ঢাকা : বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ১০:০৮:৪১আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ১০:১১:১২
উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়া মধুমতি ব্যাংকের অন্যতম লক্ষ্য : এ মান্নান খান
এ মান্নান খান, স্পন্সর ডিরেক্টর, মধুমতি ব্যাংক লিমিটেড

 
বাংলাদেশের যে ক’জন সফল উদ্যোক্তা ব্যক্তি রয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম এ মান্নান খান। তিনি যখন যেখানে হাত দিয়েছেন সেখানেই সফল হয়েছেন। জনাব মান্নান খান ১৯৬৬ সালে মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চীন থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেলিকমিউনিকেশন এর ওপর উচ্চতর ডিগ্রী গ্রহণ শেষে দেশে ফিরে আসেন এবং কমিউনিকেশন সলিউশন লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করে এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরই সফল ধারাবাহিতায় ২০০৭ সালে তিনি গড়ে তোলেন ম্যাংগো টেলি সার্ভিসেস লিমিটেড দেশের প্রথম প্রাইভেট সেক্টর গেটওয়ে হিসাবে ইন্টারনেটের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে সারাদেশে ইন্টারনেটের বিস্তৃতি ত্বরান্বিত করতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এখানে আরো উল্লেখ্য যে, সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে ডিজিটাল সিগনেচার ও ক্লাউড সেবা প্রবর্তনের মাধ্যমে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয়কে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যান। পরবর্তীতে তিনি প্লাটিনাম কমিউনিকেশন লিমিটেড, ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে, পারপেল টেলিকম লিমিটেড, ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ এবং একটি ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল প্রতিষ্ঠা ক্যাবল কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। এ মান্নান খান দেশের আধুনিক ব্যাংক মধুমতি ব্যাংক লিমিটেডের সম্মানিত স্পন্সর ডিরেক্টর। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতি কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তিনি বায়রা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ও একটি স্বনামধন্য ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্লেপেন-এর চেয়ারম্যান। এ মান্নান খান আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন। সম্প্রতি এই সফল উদ্যোক্তার মুখোমুখি হলে তিনি আধুনিক ব্যাংকিংয়ের ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। সাক্ষাৎকারের উল্লেখযোগ্য অংশ এখানে তুলে ধরা হলো। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন কাজল আরিফ

টাইমওয়াচ : শুরুতেই মধুমতি ব্যাংক লিমিটেডের যাত্রা শুরু এবং বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইছি।
এ মান্নান খান : ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে মধুমতি ব্যাংক যাত্রা শুরু করে। ওই সময়ে বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন প্রথিতযশা ব্যবসায়ী, প্রতিষ্ঠিত শিল্প উদ্যোক্তা ও স্বনামধন্য আইনজীবী সম্মিলিতভাবে মধুমতি ব্যাংক লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নকে সামনে রেখে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম আধুনিক ব্যাংক হিসাবে যাত্রা শুরু করে মধুমতি ব্যাংক। দীর্ঘ মেয়াদে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়া মধুমতি ব্যাংকের অন্যতম লক্ষ্য। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আধুনিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কাজে লাগিয়েই দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের এই ব্যাংক। নতুন ব্যাংকগুলোর মধ্যে বর্তমানে ভালো অবস্থানে রয়েছে মধুমতি ব্যাংক। এই ব্যাংকের Paid up Capital ৫০০ কোটি টাকার বেশি; অতি অল্প সময়ে আমরা অনেকগুলো শাখা প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি এবং সুদক্ষ পেশাজীবীদের নেতৃত্বে খুবই সফলভাবে ব্যাংকটি পরিচালিত হচ্ছে। বিগত বছরে মধুমতি ব্যাংক উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লাভ করতে পেরেছে এবং স্বাভাবিকভাবেই divident-ও দেয়া হচ্ছে। বর্তমান অর্থবছরে আরো বেশি লাভ হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। তবে আর্থিক লাভ আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য নয়; আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে- সম্মানিত গ্রাহকবৃন্দকে যথাযথ সেবা প্রদান করা এবং দেশের আর্থিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা।
টাইমওয়াচ : দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে আপনার ব্যাংকের কার্যক্রম তথা বিনিয়োগ সম্পর্কে বলবেন কী?
এ মান্নান খান : দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন খুবই জরুরি বলে আমি বিশ্বাস করি। তাই সামাগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেয় মধুমতি ব্যাংকে। আমরা মনে করি, রেলপথ, হাইওয়ে, গভীর সমুদ্র বন্দর, পদ্মা সেতুর মতো আরও বড় বড় সেতু নির্মাণসহ শিল্পাঞ্চলে পর্যাপ্ত গ্যাস, বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার জন্য আরো অনেক বেশি প্রকল্প হাতে নিয়ে অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্তনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব এবং এর জন্য পর্যাপ্ত বিনিয়োগ প্রয়োজন। তাই মধুমতি ব্যাংক এসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। আমরা এক্ষেত্রে দেশী বিদেশী বিভিন্ন উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়া মধুমতি ব্যাংকের অন্যতম লক্ষ্য : এ মান্নান খান
প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করছি। ঢাকা এক্সপ্রেস ওয়ে, বিভিন্ন পাওয়ার জেনারেশন গ্রিড স্থাপন ইত্যাদি প্রকল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে আমাদের ব্যাংক দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। এছাড়া বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানেও আমরা বিনিয়োগ করছি এবং এই সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জোরালো ভূমিকা রাখছে।
টাইমওয়াচ : যে কোনো বৃহৎ শিল্পোন্নয়নের জন্য প্রথমেই ব্যাংকিং সহায়তা প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে আপনার ব্যাংকের বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ সম্পর্কে বলবেন কী?
এ মান্নান খান : আপনি ঠিকই বলেছেন, যে কোন বৃহৎ শিল্পোন্নয়নের জন্য প্রথমেই ব্যাংকিং সহায়তা প্রয়োজন হয়। মধুমতি ব্যাংক এ ব্যাপারে খুবই সচেষ্ট এবং বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করে থাকে। আমরা সকল সেক্টর এই বৃহৎ শিল্পোন্নয়নে বিনিয়োগ করে থাকি এবং ইতোমধ্যে অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে ফার্মাসিউটিক্যাল বা ঔষধ শিল্প, টেক্সটাইল ও গার্মেন্ট শিল্প, হোম এপ্লায়েন্স প্রস্তুতকারী শিল্প, ভোজ্য তেল রিফাইনারি শিল্প, কন্সট্রাকশন সেক্টরসহ আরও অনেক বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করেছি।
টাইমওয়াচ : অতি সম্প্রতি বাংলাদেশে ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাগণ বিদেশ থেকে ঋণ এনে এদেশে বিনিয়োগ কিংবা ব্যবসা করছেন। এতে আমাদের দেশীয় ব্যাংকিং সেক্টরে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আপনি মনে করছেন?
এ মান্নান খান : স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের প্রথম বঙ্গবন্ধুর সরকার যখন অর্থ ও মুদ্রানীতি প্রবর্তন করেন তখন দেশীয় পুঁজি বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয় এবং সমাজের সকল স্তরের অংশ গ্রহণ যাতে নিশ্চিত হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়। অর্থনীতির ভিত্তি সম্প্রসারণ এবং উৎপাদন নির্বিঘœকরণের লক্ষ্যে জাতীয় নীতিতে দেশীয় পুঁজি বিকাশই একমাত্র উপায় হিসেবে ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও অর্থলগ্নি সংস্থান নীতি হিসাবে গৃহীত হয়। এককেন্দ্রিক অর্থনীতি ও জাতীয়করণের ফলে স্বাধীনতা-উত্তরকালে অর্থনীতির ভিত্তি কাক্সিক্ষত হারে সম্প্রসারিত না হলেও যথেষ্ট স্থিতিশীল ছিল। নব্বই এর দশকে অর্থনীতিতে কিছু নীতিগত পরিবর্তনের ফলে (বাজার অর্থনীতি ও বি-জাতীয়করণ) অর্থনীতির ভিত্তি দ্রুত সম্প্রসারণ ও উৎপাদনমুখী শিল্পের বিকাশ ঘটে যা বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও মুদ্রা ব্যবস্থাকে আরো শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করায়। গত এক দশকে আমাদের অর্থনীতির আকার কয়েকগুণ বৃদ্ধিই তার উদাহরণ। এটা সঠিক যে সম্প্রতি কিছু কিছু ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা বিদেশ থেকে ঋণ এনে এদেশে বিনিয়োগ কিংবা ব্যবসা করছে। এর পজিটিভ এবং নেগেটিভ দু’টো দিকই বিবেচ্য। একদিকে এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাধাগ্রস্ত হয়ে ব্যাংকিং সেক্টর কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে যেহেতু বাংলাদেশে সুদের হার বেশি, তাই স্বল্প সুদে বিদেশ থেকে ঋণ সংগ্রহ করে কিংবা বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ত করে বৃহৎ শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে এই বিনিয়োগ একটি যথার্থ, সময়োপযোগী ও পজিটিভ পদক্ষেপ বলেই আমরা মনে করি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশী ব্যাংকগুলোও বিভিন্নভাবে উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিচ্ছে। আমি মনে করি এসব প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন খুবই জরুরি। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা তথা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরো জোরালোভাবে এসব প্রকল্পের কার্যাবলী দৃঢ়তার সাথে মনিটর করে যথাসময়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। আপাত দৃষ্টিতে দেশীয় ব্যাংকিং সেক্টরে সব বিদেশী বিনিয়োগের কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও দেশের বর্তমান আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় এসব বিনিয়োগকে উৎসাহিত করাই যুক্তিসংগত বলে আমি মনে করি। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে দেশের স্বার্থ নিশ্চিত করার পরই এসব বিদেশী বিনিয়োগের ব্যবস্থা করা হচ্ছে-তাই এ ব্যাপারে বেশী সংবেদনশীল হওয়ার কোন যুক্তিসংগত কারণ নেই। তবে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির বিকাশ বা উন্নয়নের স্বার্থে ধীরে ধীরে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগকে প্রাধান্য দিতেই হবে এবং এ ব্যাপারে দেশীয় ব্যাংকগুলোকেও সচেষ্ট হতে হবে। মধুমতি ব্যাংক দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যকে সামনে রেখে সেদিকেই এগোচ্ছে। এক কথায় বললে আমি বলবো বিদেশী উৎস থেকে ঋণ নিয়ে বড়বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ার জন্যে কিংবা অন্য কোন বড় প্রজেক্টে সীমিত আকারে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। তবে ঢালাওভাবে বিদেশী বিনিয়োগের ফলে আমাদের দীর্ঘদিনের অর্জন ও সাফল্য ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
টাইমওয়াচ : অনেক উদ্যোক্তাই বলে থাকেন যে, ব্যাংক ঋণের সুদের হার বেশি। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
এ মান্নান খান : আগেই বলেছি, বাংলাদেশে সুদের হার তুলনামূলকভাবে বেশি- এতে কারো কোনো দ্বিমত আছে বলে আমি মনে করি না। উদ্যোক্তাদের জন্য এটা একটা কষ্টের ব্যাপার। এরফলে স্বাভাবিকভাবেই পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহে খরচ বেড়ে যায়। ফলে বিশ্ব পারিপার্শ্বিকতায় দেশী ও বিদেশী বাজারে আমাদের দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যে প্রতিযোগিতামূলক বাজারের কারণে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে খুবই অসুবিধা হয়। এই প্রেক্ষিতে আমি মনে করি ধীরে ধীরে দেশেও সুদের হার কমানো উচিত। তবে সেটা হঠাৎ করে কিংবা জোর করে কমালে তার স্থায়িত্ব নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। প্রাকৃতিকভাবেই ডিমান্ড/সাপ্লাই এর উপর নির্ভর করে এই সুদের হার কমাতে পারলে খুবই ভালো হয় এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে তা সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে নিঃসন্দেহে। সুসংবাদ হচ্ছে- অর্থনীতির পরিমণ্ডলে বিদ্যমান উদ্যোক্তা ব্যাংক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে ইতমধ্যেই দেশীয় বাজারে সুদের হার কিছুটা কমেছে এবং নিকট ভবিষ্যতেই আরো কমবে বলে সবাই আশা করছে। সেক্ষেত্রে বিদেশী বিনিয়োগের ওপর আমাদের নির্ভরশীলতাও অনেকটা কমে যাবে এবং ব্যাংকিং সেক্টরে প্রভূত উন্নতিউন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়া মধুমতি ব্যাংকের অন্যতম লক্ষ্য : এ মান্নান খান
সাধিত হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। এ ব্যাপারে আরো কিছু ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি। প্রকৃত পক্ষে আমাদের দেশে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মূল্য শুধুমাত্র উচ্চ সুদ হারের কারণেই বেশি হয় না। মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে অন্যতম তিনটি বিষয় হচ্ছে- ১. সুদ হার, ২. কর্পোরেট ট্যাক্স ও ভ্যাট, ৩. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ এবং মানবসম্পদ খরচ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এদের প্রথম দুটো অর্থাৎ সুদহার, কর্পোরেট ট্যাক্স এবং ভ্যাট অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি হওয়ার কারণে বিশ্ব বাজারে এমনকি স্থানীয় বাজারেও আমাদের দেশীয় ও উৎপাদিত পণ্যও সেবা মূল্যমানের কারণে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা বেশ কঠিন। তাই এই দুটো খাতে খরচ কমানোর উদ্যোগ নেয়া অত্যন্ত জরুরি এবং সরকারকেই এ ব্যাপারে উদ্যোগী হতে হবে বলে আমি মনে করি।
টাইমওয়াচ : সামাজিক দায়বদ্ধতায় আপনার ব্যাংকের ভূমিকা সম্পর্কে বলবেন কী?
এ মান্নান খান : সমাজ উন্নয়নের অবদান রাখার জন্য সামাজিকভাবেই আমরা দায়বদ্ধ। এ ব্যাপারে দেশে উপযুক্ত নীতিমালা বিদ্যমান এবং নিয়ন্ত্রক সংক্রান্ত এ বিষয়ে বেশ তৎপর। স্বাভাবিকভাবে ব্যাংকিং সেক্টরের সকল ব্যাংক তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার ব্যাপারে বেশ সচেতন। মধুমতি ব্যাংক বরাবরই এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। আমি শুরুতেই বলেছি, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই আমরা মধুমতি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছি এবং তা বাস্তবায়নেও সচেষ্ট। সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে মধুমতি ব্যাংকের জোরালো ভূমিকার উদাহরণ টেনে আমি বলতে পারি যে, সম্ভাব্য সকল ক্ষেত্রে আমরা সক্রিয়। ক্রীড়া, শিক্ষাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে আমরা বিশেষ প্রণোদনা দিচ্ছি। মুক্তিযোদ্ধাদেরকে আমরা কমসুদে জামানতবিহীন ঋণ দিচ্ছি। ক্রীড়াঙ্গনে উন্নয়নের জন্য আমরা সচেষ্ট; ইতিমধ্যেই আমরা বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট স্পন্সর করেছি। বন্যা, ঘুর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে আমরা সবসময় সহায়তা প্রদান করি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডারে মধুমতি ব্যাংক সর্বদাই অনুদান প্রদান করে।
টাইমওয়াচ : প্রায়শই দেশে ব্যাংক ডাকাতির ঘটনা ঘটে থাকে। এটি রোধকল্পে করণীয় কী?
এ মান্নান খান : আপনি নিশ্চয়ই আমার সাথে একমত হবেন যে, ব্যাংক ডাকাতি প্রতিরোধে আমাদের সকলকে আরো বেশি সজাগ হতে হবে। আমরা যে যুগে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকধাপ এগিয়ে এসেছি, সেহেতু ব্যাংক ডাকাতি প্রতিরোধেও নতুন নতুন টেকনোলজির উদ্ভাবন ও প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি ব্যাংকের সকল কার্যক্রম এবং ব্যাংক ও পার্শ্ববর্তী স্থানে সার্ভিলেন্স জোরদার করার মাধ্যমে ব্যাংকে গচ্ছিত জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেতে পারে। এজন্যে ওয়েব ক্যাম, সার্ভিলেন্স ক্যামেরা বা সিসিটিভি এর ব্যবহার নিশ্চিত করণ ছাড়াও নতুন নতুন টেকনোলজির ব্যবহারে উৎসাহিত করা দরকার। তাছাড়া ফিজিক্যাল সিকিউরিটিও একটা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান- যার কারণে ব্যাংক ডাকাতি নিরুৎসাহিত বাধাগ্রস্ত হয়। কাজেই প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সুঠাম দেহী নিরাপত্তা রক্ষী ব্যাংকের নিরাপত্তা রক্ষার ব্যাপারে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং নিজের ও ব্যাংকের নিরাপত্তা রক্ষা করার জন্য অস্ত্র চালনা পারদর্শী করে তুলতে হবে।
টাইমওয়াচ : সংক্ষেপে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইছি।
এ মান্নান খান : মধুমতি ব্যাংক টেকনোলজি নির্ভর একটা ব্যাংক। দেশীয় উৎপাদন এবং পরিষেবাকে উৎসাহিত করার জন্য জন্মলগ্ন থেকেই আমরা ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছি। ব্যাংকিং সেবাকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পোঁছে উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়া মধুমতি ব্যাংকের অন্যতম লক্ষ্য : এ মান্নান খান
দেয়ার জন্য প্রতিটি ইউডিসি (ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার)কে এজেন্ট ব্যাংকিং সিস্টেম এর আওতায় আমরা মধুমতি ব্যাংকের শাখা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছি। তারা মধুমতি ব্যাংকের এজেন্ট হিসেবে গ্রামে-গঞ্জে ব্যাংকিং সেবা প্রদান করছে। এর ফলে ঘরে বসেই একজন গ্রামবাসী তার ছেলে মেয়ে বা আত্মীয় স্বজন কর্র্তৃক বিদেশ থেকে প্রেরিত অর্থও পাচ্ছেন; এর জন্যে তাকে শহরের কোনো ব্যাংকে যেতে হচ্ছে না। আপনি খুশি হবেন যে, মধুমতি ব্যাংকের সহায়তায় গ্রামে গঞ্জে ঘরে বসে শিক্ষিত গ্রামবাসী ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করপ্রণ। নতুন প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে আমরাই সর্বপ্রথম এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।
আপনি আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্বন্ধে জানতে চেয়েছেন। দেখুন, টেকনোলজি নিয়ে আমি অনেক বছর ধরে কাজ করছি। দেশীয় প্রযুক্তির উদ্ভাবন, উন্নয়ন ও তা সহজলভ্য করাই আমার জীবনের ব্রত। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করিÑ একটা জ্ঞাননির্ভর, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং ব্যবসায় বিশেষ অবদান রাখতে পারে। এজন্যই আমরা প্রযুক্তি নির্ভর ও আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধা সংবলিত একটা ব্যাংক (মধুমতি ব্যাংক) প্রতিষ্ঠা করেছি। এবং এই লক্ষ অর্জনে আমরা দৃপ্ত পদে এগিয়ে যেতে সচেষ্ট থাকবো। দেশের সার্বিক আর্থিক উন্নয়নে বৃহৎ শিল্পের বিকাশ অত্যন্ত জরুরি আমরা এটা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। তাই ভবিষ্যতে বৃহৎ শিল্প স্থাপনে মধুমতি ব্যাংক আরো বেশি বেশি বিনিয়োগ করবেন।
আপনি নিশ্চয়ই আমাদের সাথে একমত হবেন যে, জনগণের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী এমডিজি অর্জনের অন্যতম উপায়ই হচ্ছে জনগণের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ। এটা নিশ্চিত করার জন্য ইকুইটেবল ইউনিভার্সেল হেলথ কভারেজ প্রোগ্রাম বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। এরফলে আগামী কয়েক বছরে স্বাস্থ্য খাতে প্রচুর বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। আমরা আশা করি, পরিকল্পনা মাফিক চললে আমাদের ব্যাংক মধুমতি ব্যাংকে এই খাতের উন্নয়নে বিনিয়োগ করে এই ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd