ঢাকা : বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • রোহিঙ্গা ইস্যুতে ট্রাম্পের কাছে সহায়তা চাওয়ার কোনো মানে নেই : হাসিনা          দু-এক দিনের মধ্যে চালের দাম কমবে : বাণিজ্যমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তরিকতার কমতি নেই : ওবায়দুল কাদের          রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ত্যাগ করলে অবৈধ বলে গণ্য হবেন : আইজিপি          রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ নৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে : রুশনারা আলী
printer
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর, ২০১৫ ১৪:১৪:৫৩আপডেট : ১১ অক্টোবর, ২০১৫ ১৫:৫৬:১৫
যুগোপযোগী শিক্ষায় সমৃদ্ধ জাতি গঠনে অবদান রাখতে চাই

 
দেশের প্রথিতযশা, মেধাবী ও কৃতী শিক্ষাবিদদের অন্যতম একজন প্রফেসর মোহাম্মাদ ওসমান গণি তালুকদার। তিনি বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকে নিষ্ঠার সাথে ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। সম্প্রতি তিনি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এবং বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের ওপর একটি তাৎপর্যপূর্ণ সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। এখানে তা উপস্থাপন করা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন চীফ রিপোর্টার কাজল আরিফ

টাইমওয়াচ : প্রথমেই বরেন্দ্র ইউনিভার্সিটির শুরুর প্রেক্ষাপট এবং বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইছি।
মোহাম্মাদ ওসমান গণি তালুকদার : আমরা ২০১২ সালের ১৪ মার্চ বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি অনুমোদন পেয়েছি। আর একই বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে আমরা শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছি। শুরু থেকেই আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সেমিস্টার (১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর, ২০১২) এ সর্বমোট ৮৭ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়। আর গত স্প্রিং সেমিস্টার (১ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল, ২০১৫) এ ভর্তি হয়েছে ৬৬০ জন ছাত্র-ছাত্রী। বর্তমানে সব মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই পরিসংখ্যান থেকে আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে, ভর্তির হার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। উল্লেখ্য যে, রাজশাহী শহরে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া আরো একটি সরকার অনুমোদিত এবং বেশ কয়েকটি অননুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। সেগুলির মধ্যে আমার জানা মতে, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগেই টিউশন ফি বেশি। তা সত্ত্বেও প্রতি সেমিস্টারে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির হার সবচেয়ে বেশি। এতে প্রতীয়মান হয় যে, মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের ব্যাপারে আমাদের উপর ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকদের আস্থা রয়েছে। সেই আস্থা অক্ষুণœ রাখার স্বার্থে ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে আমরা বদ্ধপরিকর।
টাইমওয়াচ : আপনার ইউনিভার্সিটির সামগ্রিক কার্যক্রম সম্পর্কে বলবেন কী?
মোহাম্মাদ ওসমান গণি তালুকদার : যে শিক্ষা ব্যক্তি বা সমষ্টির জ্ঞান, সৃজনশীলতা, সুকুমার বৃত্তি, কর্মদক্ষতা, চরিত্র ও মানসিক শক্তির বিকাশ ঘটায়, যে শিক্ষা সমাজ ও দেশের টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলিকে দৃঢ়তার সাথে মোকাবিলা করে মানুষের দক্ষতাকে আরো উন্নত করে এমন শিক্ষা দান করাই বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। যেমন- দেশ ও বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অত্যাধুনিক ও যুগোপযোগী আন্তর্জাতিক মানের সিলেবাস কারিকুলাম অনুসরণ করে পাঠদান করা হয়। বিদেশি ডিগ্রিধারী অভিজ্ঞ শিক্ষক ও অত্যন্ত মেধাবী তরুণ শিক্ষকদের সমন্বয়ে শিক্ষার গুণগত মান বজায় রেখে পরিচালিত শিক্ষা কার্যক্রম ইতিমধ্যেই সুনাম অর্জন করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে; যা বর্তমানে ৩ হাজারের কাছাকাছি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশ-বিদেশের প্রথিতযশা শিক্ষক ও তথ্য প্রযুক্তিবিদদের দ্বারা আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার করে পাঠদান করা হয়। দেশ ও বিদেশ থেকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিগণকে আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রায়ই সেমিনার-সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা হয়। ক্লাসে উপস্থিতি, ক্লাস টেস্ট, অ্যাসাইনমেন্ট, টিউটোরিয়াল, মিডটার্ম ও সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়ন করা হয়। অধিকাংশ বিষয় ইংলিশ মিডিয়ামে পাঠদান করা হয়। শ্রেণিকক্ষের বাইরেও শিক্ষকগণ ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাসহ যে কোনো বিষয়ে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করে থাকেন। এছাড়া অনিবার্য কারণবশত/অনির্ধারিত ছুটিতে শুক্র ও শনিবার মেকআপ ক্লাস নেওয়া হয়। ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশুনার পাশাপশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা, বিতর্ক প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন সহশিক্ষামূলক বিষয়ে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে থাকে। ইতোমধ্যে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় রক্তদান কর্মসূচি, শীতবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হয়ে রাজশাহীর সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। জাতীয় দিবসসমূহ যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালন এবং বিভিন্ন উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সুকুমার বৃত্তির চর্চা করা হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের দেশের সুযোগ্য সন্তান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড, শিক্ষকগণ ও কর্মকর্তা-কর্মচারিবৃন্দ সার্বক্ষণিক আন্তরিকভাবে নিয়োজিত।যুগোপযোগী শিক্ষায় সমৃদ্ধ জাতি গঠনে অবদান রাখতে চাই
টাইমওয়াচ : দেশে গড়ে ওঠা অন্যান্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষত্ব সম্পর্কে বলবেন কী?
মোহাম্মাদ ওসমান গণি তালুকদার : বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে; তবে সেগুলো অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা কী-না তা আমি জানি না। সেগুলো হলো- এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ। যে বয়সের ছেলে-মেয়েদের দায়িত্ব আমাদের উপর অর্পিত হয়েছে তাদের একটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা বন্ধুদেরকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং তাদের পরামর্শ মোতাবেক চলার চেষ্টা করে। তাদের সেই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দিকে নজর রেখে তাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধুসুলভ পরিবেশ সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এখানকার শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারি সবাই তাদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করে থাকেন। বিশেষ করে এখানকার ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কখনো কোন ক্লাস ফাঁকি দেন না। কাজেই, ক্লাস করতে এসে ছেলে-মেয়েদেরকে কখনো হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয় না। বিশেষ কোন কারণবশত যদি কোনো শিক্ষক রুটিন মোতাবেক ক্লাস নিতে না পারেন; তাহলে কোন ক্লাসটি হবে না এবং পরবর্তী ১ সপ্তাহের মধ্যে কবে ও কখন মেকআপ ক্লাস নেওয়া হবে তা অন্ততপক্ষে ১ দিন আগে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে জানিয়ে দেওয়া হয়। এখানকার পূর্ণকালীন শিক্ষকরা সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা সময় অফিসে কাটান। শিক্ষকরা ক্লাসের বাইরের সময় সাধারণত ক্লাসের প্রস্তুতি, গবেষণার কাজ এবং ছেলে-মেয়েদেরকে ঈড়ঁহংবষরহম এর কাজে ব্যয় করেন। অফিস টাইমের মধ্যে ক্লাসের বাইরে যেকোনো সময় শিক্ষার্থীরা প্রধানত শিক্ষকদের সঙ্গে পড়াশুনা সংক্রান্ত আলাপ আলোচনা করে, লাইব্রেরিতে বসে পড়াশোনা করে অথবা কম্পিউটার ল্যাবে বসে বেসিক কম্পিউটিং শেখার মধ্যে সময় কাটান। উল্লেখ্য, প্রতিটি ভবনে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একটি করে কম্পিউটার ল্যাব আছে; যা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট (ওয়াইফাই) সংযুক্ত। এক কথায়, ছেলে-মেয়েদেরকে মানসম্মত শিক্ষা সেবা প্রদান করাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান লক্ষ্য; শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে ছেলে-মেয়েদের সকলের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করা। আর শিক্ষাঙ্গনে অরাজনৈতিক, অসাম্প্রদায়িক এবং মাদকমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা। শিক্ষার্থীদেরকে সব রকমের Extra curricular activity তে উৎসাহিত করা এবং সমাজ সেবামূলক কাজ (যেমন- রক্তদান, গাছ লাগানো, উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা এবং মুক্ত আকাশে খাঁচার পাখি অবমুক্তকরণ ইত্যাদি।) এ সচেতন এবং উদ্বুদ্ধ করা। সর্বোপরি শিক্ষার মান উন্নয়নের ব্যাপারে ইউজিসি কর্তৃক আরোপিত নিয়মাবলী যথাযথভাবে মেনে চলা।
টাইমওয়াচ : আপনার দৃষ্টিতে, বরেন্দ্র ইউনিভার্সিটি শিক্ষাক্ষেত্রে কী ধরনের অবদান রাখছে?
মোহাম্মাদ ওসমান গণি তালুকদার : ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য আইটি খাতে, দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যুৎ খাতে এবং বিদেশে বাংলাদেশের তৈরি মানসম্পন্ন ঔষধের চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় ওষুধ খাতে দক্ষ মানবসম্পদের চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়ে যাচ্ছে অথচ বর্তমানে আমাদের দেশে এই তিনটি খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ মানবসম্পদের বড়ই অভাব। তাই বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে আমরা সিএসই, ইইই এবং ফার্মেসী বিভাগ খুলেছি; যদিও এই তিনটি বিভাগের ল্যাবরেটরিতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এই তিন বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে সহায়তা দেওয়ার জন্য ন্যাচারাল সায়েন্স নামের আমাদের আরো একটি বিভাগ রয়েছে। এছাড়াও ব্যবসায় প্রশাসন, আইন ও মানবাধিকার, ইংরেজি, সমাজবিজ্ঞান, জার্নালিজম কমিউনিকেশন ও মিডিয়া স্টাডিজ, পাবলিক হেলথ এবং অর্থনীতি বিভাগ রয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই সমস্ত বিভাগের তাৎপর্য সহজেই অনুমেয়। শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগেই সহশিক্ষামূলক ক্লাব রয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর জন্য ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব এবং কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ক্লাব উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।যুগোপযোগী শিক্ষায় সমৃদ্ধ জাতি গঠনে অবদান রাখতে চাই
টাইমওয়াচ : আপনার ইউনিভার্সিটিতে গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য কি ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে?
মোহাম্মাদ ওসমান গণি তালুকদার : দরিদ্র ও মেধাবীদের জন্য ১০০ শতাংশ পর্যন্ত টিউশন ফি মওকুফের সুবিধা আছে। এছাড়াও আমরা বিভিন্ন আর্থিক সুবিধাসমূহ প্রদান করে থাকি। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫.০০ প্রাপ্তদের জন্য ১০০ শতাংশ পর্যন্ত টিউশন ফি মওকুফের সুবিধা। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ১০০ শতাংশ টিউশন ফি মওকুফ। উপজাতি ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ সুবিধা। ভর্তি পরীক্ষা ও সেমিস্টার ফইনাল পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারীদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা। দুই বা ততোধিক ভাই/ বোন অধ্যয়ন করলে একজনের টিউশন ফি ২৫ শতাংশ মওকুফের সুবিধা।
টাইমওয়াচ : উচ্চ শিক্ষার মান বৃদ্ধি ও বিস্তার ঘটাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকাকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
মোহাম্মাদ ওসমান গণি তালুকদার : উচ্চশিক্ষার বিস্তার ঘটানোর ক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা সহজেই অনুমেয়। প্রতিবছর ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর তুলনায় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন সংখ্যা অনেক কম। ফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায় না। সেই সুযোগবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে গণমাধ্যম এবং সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি উচ্চ শিক্ষার বিস্তৃতি ত্বরান্বিত করতে পারে। তবে শিক্ষার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি ভূমিকা পালন করছে তা অতটা সুস্পষ্ট নয়।  
টাইমওয়াচ : বর্তমানে উচ্চ শিক্ষার গুণগতমান কমেছে বলে দেশের অভিজ্ঞমহল মনে করছেন, এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?
মোহাম্মাদ ওসমান গণি তালুকদার : শিক্ষার মান দিন দিন কমে যাচ্ছে এ মন্তব্যের সাথে আমি একমত নই। এক্ষেত্রে আমার বক্তব্যের স্বপক্ষে কিছু যুক্তি তুলে ধরতে চাই। প্রথমে সেকালের এবং একালের শিক্ষা পদ্ধতির কিছু তুলনামূলক তথ্য উপস্থাপন করতে চাই। বিংশ শতাব্দীর সত্তর এবং আশির দশকে ¯œাতক ডিগ্রির জন্য তিন বছরে মাত্র একবার পরীক্ষা (ফাইনাল) দিতে হতো। বর্তমানে সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উন্নত বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থার অনুকরণে সেমিস্টার সিস্টেম প্রবর্তন করা হয়েছে। অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সেমিস্টারের সময়কাল হচ্ছে মাত্র চার মাস। এই সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদেরকে দুইবার পরীক্ষা (মিডটার্ম এবং সেমিস্টার ফাইনাল) দিতে হয়। এছাড়াও তাদেরকে ক্লাস টেস্টে অংশগ্রহণ এবং অ্যাসাইনমেন্ট সম্পন্ন করে জমা দিতে হয়। ঘন ঘন পরীক্ষা দেওয়ার ফলে তাদের মধ্যে চাপের মুখে কাজ করা এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার যোগ্যতা অর্জিত হয়। উন্নত পদ্ধতিগত কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা নিয়মিতভাবে ক্লাস করতে বাধ্য হয়। এতে করে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি তাদের মধ্যে অনেক ইতিবাচক গুণ (যেমন- শৃঙ্খলাবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, দায়িত্ববোধ, দলগতভাবে কাজ করা, আন্ত:ব্যক্তিক যোগাযোগ দক্ষতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান যে সমস্ত নৈতিক, সামাজিক এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ মেনে চলে সেগুলি...ইত্যাদি) বিকশিত হয়। আমার ধারণা, বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার মান আগের তুলনায় কিছুটা কমে গিয়েছে; যা সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতির পুন:প্রবর্তনের মাধ্যমে উন্নীত করা সম্ভব। তাহলে সার্বিকভাবে শিক্ষার মান অনেকাংশে বেড়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
টাইমওয়াচ : বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের শিক্ষার গুণগতমান নিয়ন্ত্রণ ও গতিশীল করার ক্ষেত্রে ইউজিসি’র নিকট আপনার সুচিন্তিত সুপারিশ কী?
মোহাম্মাদ ওসমান গণি তালুকদার : এ সংক্রান্ত ব্যাপারে আমি কিছু সুপারিশ করতে চাই। যেমন- ক. বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এ্যাক্ট- ২০১০ এর ৩৬ ধারায় বলা হয়েছে, ‘শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রত্যেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অভ্যন্তরীণ গুণগতমান নিশ্চিতকরণ সেল বা ইউনিট থাকিবে এবং সংশ্লিষ্ট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদনে এই বিষয়ে গৃহীত ব্যবস্থাদি সম্পর্কে একটি বিবরণী থাকিতে হইবে।’ আমি আশা করি এই বিষয়ে ইউজিসি দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। খ. ছাত্র/ছাত্রীদের মান সম্মত শিক্ষা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেন শিক্ষক-ছাত্র অনুপাত ১:২০ থেকে ১:৩০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে তা নিশ্চিত করার জন্য ইউজিসির কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। গ. প্রত্যেকটি বেসরকারি যুগোপযোগী শিক্ষায় সমৃদ্ধ জাতি গঠনে অবদান রাখতে চাই
বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতে গবেষণার কাজ চলে সে ব্যাপার নিশ্চিতকরণের জন্য ইউজিসির কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। বিশেষ করে বাজেটে যাতে কমপক্ষে শতকরা দশ ভাগ অর্থ গবেষণার কাজে বরাদ্দ থাকে সেটি নিশ্চিতকরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা। বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপশি এমফিল এবং পিএইচডি ফেলোশিপ/স্কলারশিপ প্রবর্তন করা। যে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বা যন্ত্রপাতি সম্বলিত ল্যাবরেটরি নেই তাদেরকে অন্য কোন সমৃদ্ধ সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে গবেষণা করার সুযোগ প্রদান করা। ঘ. উচ্চ শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য বিশ্বব্যাংক থেকে প্রাপ্ত অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রদান করা উচিত।
টাইমওয়াচ : সবশেষে বরেন্দ্র ইউনিভার্সিটি নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ কর্ম-পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইছি।
মোহাম্মাদ ওসমান গণি তালুকদার : একটি বিশ্ববদ্যিালয়ের মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হচ্ছেÑ জ্ঞান আহরণ, বিতরণ এবং সৃষ্টি করা। ইতোপূর্বে জ্ঞান আহরণ এবং বিতরণ সম্পর্কে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছুটা আলোচনা করা হয়েছে। এবার জ্ঞান সৃষ্টির ব্যাপারে আমাদের কিছু ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার উপর আলোকপাত করতে চাই। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতির জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। আসলে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং নির্ভর করে সেখানকার গবেষণার মানের উপর। আবার ইউজিসির তাগিদ আছে প্রত্যেকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার কাজ করার ব্যাপারে। এ সংক্রান্ত ব্যাপারে আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে- বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি গবেষণা ইনস্টিটিউট খোলা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রুয়েট, পল্লী উন্নয়ন একাডেমী এবং বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রকে সেই ইনস্টিটিউটের রিসার্চ পার্টনার করা। ইতিমধ্যে ওই সমস্ত প্রতিষ্ঠানের কিছু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানীর সঙ্গে এ মর্মে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আলাপ আলোচনা হয়েছে। কিছুসংখ্যক এমফিল এবং পিএইচডি ফেলোশিপ/স্কলারশিপ প্রবর্তন করা। তাত্ত্বিক এবং ব্যবহারিক (বিশেষ করে আমাদের দেশের মাটি ও মানুষের সরাসরি উপকারে আসে এমন ধরনের) উভয় প্রকার গবেষণা করা। উল্লিখিত ব্যবহারিক গবেষণার মাধ্যমে সামাজিক দায়বদ্ধতা পূরণ করা সম্ভব। নিয়মিতভাবে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওয়ার্কশপ, কনফারেন্স ইত্যাদি আয়োজন এবং জার্নাল প্রকাশ করা। এসব পদক্ষেপ যথাযথভাবে গ্রহণপূর্বক আগামী ২ বছরের মধ্যে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd