ঢাকা : রোববার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • মেক্সিকোতে ভূমিকম্প : নিহত ২৪৮          রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতীয় ঐক্য হয়ে গেছে, নতুন ঐক্যের দরকার নেই : নাসিম          ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল মধ্যম আয়ের দেশ হবে বাংলাদেশ : বাণিজ্যমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ব্যাপার ঐক্যবদ্ধ হতে ওআইসি’র প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান          দু-এক দিনের মধ্যে চালের দাম কমবে : বাণিজ্যমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তরিকতার কমতি নেই : ওবায়দুল কাদের          রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ত্যাগ করলে অবৈধ বলে গণ্য হবেন : আইজিপি          রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ নৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে : রুশনারা আলী
printer
প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর, ২০১৫ ১১:১২:১৪
বঙ্গবন্ধু আমার আদর্শ, শেখ হাসিনা আমার নেত্রী, চিকিৎসকরা আমার প্রাণ
অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া সাংগঠনিক সম্পাদক-বিএমএ, পরিচালক-শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং কেন্দ্রীয় নেতা, স্বাচিপ


 

অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া; দেশের একজন বিশিষ্ট বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ। তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক এবং বিভাগীয় প্রধান- রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগ। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন- বিএমএ’র পরপর দু’বার নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর প্রতিশ্রুতিশীল কেন্দ্রীয় চিকিৎসক নেতা। তিনি পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি সততা, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে চিকিৎসকদের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তিনি দেশের বিভিন্ন স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক ও সমসাময়িক বিষয়ে টক শো’তে নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন এবং জাতীয় দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকার স্বাস্থ্য পাতায় নিয়মিত লেখালেখি করে জনসাধারণকে স্বাস্থ্য সচেতন করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে তরুণ চিকিৎসকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রতিশ্রুতিশীল একজন চিকিৎসক নেতা হিসেবে সমাদৃত। চট্টগ্রাম জেলার রাউজানের নিঃস্বার্থ কর্মবীর, শিক্ষানুরাগী, বিশিষ্ট সমাজ সেবক, প্রকৌশলী প্রয়াত যোগেন্দ্র লাল বড়ুয়া ও রেনুকা বড়ুয়ার ৪ সন্তানের মধ্যে তিনি তৃতীয় সন্তান। ছোটবেলা থেকেই তিনি মেধাবী ও চৌকস ছাত্র ছিলেন। শৈশব কাটে চট্টগ্রামে, শৈশব থেকেই তিনি বিভিন্ন শিশু সংগঠন ও স্কাউটের সাথে জড়িত ছিলেন। শিশু-কিশোর সংগঠন লুম্বিনী কচি-কাঁচার মেলার আহবায়ক, সংগঠক থাকাকালে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার কচি-কাঁচার মেলার পাতায় নিয়মিত লেখালেখি করতেন। স্কুল ও কলেজ জীবন পেরিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নের সময় প্রত্যক্ষভাবে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। মেডিকেল কলেজে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পরপর দু’বার সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে ময়মনসিংহ জেলায় ছাত্র নেতৃত্ব দেন। ১৯৮৬ সালে জাফরউল্লাহ’র গণবিরোধী স্বাস্থ্যনীতি বাতিলের দাবিতে মেডিকেল ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের একজন নেতা হিসেবে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মতিঝিল পর্যন্ত রণক্ষেত্রে পরিণত হলে আন্দোলনরত অবস্থায় পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন। জননেত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে ৯০’র স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ময়মনসিংহ জেলায় সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেন। ১৯৯৭ সালে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। তিনি ২০০০ সালে ৩৭৫ শয্যাবিশিষ্ট শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালকে ৫শ’ শয্যায় উন্নীত করে মেডিকেল কলেজে রূপান্তর করার অন্যতম প্রস্তাবক এবং উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ২০০৩ সালে বক্ষব্যাধি বিষয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৯ সালে আমেরিকান কলেজ অব চেস্ট ফিজিসিয়ান থেকে এফসিপি ফেলোশিপ অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি অ্যাজমা রোগের ওষুধ প্রয়োগের উপর পিএইচডি কোর্সে অধ্যয়নরত এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানে গবেষণামূলক কাজেও নিয়োজিত। তিনি উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও ভ্রমণের জন্য আমেরিকা, সুইডেন, ডেনমার্ক, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, থাইল্যান্ড, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, চীন, জাপান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন্স, হংকং, ম্যাকাও, ভারত, দুবাই, নেপালসহ বহুদেশ ভ্রমণ করেছেন। ডা. বড়ুয়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয়ে সফলতা অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ অনেক সম্মাননায় ভূষিত হন। তার মধ্যে কলকাতার রবীন্দ্র সদনে শিশির মঞ্চে ‘এপার বাংলা ওপার বাংলা মৈত্রী সম্মাননা ২০১৩’, ‘আগরতলা চিকিৎসা সম্মাননা ২০১১’, ‘অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক’ ‘মহাত্মা গান্ধী শান্তি পুরষ্কার’, ‘মাদার তেরেসা স্বর্ণ পদক’, ‘ঢাকার রত্ন সম্মাননা’ উল্লেখযোগ্য। সম্প্রতি এই কৃতী চিকিৎসক নেতার মুখোমুখি হলে তিনি টাইমওয়াচকে স্বাচিপ নির্বাচন ২০১৫ এবং দেশের স্বাস্থ্য সেবার ওপর একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার প্রদান করেন।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন চীফ রিপোর্টার কাজল আরিফ
টাইমওয়াচ : চিকিৎসকদের তিনটি সংগঠন স্বাচিপ, ড্যাব, বিএমএ। এই সংগঠনগুলো সম্পর্কে জানতে চাইছি।
ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া : বিএমএ বাংলাদেশের ৬০ হাজার চিকিৎসকদের জাতীয় সংগঠন। আমাদের দেশের সব চাইতে বড় পেশাজীবী সংগঠন এটি। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের দীর্ঘ বঙ্গবন্ধু আমার আদর্শ, শেখ হাসিনা আমার নেত্রী, চিকিৎসকরা আমার প্রাণ
ঐতিহ্য রয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে এই পেশার যতোগুলো মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, অন্য কোনো পেশায় তা দেখা যায়নি। এটি দলমত নির্বিশেষে সকল চিকিৎসকের একমাত্র নিরপেক্ষ সংগঠন; যা চিকিৎসকদের ন্যায্য দাবি নিয়ে কথা বলে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষসাধন, সমসাময়িক চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি সাধন, আপামর জনসাধারণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণে যথাযোগ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। এ ছাড়াও জাতীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুগুলোতেও বিএমএ সবসময় সোচ্চার থাকে। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, শহীদ মিনার নির্মাণ, স্বধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ড. মিলনের রক্ত, গণবিরোধী স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নের প্রতিবাদে আন্দোলন গড়ে তোলা এই সংগঠনের উল্লেখযোগ্য অর্জন। স্বাচিপ ও ড্যাব এ দু’টি সংগঠন রাজনৈতিক আদর্শের উপর ভিত্তি করেই চিকিৎসকদের পেশাজীবী সংগঠন। স্বাচিপ বা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ স্বাধীনতার স্বপক্ষের চিকিৎসকদের সংগঠন। এদের আদর্শ বঙ্গবন্ধুর দর্শন ধর্ম নিরপেক্ষতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। ড্যাব বা ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনস অব বাংলাদেশÑবাংলাদেশি জতীয়তাবাদে বিশ্বাসী চিকিৎসকদের জাতীয় সংগঠন।
টাইমওয়াচ : দীর্ঘ ১২ বছর পর চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপ সম্মেলন নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সম্মেলনে আপনার প্রত্যাশা কী?
ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া : দীর্ঘ ১২ বছর পর স্বাচিপের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তাই আমি বেশ আনন্দিত। প্রতিটি সংগঠনের দু’বছরের মেয়াদ থাকে। মেয়াদ শেষে সঠিক সময়ে সম্মেলন হলে সংগঠনের গতিশীলতা এবং ধারাবাহিকতা যেমন বিদ্যমান থাকে তেমনি নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমরা দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে পারিনি। এই দীর্ঘ ১২ বছরে সংগঠনের সাফল্য যেমন আছে ব্যর্থতার দায়ভার কম নয়। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ এই সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হককে গত মেয়াদে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। সেইসময়ে স্বাচিপের অর্জন কম নয়, চিকিৎসকদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত সমস্যা সমাধানে স্বাচিপ নেতৃত্ব পুরো ভাগেই সফল বলা চলে। এই দীর্ঘ পথ চলায় স্বাচিপ সংগঠনটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে রুমের মধ্যে আবদ্ধ না রেখে স্বাচিপের কর্মকাণ্ডকে রাজপথে নিয়ে এসে চিকিৎসকদের অবস্থানকে সুদৃঢ় করে। আমরা চাই এই সম্মেলনের মাধ্যমে সঠিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হোক, ত্যাগী পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন হোক। যারা ড্রইং রুমের রাজনীতি করে তারা প্রত্যাখাত হোক। এটি একটি পেশাজীবী সংগঠন, পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত পেশার উৎকর্ষ সাধনে যিনি বঙ্গবন্ধু আমার আদর্শ, শেখ হাসিনা আমার নেত্রী, চিকিৎসকরা আমার প্রাণ
সচেষ্ট, যার মেধামননে চিকিৎসকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সত্যিকার অর্থে দরদ আছে সেই ধরনের নেতৃত্বই এই সম্মেলনে বেরিয়ে আসা উচিত। এটাই আমার একমাত্র প্রত্যাশা।
টাইমওয়াচ : আমরা জেনেছি, এই সম্মেলনে আপনি একজন মহাসচিব পদপ্রার্থী। এ বিষয়ে আপনার অভিমত জানতে চাইছি।
ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া : বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য খাতের অনেক অর্জন। এমডিজি ৪ পুরস্কার, সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড, শিশু মৃত্যুহার ও মাতৃ মৃত্যুহার, মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি, সফল ভেকসিনেশন প্রোগ্রাম, কমিউনিটি ক্লিনিক। এইসব অর্জনের সাথে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, স্বাস্থ্য সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবদান অনস্বীকার্য। বর্তমানে আমাদের দু’টি প্রধান সমস্যা- চিকিৎসকদের মর্যাদা এবং নিরাপত্তা নিয়ে চিকিৎসকরা উদ্বিগ্ন। তাই মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে যারা নেতৃত্বে আছেন তারা পুরোপুরিভাবে ব্যর্থ, সেজন্য আমরা এমন একজন মহাসচিব চাই যিনি চিকিৎসকদের এই স্পর্শকাতর জায়গায় অধিকার আদায়ে সোচ্চার হবেন। মহাসচিব এমন হওয়া উচিতÑ তিনি কর্মীবান্ধব, চিকিৎসকবান্ধব চিকিৎসকদের মর্যাদার প্রশ্নে অটল, চিকিৎসকদের দাবি আদায়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারবেন, নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারি চিকিৎসকদের প্রতিনিধি নিশ্চিত হওয়া চাই। বঙ্গবন্ধু আমার আদর্শ, শেখ হাসিনা আমার নেত্রী, চিকিৎসকরা আমার প্রাণ। এগুলোকে বুকে ধারণ করেই স্বাধীনতার স্বপক্ষের বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সকল চিকিৎসকদের নিয়ে আগামীর পথে এগিয়ে যেতে চাই। সাধারণ দুঃখী মানুষের পাশে সেবা নিয়ে দাঁড়াতে চাই, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রান্তিক ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে সকল চিকিৎসক সমাজকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চাই।
টাইমওয়াচ : ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিএমএ কতটুকু ভূমিকা রেখেছে, বলবেন কী?
ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য বিভাগ অন্যান্য মন্ত্রণালয় থেকে অনেক এগিয়ে আছে। কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং মন্ত্রণালয় একটি ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। টেলি মেডিসিন ও মোবাইলের মাধ্যমে একজন রোগী বঙ্গবন্ধু আমার আদর্শ, শেখ হাসিনা আমার নেত্রী, চিকিৎসকরা আমার প্রাণ
বিনামূল্যে সেবা পেতে পারেন। যার মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে একজন গরিব রোগী বিনামূল্যে উচ্চতর চিকিৎসাসেবা বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারবেন। এছাড়াও সরকারের গৃহীত সব উদ্যোগ ও স্বাস্থ্যসেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে বিএমএ সর্বাধিক সহযোগিতা করে আসছে। হাসপাতালগুলোও অটোমেশনের আওতায় পর্যায়ক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত টুয়েন্টি-টুয়েন্টি ওয়ান ভিশনে ডিজিটাল সমাজ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য খাতকে আমরা ডিজিটালকরণ করার ব্যাপারে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। তাতে বিএমএ নেতৃবৃন্দের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও অকুণ্ঠ সমর্থন ছিল। হেলথ ইনফরমেশন সিস্টেম (ঐওঝ) এর আওতায় সব হাসপাতাল (বিশেষায়িত, টারসিয়ারি, জেলা সদর উপজেলা, ইফেকশাস ডিজিজ, টিবি, লেপ্রোসি ক্লিনিক, আরবান ডিসপেনসারি, স্কুলহেলথ ইত্যাদি), হেলথ কমিউনিটি ক্লিনিককে একটি নেটওয়ার্কের ভেতরে নিয়ে আসা হয়েছে; যার মধ্যে- Health facility information, Health facility Utilization, Morbidity, Profile, Mortalitu profile, Emergenvcy obstetric care profile, Health personal information, logistic information, monthly annual reporting, Population information, Data, Publication ব্যতীতও অনেক অবাধ তথ্য এবং তথ্য যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে। আমি মনে করি, যা যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এছাড়া ই-হেলথ এর মাধ্যমে ইন্টারনেট কানেকশনের আওতায় মোট ৮শ’টি পয়েন্টে উপজেলা লেভেল পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৩ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকও এই নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে।
টাইমওয়াচ : জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেছেন?
ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া : জননেত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের মূর্ত প্রতীক। যিনি কখনো মা, কখনো বোন। পুরোপুরি একজন বাঙালী নারী। একজন বাঙালি নারীর যা যা গুণ থাকা চাই সবই তার মাঝে রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর মতো এ দেশের মানুষের প্রতি তাঁর মমত্ববোধ, আবেগ আমাদের অভিভূত করে। যার হাতে বাঙালি জাতি নিরাপদ, গণতন্ত্রের একমাত্র ঠিকানা জননেত্রী শেখ হাসিনা, ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাস, ধর্ম যার যার উৎসব সবার যার স্লোগান, আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দিব। এমন গণতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতায় স্লোগান বিশ্বের কোথায় পাওয়া যায়! বঙ্গবন্ধু আমার আদর্শ, শেখ হাসিনা আমার নেত্রী, চিকিৎসকরা আমার প্রাণ
তিনি আজ শুধু বাংলাদেশেরই নেত্রীই নন। তিনি আজ নেতৃত্ব দিয়ে সাউথ এশিয়াসহ সমগ্র বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে তিনি রোল মডেল বানাতে চান। মধ্যম আয়ের দেশ বানাতে চান। আজ বিশ্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। সকল সূচক আজ ঊর্ধ্বগতি, খাদ্য, নিরাপত্তা, ডিজিটাল, পরিবেশ, অটিজম, নারীর ক্ষমতায়নে, মাথাপিছু আয়, অর্থনীতিতে অগ্রগতি, স্বাস্থ্যসূচকে ঈর্ষাণীয় সাফল্য, ওবামার উক্তি Look Bangladesh, Look SK Hasina, Lancent পত্রিকায় বারবার বাংলাদেশ, জাতিসংঘে বাংলাদেশ, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থায় (WHO) বাংলাদেশ, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড এ বাংলাদেশ, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের অর্জন, সজীব ওয়াজেদ জয়ের ডিজিটাল ভিশন বাস্তবায়ন, চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ, আইসিটি অ্যাওয়ার্ড, সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড, এমডিজি ৪ সহ বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে।
মমতাময়ী মা জননেত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। জঙ্গী দমন, গণতন্ত্র, খাদ্য উন্নয়ন, কৃষি উন্নয়ন, শিক্ষা উন্নয়ন, স্বাস্থ্য উন্নয়নে বাংলাদেশ আজ নেতৃত্ব দিবে বিশ্বকে। আমরা নিরাপদ গতিশীল এই নেতৃত্বে চিকিৎসক সমাজ ঐক্যবদ্ধ। জননেত্রীর অগ্রযাত্রায় চিকিৎসক সমাজ সব সময় জননেত্রীর দুর্দিনে পাশে ছিলো, সুদিনেও পাশে আছে। আগামী দিনে পাশে থাকার অঙ্গীকার করে আগামীর পথে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশে আমরাও শরিক হয়েছি এবং উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সারথী হতে চাই। নেত্রী আমরা আপনার পাশে আছি, থাকবো। আমাদের ঠিকানা হোক আদর স্নেহের ভরসাস্থল জননেত্রী হাসিনা।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd