ঢাকা : শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সংবাদ শিরোনাম :

  • পবিত্র আশুরা ১০ সেপ্টেম্বর          ডিএসসিসির ৩,৬৩১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা          রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর          সংলাপের জন্য ভারতকে ৫ শর্ত দিল পাকিস্তান          এরশাদের শূন্য আসনে ভোট ৫ অক্টোবর          বাংলাদেশে আইএস বলে কিছু নেই : হাছান মাহমুদ
printer
প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১০:৩৮:৩১
‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’
টাইমওয়াচ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে হোটেল সিপ্রিয়ানি লি স্পেসিয়ালিতায় জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউনেপ) এর নির্বাহী পরিচালক অপযরস ঝঃবরহবৎ এর কাছ থেকে ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ সম্মাননা পুরস্কার গ্রহণ করছেন

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি দেশের জন্য বয়ে এনেছেন বেশ কিছু আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা রচনা করেছেন সাফল্যগাঁথা। এই পুরস্কার ও সাফল্য গাঁথা সমগ্র জাতির জন্য অবশ্যই অনেক বড় অর্জন। পাশাপাশি এই অর্জন সারা বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।
আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার
তথ্যপ্রযুক্তিতে অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থার (আইটিইউ) ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার পেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এই সম্মান দেশের তরুণদের উৎসর্গ করেছেন। স্থানীয় সময় ২৬ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে আইটিইউ মহাসচিব হুলিন ঝাও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।
আইটিইউ পুরস্কার গ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি আমাদের কাছে আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা। আমরা তথ্যপ্রযুক্তির সেবা প্রত্যেকের কাছে পৌঁছে দিয়েছি, যাতে কেউ পিছিয়ে না থাকে। তিনি বলেন, এই পুরস্কার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে আমাদের আরো উৎসাহ যোগাবে। প্রধানমন্ত্রী এই পুরস্কারের জন্য বাংলাদেশকে মনোনীত করায় আইটিইউকে ধন্যবাদ জানান।  শেখ হাসিনা বলেন, পুরস্কৃত হয়ে আমি গভীরভাবে সম্মানিত বোধ করছি। তিনি আরো বলেন, তার সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে তথ্য প্রযুক্তির সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে, যাতে কেউ একজনও পিছিয়ে না থাকে। একটি টেকসই উন্নত ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে সবাইকে হাতে হাত ধরে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। আইটিইউর ১৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ বছরই প্রথম আইসিটি অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হলো। জাতিসংঘে নতুনভাবে গৃহীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে তরান্বিত করতে যাদের কার্যক্রম পাথেয় হয়ে থাকবে তাদেরই পুরস্কৃত করলো আইটিইউ।
জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধিতে অবদান রাখার জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান, জাতিসংঘের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ, স্থায়ী প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বাণিজ্য নির্বাহীদের এই আইটিইউ পুরস্কার দেওয়া হয়। ২০১৫ পরবর্তী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কিত জাতিসংঘ সম্মেলন এবং এর ১৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে এ বছর এই পুরস্কার রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের দেওয়া হলো।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৯তম অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট স্যাম কুটেসা, ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা কুকোভা, গ্লোবাল সাসাটেইনেবিলিটি ফাউন্ডেশনের সিইও শেরি ইয়ান, নিউ ইয়র্ক ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’
একতাডেমি অব সায়েন্সের প্রেসিডেন্ট এলিস রুবিন স্টেইন এবং স্টেম এডুকেশন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ড. রুইয়াং ওয়াং উপস্থিত ছিলেন। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারপারসন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. একেএ মোমেনসহ ঊর্ধ্বতন কূটনীতিকরা উপস্থিত। আরও উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘের সিনিয়র কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, টেকসই উন্নয়ন সংক্রান্ত ব্রডব্যান্ড কমিশনের প্রতিনিধি, জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থাগুলোর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও জনহিতৈষীরা।
চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ
‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ পুরস্কার পেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনেরবিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দৃঢ় নেতৃত্ব ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ পেয়ে দেশের জন্য গৌরব অর্জন করলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জলবায়ু পরিবর্তনে প্রথম সারির নেতৃত্বে অবদান রাখার জন্য জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউনেপ) সর্বোচ্চ পরিবেশ বিষয়ক সম্মান ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ পুরস্কার দেওয়া হলো। ইউনেপ নির্বাহী পরিচালক আচিম স্টেইনার একজন অনুপ্রেরণাদায়ক নেতা হিসেবে প্রশংসা করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কাজ করার প্রয়োজনীয়তা শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন। বাংলাদেশ হচ্ছে প্রথম দেশ যারা জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
জাতিসংঘ পরিবেশ কার্যক্রম, ইউএনইপি-এর ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রায় ১৬ কোটি জনসংখ্যার দেশ বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ রাষ্ট্র। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সব থেকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যেও দেশটি রয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন যে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্জনে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিনিয়োগ করাটা সহায়ক। চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ পুরস্কারটি পলিসি লিডারশিপ ক্যাটাগরিতে। ইউনেপ ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় হোটেল সিপ্রিয়ানি লো স্পেসিয়ালিতায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ৪ জন অনুপ্রেরণাদায়ক পরিবেশবিষয়ক নেতাদের হাতে পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি, ইউনিলিভার সিইও, ব্রাজিলের কসমেটিকস প্রতিষ্ঠান ‘নেটুরা’ এবং সাউথ আফ্রিকার ব্ল্যাক মাম্বা শিকারবিরোধী ইউনিট হচ্ছে এই পুরস্কার বিজয়ী ব্যক্তি ও সংস্থা।
পুরস্কার গ্রহণ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব যখন সকলের জন্য একটি অভিন্ন ভবিষ্যতের কথা বলে তখন আমরা আমাদের পৃথিবীর সুরক্ষা ও লালনের লক্ষ্যে অঙ্গীকারের আমাদের দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত। তিনি আরো বলেন, এই পুরস্কার জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আমাদের জনগণের চেতনা ও সহিষ্ণুতার একটি স্বীকৃতি। আমি আমার জনগণের পক্ষে এই পুরস্কার গ্রহণ করছি। তিনি আরো বলেন, তাদের সমর্থন ছাড়া এটা পুরোপুরি অসম্ভব ছিল। চলতি বছরের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউনেপ) গুডউইল অ্যাম্বাসেডর অভিনেতা আয়ান সোমারহালডার, মডেল গিসেল বুন্ডশেন ও অভিনেত্রী নিকি রীড। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বাংলাদেশের মানুষ যে সংগ্রাম করেছে সেই সংগ্রামের স্বীকৃতি হলো এই পুরস্কার। এই সম্মান তাদের। তাই আমি এই পুরস্কার তাদের নামে উৎসর্গ করলাম। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিশ্বের দিকে চেয়ে নেই। সীমিত সামর্থ্যরে পুরোটুকু ব্যবহার করে নিজেরাই তা মোকাবিলা করছে। পুরস্কার তুলে দিয়ে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি আশিম স্টাইনার বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী অনুকরণীয় নেতৃত্ব, জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ূ পরিবর্তনে অসামান্য অবদান রাখার জন্যই জাতিসংঘ এই পুরস্কার দিয়ে থাকে। একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে অনুন্নত দেশসমূহে টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা করার কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশ এখন এর একটি উৎকৃষ্ট উদহারণ।
অনুষ্ঠানে নতুন গৃহীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ সমর্থন করার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী অন্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে বাংলাদেশ কখনো বিদেশি তহবিলের জন্য অপেক্ষা করেনি। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য উন্নত‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’
দেশগুলো পর্যাপ্ত অর্থ দেওয়ার বিষয়ে তাদের অঙ্গীকার বজায় রাখবে। তিনি বলেন, তার সরকার নিজস্ব বাজেট থেকে ঝুঁকি মোকাবিলার লক্ষ্যে ব্যবস্থা রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ সময়োচিত দায়িত্ব হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সুরক্ষায় বিশ্বাসী। পুরস্কার গ্রহণ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা ব-দ্বীপে শত শত বছরে বাঙালির বিশ্বাস, চর্চা ও সংস্কৃতি থেকে তা উঠে এসেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনে প্রতিকূল প্রভাব স্বীকার করে নিয়ে তিনি বলেন, তার সরকার ২০০৯ সাল থেকে বিদ্যমান হুমকি মোকাবিলার লক্ষ্যে নিজস্ব সম্পদ আহরণ ও জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উদ্ভাবনী জনগণ ও স্থানীয় সমাধান জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য এনেছে। তিনি বলেন, ৪০ লাখ বাড়িতে সোলার সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম ‘সোলার জাতি’ হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের কৃষিখাতের প্রবৃদ্ধি জনসংখ্যার প্রবৃদ্ধির হার ছাড়িয়ে গেছে। ফলে ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। এটি উন্নয়নের আরেকটি অভূতপূর্ব নজির। ইউনেপ নির্বাহী পরিচালক আচিম স্টেইনার বলেন, এই সপ্তাহান্তে আমরা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত প্রত্যক্ষ করেছি। ১শ’ ৯৩টি দেশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ গ্রহণ করার মাধ্যমে এই পৃথিবী ও তার মানুষের জন্য একটি টেকসই পথে অগ্রসর হওয়ার অঙ্গীকার করেছে। এটি একটি বড় সাফল্য তবে এখন কঠিন কাজ শুরু করতে হবে।
এসডিজি বাস্তবায়নে বৈষম্য কমাতে হবে
বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল তথা এসডিজি লক্ষ্য বাস্তবায়নে উন্নত দেশগুলোর অপেক্ষাকৃত গরিব দেশগুলোকে সহযোগিতা করতে হবে। ধনী-গরিবের বৈষম্য কমাতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, প্রযুক্তির উন্নয়ন ও খাদ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে হবে।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ২৬ সেপ্টেম্বর এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক বিষয়ক আলোচনা সভা ‘ইন্টারেক্টিভ ডায়ালগ অন সাসটেইনেবল ইকোনমিক গ্রোথ’- এ কো-চেয়ার হিসেবে অংশ নিয়ে বিশ্বনেতাদের কাছে এসব দাবি জানান শেখ হাসিনা। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী চার্লস মিশেলও এতে কো-চেয়ার ছিলেন। আলোচনা সভায় উপস্থিত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দরিদ্র দেশগুলো প্রযুক্তিগত সুবিধা থেকে অনেক পিছিয়ে। তাই ধনী ও গরিব দেশগুলোর মধ্যে তথ্য-প্রযুক্তির সুষম ব্যবহারের ওপর জোর দেন তিনি। চীন এবং জাতিসংঘের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে অংশ নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে নিজ নিজ দেশের পক্ষে কথা বলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল-সিসিসহ এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিরা।
এদিকে বৈশ্বিক টেকসই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি অধিকার (আইপিআর) ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনায় বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সংক্রান্ত সংলাপ অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি এ আহ্বান জানান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি ‘ফস্টারিং সাসটেইনেবল ইকোনমিক গ্রোথ অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড প্রমোটিং সাসটেইনেবল কনসাম্পশন অ্যান্ড প্রোডাকশন’ শীর্ষক এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সংলাপে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী চার্লস মিশেল। রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা আলোচনাকালে আগামী ১৫ বছরে টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা (এসডিজি) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি গণমুখী ও পৃথিবীবান্ধব এজেন্ডা এবং সকলের জন্য বিশেষ উন্নয়নের অঙ্গীকার গ্রহণ করায় তিনি উৎসাহিত হয়েছেন। তিনি বলেন, এখন ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’
জনগণের আশা-আকাক্সক্ষাগুলো আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে। সম্মিলিত অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নের জন্য আমাদের অনেক দেশের সম্পদের প্রয়োজন। একই সময়ে, আমাদের অবশ্যই বৈশ্বিক পর্যায়ে পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলোর সমাধান করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর সীমিত সম্পদ নিয়ে টেকসই ব্যবস্থাপনা ও প্রাকৃতিক সম্পদের কার্যকর ব্যবহার উন্নয়নের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতির সঙ্গে জীবনযাত্রার সমন্বয় ঘটানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোগ হতে হবে ব্যক্তির ‘পছন্দ’ অনুযায়ী, যেন বৈশ্বিক টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে অঙ্গীকারের প্রতিফলন থাকতে হবে। এ সময় তিনি অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী, আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, আফ্রিকা ইকোনমিক কমিশনের নির্বাহী পরিচালক, কিরসিজস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্লোভাকিয়ার পরিবেশমন্ত্রী, আইএলও মহাপরিচালক, যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়কমন্ত্রী, নোবেল বিজয়ী কৈলাস সত্যার্থী অন্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। বক্তারা এসডিজি বাস্তবায়নে বিভিন্ন দেশ ও বিশ্বের সামনে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন এবং অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের বিষয়ে তাদের সুপারিশ ব্যক্ত করেন।
জিএসপি বাতিল দুঃখজনক
বললেন শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশ জিএসপি সুবিধা পেলেও বাংলাদেশ তা পায়নি। জিএসপি সুবিধা বাতিল যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের চলমান সম্পর্কের মধ্যে অন্যতম একটি অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জিএসপি সুবিধা বাতিল সত্যিই দুঃখজনক। ম্যানহাটনের ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়া হোটেলে ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ‘বিজনেস কাউন্সিল ফর ইন্টারন্যাশাল আন্ডারস্ট্যান্ডিং-বিসিআইইউ’র আয়োজনে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে উইমেন এম্পাওয়ার কান্ট্রি। ২০০৮-এর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা যখন ক্ষমতায় আসি, তখন থেকেই নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ একটি রোল মডেল। আমাদের গার্মেন্ট শিল্পে কর্মরত আছে প্রায় ৪ মিলিয়ন শ্রমিক। তাদের মধ্যে ৯০ ভাগই নারী। এসব নারী শ্রমিক তাদের কষ্টার্জিত উপার্জনে পরিবারকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। সন্তানদের স্কুলের খরচ জোগাচ্ছেন। অথচ জিএসপি বাতিল করায় তারাও বঞ্চিত হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ সময় ফরেন বিজনেস ডেলিগেটদের উদ্দেশে বাংলাদেশে আরও বেশি করে বিনিয়োগের আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
গোলটেবিল আলোচনায় মডারেটর ছিলেন ম্যাকলার্টি অ্যাসোসিয়েটসের সিনিয়র অ্যাডভাইজার অ্যাম্বাসাডর টেরিসকা শাফফার। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা গওহর রিজভী, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দিন আহমেদ, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আবদুল মোমেন প্রমুখ।
এর আগে সকালে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সংস্থাটির ৭০তম সাধারণ অধিবেশনের সূচনাপর্বে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকাল ৫টায় নিউ ইয়র্ক সিটির কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ওয়ার্ল্ড লিডারস ফোরাম আয়োজিত ‘গার্লস লিড দ্য ওয়ে’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নসহ নানা বিষয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি।
জাতিসংঘের ৭০তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউ ইয়র্কে পৌঁছান। লন্ডন থেকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে জেএফকে বিমানবন্দরে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের ভিআইপি লাউঞ্জে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. একেএ মোমেন এবং ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জিয়াউদ্দিন। সেখান থেকে জাতিসংঘের প্রটোকলে বিশেষ বাহনে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ওয়াল্ডর্ফ এস্টোরিয়া হোটেলে।
বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসে চীনের আশ্বাস
চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং বাংলাদেশের সঙ্গে তার দেশের ব্যাপক বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মূল কর্মসূচির ফাঁকে হোটেল ওয়াল্ডর্ফ অ্যাস্টোরিয়ায় দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ আশ্বাস দেন। এ সময় শেখ হাসিনা চট্টগ্রামে চীনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) গড়ে তুলতে তাঁর সরকারের ৭৭৪ একর জমি বরাদ্দ দেওয়ার কথা জানান জিনপিংকে। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের দ্রুত অগ্রসরমান অর্থনীতির প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশকে চীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতার অংশীদার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাদের অন্যতম সেরা বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেন। বাণিজ্য, অর্থনীতি ও শিক্ষা খাতে উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা যেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ থেকে আরও পাটজাত পণ্য আমদানির আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রী চীনের বাজারে আরও বেশি বাংলাদেশি পণ্য প্রবেশের সুযোগ দেওয়া ও ‘আপটা রুলস অব অরিজিন’ শিথিল করতে চীনের প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ জানান। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও ডা. দীপু মনি এমপি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মার্কিন কংগ্রেসের তিন সদস্যের এক প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে হোটেল ওয়াল্ডর্ফ অ্যাস্টোরিয়ায় দেখা করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন কংগ্রেসের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সদস্য এলিয়ট এল এঙ্গেল এবং মার্কিন কংগ্রেসের বাংলাদেশ ককাশের কো-চেয়ার জোশেফ ক্রাউলি ও সদস্য কারোলিন ভি মেলোনি।
দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন : শেখ হাসিনা
অভিন্ন সমৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন এবং সবার জন্য মর্যাদাপূর্ণ একটি জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা জোরদার করতে বিশ্বের দক্ষিণ গোলার্ধের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘ সদর দফতরে আয়োজিত দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতাবিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল আলোচনায় তিনি বলেন, দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা স্থায়ীভাবে শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদার করতে পারে। শেখ হাসিনা বলেন, নতুন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ (এসডিজি) বিশেষ করে দক্ষিণের দেশগুলোর সঙ্গে প্রাসঙ্গিক। উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়া সত্ত্বেও, বিশ্বের দক্ষিণের দেশগুলো এখনও বৈষম্য, নিরক্ষরতা এবং অনুন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন গোলটেবিল আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন। এতে বাংলাদেশ, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, নেপাল, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ১৮টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা যোগ দেন এবং আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের দক্ষিণাংশের দেশগুলোর আকার, শক্তি ও উন্নয়নের পর্যায় ভিন্ন হলেও তাদের একটি অভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, দক্ষিণে আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আন্তঃসীমান্ত ভৌত যোগাযোগ জোরদার এবং নতুন ধরনের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকান্ড জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, এ লক্ষ্যে ব্রিকস ব্যাংক এবং এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
সার্ক ইস্যুতে নিয়মিত আলোচনা চান শেখ হাসিনা-মোদি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, দেশগুলোতে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য শীর্ষ সম্মেলন পর্যায়ের আলোচনার পাশাপাশি সার্ক নেতাদের বেশি বেশি পারস্পরিক সাধারণ আলোচনা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। নিউইয়র্কের হোটেল ওয়াল্ডর্ফ অ্যাস্টোরিয়ায় এ দুই নেতার মধ্যে একটি প্রতিনিধি পর্যায়ের অনির্ধারিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, প্রায় আধা ঘণ্টার বৈঠকে উভয় নেতা স্থল সীমানা চুক্তি (এলবিএ) ও তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি বাস্তবায়নসহ আঞ্চলিক এবং পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। প্রেস সচিব জানান, তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে নরেন্দ্র মোদি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করেননি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবেশীদের মধ্যে সমস্যা আছে, থাকতে পারে তবে, সব বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে। তিনি বলেন, সড়ক যোগাযোগের মাধ্যমে এই অঞ্চলের চার জাতির মানুষ অনেক লাভবান হবেন। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, ড. গওহর রিজভী ও পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন। ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব জয় শংকরসহ অন্যরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ৬০ জনের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে জাতি সংঘ অধিবেশনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd