ঢাকা : মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পণ্য মজুদ আছে, রমজানে পণ্যের দাম বাড়বে না : বাণিজ্যমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার          অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব ব্যবস্থা নিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী          বনাঞ্চলের গাছ কাটার ওপর ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ২০:৫২:৫৩
কুরবানীর ঈদ কাটে পশুর চামড়ার পেছনে
এম এ রহিম, বেনাপোল


 


পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদ আনন্দ করেন মুসলিম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। ঈদুল আযাহা নামাজের পরই শুরু হয় পশু কুবানী।  শুভাকাঙ্খি ও আতœীয় সজনদের সাথে কুলাকুলি, যোগাযোগসহ দিনভর চলে বাহারী খাবারের আয়োজন। তবে এসব ঈদ আনন্দ করা হয়না যাদের তাদের দিন কাটে অন্য দিনের মতোই। অধিক লাভের আশায় অর্থ উপার্যনে চামড়া ক্রয়ের আশায় বাড়ী ছেড়ে অবস্থান করেন দেশের বিভিন্ন গ্রাম ও শহর অঞ্চলে। ঈদের দিন পশুর চামড়া ক্রয়ে ব্যান্ত সময় পার করেন মৌসুমী চামড়া ব্যাপারী ফড়িয়া ও দালালরা।  শুক্রবার যশোরের শার্শা ও বেনাপোল সীমান্ত এলাকা সহ গ্রামে গ্রামে দেখা গেছে এসব ফড়িয়া ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের তোড় জোড়,দৌড়ঝাঁপ। দাম হাঁকাচ্ছেন, চামড়া টানছেন, কিনছেন জড়ো করে রাখছেন। তবে নির্ধারিত দামে পশুর চামড়া কিনতে চাইলে বাধ সাধছেন পশু কোরবানী কারকরা সহ স্থানীয় এতিমখানা ও মাদ্রাসার কর্মকর্তারা। দাম নিয়ে বনিবনায় সমস্যা হচ্ছে এবার। স্বল্প মেয়াদে পুঁজি খাটিয়ে বেশি লাভের আশায় মাঠে নেমেছেন তারা,যাদেরকে মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ‘ফড়িয়া’ নামেই চেনেন মানুষজন।
কোরবানির পশুর মাংস কাটাকাটিতে যখন সবাই ব্যাস্ত সেই সময়ে কারো কারো ব্যস্ততা চামড়া সংগ্রহ নিয়ে। তবে এদের বেশির ভাগই পেশাদার চামড়া ব্যবসায়ী নন ব্যবসা বোঝেন এমনদের সংখ্যাও হাতে গোণা। শিক্ষক চাকুরীজীবিরা নেমেছেন চামড়া ক্রয়ে। শুক্রবার সন্ধায় বেনাপোল বাজারে কথা হয় ঝিনাইদাহ থেকে চামড়া ক্রয়ের জন্য আসা শিক্ষক, মোহাম্মদ আলীর। তিনি কিনেছেন ২শতাধিক চামড়া। গরুর চামড়া এক থেকে দেড় হাজার টাকা ও ছাগলের চামড়া একশ ত্রিশ থেকে ২শ টাকার কিনেছেন। প্রতিবছর কুরবানীর চামড়া কিনতে বেনাপোলে আসেন তিনি। ঈদ করা হয়না বাড়ীতে। তবে এবার বেশী দামে চামড়া কিনে লোকসানের আশংকা তার। বেনাপোল বাজারে বিক্রির জন্যে শার্শা গোগা সীমান্ত এলাকা থেকে চামড়া নিয়ে আসা পশু ব্যাপারী খায়রুর হাসান বলেন,চামড়ার বেধে দেওয়া দামের চেয়ে বেশী দামে গ্রাম থেকে চামড়া কিনে পড়েছেন বেকায়দায়। লাভ হবে কম। তবে লসও হতে পারে বলে জানান তিনি। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়া মোকাম যশোরের রাজারহাট থেকে আসা অসীম দাস বলেন,বিভিন্ন এতিম খানা ও মাদ্রাসা থেকে বেশী দামে কিনেছেন ছোট বড় ৮শ পিস পশুর চামড়া। অন্যবার লাভ করলেও এবার লসের শংকা তার।   
ব্যবসায়ি বাগআচড়া এলাকার সহিদুল ইসলামও উসমান আলীর ঈদের দিন সকাল থেকে বিভিন্ন পাড়া-মহল¬ায় চামড়ার জন্য ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। তারা অনেক ফড়িযাদের কাছ থেকে চামড়া কিনে নিচ্ছেন। আবার সব এলাকায় ঘুরে চামড়া কিনতে না পেরে বিভিন্ন এলাকায় লোকজন ঠিক করে চামড়া কেনাচ্ছেন বলে জানালেন তারা।
এ বছর ঢাকায় গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা আর ঢাকার বাহিরে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ভেড়ার চামড়া ২০ থেকে ২২ টাকা, ছাগলের চামড়ার মূল্য ধরা হয়েছে ১৫ থেকে ১৭ টাকা।বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসো শিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন,আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখেই চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাধারণত মৌসুমি ব্যবসায়ীদের হাত বদল হয়ে চামড়া আসে ফড়িয়াদের কাছে। তাদের কাছ থেকে চামড়া চলে যায় বড় ব্যবসায়ী অথবা ট্যানারি মালিকদের হাতে। অবশ্য অনেক ট্যানারী মালিক নিজে লোক ঠিক করে চামড়া কিনে থাকেন।
প্রতিবছরের মতো এবারও গ্রাম এলাকা থেকে কেনা চামড়া বহনকারী ট্রাক বেনাপোল শার্শা নাভারন ও বাগআচড়া এলাকা থেকে যশোর ঝিনাহদাহ ও ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে।  তবে ভারতে চামড়া পাচাররোধে সীমান্ত এলাকায় রেড এলার্ট সহ বিজিবি পুলিশের সতর্কতরা কারনে পাচারের কোন খবর পাওযা যায়নি। রাতে ট্রাক ভর্তি চামড়া বেনাপোল ছেড়ে চলে গেছে যশোরের উদ্দেশ্যে। শনিবার সকালেও দেখা গেছে শহর এলাকায় চামড়া বেচাকেনা।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd