ঢাকা : শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পবিত্র আশুরা ১০ সেপ্টেম্বর          ডিএসসিসির ৩,৬৩১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা          রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর          সংলাপের জন্য ভারতকে ৫ শর্ত দিল পাকিস্তান          এরশাদের শূন্য আসনে ভোট ৫ অক্টোবর          বাংলাদেশে আইএস বলে কিছু নেই : হাছান মাহমুদ
printer
প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর, ২০১৫ ০৯:৫৭:২৯
ঝিনাইদহের গ্রামীণ পাকা রাস্তা বেহাল দশা
ঝিনাইদহ সংবাদদাতা


 


দীর্ঘদিন যাবৎ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় ঝিনাইদহের ৬ উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা হুমখির মুখে পড়েছে। শহর কিংবা গ্রামের বেশির ভাগ পাকা রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তার দু পাশের এজিং ভেঙ্গে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। বছরের পর বছর ধরে এ সব রাস্তা মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে না। ফলে শহরের সাথে গ্রামের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক মুখ থুবড়ে পড়েছে। ঝিনাইদহ এলজিইডি সুত্রে জানা গেছে জেলায় মোট রাস্তার দৈর্ঘ ৪ হাজার ৬২৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে কাচা রাস্তা রয়েছে ২ হাজার ৯৮৭ কিলেমিটার। পাকা ও আধাপাকা রাস্তার দৈর্ঘ্য ১৬’শ ৩৭ কিলোমিটার। সুত্র জানায় ঝিনাইদহ এলজিইডির অধিন পিচ রাস্তা রয়েছে ১১’শ ৭৯ কিলোমিটার।
সরেজমিন দেখা গেছে, এ সব রাস্তার বেশির ভাগ চলাচলের অযোগ্য। বছরের পর বছর রাস্তুগুলো মেরামত হচ্ছে না। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটী ইউনিয় ভবন থেকে আসাননগর গ্রামের ৭০০ মিটার রাস্তা ১৯৯৪ সালের পর থেকেই নষ্ট। বর্তমান রাস্তাটি ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটি মেরামত করা হচ্ছে না। এ রাস্তা দিয়ে ৩০ গ্রামের মানুষ দশমাইল, ডাকবাংলা, শরৎগঞ্জ ও বৈডাঙ্গা বাজারে যাতায়াত করে। চরপাড়া থেকে খাড়াগোদা বাজার ভায়া হলিধানী রাস্তাটির চোরকোল গ্রাম থেকে খাড়াগোদা পর্যন্ত— পিচ খোয়া উঠে গেছে। চাকলাপাড়া থেকে হরিনাকুণ্ডু রাস্তাটি চাঁদপুর, শাখেরীদহ, কাপাশহাটিয়া ও ভালকী পায়রাডাঙ্গা গ্রামের অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। অত্যন্ত ঝুকি নিয়ে এ রাস্তায় যানবাহন চলাচল করেছ। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের সামনে থেকে নারিকেলবাড়িয়া বাজার রাস্তাটির দুই ধারে ভেঙ্গে চলাচলে ঝুকি তৈরী হয়েছে। কোটচাঁদপুরের বলুহর বাসষ্ট্যন্ড থেকে ধোপাবিলা বাজার ভায়া সাবদারপুর, খালিশপুর থেকে ভোমরাডাঙ্গা, কালীগঞ্জের কোলা বাজার থেকে কালীগঞ্জ, বারবাজার থেকে পশ্চিম ও দক্ষিনের সকল রাস্তা গুলোর অবস্থা বেহাল। মহেশপুর শহর থেকে সীমান্ত এলাকা ও চৌগাছা বাজার পর্যন্ত সব রাস্তা ভেঙ্গে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঝিনাইদহ শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসষ্ট্যান্ড থেকে হামদহ পর্যন্ত রাস্তার বেহাল দশা। সদর উপজেলার সাধুহাটী মারোমাসিয়া ব্রীজ থেকে রাঙ্গীয়ারপোতা পর্যন্ত রাস্তাটি খানাখোন্দকে ভরা। গ্রামের মানুষ চলাচল করতে পারে না। কোটচাঁদপুরের ধোপাবিলা থেকে সাফদারপুর পর্যন্ত রাস্তাটিতে এখন চলাচল করা যায় না। শৈলকুপার গ্রামীন রাস্তা গুলো এখন চলাচলের অযোগ্য। অথচ ভৌগলিক দিক থেকে রাস্তটির বেশ গুরুত্ব রয়েছে। জানা গেছে ৪ কেটাগরির রাস্তা এখন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিশ্র“তির রাস্তা সংখ্যা বেশি রয়েছে। উপজেলা রাস্তা থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ের শাখা রাস্তা গুলো মেরামত হচ্ছে না বছরের পর বছর। এলজিইডির একটি সুত্র জানায় দুই দশক ধরে জেলার ৬টি উপজেলায় ১১’শ ৭৯ কিলোমিটার পিচের রাস্তা তৈরী হয়। বিশেষ করে বিএনপি সরকারের আমলে ঝিনাইদহ জেলায় যোগাযোগের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। প্রতিটি গ্রামে রাস্তা তৈরীর মাধ্যমে সুচিত হয় দ্রুত যোগাযোগের সহজ মাধ্যম। এখন মেরামতের অভাবে বেশির ভাগ রাস্তার অস্তিত্ব বিলিন হতে চলেছে। এলজিইডি এবং সড়ক ও জনপথ দপ্তর থেকে বলা হচ্ছে রাস্তা উন্নয়নে বরাদ্দ আসছে কম। যে করণে অল্প টাকা দিয়ে সকল রাস্তা মেরামত বা রক্ষনাবেক্ষন সম্ভব নয়। রাস্তা উন্নয়নের ব্যাপারে ঝিনাইদহ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রকিবুল ইসলাম জানান রাস্তার গুরুত্ব বুঝে মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষন করা হচ্ছে। গ্রামের কিছু রাস্তা আছে যে গুলো রাজনৈতিক কারণে তৈরী হবে কিন্তু মেরামত হবে না। এ সব রাস্তা মেরামতের কোন ফান্ড আসে না। তারপরও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা প্রায় সময় মেরামত করা হয়। তবে গ্রামের কিছু রাস্তা মেরামতের ক্ষেত্রে নিদ্দিষ্ট ফান্ডের জন্য অপক্ষো করতে হয়।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd