতটুকু?
শামীম আহসান : আমরা মনে করছি, এই বিনিয়োগে আগামী ৫-১০ বছরে ৫ থেকে ৭ বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি তৈরি হবে। বাংলাদেশ থেকে গুগল, ফেইসবুক, টুইটারের মতো গ্লোবাল কোম্পানি তৈরি হয়; সেরকম একটি কানেকশন আমাদের রয়েছে। বাংলাদেশে যথেষ্ট রম্যাটারিয়ালস আছে। আমরা তাদেরকে যদি স্ট্যামফোর্ড, হার্ভার্ড এর সাথে কানেক্ট করে পার্টনার শীপের সুযোগ, ল্যাব ইউজ এবং মার্কেটের চাহিদা রিসার্স করতে পারি; তাহলে বাংলাদেশ থেকে ইন্ডিয়ার রিলায়েন্স এবং টাটার মতো কোম্পানি করা সম্ভব।
টাইমওয়াচ : এতে আপনারা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন কী?
শামীম আহসান : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং আইসিটি’র অ্যাডভাইজার আমাদেরকে সব ব্যাপারে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করছেন। ৬ সেপ্টেম্বর টাস্কফোর্সে মিটিং হয়েছে। ওই মিটিংয়ে আমরা যে সব প্রস্তাব উপস্থাপন করেছি, প্রতিটি প্রস্তাব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পাস করেছেন। যেমন- ভেঞ্চার ক্যাপিটাল পলিসি হচ্ছে। ২০২৪ সাল পর্যন্ত আইসিটি খাতের ট্যাক্স মওকুফ করেছে। ই-কমার্সে ভ্যাট উঠিয়ে দিয়েছে । ছোট ছোট আইটি কোম্পানিগুলো যাতে আইপিওতে যেতে পারে, সে ব্যবস্থা করেছে। এক কথায় বলবো- আমরা অনেক ভাগ্যমান। আমরা সব সুবিধাই পাচ্ছি।
টাইমওয়াচ : তথ্য ও প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহে ঘরে বসে কেনাকাটা চলছে- এ বিষয়ে আপনার অভিমত জানতে চাইছি।
শামীম আহসান : অনলাইনে পণ্য ও সেবা বিক্রি হচ্ছে ই-কমার্স। দেশে এখন দুই শতাধিক ওয়েবসাইট এবং দুই সহস্রাধিক ফেইসবুক পেইজ ও গ্রুপের মাধ্যমে ই-কমার্স ব্যবসা চলছে। অনলাইনে কেনাকাটা এখন এতটাই সহজ ও স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে অনেকে এতে বেশ অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। ব্যস্ত নগরজীবনে ঘরে বসেই কেনাকাটার এই উপায় করে দিয়েছে অনলাইন শপিং সাইটগুলো। ডিজিটাল যুগে কষ্ট কমিয়ে এসব অনলাইন শপিং মাধ্যমগুলো। যানজট ঠেলে বাজারে না গিয়েও এখন এসব সাইটের মাধ্যমে কেনাকাটা করা যায়। পিছিয়ে নেই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেইসবুকও। জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে অনলাইন শপিংয়ের ফ্যান পেইজগুলো। ফেইসবুকে পেইজ তৈরি করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা তাতে দেশি বিদেশি নানান ধরনের পণ্য বিক্রি করছেন। ক¤িপউটারে ব্রাউজ করলেই ঘরে বসে পাওয়া যাচ্ছে নিজের পছন্দমতো পোশাক, গহনা বা নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী। অনলাইন শপিং শুনলেই অনেকে মনে করেন, টাকা দিতে হবে ডেডিট বা ক্রেডিট কার্ডে। তবে সেই সমস্যাও এখন নেই। বেশিরভাগ অনলাইন শপই ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ সার্ভিস দিয়ে থাকে। তাই ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভবিষৎ এর প্রধান এই বাজার!
টাইমওয়াচ : আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের কেনাকাটা বাজার ব্যবস্থাপনায় আগামীতে কী ধরণের অবদান রাখবে বলে আপনি মনে করেন?
শামীম আহসান : প্রায় ১২ কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী ও ৫ কোটি ৭ লাখের অধিক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর এই দেশে ই-কমার্স সবচেয়ে সম্ভাবনাময় একটি ব্যবসা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মতে, বর্তমানে দেশে প্রতিবছর ২০০ কোটি টাকারও বেশি ই-কমার্স লেনদেন হচ্ছে। লেনদেনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করতে পারলে আগামী ১০ বছরে দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় খাত হবে ই-কমার্স। তাই সিলিকন ভ্যালীর সাথে বাংলাদেশের সেতুবন্ধন আইসিটি সেক্টরে এক নবদিগন্ত : শামীম আহসান
ই-ব্যবসার প্রসার বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা শুরু করেছে। শুধু তাই নয় ই-কমার্স খাতের এই অগ্রগতি কারণে বিশ্বের অনেক দেশের কাছে রোল মডেল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ইউএনসিটিএডি) এক গবেষণায় ই-কমার্স প্রসারের ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়েছে বাংলাদেশের ই-কমার্সের অগ্রগতি। সেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে কম্বোডিয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশে গ্রাহক সেবায় অনেক ই-কমার্স সাইট কাজ করে যাচ্ছে। যারা অনলাইনে পণ্য কেনা ও পৌঁছে দেয়ার সেবা দিয়ে আসছে। বাংলাদেশে মোবাইলে টাকা লেনদেনের সেবা বিকাশের ই-কমার্স ভূমিকা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। উন্নয়নশীল দেশের জন্য কিছু সুপারিশ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। এর মধ্যে বলা হয়েছে, খাতটির উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো খাত, ট্রেড সুবিধা, আইনগত ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ই-পেমেন্ট সিস্টেম, দক্ষতা কর্মী তৈরিতে সরকারগুলোর উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ই-কমার্সের ব্যবহার, আইন, কর, সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার ই-ব্যবসার উন্নয়নের কথা তুলে ধরে জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দেশ দুটির মতো এখনই উন্নয়নশীল দেশগুলোর ই-কমার্সে যুক্ত হওয়ার সুযোগ। এই খাতটি থেকে দেশের অর্থনীতি গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগামী ৩ বছরের মধ্যে উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোতে ই-ব্যবসা ৪০ শতাংশ বাড়বে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। সেই হিসেবে আমরা আবারও বলতে পারি আগামী ১০ বছরে দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় খাত হবে ই-কমার্স!
টাইমওয়াচ : ডিজিটাল মার্কেটিং দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে কী ধরণের ভূমিকা রাখছে?
শামীম আহসান : মার্কেটিং হচ্ছে যে কোনো পণ্য বা কোনো সেবার প্রমোশন করা, প্রচার করা এবং পণ্যের ক্রেতা তৈরি করা। প্রচলিত বাজার ব্যবস্থায় সাধারণত কোনো পণ্য বা সেবার প্রচার প্রসারের জন্য বিলবোর্ড, টিভিসি (টিভি বিজ্ঞাপন), অনলাইন কিংবা প্রিন্ট মিডিয়ায় বিভিন্ন আঙ্গিকের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। এই মার্কেটিং আপনি যখন অনলাইনে করেন সেটাই ‘ডিজিটাল মার্কেটিং’। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বেই স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ মোবাইল ফোন অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের একটি ধারা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের নামি-দামি সব ব্র্যন্ড ও কো¤পানি ২০১৬ সালের মধ্যে তাদের মার্কেটিংয়ের ৪০ শতাংশ ব্যয় বরাদ্দ করবে অনলাইন খাতে (ডিজিটাল মার্কেটিং)। বাংলাদেশও এর বাইরে থাকবে না। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বেড়ে যাওয়ায় ডিজিটাল মার্কেটিং এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে যাচ্ছে। এখানকার বহুজাতিক কো¤পানিসমূহ এখনই ৩০/৩৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় করছে অনলাইন মার্কেটিংয়ে। সম্প্রতি এক গবেষনায় জানা গেছে, ২০১৬ সাল নাগাদ শুধুমাত্র ভারতেই ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে নতুন ৩০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৫০টি প্রসিদ্ধ ডিজিটাল মার্কেটিং কোম্পানি রয়েছে। যেখানে কর্মরত রয়েছে কয়েক’শ মানুষ। তাই এই খাতে আগামীতে নতুন কর্মসংস্থানের দারুন সম্ভাবনা রয়েছে।সিলিকন ভ্যালীর সাথে বাংলাদেশের সেতুবন্ধন আইসিটি সেক্টরে এক নবদিগন্ত : শামীম আহসান
টাইমওয়াচ : অনলাইনভিত্তিক যেকোনো কাজ তরুণদের বেশি আকৃষ্ট করে। এক্ষেত্রে তরুণদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
শামীম আহসান : দেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে মুক্ত পেশার বা ফ্রিল্যান্সিংয়ের বাজার বড় হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ উত্তীর্ণ বা পড়–য়া তরুণরা এ বাজারকে এগিয়ে নিচ্ছেন। বর্তমানে প্রায় সাত লাখ নিবন্ধিত মুক্ত পেশাজীবী রয়েছেন। এ খাত থেকে গত বছর প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ডলার বা ৪২৫ কোটি টাকার বেশি আয় করেছেন তরুণরা। ২০২০ সাল নাগাদ ১ বিলিয়ন ডলার আয় করার আশা করছেন শীর্ষ ফ্রিল্যান্সার ও নেতৃত্বস্থানীয়রা। ব্যক্তি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারও ফ্রিল্যান্সার তৈরিতে উদ্যোগ নিয়েছে। এই খাতে উৎসাহী করতে বেসিসের উদ্যোগে প্রতিবছর আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হচ্ছে। এসইআইপি প্রকল্পের মাধ্যমে ২৩ হাজার দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যারা বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকরি কিংবা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে নিতে পারবেন।
দেশে তরুণরা সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, কাস্টমার সার্ভিস, ডাটা এন্ট্রি, রাইটিং, স¤পাদনা, ব্লগিং, অ্যাকাউন্টিং, মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, গ্রাফিক ডিজাইন, প্রেজেন্টেশন, থ্রিডি মডেলিং, অ্যানিমেশন এবং অনুবাদের কাজ বেশি করছেন। ইল্যান্স-ওডেস্কের সূচকেও ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা এবং উপার্জন বিবেচনায় বাংলাদেশ তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে।
আমাদের তরুণ-তরুণীর সংখ্যা এখন অনেক বেশি। প্রচলিত চাকরিতে অধিকাংশই নিজের মেধার প্রতিফলন ঘটাতে পারেন না। তাই বিশ্ব পরিপ্রেক্ষিতে নিজেকে চেনানোর জন্য ফ্রিল্যান্সিং একটি বড় সুযোগ। এ সুযোগটিই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা ব্যবহার করতে পারেন। এটি তারা করছেনও। সঠিক নির্দেশনায় চললে এ খাতে বাংলাদেশ এক নম্বরে পৌঁছতে পারবে। সেই সম্ভাবনা আমাদের রয়েছে।
টাইমওয়াচ : আমরা জানি দেশের তথ্য ও প্রযুক্তি সেক্টরে আপনি একজন পুরোধা ব্যক্তিত্ব। আপনার অভিজ্ঞতার আলোকে বলবেন কী এ সেক্টরের সম্ভাবনা কতটুকু?
শামীম আহসান : বর্তমানে দেশ আইটি সেক্টরে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। প্রচলিত অন্যান্য সেক্টরগুলোর মধ্যে আইটি সেক্টর অনেকটাই আলাদা। এটা স¤পূর্ণ পরিবেশবান্ধব, জ্ঞানভিত্তিক সেক্টর ও ১০০ ভাগ ভ্যালু অ্যাডেড হয়। বেসিস এই ব্যবসাকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। দেশের বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ, বেসিস সদস্য কো¤পানিগুলোর উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে নিতে সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা, সামাজিক দায়বদ্ধতাসহ নানা কাজ করে চলেছে বেসিস। গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনার উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশ আইটি আউটসোর্সিংয়ে শীর্ষ ৩০ গন্তব্যের তালিকায় একটি। ইউরোপিয়ান কমিশন জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ২০Lসিলিকন ভ্যালীর সাথে বাংলাদেশের সেতুবন্ধন আইসিটি সেক্টরে এক নবদিগন্ত : শামীম আহসান
আইটি আউটসোর্সিং গন্তব্যের একটি। এছাড়া এটিকার্নিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষনা প্রতিষ্ঠান তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশকে শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে রেখেছে। ফলে বলার অপেক্ষা রাখে না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনার সুনাম বাড়ছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশ্বের নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলোর দৃষ্টি এদিকে। গত বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশি অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রিয় ডটকমে বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষনা দিয়েছে। এছাড়া সুইজারল্যান্ডের ইনভেস্টমেন্ট এবি কিনেভিক, নরওয়ের এসএনটি ক্লাসিফায়েডস, রকেট ইন্টারনেট, সিকসহ বিশ্বের বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানি ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করছে। এর ফলে ঐসব কোম্পানি বছরে ৪/৫ গুন রিটার্ন পাচ্ছে। প্রমাণিত হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তির পরবর্তী গন্তব্যস্থল বাংলাদেশ।
টাইমওয়াচ : তথ্য ও প্রযুক্তি সেক্টর নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ কর্ম পরিকল্পনা কী?
শামীম আহসান : বর্তমানে আমরা বেসিসের ‘ওয়ান বাংলাদেশ’ ভিশনকে সামনে রেখে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির সাথে একাত্ম হয়ে কাজ করে যাচ্ছি। ২০১৮ সাল নাগাদ ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানী আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ১০ লাখ আইটি প্রফেশনাল তৈরি এবং প্রতিবছর এক কোটি করে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। একইসাথে দেশের অভ্যন্তরীন বাজার ২-৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে। যার মাধ্যমে আগামী ২০১৮ সালের মধ্যে জিডিপিতে সফটওয়্যার ও এ খাতের অবদান হবে এক শতাংশ (১%)। এছাড়া সরকারের ক্রয় নীতি, ইইএফ তহবিলের নীতিমালা সহজীকরণের ব্যাপারে সরকারের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। সার্বিকভাবে পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এ কর্মসূচির মাধ্যমে ইন্টারনেটের ব্যবহার এবং বিশ্বব্যাপী তথ্যসূত্র ও কমিউনিটির সঙ্গে সমভাবে যুক্ত হওয়া।
আমি স্বপ্ন দেখি প্রথমত, বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ তিনটি তথ্যপ্রযুক্তি গন্তব্যস্থল (আইসিটি ডেস্টিনেশন) এর মধ্যে একটি হবে। দ্বিতীয়ত, তথ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবনে (আইসিটি ইনোভেশন) সিলিকন ভ্যালী, ইসরায়েল এর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে একদিন বাংলাদেশ তাদের কাছেও অনুকরণীয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে। এমন একটা বাংলাদেশ দেখতে চাই যেটি সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়ার মতো উন্নত হবে আর প্রযুক্তির দিক থেকে সিলিকন ভ্যালির মত অত্যাধুনিক হবে। যেখানে পার¯পরিক সম্মান থাকবে, যা মানবিকতার শক্তিতে পৃথিবীর সবাইকে পিছনে ফেলবে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd