ঢাকা : মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পণ্য মজুদ আছে, রমজানে পণ্যের দাম বাড়বে না : বাণিজ্যমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার          অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব ব্যবস্থা নিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী          বনাঞ্চলের গাছ কাটার ওপর ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা          দেশের সব ইউনিয়নে হাইস্পিড ইন্টারনেট থাকবে
printer
প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ০৯:৩৪:৫০
বাংলাদেশি যানবাহনের গন্তব্য ভারতের তিন শহরে সীমাবদ্ধ
টাইমওয়াচ ডেস্ক


 


চার দেশীয় মোটরযান চলাচলের জন্য প্রাথমিকভাবে যে ছয়টি রুট চূড়ান্ত করা হয়েছে, তাতে ভারতের তিনটি শহরেই সীমাবদ্ধ থাকবে বাংলাদেশী যানবাহনের গন্তব্য। কলকাতা, শিলিগুড়ি ও গুয়াহাটির বাইরে যেতে পারবে না বাংলাদেশের যানবাহন। সেখানেই পণ্য খালাস করে ফিরতে হবে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানকে। একই শর্ত প্রযোজ্য যাত্রীবাহী যান ও ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রেও। যদিও বলা হচ্ছে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের (বিবিআইএন) মধ্যে বাধাহীনভাবে যান চলাচল করতে পারবে। থাকছে আসিয়ান নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার সুযোগও।
বিবিআইএন রুট অনুযায়ী, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত যেতে পারবে ভারতের যানবাহন। নেপাল-ভুটানের রাজধানীও যুক্ত হবে বিবিআইএন রুটে। এমনকি বাংলাদেশের দুই সমুদ্রবন্দরও ব্যবহার করতে পারবে তিন দেশ। বিবিআইএনের যে ছয়টি রুট চূড়ান্ত করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ভারতের তিনটি পূর্ণাঙ্গ ও একটি আংশিক, ভুটানের একটি পূর্ণাঙ্গ ও একটি আংশিক এবং নেপালের একটি রুট। গত সেপ্টেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত নোডাল অফিসার্স কমিটির সভায় এ রুট চূড়ান্ত করা হয়। ভারতের জন্য নির্ধারিত রুটগুলোর মধ্যে প্রথমটি কলকাতা থেকে শুরু হয়ে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে যশোর, ঢাকা হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত যাবে। দ্বিতীয় রুটটি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা, হাটিকুমরুল, বগুড়া, রংপুর, বুড়িমারী-চেংড়াবান্দা সীমান্ত হয়ে চলে যাবে শিলিগুড়ি। আর তৃতীয় রুটটি মংলা বন্দর থেকে খুলনা, যশোর, বেনাপোল-পেট্রাপোল হয়ে ভারতের কলকাতা পর্যন্ত যাবে। ভুটানের জন্য নির্ধারিত রুট হলোÑ মংলা বা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা, হাটিকুমরুল, বগুড়া, রংপুর, বুড়িমারী-চেংড়াবান্ধা সীমান্ত দিয়ে ভারতের জায়গাঁও হয়ে ভুটানের ফুয়েন্টশিলিং দিয়ে থিম্ফু পর্যন্ত। ভারত ও ভুটানের জন্য যৌথ রুটটি হচ্ছেÑ কলকাতা থেকে ঢাকা, সরাইল, সিলেট, তামাবিল-ডাউকি সীমান্ত হয়ে ভারতের শিলং, গুয়াহাটি দিয়ে ভুটানের সামড্রুপ জংখার পর্যন্ত। আর নেপালের নির্ধারিত রুটটি হলোÑ মংলা বা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা, হাটিকুমরুল, বগুড়া, রংপুর, বুড়িমারী-চেংড়াবান্দা সীমান্ত দিয়ে ভারতের পানিটাঙ্কি হয়ে নেপালের কাকরভিটা ও কাঠমান্ডু। বিবিআইএনের রুট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নেপাল ও ভুটানের রাজধানী পর্যন্ত যেতে পারবে বাংলাদেশের যানবাহন। তবে ভারতের কলকাতা ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক নগরী (মুম্বাই, চেন্নাই) বা রাজধানী নয়াদিল্লিতে যাওয়ার সুযোগ নেই। এদিকে সড়কপথে মোটরযান চলাচলে ভারত, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড (আইএমটি) একটি চুক্তি করেছে। এতে আসিয়ানের সঙ্গে ভারতের যুক্ত হওয়ার পথ খুলে গেছে। তবে বিবিআইএনে মিয়ানমার ও চীনকে যুক্ত করে বাংলাদেশের আসিয়ান করিডোরে যুক্ত হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. হুমায়ূন কবির এ প্রসঙ্গে বলেন, বিবিআইএন চুক্তির আওতায় যখন ভারত বলা হচ্ছে, তখন দেশটির সীমান্তবর্তী শহর বলা হচ্ছে না। ফলে ভারতের অন্যান্য শহরে যাওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা বাঞ্ছনীয়। এ মুহূর্তে সেটি সম্ভব না হলেও একটি প্রভিশন থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য অন্যান্য শহরে যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় রাখবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ওপর দিয়ে চলার আগে সব ধরনের স্বার্থ বিবেচনা করে শুল্ক নির্ধারণ করতে হবে। বাণিজ্যিকভাবেও চুক্তিটি আকর্ষণীয় করার পরামর্শ দেন সাবেক এ কূটনীতিক। তিনি বলেন, ট্রাক শুধু পণ্য খালাস করে খালি ফিরলে ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হবেন। এতে পরিবহন ব্যয়ও অনেক বেড়ে যাবে, চুক্তিটির মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে যা সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বিষয়টি মুক্ত থাকা উচিত।
নির্ধারিত রুটে পণ্য পরিবহন করে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে মনে করছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরাও। কারণ হিসেবে তারা বলছেন ক্যাবোটেজ রেস্ট্রিকশনের কথা। এতে পণ্য খালাস করে সেখান থেকে খালি গাড়ি নিয়ে ফিরতে হবে। বিবিআইএন চুক্তির আর্টিকেল ৬-এর ১ উপধারায় এ-সংক্রান্ত বিধান যুক্ত করা হয়েছে। বিবিআইএন চুক্তি কার্যকরে নির্ধারিত রুটের বাইরে মোটরযান চলাচলে কোনো ধরনের সুযোগ না দেয়ার সুপারিশ করেছে ভারতের গবেষণা সংস্থা কাটস ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির সম্প্রতি প্রকাশিত ‘বিবিআইএন মোটর ভেহিকল এগ্রিমেন্ট: আনলকিং দ্য পোটেনশিয়াল ফর ভাইব্রেন্ট রিজিওনাল রোড ফ্রেইট কানেক্টিভিটি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিবিআইএনের সফল বাস্তবায়নের জন্য কয়েকটি শর্ত কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে অন্য দেশের যানবাহনকে নির্ধারিত রুট ও গন্তব্যের বাইরে যাওয়ার সুযোগ না দেয়া। অর্থাৎ বিবিআইএনের জন্য নির্ধারিত রুট মেনে ও নির্দিষ্ট গন্তব্যেই পণ্য খালাস করতে হবে। দ্বিতীয় শর্তে বিদেশি যানবাহনের যথাযথ স্ট্যান্ডার্ড ও চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া পণ্য চোরাচালান বন্ধে প্রতিটি সীমান্তে কায়িক পরিদর্শনেরও (ফিজিক্যাল ইন্সপেকশন) সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে যে খরচ, তার চেয়ে কমে হংকং থেকে পণ্য আনতে পারে বাংলাদেশ। অশুল্ক বাধার কারণেই মূলত দুই দেশের (বাংলাদেশ-ভারত) বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। তাই বিবিআইএন চুক্তির সুষ্ঠু বাস্তবায়নে অশুল্ক বাধা তুলে দিতে হবে। চুক্তির আওতায় প্রটোকল চূড়ান্ত করার সময় সরকারের বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা উচিত। তা না হলে বিবিআইএনের সুফল পাওয়া যাবে না। জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিবিআইএন একটি স্বপ্ন, যা সত্য হতে চলেছে। এ ধরনের চুক্তি সাধারণত কাগজেই থাকে, বাস্তবায়ন হয় না। তবে চার দেশের রাজনীতিক সদিচ্ছায় আগামি জানুয়ারিতেই বিবিআইএনের আওতায় চার দেশের মধ্যে যান চলাচল শুরু হবে। তিনি আরো বলেন, আগে যান চলাচল শুরু করতে দিন। তার পরও যেসব বাধা আসবে, সেগুলো চিহ্নিত করা যাবে। তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেয়া হবে। আগেই সমস্যা নিয়ে চিন্তা করলে শুরুটা করা যাবে না।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd