ঢাকা : বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭

সংবাদ শিরোনাম :

  • সরকার নদীখননের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে : নৌ-পরিবহনমন্ত্রী          দক্ষতা-জ্ঞান-প্রযুক্তির মাধ্যমেই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব : পররাষ্ট্রমন্ত্রী           বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে          জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়নি : সিইসি          আ.লীগ সরকার ছাড়া কোনো দলই এত পুরস্কার পায়নি : প্রধানমন্ত্রী          মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী          রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সু চিকে জাতিসংঘের অনুরোধ
printer
প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৬:০৮:৩৭আপডেট : ০২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৬:১৮:১০
একটি যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে
অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী, উপাচার্য, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

 

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরীর জন্ম ১৯৪৫ সালের ১৫ জুন ফেনী শহরের অদূরে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাজ্যের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয থেকে সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ে তিনি উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পন্ন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর সুদীর্ঘ ৪২ বছর শিক্ষকতা জীবনে তিনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান, সামাজিকবিজ্ঞান অনুষদের ডিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট ও সিনেটের সদস্যসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নৃবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং এই বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। একই বছর তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি দীর্ঘ ৪ বছর বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০০০-২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিনিসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে নৃবিজ্ঞান বিষয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১-২০০২ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ২০০৩-২০০৬ সালে বাহরাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০৬ সালে বাহরাইন থেকে ফিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে পুনরায় যোগদান করেন। অধ্যাপক আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরীর সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞান বিষয়ে ১৬টি গ্রন্থ এবং প্রায় ৫০টির অধিক গবেষণা প্রবন্ধ জতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩০ জন ছাত্র-ছাত্রী এমফিল ও পিএইচডি গবেষণা সম্পন্ন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন তরুণ শিক্ষক হিসেবে ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং সে সময়ে ভারতের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত ছিলেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলীর মধ্যে- মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলি, সমাজ রাজনীতি ও সমকাল, নৃবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান শব্দকোষ এবং অ্যাগ্রেরিয়ান রিলেশন্স অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে সরকার কর্তৃক গঠিত শিক্ষা কমিশনের অন্যতম সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি ‘এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ’ এবং ‘গ্রীন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’ এ উপাচার্যের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি পৃথিবীর বহুদেশ ভ্রমণ  করেছেন । বাংলাদেশের  একজন  সামাজিক  নৃবিজ্ঞানী হিসেবে  বহির্বিশ্বেও তাঁর  সুখ্যাতি রয়েছে। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে  তার অবদান চিরস্মরণীয়  হয়ে থাকবে। এই  সফল ব্যক্তি এতো  কিছুর পাশাপাশি  সঙ্গীত  শিল্পী  হিসেবেও  বিশেষ  অবদান  রাখছেন । সম্প্রতি  জনাব  আনোয়ারউল্লাহ  চৌধুরী  টাইমওয়াচকে  একান্ত  সাক্ষাৎকার  প্রদান করেন । সাক্ষাৎকার  গ্রহণ করেছেন চীফ রিপোর্টার কাজল আরিফ
টাইমওয়াচ : বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইছি।
ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী : বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় একটি মহৎ ও সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ইউজিসি এবং সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনক্রমে ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করে। এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই উচ্চ শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সচেষ্ট যা জাতীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।একটি যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে
টাইমওয়াচ : বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে কিছু বলবেন কী?
ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী : বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো জ্ঞান চর্চা, জ্ঞান আহরণ ও বিতরণ। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই আমাদের এখানে ৪ বছরের অনার্স কোর্স ও ১ বছরের মাস্টার্স রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২ বছরের মাস্টার্স কোর্সও চালু আছে। বর্তমানে এখানে মোট ১৪ হাজার ছাত্র-ছাত্রী উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করছেন। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০ জন নিয়মিত ও খ-কালীন শিক্ষক রয়েছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে বড় ডিপার্টমেন্ট হলো বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্ট। এছাড়াও এখানে আরও বিছু গুরুত্বপূর্ণ ডিপার্টমেন্ট রয়েছে। গত ৫/৭ বছরে বেশ কিছু শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ শেষে বিভিন্ন ধরনের কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিবেট ক্লাব, ল’ ক্লাব এবং তিনটি কম্পিউটার ল্যাবসহ শিক্ষার্থীদের ওয়াইফাই ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসের নির্মাণ কাজ প্রায় সম্পন্ন; সেখানে আমরা শীঘ্রই কার্যক্রম শুরু করবো।
টাইমওয়াচ : দেশের অন্যান্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা বৈশিষ্ট্য কী?
ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী : সব প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েরই কিছু কিছু নিয়ম প্রায় একই রকম; যেমন পাঠ্য পুস্তক। সরকারিভাবে যে বিষয়গুলো অনুমোদন রয়েছে আমরা সেগুলোই প্রাধান্য দিই। আমরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী এই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছি। এখানে পাঠ্য শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষাও দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির নাম বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হলেও এখানে অন্য ধর্মের শিক্ষার্থীরাও উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করছে। গরিব, নি¤œবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মেধাবী শিক্ষার্থীরা যাতে এখানে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে সেজন্য টিউশন ফি সহনীয় পর্যায়ে রাখা হয়েছে।
টাইমওয়াচ : বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ক্ষেত্রে কী ধরনের অবদান রাখছে?
ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী : আমরা যুগোপযোগী বাস্তব জীবনমুখী শিক্ষা প্রদান করছি। সমাজের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার পাঠ্যসূচি সাজনো হয়েছে। তাই আমাদের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে বেগ পেতে হয় না। আমরা মনে করি, যে জ্ঞান মানুষের কল্যাণে আসে না সে জ্ঞান চর্চা অর্থহীন। এ কথা মাথায় রেখেই আমরা পাঠদান করে থাকি।
টাইমওয়াচ : দেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে কিছু বলুন।
ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী : আমি দীর্ঘ ৪৫ বছর উচ্চ শিক্ষার জগতে বিচরণ করছি। আমি প্রায় ৪২ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছি। এক সময় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য ছিলাম। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় বলতে গেলে আমরা পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা নীতি প্রণয়ন করতে পারিনি। এটিই আমাদের ব্যর্থতা। তার জন্য শিক্ষার্থীরা দায়ী নয়। উচ্চ শিক্ষায় যে ধস নেমে এসেছে সেটা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করতে হবে এবং তা করতে হলে একটি যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করতে হবে। এ কারণেই এখনো শিক্ষার উচ্চমান নিশ্চিত করতে পারিনি। তবে আমি একজন আশাবাদী মানুষ হিসেবে মনে করি যে, সদিচ্ছা এবং দেশপ্রেম থাকলে সমস্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমরা নতুন করে ঢেলে সাজাতে পারবো।
একটি যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে
টাইমওয়াচ :
গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো বিশেষ সুযোগ-সুবিধা রয়েছে কী?
ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী : আমরা গরিব শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করেছি। যেমন- টিউশন ফি কমিয়ে দেওয়া, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ মওকুফও করে দেওয়া হয়। তাছাড়া নিয়মিতভাবে আমরা গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করে থাকি। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানদের সম্পূর্ণ বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ এখানে রয়েছে।
টাইমওয়াচ : দেশের বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর পিছনে কী কারণ রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী : আমাদের বর্তমান তরুণ প্রজন্মের জন্য আমরা কিছু সুযোগ-সুবিধা তৈরি করতে পেরেছি। যার ফলে দেশে শিক্ষা গ্রহণ করেও বিদেশে গিয়ে তারা মেধার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হচ্ছে। আমাদের দেশে বহু মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের মেধাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশ দ্রুত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে; আমি বিশ্বাস করি।
টাইমওয়াচ : বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী : আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো বিজ্ঞান অনুষদ খুলতে পারিনি। আমরা মঞ্জুরি কমিশনকে অবহিত করেছি আমাদের এখন পরিকল্পনা হলো বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগ, ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে সমাজ বিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞান বিভাগ খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। জ্ঞান আহরণ ও বিতরণের পরিসর বৃদ্ধি এবং জ্ঞানের নতুন নতুন শাখা সংযোজন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর

Developed by orangebd