ঢাকা : শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পবিত্র আশুরা ১০ সেপ্টেম্বর          ডিএসসিসির ৩,৬৩১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা          রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর          সংলাপের জন্য ভারতকে ৫ শর্ত দিল পাকিস্তান          এরশাদের শূন্য আসনে ভোট ৫ অক্টোবর          বাংলাদেশে আইএস বলে কিছু নেই : হাছান মাহমুদ
printer
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর, ২০১৫ ১৮:১৫:৫২
শাহানশাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.) অনুসৃত সর্বজনীন প্রেমবাদ ও শান্তির দর্শন অনুশীলনেই বাসযোগ্য পৃথিবী গড়া সম্ভব
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা


 


সম্পদের প্রতি অতি আসক্তি, ক্ষমতালিপ্সা, ভোগবাদ ও আত্মকেন্দ্রিকতা, সহনশীলতা ও সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির অভাবের কারণে সমগ্র পৃথিবীতে আজ অশান্তি ও হিংসা-জিঘাংসা প্রকট হয়ে উঠেছে। এই অসহনীয় সময়ে আউলিয়ায়ে কেরাম অনুসৃত সর্বজনীন প্রেম ও ভালোবাসার চর্চা, স্বার্থত্যাগী মনোভাব লালন, ভোগবাদিতা ও ক্ষমতালিপ্সা দমন এবং পরকল্যাণমুখী চেতনা জাগ্রত করে সমগ্র বিশ্বে শান্তি ও সম্প্রীতি ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানোর মধ্য দিয়ে বিশ্বঅলি শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) এর ২৭তম ওরশ শরিফ বর্ণাঢ্য আয়োজনে লাখো ভক্ত জনতার অংশগ্রহণে চট্টগ্রাম মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে পালিত হয়েছে। ১১ অক্টোবর রোববার (২৬ আশ্বিন) ৬ দিনব্যাপী ওরশ শরিফের প্রধান দিবস। মাইজভাণ্ডার শরিফ গাউসিয়া হক মনজিল, বিশ্বঅলি শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট এবং মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ ওরশ উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করে। এছাড়াও ওরশ শরিফ উপলক্ষে মাইজভাণ্ডারী মহাত্মাদের জীবন দর্শনের ওপর ৪টি পুস্তক প্রকাশ, বিশ্বঅলির সমাজ সংস্কার বিষয়ে সেমিনার আয়োজন, ফটিকছড়ির ৪৭টি এতিমখানার ২২শত এতিমদের জন্য তৈরি খাবার পরিবেশন, ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্বলিত দুর্লভ চিত্র ও ভিডিও প্রদর্শন, গরিবদের জন্য চক্ষু শিবির চিকিৎসা সেবার আয়োজন করা হয়। ওরশ শরিফে যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআরটিসি ও বিশ্বঅলি শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট এর যৌথ উদ্যোগে বিশেষ বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা করে। ৬ দিন ব্যাপী ওরশ শরিফের কর্মসূচির রোববার প্রধান দিবসে শাহানশাহ্ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক) রওজা শরিফ প্রাঙ্গণে আয়োজিত হয় মিলাদ মাহফিল ও হুজুর কেবলার ( ক) জীবন দর্শনের ওপর আলোচনা। রাতে অনুষ্ঠিত মিলাদ ও আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাইজভাণ্ডার শরিফ গাউসিয়া হক মনজিলের সাজ্জাদানশীন রাহবারে আলম হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান (মজিআ)। দূর দূরান্ত থেকে আগত অসংখ্য ভক্ত জনতার জিকির, জেয়ারত, দুরূদ শরিফ পাঠ, সেমা মাহফিল ও অশ্র“সিক্ত ফরিয়াদে শাহানশাহ্ হুজুরের (ক) রওজা প্রাঙ্গণে দেখা যায় ভিন্ন ধরনের আধ্যাত্মিক আবহ। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ আমেরিকারসহ বিভিন্ন দেশেও একই দিনে বিশ্বঅলির (ক.) বার্ষিক ওরশ শরিফ বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হচ্ছে। এতে প্রবাসী  বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।   
মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান (মজিআ) বলেন, নবী-ওলীরা হচ্ছেন মানবজাতির আধ্যাত্মিক ও জাগতিক উভয় পথের সার্থক দিশারী। দিকভ্রান্ত মুক্তি প্রত্যাশী মানুষ আউলিয়ায়ে কেরামের সান্নিধ্য ও নৈকট্য অর্জনের মাধ্যমে ইহজাগতিক কল্যাণের পাশাপাশি পরকালীন অনন্ত জীবনের মুক্তির দিশা পেতে পারে। তিনি বলেন, বিশ্বঅলি শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) সহ এখানকার সাধক ব্যক্তিত্বরা হিংসা, বিদ্বেষ, লোভ, সম্পদের প্রতি আসক্তি ও ক্ষমতালিপ্সা ইত্যাদি মানবিক কুপ্রবৃত্তি থেকে বেঁচে থেকে নিষ্কলুষ পবিত্র শান্তিময় জীবনের সন্ধান দিয়ে ঈমানি ও মানবিক দায়িত্বই পালন করে গেছেন। আজকের অশান্ত সংঘাতপীড়িত দুনিয়ায় শান্তি ও জননিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে হলে আউলিয়া কেরাম অনুসৃত সর্বজনীন প্রেমবাদ এবং ভালোবাসার অহিংস সম্প্রীতিপূর্ণ নীতিই গ্রহণ করতে হবে। মহান বিশ্বঅলির (ক.) ন্যায় স্বার্থত্যাগী মনোভাব লালন করে পরকল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করে, হিংসা হানাহানি থেকে বেঁচে থেকে সংঘাতমুক্ত মানবিক পৃথিবী গড়ার আহ্বান জানান তিনি। মাহফিলে অতিথি ও আলোচক ছিলেন আল আমিন বারীয়ার সাজ্জাদানশীন আল্লামা মুফতি সামশুদ্দোহা বারী, গহিরা আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ আল্লামা সৈয়দ নুরুল মনোয়ার, গজনিয়া রহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক জসিম উদ্দিন রিজভী। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চবি’র উপাচার্য প্রফেসর ডঃ ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, মাইজভা-ারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ, কেন্দ্রীয় পর্ষদের সভাপতি রেজাউল আলী জসিম চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার আজিজুর রহমান, এ ওয়াই এম জাফর, শেখ মুজিবুর রহমান বাবুল সহ বিশিষ্ট ওলামায়েকেরাম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সালাত সালাম পরিবেশন শেষে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, বিশ্বশান্তি, যুদ্ধ-সংঘাত হানাহানি থেকে নির্যাতিত মানবতার পরিত্রাণে আল্লাহর রহমত ও আউলিয়ায়ে কেরামের অনুগ্রহ কামনায় মুনাজাত পরিচালনা করেন রাহবারে আলম হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান (মজিআ)। পরে সবার মাঝে তবরুক পরিবেশিত হয়। ওরশ শরিফ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু-সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করায় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
ধর্মতত্ত্ব পাতার আরো খবর

Developed by orangebd