ঢাকা : বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • রোহিঙ্গা ইস্যুতে ট্রাম্পের কাছে সহায়তা চাওয়ার কোনো মানে নেই : হাসিনা          দু-এক দিনের মধ্যে চালের দাম কমবে : বাণিজ্যমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তরিকতার কমতি নেই : ওবায়দুল কাদের          রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ত্যাগ করলে অবৈধ বলে গণ্য হবেন : আইজিপি          রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ নৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে : রুশনারা আলী
printer
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ০৯:৪২:১৮আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ০৯:২৬:৫০
আমাদের রপ্তানিমুখী জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে এখনো গ্যাস পাইনি
তোফায়েল কবির খান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, খান বাদার্স গ্রুপ


 

নদীমাতৃক বাংলাদেশে জাহাজ নির্মাণ শিল্প বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর। এছাড়া বিশ্বের উন্নত দেশগুলো এখন বাংলাদেশ থেকে জাহাজ নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছে। আর এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশের সর্ববৃহৎ শিপইয়ার্ড নির্মাণ করেছে খান ব্রাদার্স গ্রুপ। তরুণ ও ডায়নামিক ব্যবসায়ী তোফায়েল কবির খান গ্রুপটির ম্যানেজিং ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিংয়ে অনার্সসহ মাস্টার্স ও এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রি করার মধ্য দিয়ে প্রথম ব্যবসায়িক জীবনে প্রবেশ এবং স্বল্প সময়ে শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন খান ব্রাদার্স গ্রুপ। বর্তমানে এ গ্রুপের রয়েছে ৮টি শিল্প প্রতিষ্ঠান। ২০০৭ সালে খান ব্রাদার্স গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান খান ব্রাদার্স শিপবিল্ডিং লিমিটেড প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দেশের বিকাশমান জাহাজ নির্মাণ শিল্পে প্রবেশ করে। রপ্তানিমুখী এ শিপইয়ার্ডটি মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় হোসেন্দী ইউনিয়নে মেঘনা নদীর তীরে ৩শ’ বিঘা জায়গার উপর ১শ’ ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয়েছে। দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্প এবং প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন খান ব্রাদার্স গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর তোফায়েল কবির খান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কে নাহিদ
টাইমওয়াচ : খান ব্রাদার্স গ্রুপ দেশে বেশ কয়েকটি শিল্প ইউনিট গড়ে তুলেছে। সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জে আপনারা শিপবিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলেছেন। মুন্সীগঞ্জে শিপ ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার প্রেক্ষাপট কী?
তোফায়েল কবির খান : শিপ ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো স্থানের নিয়ম-নীতি নেই। যে কোনো স্থানে শিপ ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠতে পারে। ইচ্ছে করলে মধুপুর গড়েও ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলা সম্ভব। মুন্সীগঞ্জে শিপ ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার কারণ হচ্ছে মুন্সীগঞ্জের পাশ দিয়ে মেঘনা নদী বয়ে গেছে। নদী ছাড়া শিপ ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলা কস্টসাধ্য। যার ফলে আমরা মন্সীগঞ্জে শিপ ইন্ডাস্ট্রি করেছি। প্রথমে শিপ ইন্ডাস্ট্রি করার জন্য চট্টগ্রামে জায়গা পাইনি। পরবর্তীতে আমরা মুন্সীগঞ্জকে বেছে নিয়েছি। আপনি জেনে আনন্দিত হবেন যে, ইতোমধ্যে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে জার্মানের জিএল সিস্টেম সার্টিফিকেশন জিএল-আইএসও সনদ পেয়েছে খান ব্রাদার্স শিপ বিল্ডিং লিমিটেড। আইএসও স্ট্যান্ডার্ড অর্জনের মাধ্যমে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে আরও একটি মাইল ফলক স্থাপন করল খান ব্রাদার্স শিপ বিল্ডিং। আইএসও এর স্ট্যান্ডার্ড বজায় রেখে জিএল-আইএসও’র আওতায় শিপ বিল্ডিং, শিপ রিপিয়ারিং, মেকানিক্যাল স্ট্রাকচার ফেব্রিকেশনের ক্ষেত্রে সনদপ্রাপ্ত হওয়ার মাধ্যমে খান ব্রাদার্স শিপ বিল্ডিং লিমিটেড রপ্তানিমুখী জাহাজ নির্মাণ শিল্পে তথা দেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। আমরা জার্মানিতে অনুষ্ঠিত এসএমই ফেয়ার-২০১২ এ অংশ গ্রহণসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সেমিনারে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে বিশ্বব্যাপী প্রসারে ভূমিকা রাখছি।
টাইমওয়াচ : কত সাল থেকে আপনাদের শিপ ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠেছে এবং বর্তমানে এর লোকবল কত?
তোফায়েল কবির খান : ২০০৮ সালে আমরা খান ব্রাদার্স শিপ ইন্ডাস্ট্রির কাজ শুরু করি। প্রাথমিক পর্যায়ে লোকবল ছিল ২০-২৫ জন। বর্তমানে আমাদের শিপ ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় ৮’শ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি কাজ করছেন। আমাদের শিপ ইন্ডাস্ট্রি ৭৫ একর অর্থাৎ ৩০০ বিঘা জায়গার ওপর গড়ে উঠেছে।
টাইমওয়াচ : আপনাদের প্রোডাকশন সম্পর্কে বলবেন কী?
তোফায়েল কবির খান : স্টিলের ওয়েটের ওপর নির্ভর করে প্রোডাকশন হয়। যেমন- কোনো জাহাজে স্টিল লাগে ২ হাজার মেট্রিকটন আবার কোনো জাহাজে প্রয়োজন হয় ১৫’শ মেট্রিকটন স্টিল। প্রতি বছর আমরা ১২ হাজার মেট্রিকটন স্টিল প্রোডাকশন করছি। এ পর্যন্ত আমরা ৩৪টি জাহাজ সরকরাহ করেছি। ইতোমধ্যে আমরা ৬টি প্রক্রিয়াধঅন জাহাজ । আমরা ‘টাঙগুয়ার হাওর’ নামে একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের টুরিস্ট ভেসেল সরবরাহ করেছি; যা বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এবং এর মধ্যে ওয়াটার ট্রিটম্যান্ট পান্ট, সোলার সিস্টেম, উইন্ড মিল, এসি সিস্টেম, ৫০ আসনবিশিষ্ট কনফারেন্স রুম ও ২ মেট্রিক টন ফ্রিজিং ক্ষমতাসহ ১৫টি কেবিন রয়েছে।
টাইমওয়াচ : আপনার দৃষ্টিতে, এই ইন্ডাস্ট্রিতে কী কী সমস্যা রয়েছে?
তোফায়েল কবির খান : বর্তমানে আমাদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাব। ২০০৮ সালে খান ব্রাদার্স শিপ ইন্ডাস্ট্রিতে আমরা ১শ’ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছি। অথচ রপ্তানিমূখী আমাদের এই ইন্ডাস্ট্রিতে গ্যাস লাাইনের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পরেও এখন পর্যন্ত সংযোগ পাইনি। এছাড়া আমরা চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুৎ পাচ্ছি না।
টাইমওয়াচ : অবকাঠামোগত কোনো সমস্যা রয়েছে কী?
তোফায়েল কবির খান : অবশ্যই আছে। যেহেতু আমাদের শিপ বিল্ডিং নদীর তীরে গড়ে উঠেছে সেহেতু উন্নত রাস্তা-ঘাটের প্রয়োজন। আমাদের শিপ ইন্ডাস্ট্রি থেকে প্রধান রাস্তার সাথে একটা সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা জরুরি। জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন।
টাইমওয়াচ : শিপ বিল্ডিং নির্মাণ পরিবেশের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে কী?
তোফায়েল কবির খান : শিপ বিল্ডিং নির্মাণে কোন বর্জ্য বা বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণ হয় না। তাই এটি পরিবেশের ওপর কোনো রকম বিরূপ প্রভাব ফেলে না।
টাইমওয়াচ : ইন্ডাস্ট্রি পরিচালনায় অনেক ক্ষেত্রে নীরব চাঁদাবাজি হয়। এ ক্ষেত্রে আপনারা এ ধরনের কোনো সমস্যায় পড়েন কী?
তোফায়েল কবির খান : চাঁদাবাজি সমস্যা দেশের প্রায় বস জায়গাতে কম বেশি রয়েছে। আামাদের শিপ বিল্ডিংয়ের অবস্থানটি হচ্ছে- চর এলাকায়। আমাদের এ ধরনের বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়। এক্ষেত্রে লোকাল পুলিশ প্রশাসন এসব সমস্যা সমাধানে খুবই আন্তরিক। তারপরও সমস্যার সৃষ্টি হয়। আমি মনে করি, বাংলাদেশের ব্লাডের মধ্যে সমস্যা রয়েছে; যার ফলে এ ধরনের সমস্যা বন্ধ হয় না। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদীতে অনেক বেশি ইন্ডাস্ট্রি গড়ে ওঠেছে। তাই এসব জায়গাতে বেশি চাঁদাবাজি হয়। সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজি হয় নারায়ণগঞ্জে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd